বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ক্যাম্বোডিয়া: অ্যাঙ্কর ওয়াট মন্দিরে বিতর্কিত আলোকসজ্জা

ক্যাম্বোডিয়ার সরকার ১১ শতকে নির্মিত মন্দির অ্যাঙ্কর ওয়াটে রাতের আলোকে ভ্রমণ এর প্রচারের জন্যে কৃত্রিম আলো বসিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ২০ শতাংশ পর্যটক কমে আসা ঠেকানো। এই পরিকল্পনা কিছু ঐতিহ্য সংরক্ষণবাদী ও ক্যাম্বোডিয়ার সচেতন নাগরিকদের বিরোধীতার মুখে পড়েছে। অ্যাঙ্কর ওয়াট ক্যাম্বোডিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা এবং তা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট (ঐতিহ্যবাহী সংরক্ষিত এলাকা) এর অন্তর্ভুক্ত।

ঐতিহ্য সংরক্ষনবাদী বিশেষজ্ঞরা মন্দিরে কৃত্রিম আলোক বসানোর বিষয়টিকে ‘দৃষ্টিকটু’ বলে অভিহিত করেছেন। ২০০৬ সাল থেকে এই পর্যন্ত মন্দিরে রাতে আলোকিত করার জন্য প্রায় ১২ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার খরচ করা হয়েছে। অ্যাঙ্কর ওয়াটকে একটি বিশাল বিনোদনমূলক এলাকায় পরিণত করার এক পরিকল্পনার এটি একটি অংশ।

সরকার আলোকসজ্জার বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেছে এভাবে যে এই প্রকল্প ইউনেস্কো সমর্থন করছে। কতৃপক্ষ আরো যোগ করছে যে এই আলো জ্বালানোর জন্য কেবল সৌরশক্তি চালিত বাতি ব্যবহার করা হয়।

জনগণ বিস্মিত যখন তারা জানতে পারে বিদ্যুত বাতি বসানোর জন্য মন্দিরের ভেতর গর্ত খোড়া হয়েছে। এই বিষয়টি প্রকল্পের কন্ট্রাকটার এবং সরকার উভয়েই অস্বীকার করেছে:

যারা কাজ করেছে সেই টীম এ ব্যাপারটি অন্যভাবে ব্যাখা করেছে। তারা বলছে এই কাজের জন্য তারা এক বিশেষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে যার মাধ্যমে বাল্বগুলো লাগানো হয়েছে। এতে মন্দিরের কোন ক্ষতি হয়নি। তারা কর্ক স্টপার এর মাধ্যমে বাল্ব বসিয়েছে সেই সমস্ত এলাকায় যেখানে ইতিমধ্যে গর্ত হয়েছিল এবং তা বসানো হয় পাথরের নীচের স্তরে। যারা সেখানে এই প্রকল্পে কাজ করছে তারা দাবী করছে যে যে আলো জ্বালানো হয়েছে তা খুবই সামান্য আলো দেয় এবং তা মন্দিরের কোন ক্ষতি করবে না।

বির্তক আরো তীব্র আকার ধারন করে যখন অ্যাঙ্কর ওয়াট মন্দিরের আলোক সজ্জার কাজে নিয়োজিত একজনের বিরুদ্ধে সরকারী আইনজীবি মামলা দায়ের করেন। মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযুক্ত ব্যাক্তি বিচার এড়ানোর জন্য ফ্রান্সে পালিয়ে গেছে।

অ্যাঙ্কর ওয়াট মন্দির ছবি, ড্রাগনওমেনের ফ্লিকার পাতা থেকে নেওয়া

অ্যাঙ্কর ওয়াট মন্দিরের ছবি, ড্রাগনওমেনের ফ্লিকার পাতা থেকে নেওয়া

নীচে ক্যাম্বোডিয়ার ব্লগোস্ফিয়ারের কিছু প্রতিক্রিয়া দেওয়া হলো। দি সন অফ দ্যা এম্পারার ব্লগ বলছে:

ক্যাম্বোডিয়ায় নেতা সামগ্রিকভাবে যেখানে দেশটিকে স্বচ্ছভাবে, নিরাপত্তা প্রদান করে চালাতে পারছে না, সেখানে এই কৃত্রিম আলোক সজ্জা কি অ্যাঙ্কর ওয়াট মন্দিরে আরো বেশী পর্যটক আকৃষ্ট করতে পারবে? ওদিকে দেশটিতে স্থায়ীত্ব নেই, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা নেই এবং দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশ ভিক্ষার উপর নির্ভর এবং প্রতিবেশী দেশ দ্বারা প্রভাবিত।

ব্যাক্তিগতভাবে আমি মনে করি এই আলোক সজ্জা গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমি মনে করি যারা এই প্রকল্প করার সুযোগ করে দিয়েছে তারা বিশ্বাসঘাতক। তারা দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে আমি মনে করি।

ওই সমস্ত লোকেরা অবশ্যই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করা উচিত ছিল এবং তাদের অবশ্যই সবচেয়ে সেরা উপায়ে আমাদের মহান পুর্বপুরুষদের তৈরী করা কাজগুলো রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল। আমাদের পুর্বপুরুষরা এই কাজগুলো আমাদের এবং পৃথিবীর জন্য তৈরী করেছিল। এটি আমাদের জনগণের এবং জাতির জন্য আত্মা, শক্তি এবং গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

রিয়েল ক্যাম্বডিয়া উৎসাহ প্রদান করছে অ্যাঙ্কর ওয়াটের দৃশ্য উন্নত করার প্রচেষ্টাকে:

আমি রাতের বেলা অ্যাঙ্কর ওয়াটকে দেখার এই চিন্তাটিকে পছন্দ করেছি। আমি কল্পনা করছি মুর্তি, বাঁক, এবং ছায়াগুলো অন্যরকম সুন্দর হবে, বিশেষ করে সুখী সময়ে এবং আশা করছি তারা সত্যিই পরিবেশ বান্ধব আলোকসজ্জা ব্যবহার করবে, যেমন এলইডি লাইট বেশ স্মার্ট বা চতুর এবং কৌশলী ভাবে চারপাশে অজস্র বিস্ময়, নাটকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করবে। কিন্তু তার সাথে আমি আশাবাদী যে তারা বেশীর ভাগ পার্ক নষ্ট না করেই এই কাজটা করবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি তার প্রকৃতি ও অতিপ্রাকৃত অব্স্থানের মাঝে আলাদা অবস্থান বজায় রাখা যায়।

দি সাউথ ইস্ট এশিয়ান আর্কিওলজি নিউজব্লগ (দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্নতত্ব ব্লগ) সর্তক করে দিয়েছে যে অ্যাঙ্কর ওয়াটে পর্যটকের সংখ্যা বাড়া তার জন্য খারাপ।

এই কাজটি হয়তো ক্রমাগত কমে আসা পর্যটন ব্যবসার পরিমাণ হয়তো আবার বাড়িয়ে দেবে। কিন্ত তা ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা বছর ধরে বলছেন অ্যাঙ্কর ওয়াটে পর্যটকের আগমন বেড়ে যাওযা তার নিজের স্থায়িত্বের জন্য ভালো নয়।

একজন অজ্ঞাত নামা মন্তব্যকারী এই আলোকসজ্জার বিষয়টি বাতিল করেছে:

এমনকি স্বাভাবিক অবস্থায় সাধারণ মানুষ আমাকে পছন্দ করে, আমি দেখতে পাচ্ছি এ রকম এক পবিত্র স্থাপনা আলোকিত করা যথাযথ কাজ নয় বিশ্বের যে কোন প্রান্তে। অ্যাঙ্কর ওয়াটের মতো এ রকম একটা চমৎকার ঐতিহ্যকে তার মতোই রাখা উচিত। যে এরকম একটা ধারণা নিয়ে এসেছে তার চাকুরী চলে যাওয়া উচিত!!!! তার নন্দন তত্ব সমন্ধে কোন ধারণা নেই, যাই হোক!!!

ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীকে পার্লামেন্টে এই বির্তকিত বিষয়ে প্রশ্নোত্তরে জন্য ডাকা হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .