বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

বাণিজ্যিক মাছ ধরা এবং অন্বেষণের জন্যে সামুদ্রিক অভয়ারণ্য খুলে দেওয়ার বিপক্ষে পালাউয়ের জনগণ

আকাশ থেকে দেখা পালাউয়ের “মিল্কিওয়ে” উপসাগর। লাক্স টোনেরের ফ্লিকার পাতার ছবি, (সিসি বাই ২.০)

পালাউয়ের ওলবিল এরা কেলুলাউ (কংগ্রেস) তাদের বিস্তৃত সামুদ্রিক অভয়ারণ্য পালাউ জাতীয় সামুদ্রিক অভয়ারণ্য (পিএনএমএস) বাণিজ্যিক মাছ ধরা এবং তেল অনুসন্ধানের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়ার একটি খসড়া আইন বিবেচনা করতে যাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটির নাগরিকরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে একটি অনলাইন পিটিশন চালু করেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত পালাউ ৫০০টিরও বেশি দ্বীপমালার একটি ছোট দ্বীপপুঞ্জ। ২০১৫ সালে পালাউ সরকার দেশটির একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) ২০ শতাংশকে দেশীয় মৎস্য আহরণ অঞ্চল হিসেবে আলাদা রেখে ৮০ শতাংশ এলাকাকে আন্তর্জাতিক বা দেশীয় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ একটি সংরক্ষণ এলাকা মনোনীত করে পিএনএমএস প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ করতে চাওয়া দেশগুলির কাছে একটি আদর্শ হিসেবে সমাদৃত। পাঁচ বছর ধরে পরিকল্পনার পর ২০২০ সালে পিএনএমএস সম্পূর্ণরূপে চালু হয়।

কিন্তু দুই বছর পরেই সরকার ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায় এবং অর্থনীতিকে উদ্দীপ্ত করার জন্যে পালাউয়ের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৫০ শতাংশ বিদেশী মাছ ধরার বহরের পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে কমে যাওয়া জাতি বিভিন্ন সংস্থান নিয়ে হাবুডুবু খাওয়ার থাকার কারণে সংসদের খসড়া আইন নং ১১-৩০-২এস অস্থায়ীভাবে পুনরায় পিএনএমএস খুলে দিয়ে বাণিজ্যিক মাছ ধরা এবং এমনকি তেল অনুসন্ধান অনুমোদনের প্রস্তাব করেছে। পালাউয়ের জনসংখ্যার ২০ শতাংশের কর্মসংস্থান জোগানো পর্যটন খাত মহামারীর কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অনুসারে, মহামারী-সম্পর্কিত ক্ষতির কারণে ২০২১ সাল পর্যন্ত পালাউয়ের জিডিপির ১৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

“বিদেশী মাছ ধরার চুক্তি প্রজাতন্ত্রের জন্যে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব এনেছে,” জানিয়ে খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে:

সাময়িকভাবে একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে মাছ ধরতে চাওয়া বিদেশীদের সাথে মাছ ধরার চুক্তি অনুমোদনের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্র জাতীয় ও রাজ্য সরকারগুলির পাশাপাশি স্থানীয় বিক্রেতাদের জন্যে অতি প্রয়োজনীয় রাজস্ব আনবে এবং অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বন্ধ হওয়ার আগে সরকার তার জাহাজের দিনসংখ্যা পদ্ধতির (ভিএসডি) মাধ্যমে মাছ ধরার অনুমোদন দিয়ে প্রতি বছর রাজ্য প্রতি প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার হিসেবে প্রায় ৭ লক্ষ মার্কিন ডলার (৬ কোটি  টাকার বেশি) পেতো। ভিএসডি হলো প্রতিটি দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে মাছ ধরার জাহাজের মাছ ধরার দিনের সংখ্যার সীমা নির্ধারণ করে কিছু প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের দেশগুলির মধ্যেকার একটি চুক্তি। এটি বিশ্বের সবচেয়ে জটিল হলেও সফল মাছ ধরার নিয়মগুলির একটি হিসেবে বিবেচিত৷

পালাউ ভিএসডি থেকে প্রতি বছর গড়ে ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৯ কোটি টাকা) পায়।

তবে অন্যান্য হিসেব অনুসারে আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন অনুদান – অর্থ এবং সরবরাহ উভয় থেকে – পিএনএমএসের ফলস্বরূপ পালাউ এখন পর্যন্ত ৭ কোটি মার্কিন ডলারের (৬০৩ কোটি টাকার) বেশি পেয়েছে৷ মাইক্রোনেশিয়ার নেতৃস্থানীয় সংবাদ সংস্থা মারিয়ানা ভ্যারাইটি, আউটলেটের প্রতিবেদন অনুসারে, শুধু এই বছর পালাউ জাতিসংঘের উন্নুয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি) থেকে চার বছরের মেয়াদে পিএনএমএস বাস্তবায়নের সহায়তা করার জন্যে ১৮ লক্ষ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৫ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা) পেয়েছে।

পরিবেশগত মূল্য

পালাউ পরিবেশবাদী, প্রবীণ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিলটির সমালোচনা করেছেন। পরিবেশবাদী দল গ্রুপ ইবিল সোসাইটি বিলটির বিরুদ্ধে একটি অনলাইন পিটিশন শুরু করেছেন। আবেদনকারীরা পালাউ কর্তৃপক্ষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন:

…আমাদের রাজস্ব উপার্জনের ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় অন্বেষণের প্রয়োজনীয়তা বোঝা গেলেও স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন সমাধান দিয়ে আমাদের প্রজাতন্ত্রের জন্যে পালাউয়ের জনগণের প্রতিষ্ঠিত সুচিন্তিত দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার উদ্দেশ্যগুলিকে বিপন্ন করা যাবে না।

…আমরা মনে করি সামাজিক এবং পরিবেশগত লাভ ফিরিয়ে দেওয়ার মতো টেকসই রাজস্ব অর্জনের প্রচুর অনাবিষ্কৃত উপায় রয়েছে, যা সমুদ্র সম্পর্কে আমাদের গভীর জ্ঞান ও সংযোগকে প্রতিফলিত করে এবং  যা আমাদের জীবনকে বেঁধে এবং বহু প্রজন্ম ধরে আমাদের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রেখেছে।

পালাউয়ের রাষ্ট্রপতি সুরঞ্জেল হুইপস জুনিয়র আবেদনটি স্বীকার করে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে সরকার একটি সমাধান দিতে যাচ্ছে। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন:

আমরা একটি সমাধান বের করতে চাই। তাই আমি জানি না তারা সমাধানের বিরোধিতা করছে, নাকি অন্যকিছুর বিরোধিতা করছে। আমরা যা করছি তা একটি সমাধান প্রদান করছে। আর তাই আমি আশা করি আমরা সবাই মিলে সবার উপকারে আসার মতো সমাধানের জন্যে কাজ করতে পারবো। এজন্যে আবেদন করার আগে আমি লক্ষবার ভাবি যে আমরা ভুল তথ্য পেয়ে ছুটোছুটি করছি কিনা।

খসড়া আইনটির একটি গণশুনানির সময় সংসদের স্পিকার সাবিনো আনাস্তাসিও উল্লেখ করেছেন পালাউ আন্তর্জাতিক পরিবেশ দাতাদের কাছ থেকে যেসব তহবিল পাচ্ছে তা দেশের প্রয়োজনগুলো অর্থায়নের জন্যে ব্যবহার করা হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন যে পালাউকে দেওয়া কিছু অনুদান অলাভজনক সংস্থাগুলি কীভাবে ব্যয় করছে সে সম্পর্কে রাষ্ট্র সচেতন নয়।

অলাভজনক সংস্থাগুলির জন্যে টাকা আসে বলে আমরা কাগজপত্র দেখি না। আমরা জানি না কতো [বেতনে] যায়, আর বাকি টাকা কোথায় যায়।

একই শুনানির সময় কিছু কিছু অংশীজন জোর দিয়েছিল যে পিএনএমএস বজায় থাকলে পালাউ আরো বেশি উপকৃত হবে।

খসড়া আইনটির বিরুদ্ধে অনলাইন সমর্থন জোগাড় করতে #আমার_অভয়ারণ্য_বাঁচাও হ্যাশট্যাগটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

পালাউ জাতীয় সামুদ্রিক অভয়ারণ্যের বন্ধু ফেসবুক পাতাটি পিএনএমএস সংরক্ষণ করতে ইচ্ছুক পালাউয়ের বাসিন্দাদের বেশ কয়েকটি ভিডিও আপলোড করেছে।

ঙ্গাটপ্যাং প্রধান এবং বেলাউ গভীর সামুদ্রিক মৎ্স্য আহরণ ইনকর্পোরেটেডের সভাপতি রিদেব ওকাদা টেচিটং ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে পিএনএমএসকে আদিবাসী পালাউদের চর্চিত কোন একটি বাস্তু বা প্রজাতির ধ্বংস রোধে সাময়িকভাবে সম্পদের ব্যবহার স্থগিতা করা “বুল” প্রয়োগকারী হিসেবে কল্পনা করানো হয়েছে।

পালাউ জাতীয় সামুদ্রিক অভয়ারণ্যের বন্ধুর ফেসবুক ভিডিও থেকে নেওয়া একটি পর্দাছবি

সংরক্ষণ ও আইন প্রয়োগ বিভাগের আউটরিচ কর্মকর্তা ডোরা বেনহার্ট পিএনএমএস আবার খুলে দেওয়া হলে সেটা কীভাবে পালাউ জীবনযাত্রার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে সে সম্পর্কে সতর্ক করেছেন

পালাউ জাতীয় সামুদ্রিক অভয়ারণ্যের বন্ধু ফেসবুক ভিডিও থেকে নেওয়া একটি পর্দাছবি

মৎস্যজীবী এবং পালাউ জাতীয় সামুদ্রিক অভয়ারণ্য বোর্ডের সদস্য অ্যাডলফ ডেমেই স্মরণ করেছেন যে অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে পালাউয়ের মৎস্য সম্পদ হ্রাস কীভাবে প্রবীণদের একটি “বুল” ঘোষণা করে পিএনএমএস প্রতিষ্ঠার দিকে পরিচালিত করে।

পালাউ জাতীয় সামুদ্রিক অভয়ারণ্যের বন্ধু ফেসবুক ভিডিও থেকে নেওয়া একটি পর্দাছবি

প্রহসনমূলকভাবে পালাউ ১৩-১৪ এপ্রিল তারিখে সারাবিশ্বের সরকার ও নাগরিক সমাজ সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের মহাসাগরগুলি রক্ষার জন্যে নতুন এবং উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করার ৭ম বার্ষিক “আমাদের মহাসাগর সম্মেলন” পৃষ্ঠপোষণ করবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .