বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তান: ব্লাড মানি প্রদানের মাধ্যমে রেমন্ড ডেভিসকে মুক্ত করা হয়েছে

২৭ জানুয়ারি তারিখে প্রকাশ্যে দিবালোকে আমেরিকার এক নিরাপত্তা কর্মী রেমন্ড ডেভিস চোর সন্দেহ দুজন ব্যক্তিকে গুলি করে। এই গুলির ঘটনার পরপরই সেখানে অবস্থিত লোকেরা তাকে তৎক্ষনাৎ আটক করে এবং রাস্তার মধ্যে তাকে উদ্ধারের প্রচেষ্টায়, একটি গাড়ি উল্টো দিকে গিয়ে গতি বাড়িয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং আরেকজন পাকিস্তানিকে মেরে ফেলে।

এর পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ধরে এক ব্যাপক কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সে দেশের একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা দাবী করে ভিয়েনা চুক্তি অনুসারে জোরালো ভাবে পাকিস্তানের সরকারের কাছে তার মুক্তির দাবি জানায়। স্থানীয় পর্যায়ে জনগণ এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং তার মুক্তি প্রদানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। অবশেষে, ১৬ মার্চে, কোট লাখপাথ জেল প্রাঙ্গনে দ্রুত এক বিচারের মাধ্যমে দুজন ব্যক্তিকে খুন করার অভিযোগে রেমন্ড ডেভিসকে অভিযুক্ত করা হয়। এর সাথে সাথে অভিযুক্তের আইনজীবী ঘটনার শিকার দুই ব্যক্তির আত্মীয়দের হাজির করে, যাদের রেমন্ড ডেভিস খুন করেছিল, যারা এই মামলার বিচারকদের জানায় যে, তাদের ব্লাড মানি বা খুনের বদলে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে [দিয়াত-, শব্দটির অর্থ খুনের শিকার ব্যক্তির পরিবারকে প্রদান করা ক্ষতিপূরণের টাকা। এই শব্দের মানে একই সাথে ব্লাড মানি/খুনের ক্ষতিপূরণ এবং মুক্তিপণ দুটি হতে পারে] এবং তারা এই খুনের ঘটনায় রেমন্ডকে ক্ষমা করেছে।

এর পর বিচারকরা দ্রুত রেমন্ডকে মুক্ত করে দেয়। আমেরিকার দূতাবাস জানায়, যাতে এই ঘটনার পরপরই কোন ধরনের সংবাদ সম্মেলনের মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্য এক ব্যক্তিগত জেট বিমানে করে পাকিস্তান থেকে তাকে আফগানিস্তানে নিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রেমন্ড ডেভিসের মুক্তির আদেশের ঘোষণা প্রকাশিত হবার পর, পাকিস্তানের হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ, ছবি ইয়াসির রাজপুত, কপিরাইট ডেমোটিক্স-এর।

গুপ্পুর ফারহান লিখেছে:

পাকিস্তানের আদালত নির্দেশ করে যে, ডেভিস দুইটি খুনের সাথে জড়িত এবং এই বিষয়ে যে তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, সেটি বিশ্বস্ত নয় বলে তার আইনজীবী যে বিবৃতি প্রদান করেছে, আদালত সেটিও অস্বীকার করে। অপরাধীকে ক্ষমা করে দেবার জন্য পরে নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারবর্গকে টাকা দেওয়া হয়েছে।

চাপ-এর কালসুম সংবাদ প্রদান করছে:

এই দুই পরিবারের আইনজীবীদের বক্তব্য অনুসারে, নিহতের পরিবারের লোকজনদের অচেনা কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে কোট লাখপাত জেলে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের ডেভিসকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে এমন এক কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।

পাঞ্জাবের আইনমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন “নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারবর্গ আদলতে উপস্থিত হয়ে, স্বেচ্ছায় তাকে [ডেভিসকে] ক্ষমা করা অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করে। এদিকে সোর্স নিশ্চিত করে ক্ষতিপূরণের অর্থ (এবিসি নিউজ সংবাদ প্রদান করেছে যে প্রত্যেকটি পরিবারকে আলাদা ভাবে ৭০০,০০০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ১.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ডন পত্রিকাটি সংবাদ প্রদান করেছ যে ক্ষতিপূরণের মোট অর্থ ২.৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

যখন আদালতের রায় রহস্যের ধূম্রজাল সৃষ্টি করে, যার ফলে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উদয় হয়, সে সময় ক্যাফে পেয়ালা কাকে কত টাকা প্রদান করা হয়েছে তা তুলে ধরেছে:

এখানে আদালতের মূল নির্দেশ হচ্ছে যে, উক্ত ব্যক্তিদের “রেমন্ড ডেভিস” নামক ব্যক্তির প্রতি কোন অভিযোগ নেই, আদালত এই কারণে তাকে মুক্তি প্রদান করেছে, বিশেষ করে যেহেতু তারা ক্ষতিপূরণ গ্রহণে সম্মত হয়েছে এবং এই বিষয়টি সমাধা করতে এক চুক্তিতে উপনীত হয়েছে।

এখানে নিহতের প্রতিটি আত্মীয় এই খুনের ক্ষতিপুরণ বা ব্লাড মানির টাকা পেয়েছে, তারা শরিয়া আইন অনুসারে তা লাভ করেছে। নীচে ফাইজান হায়দারের পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যে পরিমাণ দিয়াত বা খুনের বদলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ লাভ করেছে তার বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করা হল:

  • ফাইজান হায়দারের মা: ৩৩,৩৩৩,৩৩৩ রুপি/–
  • ফাইজান হায়দারের স্ত্রী:২৫,০০০,০০০ রুপি /–
  • ফাইজান হায়দারের বড় ভাই:৭,৫৭৫,৭৫৮ রুপি /–
  • ফাইজান হায়দারের মেঝ ভাই ৭,৫৭৫,৭৫৮ রুপি /-
  • ফাইজান হায়দারের ছোট ভাই ৭,৫৭৫,৭৫৮ রুপি /-
  • ফাইজান হায়দারের বড় বোন ৩,৭৮৭,৮৭৯ রুপি /–
  • ফাইজান হায়দারের মেজ বোন ৩,৭৮৭,৮৭৯ রুপি /-
  • ফাইজান হায়দারের সেজ বোন ৩,৭৮৭,৮৭৯ রুপি /-
  • ফাইজান হায়দারের চার নাম্বার বোন ৩,৭৮৭,৮৭৯ রুপি /-
  • ফাইজান হায়দারের ছোট বোন ৩,৭৮৭,৮৭৯ রুপি /-

ফাইজান হায়দারের আত্মীয়রা খুনের ক্ষতিপূরণ (দিয়াত) হিসেবে মোট ১০০,০০০,০০২ রুপি অর্থ লাভ করেছে। যদি বর্তমান বাজার দরে একে মার্কিন ডলারে রুপান্তরিত করা হয়, তাহলে এর পরিমাণ হবে ১,১৬৬,৭৪৪ মার্কিন ডলার।

মোহাম্মদ ফাহিম নামের দ্বিতীয় যে ব্যক্তিটি খুন হয়েছে, তার পরিবারও একই পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেয়েছে।

এখানে রহস্যময় বিষয় হচ্ছে কে আসলে এই ব্লাড মানি প্রদান করেছে, সেই বিষয়টি রহস্যময় হয়ে রয়েছে, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে নিজেদের জড়িত থাকার ঘটনাটি অস্বীকার করেছে। এই বিষয়ে পাকিস্তানীয়াত সম্ভব্য ধারণা থেকে মন্তব্য করেছে যে হয়ত সৌদি সরকার এই অর্থ প্রদান করতে পারে:

সেটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করুক কিংবা অন্য কাউকে এর জন্য বেছে নিক- হয়ত বা সৌদি আরব হচ্ছে সেই দেশ (ইতোমধ্যে দেশটি এর সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছে)- যারা টাকা প্রদান করেছ, এটা ছিল একটা গোপনীয় বিষয় এবং তা শরিয়া আইনের এক ভালো দিক, যা সিআইএ নামক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর চামড়া বাঁচিয়েছে।

এই ঘটনার পরপরই আমি, টিথ মায়েস্ত্রোতে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছি যে, রেমন্ড ডেভিসের জন্য কান্নাকাটি করা মানে নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধের জন্য কান্নাকাটি করার সমান। এর পর রাজনীতিবিদদের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হবে, যারা দ্রুত এই মামলার খুনিকে চলে যেতে দিল, তাকে গুপ্তচরবৃত্তি অথবা এমনকি এক অস্ত্র রাখার দায়ে বিচারের মুখোমুখি না করে:

আমি বিশ্বাস করি স্থানীয় পর্যায়ে, রেমন্ড ডেভিসকে নিয়ে আমরা তেমন আলোচনা করতে পারবো না, সে বের হয়ে গেছে, এবং সে তার খুনের ঘটনার দায় থেকে অব্যহতি লাভ করেছে, কিন্তু পাকিস্তানিরা তাদের সরকারের উপর প্রচণ্ড চাপ প্রদান করার জন্য যা করতে পারে তা হচ্ছে, এর জন্য তাদের দায়ী করা, এর মধ্য পাঞ্জাব সরকারও অন্তর্ভূক্ত। লাহোরের ঝামেলা এড়ানোর জন্য নাওয়াজ শরিফ এবং শাহবাজ শরীফ অসুস্থতার অজুহাতে লন্ডনে গিয়ে অবস্থান করতে থাকে, এই সকল উন্মাদ রাজনীতিবীদ, যারা দেশটিকে বিক্রি করে দিযেছে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত। তারা কেউ বর্তমানে তো নয়, কোনোদিনই দেশ চালানোর জন্য উপযুক্ত ছিল না।

কালসুম আবেগের সাথে উপসংহার টেনেছে:

এই ঘটনা কি রহস্যময়? অবশ্যই, আমাদের কোন সন্দেহ নেই, এখানে পেছনে কিছু কলকাঠি নাড়ানো হয়েছ এবং এই উপসংহার টানার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানী উভয় দেশের কর্মকর্তা এই বিষয় নিয়ে কাজ করেছে। পাকিস্তান সরকারের দরকার ছিল এটা দেখানো যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পা চাটছে না। কূটনৈতিক দায়মুক্তির মাধ্যমে ডেভিসের মুক্তির চাপ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দরকার ছিল রেমন্ড ডেভিসকে বের করে আনা, তা অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক যে উপায়ে হোক না কেন। কাজে তারা উভয়ে তাদের কাঙ্খিত চাওয়া পুরণ করতে পেরেছে, নয় কি? গতকাল তাকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছিল, আজ ঠান্ডা মাথায় যাদেরকে সে খুন করেছে সেই সব নিহতদের পরিবারকে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে দ্রুত তাকে মুক্ত করে দেওয়া হল। কিন্তু এটি বিচার নয় এবং বাস্তবিক পক্ষে, এটা কোনভাবে কাউকে বোকা বানাতে পারেনি।

পাকিস্তানে এই নিয়ে এক ব্যাপক অসোন্তষ দেখা দিয়েছে যে, কি ভাবে পাকিস্তানের শরিয়া আইনের এক ফাঁকের ভেতর দিয়ে একজন খুনিকে মুক্ত করে দেবার মত জায়গা তৈরি করা হল, যার সুযোগ নিল যুক্তরাষ্ট্র, যারা মূলত এই শরিয়া আইনের বিপক্ষে। রাজনৈতিক জটিলতার শেকড় আরো গভীরে প্রবেশ করবে। প্রধান সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোন বিবৃতি প্রদান করেনি এবং এই বিষয়ে কোন বিবৃতি দেবার বদলে, তারা বলছে যে এটা আদালতের সিদ্ধান্ত, এবং এর ফলে আসলে কান বন্ধ করে রাখা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছতার অভাবকে প্রতীয়মান করে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .