বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আমি ঘুষ প্রদান করেছিলাম: ভারতের একটি চমকপ্রদ উদ্যোগ

দুর্নীতি=একচেটিয়া খবরদারি+অসদাচরণ-দায়বদ্ধতা। কারন রবার্ট ক্লিটগার্ড বলেছেন, “দুর্নীতি হলো একচেটিয়া খবরদারির সাথে অসদাচারণ এর যোগফল এবং তা থেকে দায়বদ্ধতার বিয়োগফল এর সমান।”

ভারতে দুর্নীতি অনিয়ন্ত্রিত বিশেষ করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, যেখানে এটা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার এবং জনগণও তাদের নিত্যদিনের জীবনে এই দুর্নীতির মুখোমুখি হচ্ছে। এটি সমাজে নানাবিধ অবিচার ঘটায় এবং জনগণের অস্তিত্ব ও এর দ্বারা প্রভাবিত হয়। সম্প্রতি দুর্নীতির উপর নতুন পরিকল্পিত বক্তব্য অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ননভায়োলেন্ট কনফ্লিক্ট এর ‌উর্ধতন উপদেষ্টা সাজকা বেয়ারলে একজন বিধবার উপমা দিয়েছেন যে গণ বিতরণ ব্যবস্থার অধীনে খাদ্য পায়না কারন সরকারী কর্মচারীরা তার কাছে রেশন কার্ড প্রদান করার জন্য ঘুষ দাবী করে। যে সকল নাগরিক অর্থ দিতে পারে না তারা তাদের অপারগতার জন্য ভুগতে বাধ্য হয়, আর যারা অর্থ দিতে পারে তাদের দুর্নীতি ছাড়া উপায় থাকে না। ঘুষের প্রতি তীব্র এবং বর্ধিষ্ণু রাগ ও ক্ষোভ আছে, কিন্তু একই সাথে রয়েছে তাদের উচ্চমানের সহ্য ক্ষমতাও। সেবার বিনিময়ে অনেক নাগরিকই অভ্যাস বশত: ঘুষ দেয়ার প্রস্তাব দেয়, যা পুনরায় দুর্নীতিকে উসকে দেয়।

আমি ঘুষ প্রদান করেছিলাম ওয়েবসাইটটি এই জটিল বিষয়টি উপস্থাপন করেছে যা ভারতীয় সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এটা জনগণকে দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার সহ্য না করতে এবং তাদের ঘুষ জনিত খবর “দুর্নীতির বাজার দর উন্মোচন” বিভাগে জানানোর জন্য উৎসাহিত করে। এখন লোকজন জানাতে পারে কখন ঘুষ দিতে হয়েছিল, কখন দেয়া হয়নি অথবা ঘুষ ছাড়াই কাজ হয়েছে এই সব বিষয়ে নিজের গল্প ফর্দে, ব্লগে জমা দেয়ার মাধ্যমে বা ভিডিও তুলে দেয়ার মাধ্যমে।

গত ১৫শে আগষ্ট, ২০১০ (ভারতের স্বাধীনতা দিবস) জনাগ্রহ এর পৃষ্ঠপোষকতায় এই উদ্যোগটি চালু হয় এবং সাবেক সরকারী কর্মকর্তা এবং বর্তমানে এই উদ্যেগের সমন্বয়ক টি আর রঘুনন্দন বলেন যে এর উদ্দেশ্য হলো, “ভারতের দুর্নীতির একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা।” জনাগ্রহ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রনে একটা গবেষণামূলক পদ্ধতির উদ্ভব ঘটাবে। জনগণের আলাদা আলাদা অভিযোগের উপর কম নির্ভর করেই এই পদ্ধতি ব্যবস্থা গ্রহন করবে, বরং একটা পদ্ধতিগত পন্থা প্রয়োগ করে ব্যপক দুর্নীতি যুক্ত এলাকা নির্ধারন করবে। রঘুনন্দন খেয়াল করেছেন, “প্রত্যেক সমাজেই সেখানে সংঘটিত দুর্নীতি সম্পর্কে খুবই স্পষ্ট ধারণা রয়েছে”; তাই যা প্রয়োজন তা হলো কেনো এবং কিভাবে দুর্নীতি ঘটছে সে সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানা। ওয়েব সাইটে জমা দেয়া অভিযোগের তথ্য গুলো জড়ো করে বিশ্লেষণ করা হয়। এই বিশ্লেষণ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত বিভাগের মুখোশ, কর্মকর্তাদের ঘুষ যাওয়ার গোপনীয় উপায়, ঘুষ চাওয়ার পরিবেশ পরিস্থিতি ইত্যাদি উন্মোচন করবে এবং দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট পন্থা এবং পরিস্থিতি নিরূপণ করার পর জনাগ্রহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বা সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় কর্মকান্ডের জন্য প্রস্তাব নিয়ে যায়।

“আমি ঘুষ প্রদান করেছিলাম” এর উদ্দেশ্যই হলো আরও অনেক লোকজনকে উৎসাহিত করা এবং সাহস যোগানো যাতে করে তারা তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও গল্প নিয়ে হাজির হয় যা আরও ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি সহায়তা করবে। ঘুষ সম্পর্কিত জনগণের অভিযোগের সাথে সাথে ওয়েব পেইজটির মূল পাতায় কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্লাইড শো আছে। “করাপশন কমন্স (একইরূপ দুর্নীতি)” নামে একটি মানচিত্র ভারতের বিভিন্ন রাষ্ট্রের থেকে আগত অভিযোগসমূহ তালিকা আকারে প্রকাশ পেয়েছে। এই বিষয়ের গুরুত্ব এই রূপে নানা প্রকারে প্রকাশ পাচ্ছে যা লোকজন এর কিছু করার আছে সে ধরনের বক্তব্য পরিবর্তন করে প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতি এবং ঘুষ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে সহায়তা করছে। জনগণ সহজ, সাধারণ এবং হুমকিহীন পন্থায় এই কাজে অংশ নিতে পারছে, এখানে তার নিজেকে পরিচিত করানোর বা কারও ব্যক্তিগত নাম দেয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

অন্যান্য চমকপ্রদ এবং পারস্পারিক অংশীদার পূর্ণ কর্মকান্ড যোগ করেছে “রঘুকে জিজ্ঞাস কর” অংশে। রঘুনন্দন জনগণের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর যথাযথ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সহকারে প্রদান করেন। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী জনগণ সচরাচর সরকারের প্রতি খুবই ভীত শংকিত থাকে, যার প্রধান কারন মূলত তথ্যের ঘাটতি। কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলায় যথাযথ আত্মবিশ্বাসী হবার জন্য জনগণের কাছে আরও বেশী বেশী তথ্য সরবরাহ থাকা উচিৎ যাতে করে তারা প্রচলিত নিচ পদ্ধতি না মানে এবং ঘুষ প্রদান না করে। সাদা কাগজের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে, প্রথমটি হলো ভিডিও চিত্র সহকারে ভূমি ও সম্পদ রেজিস্ট্রেশন এর উপর, যাতে করে জনগন পদ্ধতি, ফি, প্রয়োজনীয় সময় এবং সরকারী লোকজনের সঠিক দায়িত্ব সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে। ‘প্রভাব” অনুচ্ছেদ সেইসব ঘটনা উল্লেখ করা হয় যার মাধ্যমে জনাগ্রহ কর্তৃক সরবরাহকৃত তথ্যের মাধ্যমে এবং খুব সহজাত ভাবে নিজেদের কণ্ঠে প্রতিবাদী স্বর তুলে ঘুষের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে।

জনগণ নিজস্ব পরামর্শও দিতে পারবে এবং দুর্নীতি দমনে নতুন নতুন বাস্তবধর্মী ও বুদ্ধিদীপ্ত উপায় সমূহ সম্পর্কে ওয়েবপেজের ফোরামে অবদান রাখতে পারবে। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে জনগণ দুর্নীতি সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে অবিচার মনিটর করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত হতে এবং এর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ যুদ্ধ করতে পারে।

সে কারনে, “ঘুষ দিয়েছিলাম? ঘুষ দেইনি? ক্ষমতাহীন? দুর্নীতির শিকার? রাগান্বিত?” নিজের গল্পটা বলুন এবং লড়াইয়ে ফিরে আসুন!

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .