বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আইভরি কোস্ট, লাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া এবং ইয়েমেনে নতুন নাগরিক মিডিয়া প্রকল্প উদীয়মান কন্ঠদের তুলে ধরছে

গত জানুয়ারি মাসে আমরা অ্যাক্টিভিস্ট (সক্রিয় কর্মী), এনজিও এবং ব্লগারদের কাছ থেকে ২৭০টিরও বেশী প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলাম, যারা নাগরিক মিডিয়া সরঞ্জাম ব্যবহার করে নতুন সম্প্রদায়দের কথপোকথনের ওয়েবে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতে চায়। সাধারণত: ঐতিহ্যবাহী এবং নতুন মিডিয়ার প্রচারে এইসব অজানা সম্প্রদায় অনেকদিন ধরেই উপেক্ষিত। রাইজিং ভয়েসেসের গত দুই বছরের ইতিহাসে নাগরিক মিডিয়া প্রশিক্ষণ প্রকল্পের সহায়তায় এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রস্তাব জমা পরেছে। সাধারণ নাগরিকেরা নাগরিক মিডিয়ার প্রতি এই যে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রকাশ করছে তা বোঝায় যে আমরা একটি সত্যিকারের রুপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি এই বিষয়ে যে আমরা সমগ্র বিশ্ব সম্বন্ধে কিভাবে তথ্য পাব এবং সেই তথ্যটি কারা দেবে। ২৭০টি প্রকল্প প্রস্তাবসমূহের মধ্যে নিন্মের পাঁচটি রাইজিং ভয়েসেস যে উদ্ভাবন, উদ্দেশ্য এবং সুনামের প্রতিনিধিত্ব ও সমর্থন করে তার সাথে সর্বাপেক্ষা সঙ্গতিপূর্ণ।

আবিদজান ব্লগ ক্যাম্প:

থিওফাইল কুয়ামুও আফ্রিকার ফরাসীভাষী সেরা ব্লগারদের একজন। আইভরি কোস্টের আবিদজানে বাস করেন তিনি এবং আইভোয়ার ব্লগ নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আফ্রিকা সম্বন্ধে একটি সফল মিম চালু করেছিলেন “কেন আমি আফ্রিকা সম্পর্কে ব্লগ করি?” (এলিয়া ভারেল্লা সেরা দু পর্বের এক সিরিজে এটিকে তুলে ধরেছেন গ্লোবাল ভয়েসেসে)। কুয়ামুও এখন চেষ্টা করছেন আবিদজানের আশে পাশে বেশ কয়েকটি “ব্লগ ক্যাম্প” এর আয়োজন করার মাধ্যমে তার দেশের আরও অনেককে ব্লগের জগৎে আনতে। এর ফলে আইভোরি কোস্টের বর্তমান ব্লগাররা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর আরো আলোচনা করতে পারবে এবং নতুন ব্লগারদের উদ্বুদ্ধ করবে ও পথ দেখাবে। কুয়ামুও গতবছরের আগষ্টে তার নিজস্ব ব্লগে এই প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপন করেছিল, যেটিকে সমর্থন করছে অনেকেই এবং নানা মন্তব্য করেছেন। ব্লগ ক্যাম্পের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে অংশগ্রহণমূলক নেটে নতুন নাগরিকদের আকর্ষণ করার। ভারতে বেশ কয়েকটি ব্লগ ক্যাম্প হয়েছে চেন্নাইতে ২০০৬ সালে এবং অতি সম্প্রতি মুম্বাইতে। গত অক্টোবর ব্লগক্যাম্প সিইই রুশ ভাষাভাষী ব্লগোস্ফিয়ারে অনেক নতুন অংশগ্রহণকারীদের এনেছিল। অবশ্য বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পশ্চিম আফ্রিকা (এবং বিশেষভাবে তাদের ফরাসীভাষী অংশ) এই জাগরণের বাইরে ছিল। সেটির পরিবর্তন শুরু হয়েছে। হাইওয়ে আফ্রিকা এবং গ্লোবাল ভয়েসেস এর সহায়তায় পানোস পশ্চিম আফ্রিকা সাম্প্রতিক কালে ঘোষণা করেছিল ওয়াক্সাল- ব্লগিং আফ্রিকা পূরস্কার। আশা করছি পরবর্তী বছর আমরা আরও বেশি আইভোরিয়ানকে খুঁজে পাব কারন থিওফাইল কুয়ামুও বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে যাচ্ছে। আমরা আশা করতে পারি যে শতশত না হলেও ডজন ডজন আইভরিয়ানরা ব্লগোস্ফিয়ারে যোগ দেবে। আবিদজান ব্লগ ক্যাম্প আফ্রিকা মহাদেশের অন্যান্য এরুপ উদ্যোগ যেমন মাদাগাস্কার, কেনিয়া, উগাণ্ডা, মরিশাস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লগ ক্যাম্প আন্দোলনের সাথে যোগাযোগ করবে ও একসাথে কাজ করবে।

সিজফায়ার লাইবেরিয়া

Liberia

লাইবেরিয়া আইভরি কোস্টের পশ্চিমে অবস্থিত এবং মোটামুটিভাবে ৩৫ লক্ষ বাসিন্দা এদেশে বাস করে। ঊনবিংশ শতকের প্রথম ভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তি প্রাপ্ত দাস কর্তৃক অধ্যুসিত লাইবেরিয়া গৃহযুদ্ধ এবং অরাজকতার ১৪বছর ব্যাপী একটি অন্ধকার গর্তে পড়েছিল যা ২০০৩ সালে শেষ হয় ইকোওয়াজ এবং জাতিসংঘের উপস্থিতিতে। আজ লাইবেরিয়া অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং প্রায় ৮০% বেকারত্ব এবং প্রাক্তন যোদ্ধাদের (তাদের মধ্যে অনেকে অল্পবয়সী) সমাজে পুনর্বাসনের চাহিদা ইত্যাদি সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে নিজেকে পুনরুদ্ধার করছে। অনেক বেকার লাইবেরিয়ান বিদেশে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাদের বন্ধু এবং আত্মীয়দের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়ে তাদের আশা জিইয়ে রেখেছে। কিন্তু দেখা যায় প্রবাসী এবং স্থানীয় লাইবেরিয়ানদের মধ্যে যোগাযোগ এবং বোঝাপড়ার অভাব প্রায়শ:ই হচ্ছে। পশ্চিম আফ্রিকান যুবার জন্য একটি ড্রপ ইন সেন্টার আফ্রিকান রিফিউজ, পার্ক হিল এর সেঞ্চুরী ড্যান্স কম্প্লেক্স, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড (আফ্রিকার বাইরে বৃহত্তম লাইবেরিয়ান সম্প্রদায়) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, মনরোভিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রুথি অ্যাকারম্যান একটি আন্ত:মহাসাগরীয় লাইবেরিয়ান ব্লগিং সম্প্রদায় গঠন করার লক্ষ্যে নিবেদিত হয়েছে।

যেসব লাইবেরিয়ান যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গিয়েছে – যোদ্ধা বা সাধারণ মানুষ – সবাই বেশ কিছু মানসিক আঘাত এবং ঘরবাড়ী ছাড়ার দু:খ অনুভব করেছে। তাদের অভিজ্ঞতা আদানপ্রদানের আয়োজনের মধ্যে একটি সম্প্রদায় গঠন এই যুবাদের অনুভব করতে সাহায্য করেছে যে নিজেদের চেয়েও বড় কিছু জিনিষ আছে যা তাদের জীবনে একটি লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এনে দেবে। এই অনুভব (সাগরের উভয় পাশের) লাইবেরিয়ান সম্প্রদায়কে সুবিধা দেবে অনেক স্তরে: যেসব লাইবেরিয়ান আমেরিকার জীবন যাপনে মানিয়ে নিতে ঝামেলা পোহাচ্ছে, বা তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনঃসংযোগ করতে কষ্ট পাচ্ছে তারা আমেরিকার জীবন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণাগুলো মেটানোতে সাহায্য করবে। যুদ্ধ শেষ হলেও এখনো কিছু চাপা উত্তেজনা বিরাজমান যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার মধ্য দিয়ে মেটানো হয়ত সম্ভব।

ডিজিটাল যুগের প্রকৃত অভিজ্ঞতা- চীন

শেনইয়াং এর আভিধানিক মানে হচ্ছে ‘শেন নদীর উত্তরের শহর'। লিয়াওনিং প্রদেশের রাজধানী এই শহরটি চীনের পরবর্তী পর্যটক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। কিন্তু আপনি যখন পুরনো শহরের প্রাচীন প্যাগোডা অথবা সরকারী “হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলাপমেন্ট জোন” পরিদর্শন করছেন তখন স্মারকলিপি বা ব্রশিউরে কিন্তু উল্লেখ থাকছে না সেইসব মহিলা ও পুরুষ যৌন কর্মীদের কথা যাদের বেশীর ভাগ দরিদ্র গ্রামীন সম্প্রদায় থেকে এ শহরে সুযোগের অনুসন্ধানে এসেছে। আই ঝি ইউয়ান ঝু সেন্টার ফর হেল্থ এন্ড এডুকেশন (এজেডওয়াইজেড) এর সঙ্গে অংশীদারীত্বে ডকুমেন্টারী চলচ্চিত্র নির্মাতা ওয়েই ঝাং পুরুষ এবং মহিলা লিঙ্গ কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এজেডওয়াইজেড এর সেন্টার ব্যবহার করে এদের শেখানো হবে কিভাবে একটি ব্লগ তৈরি করা যায় ও এটিকে চালু রাখা যায়; সেখানে তাদের অভিজ্ঞতা, মতামত তুলে ধরা যায় এবং ছোট ভিডিও ডকুমেন্টারী আপলোড করে প্রকাশ করা যায়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে অত্র অঞ্চলের যৌনকর্মীদের মধ্যে আরও বেশি বোঝাপড়া আনা ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায়।

নোমাড গ্রীন – মঙ্গোলিয়া

উত্তরপূর্ব এশিয়া থেকে পরিবেশ কর্মীরা উলানবাটোরে প্রথম বারের জন্য মিলিত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং কিভাবে এই অঞ্চলে শক্তির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করার জন্যে। মঙ্গোলিয়ার রাজধানী এই ধরনের আলোচনার জন্যে সঠিক স্থান বলে পরিগণিত হয়েছে কারন এই শহরে দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা ও কলকারখানা বৃদ্ধির দরুন কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিবেশ হুমকির মধ্যে পড়েছে। উলানবাটোরে পরিবেশ দুষণের চিহ্ন হিসেবে ঘনঘন কুয়াশার গাঢ় প্রলেপ পরে:

জলবায়ু পরিবর্তনের মরুকরনের ফলে মঙ্গোলীয় যাযাবর গোত্রের জীবনযাত্রা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে এবং এদেশের সাইগা এন্টিলোপ এশিয়াতে সর্বাপেক্ষা বিপন্ন এন্টিলোপ প্রজাতি হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। এতসব খারাপ খবরের মাঝখানে মঙ্গোলীয় এবং তিব্বতী ফাউন্ডেশন এবং মঙ্গোলীয় গ্রিন পার্টির সঙ্গে সহযোগিতায় পোর্টনয় ঝেং মঙ্গোলীয় নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দেবে কিভাবে তাদের দেশের পরিবেশ সংক্রান্ত সঙ্কট সম্বন্ধে দেশে এবং বিদেশে সচেতন করা যায়। নোমাড গ্রিনের লক্ষ্য হচ্ছে ১) নাগরিক সাংবাদিকদের ডিজিট্যাল ভিডিও, পডকাস্ট, মানচিত্রের ম্যাশআপ ইত্যাদি ব্যবহার করে ব্লগিং করা শেখানো যাতে তারা পরিবেশ সংক্রান্ত খবরের প্রতিবেদন করতে পারে। ২) পরিবেশবাদীদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ভীতি, সমাধান সম্বন্ধে তথ্য আদান প্রদান, বিভিন্ন সুযোগ ও করনীয় সম্পর্কে প্রচার এবং 3.) মঙ্গোলিয়ার পরিবেশ সংক্রান্ত হুমকি মোকাবেলা করতে এবং আরও বেশি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উৎসাহিত করতে চীনা এবং ইংরেজীর ভাষায় এইসব কর্মকান্ডের বর্ণনা অনুবাদ করা।

মিডিয়া কৌশলে মহিলা সক্রিয় কর্মীদের ক্ষমতায়ন- ইয়েমেন

যেহেতু আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ মানেই ইজরায়েল প্যালেস্টাইন সংঘাত, ইরাকের যুদ্ধ, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প, এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্ধনৈতিক কর্মকান্ড ইত্যাদি বিষয়ে পূর্ণ থাকে, ছোট দরিদ্র দেশগুলো যেমন ইয়েমেনের প্রতি মনযোগ একেবারেই কম দেওয়া হয়। গত কয়েক বছরের ইয়েমেন নিয়ে যৎকিঞ্চিত মিডিয়া কভারেজের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আল-কায়দার উপস্থিতি সংক্রান্ত ভীতি।

Yemen trend

হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ইনিশিয়েটিভ এর সহায়তায় ঘাঈদা আল আবসী নতুন মিডিয়া সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেবেন সেদেশের নারী রাজনীতিবিদ, সক্রিয় কর্মী, এবং মানবাধিকার কর্মীদেরকে। তারা আরবী ভাষাভাষী ব্লগোস্ফিয়ারে নতুন একটি পরিপ্রেক্ষিত যোগ করবে এবং ইয়েমেনী নারী কর্মীদের একটি অনলাইন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত করবে। এটি খুবই প্রাসঙিক যে আজ ৯৮তম আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমরা ঘোষণা করছি আল আবসির এই উদ্যোগের কথা যা আরও বেশী পরিমাণে নারী কন্ঠকে ইন্টারনেটে আনবে।

ইয়েমেনে নারীদের মানবাধিকার অবস্থার অবনতি সংক্রান্ত অনেক তথ্যই লিপিবদ্ধ আছে এবং এ নিয়ে অনেক আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু দেখা যায় সেখানকার নারীরা এই আলোচনায় অংশ নেয় না। আল আবসী এই অবস্থার পরিবর্তন চাচ্ছে ইয়েমেন জুড়ে এনজিও এবং রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করে।

আসুন আপনারা আমার সাথে যোগ দিন এই নতুন পাঁচটি প্রকল্পকে আমাদের কমিউনিটিতে স্বাগত জানাতে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .