বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ব্রাজিল: আজকে প্রেসিডেন্ট, কালকে ব্লগার

গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো দায়িত্বভার ত্যাগ করা ব্রাজিলের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাকিও দা সিল্ভার (লুলা) সাক্ষাৎকার নেয়া হয় বেশ কিছু অগ্রগামী ব্লগার দ্বারা। অনেকে দেশে গণতান্ত্রিক মিডিয়া সিস্টেম গঠনের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন।

দুই ঘন্টার এই সেশন অনলাইনেও সরাসরি প্রচারিত হয়, যার ফলে ব্লগাররা অনলাইন মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন।

অনেক বিষয় আলোচিত হয়েছে, যার মধ্যে ব্রাজিলের রাজনৈতিক সংস্কার, গর্ভপাত, শিক্ষা, দূর্নীতি আর দেশটার পররাষ্ট্র নীতি আছে।

মিডিয়ার সংস্কার আলোচ্য বিষয়ের তালিকায় অনেক উপরে ছিল আর লুলা জানিয়েছেন:

Eu sou o resultado da liberdade de imprensa neste país. A maior censura que existe é acreditar que a mídia não pode ser criticada.

আমি এই দেশের প্রেসের স্বাধীনতার ফল। সব থেকে বড় নিষেধাজ্ঞা যেটা আছে সেটা হলো যে মিডিয়াকে সমালোচনা করা যাবে না।

তিনি ভুল তথ্য প্রসারের ব্যাপারে প্রতিবাদ করেছেন আর ব্রাজিলের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির আরো দৃঢ় নিয়মের দরকারের ব্যাপারে বলেছেন। ব্রাজিলের প্রধান ধারার প্রেসের সমালোচনা করেছেন তিনি বিশেষ করে দেশটি বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারনে কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটাকে বাড়িয়ে বলে ভীতি সৃষ্টির জন্য, আর ২০০৭ সালে ট্যাম বিমান দুর্ঘটনার পেছনের ভুল কারন রিপোর্ট করার জন্যে।

ব্রাজিলের মূল ধারার মিডিয়ার মালিকানা কয়েকটি শাসক পরিবারের হাতেই আছে, যাদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে মারিনহো পরিবার, যারা দেশটার মূল প্রচার নেটওয়ার্ক, রেডে গ্লোবোর মালিক। ঐতিহাসিকভাবে তারা সেনা স্বৈরশাসকের সাথে কাছাকাছি সম্পর্কে আছেন (১৯৬৪-৮৪), গ্লোবো ভালোভাবে দাঁড়িয়ে আছে তাদের ক্ষমতাকে একত্র করে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, রেডিও আর সংবাদপত্রে তাদের নিয়ন্ত্রণ দেখানোর ক্ষেত্রে।

সংবাদপত্র প্রায় তোপের মুখে পড়েছে রাজনৈতিক ইচ্ছা সাধনের জন্য, সাম্প্রতিক দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ে, যখন বর্তমান প্রেসিডেন্ট- নির্বাচিত ডিল্মা রুসেফ মূলধারার মিডিয়া কর্তৃক বড়ভাবে শিকার হিসাবে আবির্ভূত হন। প্রধান দৈনিক আর ম্যাগাজিন বিতর্কে লাফিয়ে পড়ে বিতর্কিত বিষয়কে মূলধন করে, যেমন ধর্ম আর গর্ভপাত, যা ব্রাজিলকে ভীষণভাবে বিভক্ত রাখে।

বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হয় গত বছরের প্রথম জাতীয় যোগাযোগ কনফারেন্স এ করা প্রস্তাব নিয়ে যার মধ্যে ছিল আরো বেশী আইনের প্রয়োজনীয়তা, নাগরিকের অংশগ্রহণ আর মূলধারার মিডিয়ার মধ্যে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ। আর লুলা ব্লগারদের আশ্বস্ত করেছেন যে ব্রাজিলের কংগ্রেসে এটা জমা দেয়া হবে। তিনি যোগ দিয়েছেন যে এই বিতর্ক এখন ডিল্মার হাতে, যিনি ব্রাজিলে আরো বেশী প্রেসের স্বাধীনতার ব্যাপারে সোচ্চার এবং তার ৩১ শে অক্টোবরের স্বাগত ভাষনে এই কথা তিনি দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট লুলা ব্লগার কন্সিচাও অলিভিয়েরার সাথে কথা বলছেন টুইট ক্যামের মাধ্যমে তার ব্রাজিলের ব্লগারের সাথে প্রথম সাক্ষাৎকারে। ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী রিকার্ডো স্টুকার্টের, ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত

যারা অংশগ্রহন করেছিলেন, তাদের জন্যে এই অধিবেশনে ধারণা দেয়া হছে যে নতুন একটা চ্যানেল খুলে দেয়া হবে সিদ্ধান্ত কারী আর মিডিয়া জগৎের না এমন লোকের মধ্যে আরো খোলামেলা যোগাযোগের জন্যে। একজন ওয়েব ব্যবহারকারী যিনি টুইটক্যামের মাধ্যমে অংশগ্রহন করেছেন, এই সেশনকে ‘আবেগময়’ বলেছে। বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্লগার রড্রিগো ভিয়ানা পাঠকদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ‘পুরানো’ মিডিয়া থাকবে। তিনি বলেছেন:

Não sei se os leitores têm dimensão do que isso significa: quebrou-se o monopólio. Internautas puderam perguntar, via twitter. O mundo da comunicação se moveu. Foi simbólico o que vimos hoje.

আমি জানিনা পাঠকরা যা এখানে বলা হচ্ছে তা ধরতে পারছেন কিনা: কিন্তু মনোপলি ভেঙ্গে গেছে। টুইটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন করতে পারেন। যোগাযোগের জগৎ এগিয়ে গেছে। আজকে আমরা যা দেখেছি তা প্রতীকী।

লিবারেল কারেন্ট এফেয়ার এর ম্যাগাজিন রেভিস্তা ফোরামের রেনাটো রোভাই একই ভাবে আশাবাদী:

Ela entra para a história da cobertura política brasileira.

এটা [সাক্ষাৎকার] ব্রাজিলের রাজনীতির কাভারেজের ইতিহাসে প্রবেশ করেছে।

এটাতে অংশগ্রহনের জন্য ব্লগারদের যে দলকে আমন্ত্রণ করা হয় তারাও বেশ উল্লেখযোগ্য ছিল, লিখেছেন অংশগ্রহণকারী লিয়ান্দ্রো ফোরটেস:

Esse mesmo grupo foi chamado por Serra, no auge da baixaria da campanha eleitoral, de representantes de “blogs sujos”, uma referência nervosa a um tipo de mídia que pegou o tucano, uma criatura artificialmente sustentada pela velha mídia corporativa, no contrapé. Nem Serra, nem ninguém na velha direita brasileira estavam preparados para o poder de reação, análise e crítica da blogosfera e das redes sociais. Matérias falsas, reportagens falaciosas, discursos hipócritas, obscurantismo religioso e a farsa da bolinha de papel, tudo, tudo foi desmontado em poucas horas dentro da internet. Chamar-nos de “sujos” nem de longe nos alcançou como ofensa, pelo contrário. Nós, os “sujos” fizemos a história dessa eleição. Serra e seus brucutus terceirizados sumiram no ralo virtual.

এই একই দলকে সেররা ডেকেছিল, অনৈতিক নির্বাচন প্রচারণার চূড়ান্তে, ‘খারাপ ব্লগের’ কণ্ঠ হিসাবে [..]। সেররা বা পুরানো ব্রাজিলের ডান পন্থীদের কেউ আশা করেননি ব্লগ জগৎ আর অন্যান্য অসামাজিক মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া, বিশ্লেষণ আর সমালোচনার ক্ষমতাকে। নকল প্রতিবেদন, ভুল রিপোর্ট, ধর্মীয় নোংরামী আর বোলিনহা দে পাপেল ঘটনা কয়েক ঘন্টার মধ্যে ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়। আমরা ‘খারাপরা’ এই নির্বাচনের ইতিহাস গড়েছি। সেররা আর তার প্রাগ ঐতিহাসিক বন্ধুরা ভার্চুয়াল নালাতে গায়েব হয়ে গেছেন।

অংশগ্রহনকারীরা অবশ্য দ্রুত আঙ্গুল তুলেছে সেশনের ব্যার্থতার দিকে। ভিয়ান্না দেখিয়েছেন যে গুরুতর বিষয় যেমন মানবাধিকার, ভূমি সংস্কার, বিচার আর গণস্বাস্থ্য যথেষ্ট বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়নি, যা যোগাযোগের আলোচনায় চাপা পড়েছে। আরো হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে নারী ব্লগারের অভাবে, যদিও মারিও ফ্র ব্লগের কোরসিয়াচো অলিভিয়েরা (যিনি কোন্সিয়ারগো লেমেস নামেও বিয়াও মুন্ডোতে ব্লগ করেন) টুইটক্যামের মাধ্যমে অংশগ্রহন করেছিলেন।

লুলা সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে নাগরিকদের কাজে লাগানোর ক্ষমতার ব্যাপারে মনে হয় সন্তুষ্ট, আর কথা দিচ্ছেন যে তিনি ভবিষ্যৎে ব্লগ আর টুইট করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পরে ব্রাজিলে সর্বোচ্চ টুইটার ব্যবহারকারী আছেন, আর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬৭ থেকে ৭৩ মিলিয়নের মধ্যে। সামাজিক নেটওয়ার্কের সাইট যেমন অর্কুট আর কম ক্ষেত্রে ফেসবুক বেশ জনপ্রিয়

থিয়ানা বিয়োন্দো এই পোস্টে অবদান রেখেছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .