বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

গণ প্রজাতন্ত্রী কঙ্গো: প্যাট্রিস লুমুম্বা হত্যাকাণ্ডের ৫০ তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিচ্ছিন্ন স্মরণ সভা

প্যাট্রিস লুমুম্বা, ছবি উইকিমিডিয়ার।

১৭ জানুয়ারি, ২০১১ সাল, প্যাট্রিস লুমুম্বা হত্যাকাণ্ডের পঞ্চাশ বছরপূর্তি হল। প্যাট্রিস লুমুম্বা ছিলেন গণ প্রজাতন্ত্রী কঙ্গো (ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো বা ডিআরসি) বা প্রাক্তন জায়ারের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৭ সালে যখন লরা ডিজেরে কাবিলা দেশটির ক্ষমতায় আসীন হন, তখন থেকে এই দিনটি, সে দেশে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে পরিহাসের বিষয় হল, ১৬ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে লরা কাবিলা হত্যাকাণ্ডের ১০ বছরপূর্তি হল। লরা কাবিলা এলায়েন্স অফ ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস ফর দি লিবারেশন অফ কঙ্গো (এডিএফএলসি) নামক দলের প্রধান ছিলেন।

স্মৃতি সমূহের এই এভাবে এলোমেলো হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও, তা কঙ্গোর নাগরিক বা প্রবাসী কঙ্গোবাসীদের সংগঠনকে কখনোই তার স্মৃতিচারণের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, যারা এ বছর লুমুম্বা হত্যাকাণ্ডের পঞ্চাশ বছর বার্ষিকী পালন করছে।

রেডিও ওকাপিও, কঙ্গোর প্রথম তথ্যমূলক সংবাদ প্রচার রেডিও স্টেশন। তাদের ওয়েবসাইট থেকে আমরা জানতে পারি যে, রাজধানী কিনসাসায় আওয়ার লেডি নামক গির্জার সামনে এই ঘটনাকে উদযাপন করে এক বিশাল গণ জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর সবচেয়ে বিচিত্র বিষয়টি ছিল, ধর্মীয় সংগঠনগুলো কঙ্গোর স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে জড়িত এই বীরের দুই সঙ্গীকে এ বছর সম্মান প্রদর্শন করেছে:

“Contrairement aux précédentes commémorations, la messe d’action de grâce de ce lundi 17 janvier 2011 a été célébrée en mémoire de Maurice Mpolo et Joseph Okito, les collaborateurs de Lumumba tués avec lui.”

“এর আগের স্মরণ সভার বিপরীতে, এবার, ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি, সোমবারে অনুষ্ঠিত এই হত্যাকাণ্ড স্মরণে উপস্থিত গণ জমায়েত, মাউরিচে মোপালা এবং জোসেফ ওকিতার স্মরণে দিবসটি উদযাপন করে। লুমুম্বার সাথে যারা নিহত হয়েছিলেন, এই দুই ব্যক্তি তাদের মধ্যে অন্যতম।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাইট টুইটারে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্মরণ করা, একটি আলোচনায় পরিণত হয়। সেখানে মৃত্যুর আগে লুমুম্বা যে চিঠিতে তার স্ত্রীকে যে শেষ কথাগুলো লিখেছিল, তা আবার স্মরণ করা হয়। অন্য অনেকের মত জেএফ মিকওয়া এই চিঠির লিঙ্ক আমাদের প্রদর্শন করছে।

ফ্রেন্ডস অফ দি কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত একটি সংগঠন, যারা কঙ্গোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচারণায় কাজ করে যাচ্ছে। তারা লুমুম্বার স্মরণে, ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি তারিখে, নিউ ইয়র্ক শহরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সে সময় তারা এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর উপর তৈরি করা তথ্যচিত্র প্রদর্শন করে। যার পরে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বেলজিয়ামের (কঙ্গো দীর্ঘ সময় বেলজিয়ামের উপনিবেশ ছিল) রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থিত ব্লগ চেইক ফিতা নিউজ বেলজিয়ামে বসবাসরত কঙ্গোর নাগরিকদের জন্য উৎসর্গকৃত। তারা সংবাদ প্রদান করছে যে, সেখানে সম্মিলিত এক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এর নাম ‘মেমোরিজে কলোনিয়ালিজে’ (ঔপনিবেশিক স্মৃতি)। এটি ১৬ জানুয়ারি, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়। আমরা আরো জানতে পেরেছি যে, এইসব সম্মিলিত ব্যক্তিবর্গ একসাথে একটি দরখাস্তের বিষয়ে আন্দোলন করা শুরু করেছে, যার শিরোনাম “ সত্য, ন্যায়বিচার এবং কঙ্গোর নাগরিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ”। এই দরখাস্তের মাধ্যমে তারা বেলজিয়াম সরকারের কাছে অন্য অনেক দাবির সাথে, এই রাজনৈতিক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের দায় প্রকাশের দাবি জানায়:

“L'État belge et les divers acteurs de ces multiples meurtres doivent reconnaître leur responsabilité et les assumer”

“এই সকল বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সাথে বেলজিয়াম সরকার এবং বিভিন্ন ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং এ ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব স্বীকার করে নিতে হবে”


প্যাট্রিস লুমুম্বার স্মরণে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রা ২০১১.০১.১৬_১৪.৪৩.১৮
এই ভিডিওটি পাঠিয়েছে কঙ্গোলেজডেবেলজিকইনফো. – সে সময় যে অনুষ্ঠান হচ্ছিল ভিডিওতে তার কিছু দৃশ্য

এই সকল স্মরণ সভা সত্ত্বেও, কেউ কেউ হয়ত, লুমুম্বার বিস্তৃত এক শ্রদ্ধার ব্যাপারে নিজেদের প্রশ্ন করতে পারে। ফারাজা বিএম, সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশে এই বিশেষ ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষ্যে কোন স্মরণ সভার আয়োজন না হওয়ায়, ফেসবুকে আক্ষেপ করেছেন।

““এই মানুষটির স্মরণে একটি বিশেষ দিবস পালন করা উচিত… আমি বোঝাতে চাইছি, একটি সত্যিকারের স্মরণীয় দিন”।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .