বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জাপানঃ মৃত্যুদন্ড

জাপানে গত ২৩ আগস্ট খুনের অভিযোগে সাজা প্রাপ্ত টোকিও আর নাগইয়া জেলের ৩ জন বন্দীকে ফাঁসি দেয়া হয় । আইন মন্ত্রী নাগাসে জিনেন, যাকে সম্প্রতি তার পদ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে, তার ১১ মাস সময়ে এই নিয়ে ১০ জনের ফাঁসি কার্যকর হতে দেখেছেন। প্রায় ১০০ জন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বন্দী নিয়ে আমেরিকার সাথে জাপান শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম যেখানে এখনো মৃত্যুদন্ড দেয়ার নিয়ম আছে আর জনগনের একটা বড় অংশ তা সমর্থন করে। ‘ইউ এন কমিটি এগেইনস্ট টর্চার’ ২০০৭ এর প্রথম দিকের এক রিপোর্টে জানিয়েছে যে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিকে একেবারে শেষ মুহূর্তে তার শাস্তি কার্যকর করার কথা বলা হয় আর এটাকে এক ধরনের নির্যাতন বলে তারা মনে করেন

এশিয়া ডেথ পেনাল্টি ব্লগ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিবরন আর জাপানে মৃত্যুদন্ড থাকার কারন লিখেছে (ইংরেজী ভাষায়)।

বাইরে অনেক সমালোচনা হলেও দেশের ভেতরে ব্যাপারটা তেমন আলোচিত হয়না বা গুরুত্ব পায়না। গত সপ্তাহের মৃত্যুদন্ডের পর কয়েকজন ব্লগার এটা নিয়ে লিখেছেন। অনেক ব্লগার ব্যাপারটা সমর্থন করেন। এন্টারপ্রাইস নামক ব্লগ প্রকাশিত একটি সাধারন দৃষ্টিভঙ্গিঃ

আমার মনে হয় মানুষের ভিন্ন মত থাকতে পারে, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতে মৃত্যুদন্ড একটি জরুরি রীতি। মৃত্যুদন্ড বাতিল হয়ে গেলে আসামিদের কি করে ঠিক রাখা যেত? তাদের কি করের টাকায় খাওয়াতে হবে? তার মানে তো যে আক্রান্ত হয়েছিল তার টাকাও এ কাজে ব্যবহৃত হবে। কেউ আমার পরিবারের কাউকে মেরে ফেলল আর আমি তার খেয়াল রাখার জন্য টাকা দিলাম –ব্যাপারটি প্রশ্নযোগ্য। যারা মৃত্যুদন্ডের বিরদ্ধে বলে তারা খুব সম্ভবত জীবনের পবিত্রতা বা এই ধরনের কিছু চিন্তা করে বলে, কিন্তু তাহলে যে ব্যক্তি খুন হল তার জীবনের ক্ষতিপূরন হবে কি করে?

ব্লগার ইয়াকুনি লিখেছেনঃ

যদি কেউ এমন কোন অপরাধ করে যার জন্য তার মৃত্যুদন্ড পাওয়া উচিত তাহলে তাকে কোন ধরনের বিনিময় ছাড়া আজীবন সশ্রম কারাদন্ড দেয়া উচিত যাতে ৭-১৫ বছর পর তারা জেল থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে আর তারা যাতে বুঝতে পারে যে কঠোর পরিশ্রম মৃত্যুর থেকে কঠিন। কোন অপরাধের জন্য প্রায়শ্চিত্ত এ ভাবেই করতে হয়। এটি মনে রাখা দরকার যে মৃত্যু হলো শুধুমাত্র আত্মার মুক্তি।

ব্লগার রেতসুরেপ্পু সেই কয়েকজনের মধ্যে অন্যতম যারা মৃত্যুদন্ড নিয়ে জোড়ালো বিরোধীতা করেছেনঃ

আইন মন্ত্রী নাগাসে ২৩ আগস্ট এ আবার ৩ জন লোকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছেন। ……২৭ আগস্ট এর কেবিনেট পুনর্বিন্যাসে তার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই আবার আইন মন্ত্রী হওয়ার আর আমরা তার এই শেষ মৃত্যুদন্ড আদেশকে গ্রহন করতে পারছিনা। আমি মনে হয় এটা আগেও বলেছি , কিন্তু যে বিচারক এই রায় দিয়েছেন আর যে আইন মন্ত্রী এই রায় সই করেছেন ফাঁসির সময় তাদের ওখানে থাকা উচিত। যদি ১০টি ফাঁসির পর আইন মন্ত্রী তার সুস্থতা বজায় রাখতে পারেন তাহলে আমি তাকে কিছুটা গ্রহনযোগ্য মনে করব। আমার মনে হয়না কোন ওয়ারডেন আছে যে ১০টি ফাঁসি ১০ মাসে দেখেছে কিন্তু আমার মনে হয় দেখলে সে পাগল হয়ে যেত। আমি শুনেছি যে প্রায় ১০ মিনিট লাগে ফাঁসিতে মারা যেতে আর মারা যাবার সময় নাকি খুব হাত পা ছোঁড়ে। আমি একটা বই এ পড়েছিলাম যে, যে সব কারারক্ষী ফাঁসি দেখে তারা এক রাত ঘুমাতে পারেনা। মৃত্যুদন্ড হচ্ছে রাষ্ট্র দ্বারা হত্যা।

যদিও বেশিরভাগ ব্লগার মৃত্যুদন্ডের শুধু পক্ষে – বিপক্ষে আলোচনা করেছে, কেউ কেউ অন্য দিকগুলোতেও আলোকপাত করেছে।

একজন ব্লগার লিখেছেন:

আমার বাড়ি টোকিও ডিটেনশন সেন্টারের কাছে। কালকের আগের দিন দুই জনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। কুকুরদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে তারা একটি গ্যাস চেম্বার ব্যবহার করে। মানুষের ক্ষেত্রে তারা ফাঁসি দেয়। আমি শুনেছি যে পায়ের তলার মাটি ফাঁক হয়ে যায় বোতাম টিপলে, কিন্তু যদিও এটি মৃত্যুদন্ড দেয়ার জন্য করা হয় আমার শুধু মনে হয় যে কারারক্ষীদের কেমন বোধ হয় যখন তারা নিজ হাতে বোতাম টিপে একজন মানুষকে মেরে ফেলে? আমি এক মুহূর্তের জন্য এটি চিন্তা করলাম।

আর একজন ব্লগার বিষয়টি দুই দিক থেকেই আলোচনা করেছেনঃ

এই সপ্তাহে আইন মন্ত্রী ৩টি ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। তার পুরো আমলে তিনি ১০টা ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন…….১৯৯৩ থেকে বেশ কয়েকজন আইন মন্ত্রী হযেছেন কিন্তু কেউ মৃত্যুদন্ডের আদেশে সই করেননি।

মনে হয় এই বিষয়টা কখনো হচি শিম্বুনে (পত্রিকা) লেখা হয়না। যখন কেউ অপরাধ করে তা নিয়ে প্রতিদিন লেখা হয়। আর জঘন্য ধরনের খুনের ঘটনায় সবাই আশা করে যে দোষী ব্যক্তির মত্যুদন্ড হবে। কিন্তু, মৃত্যুদন্ডের সময় কেউ আরেকজন মানুষের মৃত্যু কামনা করেনা।

এর ফলে কয়েকটা ব্যাপার উঠে আসে। “মানুষের কি অধিকার আছে অন্যকে বিচার করার?” “ কাউকে মত্যুদন্ড দেয়া কি হত্যার সামিল না?” “কেউ যদি কাউকে জঘন্যভাবে হত্যা করে তার কি আর বাঁচার অধিকার আছে?” “ আক্রান্তের পরিবারের কষ্টের কি হবে?” “ যে অপরাধ করা হয়েছে তা কি মৃত্যুদন্ড দিয়ে ক্ষতিপুরন করা যায়?” আর আরো কিছু।

যে কোন সমাজে মৃত্যুদন্ডের পক্ষে আর বিপক্ষে লোক পাওয়া যাবে। যারা এটার বিপক্ষে তারা সাধারনত: এর সাথে সরাসরি জড়িত। এর পর যদি তাদের সাথে কিছু হয় আর তারা আক্রান্তের জায়গায় যায় তখন হয়তো তাদের পক্ষও পালটিয়ে যাবে। একই ভাবে যারা এর পক্ষে তারা যখন আসামির জায়গায় থাকবে তখন তারা তাদের মত পাল্টাবে। এর কারন হলো এক জনের মৃত্যু আর একজনের মৃত্যু দিয়ে পুষিয়ে দেয়া যায়না। কারন মৃতকে জীবিত করা সম্ভব নয়।

যতদিন মানব সভ্যতা আছে এই ব্যাপারটা আলোচিত হবে আর এটি নিয়ে কখনই সিদ্ধান্তে পৌছানো যাবেনা ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .