বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ল্যাটিন আমেরিকা: আরো রুপকথা, ভুত, দানব আর ভীতি

ল্যাটিন আমেরিকার রুপকথা, ভুত, দানব আর ভীতি এই সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে আমরা জানব ভেনেজুয়েলার অ্যানিমাস আর তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পর্কে, সায়োনা আর সিটি বাজিয়ে; এছাড়াও ইকুয়েডরের লোককাহিনী যেমন গায়াস আর কিলের স্থাপনার কাহিনী, বাবা আলমিডা, মাথা বিহীন পুরোহিত, দ্যা গাগূনেস (পরিচিতরা) আর কান্টুনা ক্যাথিড্রালের লোককাহিনী ইত্যাদি নানা লোকগাথা। এই সিরিজের প্রথম পর্ব এখানে পড়তে পারবেন

Starry night
তারা ভরা রাত: ছবি নোয়াহ জি এর সৌজন্যে

ভেনেজুয়েলার লোককাহিনী মনে হয় এসেছে মানুষের প্রতিশ্রুতি রক্ষার শিক্ষা থেকে, তা বিয়ের প্রতিশ্রুতি হোক বা মৃতকে দেয়া কথা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ক্ষেত্রে, সায়োনা আর সিল্বন এর গল্প একই রকম। প্রথম ক্ষেত্রে সায়োনা এক ধরনের ভীতি যা অবিশ্বস্ত পুরুষদের কাছে তাদেরকে ভয় দেখাতে আসে, আর নিশ্চিত করতে চায় যে তারা আবার কখনো অবিশ্বস্ত হবে না। কাহিনীতে আছে যে সে সন্দেহ করতো যে তার স্বামী তার মার সাথে শুচ্ছে, আর তাই সে দুইজনকেই হত্যা করে। তার মা শেষ নিশ্বাস নেয়ার সময় তাকে অভিশাপ দেয় যে সে সারা জীবন ঘুরে বেড়াবে আর শান্তি পাবে না। পেন্সামিয়েন্তো ক্রিটিকো ব্লগে ‘প্রত্যক্ষদর্শীর ব্যাখ্যা’ আছে যে সায়োনার আবির্ভাব কিভাবে অবিশ্বস্ত পুরুষদেরকে ঠিক পথে পরিচালিত করেছে।

রিকার্ডো তারভেনেজুয়েলার ভুত আর ছায়া ব্লগে, অন্য ভীতিকর গল্প সিটিবাদক বা সিল্বন সম্পর্কে বলছেন যে এটি একজন লোককে ঘিরে কাহিনী। বেশ কয়েক ধরণের সংস্করণ অনুযায়ী এই লোকটি ভেবেছিল যে তার বাবা তার স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করেছে, আর তাই সে তার বাবাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। তার দাদা এই কাজের শাস্তি দেয় তাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে চাবুক দিয়ে মেরে, আর তারপর তার ক্ষতস্থানে মরিচ ঢেলে দিয়ে আর তার পরে কুকুর দিয়ে তাকে তাড়া করে। সিটিবাদক, যেমন তার নাম থেকে বোঝা যায়, কাছে আসলে সিটি দেয়ার মতো একটা শব্দ করে, আর সে যতো কাছে আসে ততো এই শব্দ কমে আসে। যদি খুব কাছ থেকে এটা শোনা যায়, তার মানে সিটিবাদক অনেক দূরে। সিটিবাদক কাছে আছে কিনা তা বোঝার আর একটা উপায় হচ্ছে একধরনের ঠকঠক শব্দ যা সব সময়ে সিল্বন যেখানে যায় তার সাথে সাথে যায়। এটি আসলে তার বাবার হাড়ের শব্দ যা সে একটা থলেতে করে তার কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বলা হয় যে সিল্বন যদি কারো দরজার সামনে থামে তার থলের হাড় গোনার জন্য, আর কেউ তাকে শুনতে না পায়, পরে দিন ওই বাড়ীর কেউ না কেউ মারা যাবে।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সাথে জড়িত আর একটা লোককাহিনী হচ্ছে পিকা-পিকা ভুতের। একজন কৃষক মাঠে একটা গাঁধা হারিয়ে ফেলেছিল, আর গাছের কাছে খুঁজতে গিয়ে একটা সৈনিকের কবরবিহীন লাশ দেখতে পায় সে। সে সৈনিকের সাহায্য চায় গাঁধাটা খুঁজতে যার বিনিময়ে সে তাকে খ্রীষ্ট মতে কবর দেবে। গাঁধা ফিরে আসলো কিন্তু কৃষক তার কথা রাখলো না, আর পরে অসুস্থ হয়ে পড়লো। সে তার সন্তানদের তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা জানালো, কিন্তু তারা গিয়ে সৈনিককে কবর দিলেও কৃষক মারা যায়। কেবুল্লা তার ব্লগে এটা বলেছে।

ইকুয়েডর থেকে, স্টিভেন, আল্ভারো, আন্ড্রেস আর আলেক্সিস সে দেশের লোককাহিনী নিয়ে লিখেছে যেখানে কান্টুনা ইন্ডিয়ান লোকগাথার দুটি সংস্করণ আছে। ভুল সংস্করণে বলা হয়েছে কি করে সে শয়তানের সাথে চুক্তি করেছিল ক্যাথিড্রালটি সময় মতো শেষ করতে পারার জন্য, আর পরে কি করে নিজের আত্মা বিক্রি হওয়া থেকে বাঁচিয়েছিল একটা ইট গাঁথা বাকি রেখে যার ফলে বাড়ীটা সম্পূর্ণ হয়নি। আর সত্যি সংস্করণে বলা হয়েছে যে ক্যান্টুনা স্থানীয় একজন আদিবাসী ছিল যাকে স্প্যানিশ অভিবাসনকারীরা দত্তক নিয়েছিল। আর যখন তাদের আর্থিক কষ্ট হয়, ক্যান্টুনা কথা দিয়েছিল যে ক্যাথিড্রালটির প্লানে কিছু পরিবর্তন করা হলে, সে তাদের দুর্দশা দুর করবে। আর তার পরে তাই হয়েছিল, তার কাছে সব সময় টাকা ছিল, অনেক। আর যখন পাদ্রীরা জানতে চাইল যে এই টাকা কোথা থেকে এসেছে, ক্যান্টুনা তাদেরকে বলল যে সে শয়তানের সাথে চুক্তি করেছে যাতে তারা সব সময় টাকা পায়। আসলে তার সোনা গলানোর একটা ব্যবসা ছিল যেখানে সে সোনার বার আর সোনার ইনকা মূর্তি গলাতো আর সেগুলো থেকে পয়সা তৈরি করতো।


ছবি লুজার সৌজন্যে

গায়াস আর কুয়িল (বা কিল) এর লোককাহিনী জানায় কি করে গায়াকিল শহরের নামকরন হয়েছে: বলা হয় যে বন্দী ইন্ডিয়ান গোত্রপ্রধান জানতে পারে যে স্প্যানিশরা তার সুন্দরী স্ত্রী কিলকে নিয়ে যেতে চায়। সে তাদেরকে বলে যে তার স্ত্রীকে ছেড়ে দিলে আর তাদেরকে স্বাধীনতা দিলে সে তাদের অনেক সম্পদ দেবে। সে তারপর স্প্যানিশদের একটা পাহাড়ের উপর নিয়ে একটা লম্বা শক্ত লাঠি চায় যা দিয়ে একটা পাথর সরানো যাবে। তাকে বর্শা দেয়া হলে সে তার স্ত্রীর হৃদয় এটা দিয়ে বিদীর্ন করে নিজেকেও মারে, আর স্প্যানিশদের বলে যে সে দুটো সম্পদ নিয়ে যাচ্ছে, তার ভাইয়ের রক্তে ভরা নদী আর তার সাথে সূর্যের দেশে যাওয়ার জন্য সাথী হিসেবে তার স্ত্রী।

ব্লগার ডান এই লোককাহিনীর ব্যাপারে কিছু বলতে চায়, আর এর নামের সাথে যে সম্মান দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারেও। সে জানাচ্ছে যে গায়াকিল শব্দটা এসেছে হুয়াঙ্কাভিল্কা ভাষা থেকে যার মানে “আমাদের বড় বাড়ি” আর এমন একটা লোককাহিনীকে বাঁচিয়ে রাখার কোন মানে হয়না আসল নায়কদের জন্য স্তম্ভ না বানিয়ে, যেমন পুরো আদিবাসী ইন্ডিয়ান জাতির জন্য।

মাথাবিহীন পাদ্রী আর পাদ্রে আলমিদার একই উৎস। মামা- পুমার ব্লগ অনুসারে সান রোকোর জনপ্রিয় এলাকায় মাথাবিহীন পাদ্রীর আবির্ভাব হয়েছিল, আর সে সাধারণ একজন পাদ্রী ছাড়া আর কিছু ছিলনা, যে এলাকায় তার প্রেমিকার বাড়িতে যাওয়ার সময়ে মাথার উপরে টুপি তুলে দিত যাতে মানুষ ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়, আর তাকে চিনতে না পারে।

অন্য সংস্করণে, পাদ্রী আলমিদা একজন ভিক্ষু ছিলেন যে বলেছিলেন যে ধ্যানের জীবন তার জন্য না, আর মঠ থেকে বেরিয়ে যেতেন বেদীতে থাকা ক্রুশের উপর খ্রীষ্টের উপর চড়ে আর দেয়ালের জানালা পেরিয়ে। যখনি তিনি মাতাল অবস্থায় ফিরে আসতেন, তিনি দেখতেন খ্রীষ্ট ঠোঁট নাড়িয়ে বলছে ”আর কতো দিন পাদ্রী আলমিদা?” আর ভিক্ষু বলতেন পরের বার। পরিশেষে তার এরকম এক লুকিয়ে ভ্রমণের সময়ে তিনি একটি শবযাত্রা দেখেন আর যখন শবকে ঘিরে থাকা ভিক্ষুদের জিজ্ঞাসা করেন ওটা কার মৃতদেহ তারা বলে “পাদ্রী আলমিদা”। তিনি বুঝতে পারেন যে আসলে কঙ্কালরা কফিন বহন করছে, তাই দৌঁড়ে বাড়ী চলে যান এবং জীবনে কখনো আর পাপ করেননি।

শেষ লোককাহিনী গাগোনেসের আগের কাহিনীগুলোর চেয়ে একটু অদ্ভুত। বলা হয় যে গাগোনেস হচ্ছে কারো আত্মা পাপ করলে যে রুপ ধারন করে তাই (সাধারণত কুকুর)। তারা রাত্রে বের হয়ে এসে তাদের সাথীকে খোঁজে, আর পাগলের মতো আদর করে আর একে অপরকে পেঁচিয়ে ধরে সঙ্গম করে, কিন্তু তাদের মালিক তাদেরকে দেখতে পায়না। যারা গাগোনেস দেখতে পারে তারা গাগোনেসের মালিকের পাপের অবস্থা বুঝতে পারে। যদি গাগোনেসরা কুকুরের মতো (সঙ্গমে) আটকানো থাকে তার মানে এর মালিক ব্যাভিচারে লিপ্ত। গাগোনেস তাদের সামনে আসে যারা পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়ের সাথে পাপ কাজ করে, আর গাগোনকে যদি ধরে কালি দিয়ে তার মাথায় একটা ক্রুশ চিহ্ন একে দেয়া যায় তাহলে এর মালিককেও খুঁজে পাওয়া যাবে কারন তার মাথায়ও কালির ক্রুশ চিহ্ন থাকবে। যদি আপনার হৃদয় পবিত্র হয়, তাহলে আপনি সহজে একটা গাগোনকে ধরে দিনের আলো পর্যন্ত রাখতে পারেন, আর তার পর ছেড়ে দিয়ে দেখতে পারেন সে কোথায় দৌড়ে তার মালিকের সাথে মেলে। এটা ইয়াপা ডিজিটালস ব্লগে পাওয়া গেছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .