বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

হাঙ্গেরী: আইস-টি এবং হাঙ্গেরীর নতুন প্রচার মাধ্যম আইন

নতুন প্রচার মাধ্যম আইনের কারণে হাঙ্গেরীয় এক সংবেদনশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, যে আইনের প্রয়োগ ১ জানুয়ারী, ২০১১ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে। হাঙ্গেরীয় জাতীয় প্রচার মাধ্যম এবং তথ্যযোগাযোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীনে একটি অলাভজনক রেডিও স্টেশন টিলোসের (হাঙ্গেরিয়ান ভাষায়) বিরুদ্ধে এক তদন্ত শুরু করেছে:

যেহেতু কর্তৃপক্ষ “গ্রাহক এবং ব্যবহারকারীদের কৌতুহলের বিষয়টি রক্ষণাবেক্ষণের উপর জোরালো ভাবে গুরুত্ব প্রদান করে” এবং একই সাথে তরুণ শ্রোতাদের বিষয়টির উপর মনোযোগ প্রদান করে, এ কারণে টিলোস রেডিওকে জানানো হয় যে (হাঙ্গেরিয়ান ভাষায়), রেডিও স্টেশনের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের পর এই বিষয়ে এক তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণে পাওয়া যায় যে, রেডিও স্টেশনটি চটুল গানের শিল্পী আইস-টি-এর গান পরিবেশন করেছে, যে গানের শিরোনাম ওয়ার্নিং (প্রারম্ভিক শিরোনাম) এবং মূল শিরোনাম ইটস অনএটি গত ২রা সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে বিকেল ১৭.৫৩-টার (বিকেল ৫.৫৩) সময় প্রচার করা হয়

যেহেতু কর্তৃপক্ষ “গ্রাহক এবং ব্যবহারকারীদের কৌতুহলের বিষয়টি রক্ষণাবেক্ষণের উপর জোরালো ভাবে গুরুত্ব প্রদান করে” এবং একই সাথে তরুণ শ্রোতাদের বিষয়টির উপর মনোযোগ প্রদান করে, এ কারণে টিলোস রেডিওকে জানানো হয় যে (হাঙ্গেরিয়ান ভাষায়), রেডিও স্টেশনের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের পর এই বিষয়ে এক তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণে পাওয়া যায় যে, রেডিও স্টেশনটি রাপার বা চটুল গানের শিল্পী আইস-টির গান পরিবেশন করেছে, যে গানের শিরোনাম ওয়ার্নিং (প্রারম্ভিক শিরোনাম) এবং মূল শিরোনাম ইট’স অন। এটি ২ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে বিকেল ১৭.৫৩-টার (বিকেল ৫.৫৩) সময় প্রচার করা হয়।

গান বাজানোর আগে কোন ধরণের বয়সীমা নির্ধারনের বিষয়ে টিলোস রেডিও কোন সতর্কতা প্রদান করেনি, এ কারনে কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানিয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়েছে, ইতঃপূর্বে ২০০৩ ও ২০০৫ সালে আপত্তিকর বাণী সংবলিত গান প্রচারের অভিযোগে বেতার কেন্দ্রটিকে জরিমানা করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ ২০০০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে একাধিক ভাষার সনদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। কর্তৃপক্ষ মনে করেন গানের বাণীগুলো তরুণরা বুঝতে পারে এবং গানের বিষয় দ্বারা বয়সের কারনে তারা প্রভাবিত হতে পারে।[…] অপসংস্কৃতির অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে এমন কতগুলো গান বাজানো হয়েছে যে গানের বাণী নির্দিষ্ট বয়সের ছেলেমেয়েরা সম্পূর্ণ না বুঝলেও এগুলোর উপস্থাপনা ১৬ বছরের কম শ্রোতাদের মধ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এবং তাঁদের উত্তেজিত করতে পারে। শিল্পীর কারনে শ্রোতাদের মধ্যে যারা একটু ভালো [ইংরেজি] জানে, তাদের ভেতর আফ্রিকান আমেরিকান সমাজের পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা তৈরি হতে পারে। যৌন পেশা,মাদক বানিজ্য ও এর অপব্যবহার এবং দৈহিক সহিংসতা সম্পর্কে এ সব ধারনা হতে পারে যে, এগুলো মামুলি দৈনন্দিন বিষয়। ইটস অন নামের এ রেকর্ডটিতে ‘ঘেটো অপসংস্কৃতির প্রশংসা করা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দেওয়া হয়েছে।

@ফাইনাললেভেল নামে টুইট করা আইস-টি, টাম্বলার পোস্ট-এর টুইটের মাধ্যমে জানাতে পারেন যে, হাঙ্গেরিতে তাঁর গান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল এ রকম:

রিটুইট @রোগ_আর @ফাইনাললেভেল, দুঃখিত, কিন্তু আপনাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে http://j.mp/f73DhF > আমি বিষয়টিকে পছন্দ করেছি। দুনিয়া এখনো আমাকে ভয় পায়। হাহা!

যদিও এইভাবে নজরদারির বিষয়টি নজীর বিহীন নয়, জাতীয় প্রচার মাধ্যম এবং তথ্যযোগাযোগ মাধ্যম কর্তৃপক্ষকে বড় আকারে বিষয়টির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতে হয়েছে। নতুন প্রচার মাধ্যমের আইনের কারণে এটি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক ভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে

টিলোস রেডিও এই ঘটনার নাম দিয়েছে “আইস-টি গেটস” এবং তারা তদন্ত সংবাদের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করেছে। বেশ কিছু সংখ্যক ব্লগ পোস্ট নির্দেশ করছে যে, এই গানের সাথে যুক্ত করা, ইংরেজী ভাষায় গানের কথা এবং তার সাথে হাঙ্গেরী ভাষার অনুবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। পরেরটির কারণে কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ভূল বুঝেছে। একজন হাঙ্গেরীয় ব্লগার যিনি এই রাপ গানের কথাগুলো হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করেছে, সে বর্ণনা করেছে যে (হাঙ্গেরিয়ান ভাষায়):

এই বিবাদ, যা ২০১০ এর শেষে শুরু হয়েছে, তার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে টিলোস রেডিও তাদের অনুষ্ঠানিক বিবৃতির এক জবাব পেয়ে গেছে (হাঙ্গেরিয়ান ভাষায়)। প্রচার মাধ্যমে যে সব উপাদান রয়েছে সেগুলোকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পাঠানো নতুন চিঠি ইতোমধ্যে একটি ব্লগ, কমেন্ট. কমে প্রকাশিত হয়েছ (হাঙ্গেরিয়ান ভাষায়)। তাদের এই চিঠিতে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব প্রদান করেছে যে, হয়ত প্রায়শ সাহসী, কিন্তু নামহীন ইন্টারনেট স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা আইস-টি এর ঘটনার কারণকে লাজোস কাসুথ-এর ঘটনা থেকে অনেক দুরের বিষয় হিসেবে দেখতে পারে, যে কিনা হাঙ্গেরীর সংবাদ পত্রের সত্যিকারের স্বাধীনতার জন্য লড়ছিল।

কমেন্ট.কমের সিক্স এই চিঠির একটি অনুচ্ছেদের কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে যেখানে কর্তৃপক্ষ বর্ণনা করেছে: তথাকথিত প্যাসিফিক ফাউন্ডেশনের হিসেব মতে আইস-টির গানটি কেবল রাত ১০টার পরে প্রদর্শন করা উচিত। যদি তারা তা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচার মাধ্যম কর্তৃপক্ষ- ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন, টিলোস রেডিওকে যে পরিমাণ টাকা জরিমানা করবে, তা টিলোস রেডিও বাৎসরিক বাজেটের চেয়ে বেশি।

কমেন্ট.কম-এর ব্লগার নির্দেশ করেছে যে, কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র সরকারে যে সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেছে, তা আর সে দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .