বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

কোস্টা রিকা: ক্যালিপসো সঙ্গীতে এক গ্রামের ইতিহাস

ড: বোম্বোডি, ওয়াল্টার ফার্গুসনের শেষ সিডি

ওয়াল্টার ‘গাভেটি’ ফার্গুসনকে বলা হয়ে থাকে শেষ ক্যালিপসোনিয়ান (ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিশেষ সঙ্গীত ধারা)। তিনি কোস্টা রিকার ক্যারিবিয়ান সাউথ এলাকার কাহুইতার শেষ স্মৃতি সংরক্ষক-এ পরিণত হয়েছেন। তিনি, তার নিজের জীবন এবং শহরের জন্য গান গেয়েছিলেন; কোকো চাষ, ব্যানানা রিপাবলিক নামে পরিচিত কলা চাষের জন্য বিখ্যাত দেশসমূহ এবং সবশেষে, জাতীয় উদ্যান ও পর্যটন এলাকাকে নিয়ে তিনি গান গেয়েছেন।

কোস্টা রিকার দুর শিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএনইডি) তৈরি ১৯৯৯ সালের এই তথ্যচিত্রে ওয়াল্টার ফার্গুসনের জীবনী তুলে ধরা হয়েছে। এটিকে এখন অনলাইন তুলে দেয়া হয়েছে এবং প্রদর্শন করা হচ্ছে। এখানে তিনি জানাচ্ছেন, কি ভাবে সঙ্গীত চর্চা করতে শিখলেন এবং কি ভাবে এর জন্য বাদ্যযন্ত্র ধার করতেন এবং কি ভাবে তিনি; পুরোনো ক্যালিপসো গান শুনতে শুনতে, এবং আগে ও পরে একে একে অন্যের গানের কথাকে চ্যালেঞ্জ করতে করতে পুরোনো ধারার ক্যালিপসো সঙ্গীতের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেললেন। একই সাথে তিনি তার গান গাওয়ার উৎসাহ কোথা থেকে পেয়েছেন, সেটি ব্যাখ্যা করেছেন। মূলত এই সব ঘটনা তার গ্রামে ঘটত, যা এক চমৎকার দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে যে, কাহুইতা গ্রামের জীবন এক সময় কেমন ছিল। যখন রাতে চন্দ্রালোকে, আবেগ দিয়ে গান বাজনার আয়োজন করা হত, তখন রাস্তাগুলো ছিল ঘাসের এবং জরুরী চিকিৎসার প্রয়োজনে দৌড়ে বন্দর নগরী লিমনের দিকে চলে যাওয়া যেত:

বিগত ১০ বছরে অনেক কিছুই ঘটেছে: পাপাইয় মিউজিক-এর ব্যানারে ওয়াল্টার ফার্গুসন দুটি সিডি রেকর্ড করেছিলেন, যারা তার একটি সিডি রেকর্ডের জন্য এতটা হন্যে হয়েছিল যে, যখন তিনি ঘোষণা দেন, গান রেকর্ড করার জন্য তিনি সান জোসেতে যেতে চান না, তখন এই কোম্পানী গায়কের বাসগৃহ কাহুইতায় একটি রেকর্ডিং স্টুডিও তৈরি করে। যেমনটা সিলভার পিপল ক্রনিকল-এ রবার্টো তার প্রবন্ধ দি রেইন অফ ওয়াল্টার ফার্গুসন-এ উল্লেখ করেছে:

যার কণ্ঠকে বয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, আক্ষরিক অর্থে তারা সেই সঙ্গীত প্রতিভার গান রেকর্ড করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা ফার্গুসনের পারিবারিক আবাসস্থলে একটি উন্নত মানের রেকর্ডিং স্টুডিও তৈরি করে। তার ঘরের দেওয়াল পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তারা ঘরের তাপমাত্রা ততটুকু বাড়ানোর চেষ্টা করে, যতক্ষণ না তা তার কণ্ঠস্বরকে গিটারের আওয়াজ থেকে আলাদা করে ফেলে। ইতোমধ্যে তারা গায়কের কুকুর এবং তোতা পাখিগুলোকে চুপ করিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এই সমস্ত প্রাণীরা তার বাড়ীর বারান্দায় বাস করত। যখন রেকর্ডিং চলছিল, তখন তারা কুকুরগুলোর সামনে লম্বা রশির মধ্যে সসেজ বা মাংসের টুকরা বেঁধে দেয়। এই সব খাইয়ে তারা কুকুরগুলোকে চুপ করিয়ে রাখতে সমর্থ হয়। এই ভাবে শব্দ, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং কেবল মাত্র কণ্ঠ ও গিটার দিয়ে পাপাইয়া রেকর্ডের জন্য তার গান ধারণ করা সম্ভব হয়।

লোকজনের জন্য এটা খুব সাধারণ এক ঘটনা যে, তারা কোন হোটেলের পাশ থামে এবং কাহুইতার গাভিটকে খোঁজে। যেমনটা গত অক্টোবরে ধারণ করা নীচের ভিডিওটি প্রদর্শন করছে, যেখানে দেখা যাচ্ছ ওয়ার্ল্টার ফার্গুসনের সাথে সাক্ষাৎ-এর সাধারণ বিষয় হচ্ছে, তিনি তথ্যচিত্র নির্মাণের বিষয় হবার এবং তা অনলাইনে প্রদর্শন করার যোগ্য:

এমনকি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী অটোন সোলিস একবার তাকে দেখতে এসেছিল:

ওয়াল্টার ফার্গুসনের গান কাহুইতার ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। মোনালিয়া ফাঙ্গাস নামের ছত্রাক, যা এক সময় এই অঞ্চলের কোকো চাষকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিল, ইউনাটেড ফ্রুট কোম্পানী নামক প্রতিষ্ঠানের আগমন, ট্রেন এবং কলা চাষের জন্য খামার গড়া, সেই সময়ের বিস্তারিত বর্ণনা, যখন তারা চলে যায়, পেছনে রেখে যায় সমস্যায় জর্জরিত চাষীদের, এসব কথা তার গানে উঠে আসে। এছাড়াও তিনি লিখেন, কি ভাবে জাতীয় উদ্যান তৈরি হয়, এবং কি ভাবে তা সেখানকার সম্প্রদায়ের জীবনকে প্রভাবিত করে, যাদেরকে তাদের নিজেদের জমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে যেতে হয়, কারণ সেই এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকায় পরিণত করা হয় এবং শেষে এইসব চাষীদের চাষের কাজ ছেড়ে পর্যটন বিষয়ক পেশায় জড়িত হতে হয়।

ফার্গুসনের গান ‘কেবিন ইন দি ওয়াটা’, তার কাহুইতার এক বন্ধুর গল্প, যে বন্ধুটিকে সরকারি কর্মকর্তারা জানায় যে, সে তার জমিতে কোন কিছু নির্মাণ করতে পারবে না, কারণ এটি জাতীয় উদ্যানের অংশে পরিণত হয়েছে। তখন এই জায়গার বদলে সে সমুদ্রে ঘর নির্মাণ করতে শুরু করে। এই গানটিকে ভিসা কার্ডের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়। সেখানে সকল প্রকার লোগো ব্যবহার করা হয় এবং শেষে এই স্লোগানটিকে যুক্ত করা হয় “ এই পৃথিবীতে বাস করতে হলে আপনার ভিসার প্রয়োজন”। এই গানটি জাজমিন রসকে খানিকটা থমকে দেয়, যেমনটা সে ২০০৬ সালে লিখেছিল:

“Vivís en este mundo. Necesitás Visa”. Curiosamente la voz y la música que acompaña las imágenes que muestran un Buenos Aires glamoroso, hipermoderno, por el que se puede transitar sin restricciones con una tarjeta de crédito, pertenecen a un viejito caribeño de 86 años que nunca puso un pie en un estudio de grabación, jamás entró a una cadena de hamburguesas y su única relación con las computadoras es un calypso que les dedicó a esas “loras de vidrio” que lo volvieron loco dándole y quitándole una pensión.

এই বিশ্বে বাস করতে গেলে আপনার ভিসার প্রয়োজন, এক কৌতুহলের সাথে কণ্ঠস্বর এবং সঙ্গীত একসাথে মিলিত হয়ে এই চিত্রটি তৈরি করে, যে বুয়েনস আইরিস- নামক এলাকা, যেটি গ্লামারস বা রঙিন ও অতি আধুনিক জগত, সেখানে আপনি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কোন ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন। এই গানের মালিক ৮৬ বছরের প্রবীণ এক ক্যারিবীয় নাগরিক, যে কখনো কোন রেকর্ডিং স্টুডিওতে তার পা রাখেনি, যে কখনো কোন হামবার্গার- নামক খাবার দোকানের কোন শাখায় প্রবেশ করেনি। যার ঘরে কম্পিউটার ছিল কেবল তার কথা বলা তোতাপাখির জন্য । কম্পিউটারের কারণে এই সব পাখিরা তাকে উন্মাদ করে তুলেছিল এবং তারপর তিনি এই যন্ত্রটিকে অবসরে পাঠিয়ে দেন।

আপনারা তারা সঙ্গীতের কিছু অংশ শুনতে পাবেন আর্জেন্টিনার এক সমর্থকের তুলে দেওয়া ভিডিওর মাধ্যমে, যেখানে তার গান রুম্বা এন কাহুইতা শুনে মনে হবে, এ যেন পরাবাস্তবতার পথে যাত্রা করছে।

এ বছর ওয়াল্টার ফার্গুসনের সম্মানে কাহুইতার শিল্প এবং সাংস্কৃতি উৎসব তার নামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেমনটা আই অফ কোস্টা রিকা লিখেছে:

কোস্টা রিকার দক্ষিণ ক্যারিবীয় উপকূলের এক ছোট্ট পর্যটন শহর কাহুইতা, যে এলাকাটি প্রতি বছর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চায়, যে অনুষ্ঠানে নাচ, স্থানীয় খাবার এবং আফ্রো-কোস্টা রিকার সাংস্কৃতির উদযাপন হবে”। এটি হবে ওয়াল্টার ফার্গুসনের নামকে সম্মানিত করার জন্য। ফার্গুসন “কিং অফ ক্যালিপসো” নামে পরিচিত ছিলেন। ‘কেবিন ইন দা ওয়াটা’ এবং ‘কালালো’ গানের জন্য তিনি অতি পরিচিত। আশা করা হচ্ছে যে এখানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানটি হবে একটি ক্যালিপসো কনসার্ট। যেটি কাহুইতার কেন্দ্রীয় পার্কে অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে কাহুইতার স্থানীয় শিল্পীর গান গাইবে, একই সাথে লিমন এবং পুয়ের্টো ভিয়েজোর গায়ক এবং বাদকেরা, সেখানে গাইবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে।

একই প্রবন্ধে কিম্বার্লি একটি সাক্ষাৎকারের অনুবাদ করেছেন। এটি জাতীয় দৈনিক লা নাসিওনে ছাপা ওয়াল্টার ফার্গুসন গাভিটের সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি খোলামেলাভাবে তার জীবনের অনেক অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এখন তার বয়স ৯০ বছর। এখন তিনি প্রায় অন্ধ হয়ে গেছেন। যেহেতু, তিনি যে ভাবে গান গাইতে চান এখন আর সে ভাবে তার কণ্ঠে আওয়াজ বের হয়না, তাই তিনি আর গান করেন না। .

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .