বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

হিজাব ব্লগিং এখন জনপ্রিয়

হিজাব্লগিং বা হিজাব পরিহিত নারীদের ব্লগিং হচ্ছে সর্বশেষ একটি বিশ্বব্যাপী প্রবণতা যা ব্লগ জগৎে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সারা বিশ্বে মহিলা যারা হিজাব (মুসলমান মেয়েদের ঘোমটা বা বা মাথা ঢাকার কাপড়) পরেন বা পরতে চান তারা তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ব্লগে লেখাকে বেছে নিচ্ছেন। তারা বর্ণনা করছেন হিজাবের ফ্যাশন, জীবনধারা, অভিজ্ঞতা আর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুশাসন যা এটাকে ঘিরে আছে।

এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিচ্ছে হিজাব্লগ। নরওয়েতে অবস্থিত এই ব্লগের পেছনের নারীরা সব কিছু নিয়ে লেখেন, যেমন রাজনৈতিক বিষয় থেকে (যেমন সাম্প্রতিক বিতর্ক চলছে হিজাব পরা নারীদের নরওয়ের পুলিশে যোগ দেওয়া নিয়ে) মালয়েশিয়ায় ইসলামিক বিয়ের ফ্যাশন পর্যন্ত। সাম্প্রতিক এক লেখায়, এই ব্লগ ইন্দোনেশিয়ার ইসলামিক ফ্যাশনের ডিজাইনার ইতাংগ ইউনাজ কে তুলে ধরেছে:

ইতাংগ ইউনাজ একজন ডিজাইনার যিনি খোলামেলা জামা তৈরি করতেন কিন্তু তার পরে কয়েক বছরের জন্য গায়েব হয়ে যান। এরপর তিনি ফিরে এলেন পর্দানসীন নারীদের জন্য কিছু ডিজাইন নিয়ে। তার ডিজাইনগুলো দেখানো হয় সাম্প্রতিক ইসলামিক ফ্যাশন উৎসবে।

একটি ক্যানাডীয় ব্লগ মুসলিমা মারিয়া পাঠকদের এই বাক্য দ্বারা সম্ভাষণ জানায়: “আমার হিজাব ভ্রমণে স্বাগতম…”। এই ব্লগারের সাম্প্রতিক পোস্ট থেকে, এটা পরিষ্কার যে প্রায় আট মাস আগে তার হিজাব পরার সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া আসলেই একটা ভ্রমণ ছিল। তিনি লিখেছেন:

আমি জানি না সব নারীর জন্য এটি প্রযোজ্য কিনা, কিন্তু আমার মনে হয় আমি আসলে ব্যাপারটা ধরতে পেরেছি কেন বেশীরভাগ নারীর জন্য হিজাব কষ্টসাধ্য-এবং আমিও এর ব্যতিক্রম নই। হিজাব পরলে আর আপনার নিজেকে লুকাবার কোন জায়গা থাকেনা। বিশ্বাস হচ্ছে না? আপনি নিজে কি বোধ করছেন তা লুকাতে পারবেন না, নিজের যেসব জিনিষ আপনি অপছন্দ করেন, যেসব ব্যাক্তিগত গুণ আপনার মনে হয় আপনার নেই সেগুলো অজান্তে বের হয়ে আসবে। কারন নিজের চরিত্র গঠনের পরিবর্তে আপনি হয়ত গত ২৫ বছর ব্যয় করেছেন সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে একটি মেকী জীবন গঠন করতে। আপনার নিজেকে তখন কুৎসিত মনে হবে, যদিও আমি যে কোন নারীকে হিজাবে দেখেছি তাদেরকে আগের থেকে দেখতে ভালো লাগে। আপনার শরীর সম্পর্কে আপনার নিজের ভাবনা, আপনার চেহারা আপনার ব্যক্তিগত ধারণা সবার সামনে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে- এটা একটা চ্যালেঞ্জ যা একজন মহিলা নেন হিজাব পরার সময়ে। তার কাছে চ্যালেঞ্জ আছে মেক আপ, চুল, উত্তেজনা সৃষ্টিকারী পোশাক দ্বারা পৃথিবীর কাছ থেকে তার আসল সত্বা না লুকানো। তার মেকী চরিত্র দিয়ে বিশ্বকে বিক্ষিপ্ত করার কিছুই নেই, সে যে কথা বলে, যে চিন্তা মনের মধ্যে থাকে সেটাই সেটাই প্রকাশ করে… আর এটাই আসলে ভীতিজনক।

এটা ভীতিজনক যে এমন একটি পৃথিবী যেখানে আপনি আপনার চোখের পাতা ফেলেন, চুল ওড়ান আর হাসি দিয়ে সাথে সাথে গ্রহণযোগ্যতা পান, সেখান থেকে এমন একটি দুনিয়ায় আসা যেখানে মানুষ আসলে তার কথা আর কি করে সে বলছে তাতে সবাই গুরুত্ব দিচ্ছে। আপনি যে সকল জিনিষ নিজের সম্পর্কে খারাপ মনে করেন তা ফ্যাশন, মেক আপ, অলঙ্কার আর চুলের স্টাইল দিয়ে লুকানো সহজ। হিজাব পরলে আপনি নিজের মুখোমুখী হচ্ছেন: আপনার নিচু মানের ব্যক্তিগত ধারণা, আপনার বিশ্রী শারীরিক প্রতিচ্ছবি, আপনার চরিত্রের অভাব নিয়ে আপনার মনোভাব বা আপনি কি করে মনে করেন যে এখন আপনি আর আকর্ষণীয় না যেহেতু এখন আপনি আর যৌনতা ব্যবহার করছেন না দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। হিজাব পরলে আপনি নিজের ভেতরের দানবের সম্মুখীন হন- সেটাই সব থেকে কঠিন।

নিজ জার্সি (আমেরিকা) থেকে ইজ দেয়ার ফুড অন মাই নেকাব? ব্লগের লেখক সাম্প্রতিক এই পোস্টে হিজাব স্যালুনের ধারনা নিয়ে চিন্তা করেছেন:

আমি আপনাদের বলছি, খুব শীঘ্রই আপনারা সব জায়গায় হিজাব স্যালুন (পার্লার) দেখবেন। একজন বোন অনায়াসে সেখানে যেতে পারেন এবং একজন হিজাব স্টাইলিস্ট এসে তাদের হিজাব বেঁধে দিতে পারে যদি তাদের কোন বিয়ে বা আকিকায় যেতে হয়, বিশেষ করে যদি তাদের অভ্যাস না থাকে আকর্ষণীয়ভাবে হিজাব বাঁধার। আসলে আপনারা হয়তো ওখানে গিয়ে হিজাব ভাড়া নিতে পারবেন সুন্দরভাবে স্টাইল মেলানো হিজাব পিনসহ! আপনি পরে এটা ফেরত দিতে পারেন যেখানে এটাকে ভালোভাবে ধুয়ে পরের গ্রাহকের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে।

বোনেরা পিছনে বসে অপেক্ষা করবেন… হিজাবের স্টাইল সমৃদ্ধ পাতা কোকড়ানো ম্যাগাজিনের পাতা উল্টিয়ে, যা থেকে তারা স্টাইল পছন্দ করতে পারে। তারা তাদের ভেতরের পোশাক আর একটি ব্যাগে আনবে তার সাথে হিজাব, মাথার কাপড় আর পিন ঠিকমতো মেলানোর জন্য। হিজাব স্টাইলিস্ট তাদের চেহারা আর গায়ের রঙ দেখে কাজ শুরু করবে, হিজাব দিয়ে বিশাল ঢেউ খেলানো খোঁপা আর আয়োজন করে এটাকে সম্ভাব্য সব ধরণে বেঁধে আর ঝুলিয়ে। হয়তো তাদের বিশেষ ধরনের হিজাব স্প্রে লাগবে এটা যাতে ঝুলে না পড়ে সেই ব্যবস্থা করতে! হতো কোন বিউটিশিয়ান থাকবেন মেক আপে সাহায্যের জন্য আর তারা আপনাকে একটা নেকাব দেবে পরে বের হওয়ার জন্য যেহেতু আপনি সেজে থাকবেন।

আমি এখন এটা দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছি…হুমম…।

একটা কথা, যদি কেউ আমার ধারণা নিয়ে একটা হিজাব স্যালুন খোলেন তাহলে আমি তার কাছে আসবো ৫০% লভ্যাংশ নেবার জন্য…অন্তত! হুমম.!

হিজাবস্টাইল এমন একটা ব্লগ যেটা হিজাবের বিভিন্ন স্টাইল দেখায়, আর তার সাথে বিভিন্ন মহিলার এটা পরা নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরে। এই ব্লগে নীচের ভিডিওটি সম্প্রতি পোস্ট করা হয়:

উপরে উল্লেখিত তিনজন ছাড়াও, আরো কয়েকজন হিজাব পরা ব্লগার আছেন: হিজাব স্টাইল, হিজাবী, আর হিজাবী কুতুর অনেকের মধ্যে থেকে মাত্র কয়েকটি উদাহরণ মাত্র।

3 টি মন্তব্য

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .