বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আরবদেশ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হচ্ছে?

জর্জিয়ার ঘটনা মধ্য প্রাচ্যের ব্লগাররা গভীরভাবে অনুসরণ করছেন, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন যে এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর কারন হতে পারে। এখানে সংক্ষেপে ইয়েমেন আর জর্ডানের ব্লগাররা কি বলছেন তা তুলে ধরা হলো।

ইয়েমেন থেকে ওমর বার্সাওয়াদ বলেছেন যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধা সম্ভব- প্রথমটার প্রায় ১ শতাব্দী পরে। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন:

ন্যাটো কি তার বিস্তার চালিয়ে যাবে? সেটা বেপরোয়া আর খুবই বিপজ্জনক হবে। প্রথম আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুঘর্টনাবশত ‘ক্ষুদ্র ঘটনা বড় আকার নেয়’ এবং এটি বুঝতে বুঝতে তা থামানোর জন্য খুব দেরী হয়ে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ দুর্ঘটনাবশত: হলেও প্রধানত: ইউরোপের একটা অংশ বেশী প্রভাবশালী হতে চেয়েছিল। দ্বিতীয়টা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে, একই কারনে, হিটলারও পুরানো হিসাব ঠিক করে সাম্রাজ্যের প্রসার চেয়েছিল। আর এই দুই বিশ্বযুদ্ধ, কোন না কোনভাবে- ছিল ক্ষমতা আর সম্পদ নিয়ন্ত্রনের জন্য; বিশেষ করে তেল।

“ইউরোপ কি গত শতকের ইতিহাস থেকে যথেষ্ট শেখেনি?” বার্সাওয়াদ জিজ্ঞেস করেছেন। তার অন্যান্য প্রশ্ন হলো:

সেখানে কি যথেষ্ট কষ্ট, ক্ষতি আর বিভীষিকা হয়নি তাদের শিক্ষা নেয়ার মত যাতে তারা একে অপরকে নিয়ে থাকতে পারে, তাদের কোন এক পক্ষ কলেবরে বেড়ে অপরকে নিয়ন্ত্রণ না করে? ন্যাটো সব সময় বলে যে প্রত্যেক দেশের উচিত অন্যের সীমানাকে সম্মান করা, কিন্তু সে নিজে আক্রমণ করে প্রসারিত হচ্ছে, এটা কি ধরনের বার্তা পাঠায়? যদি রাশিয়া বা চীন একই ভাবে আচরন করে- নিজের সীমানার বাইরে প্রসারিত করে আর মিসাইল অন্য এলাকায় রাখা, ন্যাটো কি চুপচাপ তা গ্রহণ করবে?

বার্সাওয়াদ শেষ করেছেন:

রাশিয়াকে বার বার আঘাত করে আর তাকে কোনঠাসা করলে দুঘর্টনাবশত কল্পনাতীত ঘটে যেতে পারে: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কেউ কি এটার জন্য প্রস্তুত? পারমাণবিক আর অন্যান্য বিপুল বিধ্বংসী অস্ত্র যা দুই পক্ষের আছে তা এতোদিন এটাকে ঠেকিয়ে রেখেছে, কিন্তু আর কতো দিন?

এর মধ্যে, “জর্জিয়া কোথায়?” জিজ্ঞেস করছেন জর্ডানের ব্লগার নাসিম তারাওনাহ। তিনি এটা আবিস্কার করেছেন যে মানচিত্র থেকে দেশটি মুছে ফেলা হয়েছে- অবশ্য গুগুল ম্যাপের কথা হচ্ছে এখানে।

আপনার বয়স যখন আমার মতো হবে আর আপনি ইতিহাসের বইতে যুদ্ধ আর বিবাদের কথা পড়বেন সব কিছু কেমন গতবাঁধা আর প্রাচীন মনে হবে। তাই আজকে আমি দেখে অবাক হয়েছি, কিছু একটা যা আমার প্রজন্মকে আর একটু বেশী কিছু বলছে। আপাতদৃষ্টিতে, রাশিয়া আক্রান্ত জর্জিয়া যা এই মাসে শিরোনামে আসছে, তা পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। গুগুল ম্যাপের কথা বলছি।

Georgia Google map

তারাওনাহ তারপর ম্যাপে জর্জিয়া না থাকার কারন ব্যাখ্যা করেছে:

যেকোন যুদ্ধে অবকাঠামোগুলো আঘাতের প্রথম লক্ষ্য করা হয়, সার্চ ইঞ্জিন গুগুল চায় না যে উভয় পক্ষের কেউ তাদের ম্যাপের প্রযুক্তি দিয়ে অবকাঠামোর অবস্থান জেনে লাভবান হোক। এই কোম্পানি তাই জর্জিয়ার বিশদ বিবরন যেমন রাস্তা, শহর ইত্যাদি যা গুগুল ম্যাপ দিয়ে যে কোন দেশেরই দেখা যায় সেগুলো মুছে দিয়েছে। তার সাথে সাথে পার্শবর্তী দেশ আজারবাইজান আর আর্মেনিয়ার তথ্যও সরিয়ে ফেলেছে।

জর্ডান থেকে সহব্লগার হারিগা এই সুযোগ ব্যবহার করেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ নিয়ে ঠাট্টা করতে, তার ভুতাত্তিক জ্ঞানকে প্রশ্ন করে:

রাশিয়া আর জর্জিয়ার মধ্যকার যুদ্ধ কুৎসিত হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট বুশ যখন শোনেন যে জর্জিয়ার উপর বোমা বর্ষণ হচ্ছে, তিনি আটলান্টার (আমেরিকার জর্জিয়া যেই প্রদেশে) জনগণকে আহবান করেছেন দৃঢ় থেকে তাদের সাধ্যমত অলিম্পিক গেমসের আয়োজন চালিয়ে যেতে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .