বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

হান্গেরী, ইউক্রেইন: অবৈধ স্টেম সেল চিকিৎসা

২০০৯-এর জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে হান্গেরীর স্টেম সেল থেরাপী (চিকিৎসা পদ্ধতি) আন্তর্জাতিক এক নীতির আওতায় চলে আসে, যা এক কঠোর শর্তে এই বিষয়টি বিবেচনা করে যে, স্টেম সেল কেবল পদ্ধতিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হবে। চিকিৎসা বিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিজোনা.এইচইউ (হান্গেরীয় ভাষায়) লিখেছে, স্টেম সেল গবেষণার আইনগত যোগ্যতা এবং সেগুলো ব্যবহার পদ্ধতি কোন পেশাদার প্রাণী পরীক্ষক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। এরপর তা মানবদেহে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এই কাজটি করতে হবে যথার্থ অনুমতি নিয়ে এবং গবেষণা কেবল কোন স্বীকৃত পরীক্ষাগারে করা যাবে।

গত সপ্তাহে হান্গেরীতে চারজন ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের কারণ তারা অবৈধ ভাবে স্টেম সেল চিকিৎসা দিচ্ছিল। পুলিশের রিপোর্ট অনুসারে এই চিকিৎসা যে কেবল বুদাপেস্ট ও কাপোসাভারে দেওয়া হচ্ছিল তা নয়, তার সাথে এটি হোটেল রুম ও কারো কারো বাসায়ও দেওয়া হচ্ছিল। হান্গেরীয়ান স্পেকট্রাম রিপোর্ট করছে:

[…] হান্গেরীর পুলিশ চারজন লোককে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত “বি জুলি” নাম জানা যায় ইয়ুলিই বালাতইয়াটিস হিসেবে। সে ইউক্রেইনে জন্মগ্রহণ কারী এক মার্কিন নাগরিক; সেই সাথে গ্রেফতার হয়েছে ইউক্রেইনের এক মহিলা, যার নাম নাতালিয়া কে.। সে ইউক্রেইনের খরকোভ এবং কিয়েভ থেকে ভ্রূণজাত স্টেম সেল সরবরাহ করত; এবং নাম পরিচয় জানা যায় নি এমন দুজন হান্গেরীয় এদের সাথে গ্রেফতার হয়েছে। তাদের একজন ডাক্তারকে সাহায্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে, “ঠাণ্ডা করার যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা, ইউক্রেইন থেকে পণ্য নিয়ে আসা এবং নানা স্থান থেকে রোগীদের এখানে নিয়ে আসার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে”। পুলিশ বলছে একজন রোগীর কাছ থেকে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসার জন্য তারা পাঁচ মিলিয়ন হান্গেরীয়ান ফোরিন্ট (২৫,০০০ ডলার/১৭৫০০০০ টাকা প্রায়) নিত।

দি বুদাপেষ্ট টাইমস এই বিষয়ে আরো জানাচ্ছে:

[…] সন্দেহজনক ব্যক্তিটিকে ইউক্রেইন -আমেরিকান চিকিৎসক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যার নাম ইয়ুলিই বালাতইয়াটিস। তার সাথে রয়েছে প্লাস্টিক সার্জন ইসতাভান সেফফার, এবং ইউক্রেইনের একজন জীববিজ্ঞানী যাকে আপাতত নাতালিয়া কে. নামে জানা যাচ্ছে। ইনষ্টিটিউট ফর রিজেনারেটিভ মেডিসিন (আইআরএম) যার অফিস কাপোসভারে, তারা এই ধরনের চিকিৎসার জন্য দায়ী এবং চার নম্বর গ্রেফতারকৃতের নাম সান্ডর সাজাবো। এমটিআই অনুসারে তিনি উক্ত কোম্পানীর সিইও বা প্রধান। আইআরএম সেখানে সেফফার এন্ড রেননের ক্লিনিক থেকে জায়গা ভাড়া নিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে এই ক্লিনিকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ইসতাভান সেফফারের ভাই টিবর সেফফার। তিনি আরো জানান যে আইআরএমের গবেষণাগার আলাদা ভাবে কাজ করত এবং স্টেম সেল গবেষণার সাথে সেফফার ক্লিনিকের কোন সম্পর্ক ছিল না। […]

হান্গেরীয়ান স্পেকট্রাম যোগ করছে:

[…] এই কোম্পানীর সিইও ছিলেন সান্ডার সাজাবো এবং এর সদস্য তালিকায় আমরা পেয়েছি ইমরে পাকহ, ইসতাভান সেফফার, যিনি কাপোসভারের প্লাস্টিক সার্জন এবং এডাম ফাসেই এর নাম যিনি “প্রচার মাধ্যমের এক তারকা”। তিনি সৌন্দর্য বর্ধনের ধারণা দিয়ে হান্গেরীতে বড়লোক হয়েছেন। অন্যথায় ফাসেই হান্গেরীর পুরানো ধাঁচের অনুষ্ঠান করে থাকেন যার নাম “ফাসেই মুলাটো” “ফাসেই রাভেলারি”। […]

এক বছর আগে ৩১ বছর বয়স্ক এক মা তার সন্তানের ডুচেনে মাসকুলার ডায়েসট্রফি রোগের চিকিৎসার অনুসন্ধান করছিলেন। তিনি ডা: ইসতাভান সেফফার, যিনি গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন তার সম্বন্ধে একটি পোষ্ট লিখেন (হান্গেরীর ভাষায়)। ভদ্রমহিলা তার এই চিকিৎসা পদ্ধতির উপর নির্ভর করেছিলেন।

[…] আমি যথারীতি উল্লেখ করছি যে ডা: ইসতাভান সেফফারের সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছিল। আমার সন্তানের স্টেম সেল চিকিৎসার জন্য। তিনি কাপোসভারে এক প্রাইভেট প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিকে এই চিকিৎসা করতেন। এই চিকিৎসা করার তাদের নৈতিক কোন অনুমতি ছিল না, কিন্তু ডাক্তার পিসকুর কিয়েভে এইভাবে চিকিৎসা করেন। তিনি এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করার জন্য এখানে আসেন। অবশ্যই আমি আমার নিজের দায়িত্বে সন্তানের (রোগী বা তার আত্মীয়দের এই ধরনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ স্বাক্ষর প্রদান করতে হয়) জন্য এই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করার ভার নিয়েছিলাম। তার তিনটি সমস্যা ছিল। এর মধ্যে দু'টি তারা ঠিক করতে পেরেছে। যা তারা সঠিক ভাবে করার উদ্দেশ্য নিয়ে করেছে। এই ক্ষেত্রে তারা ঠিকমতো স্বাস্থ্যকর শর্তগুলো পুরণ করেছে। তারা এর জন্য যে স্টেম সেল গুলো ব্যবহার করেছে তা কিয়েভের নয়, হান্গেরীতে উৎপন্ন হয়েছে। এই কথা ডাক্তাররা বলেছিল, যে পরিস্থিতির উপর তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে (সংক্রমণ ও জীনগত রোগের উপর)। তৃতীয় বিষয়টি ছিল ক্যান্সারের ঝুঁকি, এই বিষয়ে বর্তমানেও আমি কিছু জানি না, তবে বর্তমান বিজ্ঞানের অবস্থা বিবেচনা করে বলতে পারি, তারাও এই বিষয়ে কিছু জানে না।[..]

স্টেম সেল গবেষণার ভিত্তি হল এক পরিত্যক্ত ভ্রূণ। রেসজেগ জামারাস (“মাতাল গাধা”) এই বিষয়ে এক ক্রুদ্ধ পোস্ট লিখেন (হান্গেরীয় ভাষায়):

[…] যেমনটা নেভেলেটলেন এবং অন্য কয়েকটি পত্রিকা লিখেছে, স্টেম সেল, মারা যাচ্ছে বা পরিত্যাগ করা হচ্ছে এমন কোন ভ্রূণ থেকে নেওয়া হয়। এই ব্যাপারে একটা বিষয় নিশ্চিত করা যেতে পারে যে, স্টেম সেল কোন মৃত ভ্রূণ থেকে নেওয়া হয় না। কারণ মৃত কোন প্রাণীর শরীরের কোন অঙ্গ কোন জীবিত প্রাণীর দেহে স্থাপন করা যায় না। কিন্তু পিটসি [ইসতাভান সেফফার] এবং তার বন্ধুরা মায়ের জরায়ু থেকে কোন কিছু জোর করে বের করেনি, কেবল টুপ করে নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও ভ্রূণকে জীবিত রেখেছেন এবং ডাস্টবিনে ফেলার আগে ভ্রূণ থেকে লক্ষ লক্ষ কোষ নিয়ে নিয়েছেন। যাই হোক “মানবতা” ও পিটসির পকেটের খাতিরে এই না চাওয়া ভ্রূণ আরেক জনের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়েছে এবং এদের প্রত্যেকের একজন জৈবিক মা ছিল। কাজেই এইসব মা’দেরও এই কাজের বৈধকরণ নীতিতে স্বাক্ষর করতে হয়েছে এই বলে যে এই সকল কাজে তাদের কোন আপত্তি নাই। যদি পিটসি তা উপস্থাপন করতে না পারে, তা হলে যে সে বিশাল খাদে পড়তে যাচ্ছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ স্টেম সেল এখনো তার আইনগত নিয়মতান্ত্রিকতা পার হতে পারে নি, মানে সে পুরোপুরি অবৈধ। কাজেই সৌভাগ্যবান যারা জীনগত কারণে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যা পাঁচ মিলিয়নে বা পঞ্চাশ লক্ষে প্রায় একজনের হয়, কারো গর্ভের বা এক অভ্যন্তরীণ জীবন নষ্ট করার বদলে সে নিজের জীবনে অতিরিক্ত আয়ু লাভ করে, আমি মনে করি একটি ছোট্ট বিষয়ের কথা উপস্থাপন করা হয় নি, এই সকল চিকিৎসা নিষিদ্ধ [ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে]।

হান্গেরী নিউজ এজেন্সি এমটিআই-এর তথ্য অনুসারে পিটার জামেসনিক, যিনি ইসতাভান সেফফারের আইনজীবী, তিনি জানান বৃহস্পতিবার এই ডাক্তারকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .