বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

লেনিনগ্রাদ অবরোধের সময়ে ১৫০ বাচ্চাকে দত্তক নেয়া কিরগিজ নারীকে স্মরণ

Three men bury the dead during the Siege of Leningrad in 1942 at the Volkovo cemetery. Boris Kudoyarov, RIA. Licensed to reuse.

১৯৪২ সালে লেনিনগ্রাদ অবরোধের সময়ে মৃতদের ভলকোভো কবরস্থানে কবর দিচ্ছেন তিন ব্যক্তি। ছবি তুলেছেন বরিস কুদোয়ারভ, আরআইএ। নিবন্ধনের আওতায় পুনর্প্রকাশ করা হয়েছে।

কিরগিজ ও রাশিয়ান মিডিয়াগুলো তার কথা বলতে গিয়ে ‘প্রবাদপুরুষ’ হিসেবে উল্লেখ করছিল। এই প্রবাদপুরুষ আর কেউ নন। ৯১ বছর বয়সী কিরগিজ নারী টকতোগান আল্ট্রিবাসারোভা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লেনিনগ্রাদ অবরোধের সময়ে তিনি ১৫০ বাচ্চাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। আড়াই বছর ব্যাপী চলা ওই অবরোধে কয়েক মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিল।

১৯৪২ সাল। নাজি জার্মান বাহিনী রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে বোমা বর্ষণ শুরু করে। শহরটি তখন অবশ্য লেনিনগ্রাদ নামে পরিচিত ছিল। আল্ট্রিবাসারোভার বয়স তখন ১৬ বছর। তিনি শহর থেকে পালিয়ে আসা মানুষজনকে উত্তরপূর্ব কিরগিজস্থানের নিজ গ্রাম কুরমেন্টির একটি কারখানার শ্রমিকদের জন্য থাকার জায়গায় আশ্রয় দেন। তাদের জন্য খাবারেরও যোগান দেন।

মমতাময়ী এই নারী গত ১১ জুন ২০১৫-এ মৃত্যুবরণ করেছেন। মারা যাওয়ার সময়ে তিনি তার গ্রামের কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Photo taken from Wikipedia

ছবিটি উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া।

আল্ট্রিবাসারোভা দত্তক নেয়া বাচ্চাদের বয়স ও নামের প্রথম অংশ (ফার্স্ট নেম) দিয়েছেন। বাচ্চাদের দেখভাল যারা করতো, তাদের কাজকর্ম তত্ত্বাবধান করতেন। তিনি তাদেরকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত দেখেশুনে রেখেছেন। তারপর তারা পড়াশোনা ও কাজের জন্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।

কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, আল্ট্রিবাসারোভা মৃত্যুর আগপর্যন্ত দত্তক সন্তানদের কাছ থেকে নিয়মিত চিঠি পেতেন।

কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রপতি আলমাজবেক আতমবায়েভ এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন:

Токтогон Алтыбасарова во время Великой Отечественной войны стала матерью 150 детям из блокадного города Ленинграда. В свои 16 лет, окружив детей заботой и вниманием, сумев им передать ощущение близости и теплоты, Токтогон-апа заменила им родную мать.

মাতৃভূমি রক্ষার মহান যুদ্ধের সময়ে (১৯৪১-১৯৪৫) অবরোধে আক্রান্ত লেনিনগ্রাদ শহরের ১৫০ বাচ্চার মা হয়ে উঠেছিলেন টকতোগান আল্ট্রিবাসারোভা। তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। টকতোগান আপা তার চারপাশে যেসব বাচ্চারা ছিল তাদের যত্ন নিতেন, তাদের মধ্যে স্নেহের উত্তাপ ছড়িয়ে দিতেন।

আল্ট্রিবাসারোভার নিজের আট সন্তান ছিল। তাদের ঘরে আবার ২৩ জন ছেলে-মেয়ে এবং ১৩ জন নাতি-নাতনি ছিল। তার শেষকৃত্য পালনে কিরগিজ সরকার ১ লাখ কিরগিজ টাকা (১৭০০ ডলার) প্রদান করে।

কিরগিজস্তানের সংবাদ ওয়েবসাইট ভিচেরনি বিশকেক-এর একটি লেখায় মন্তব্য করতে গিয়ে একজন পাঠক আল্ট্রিবাসারোভার দীর্ঘ জীবন উদযাপনের কথা উল্লেখ করেছেন:

Вот настоящий пример человеческого отношения к людям!

Надеюсь, что она воспитала своих детей именно такими, какой она была сама. Настоящими!

অন্যদের সাথে কেমন মানবিক সম্পর্ক রাখতে হয়, তার চমৎকার উদাহরণ হলেন তিনি। আমি আশা করবো, তিনি তার ছেলেমেয়েদেরকে একই ভাবে বড় করেছেন। তিনি খুবই ভালো একজন মানুষ!

আল্ট্রিবাসারোভার মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে একজন শুভার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন:

Всем ,  выразившим  соболезнования моей маме  – Алтыбасаровой Токтогон , большое спасибо !  Спасибо за поддержку и за ваши добрые слова !!!! Спасибо детям из блокадного Ленинграда за добрую память !!!

আমার মায়ের জন্য যারা সমবেদনা জানিয়েছেন, সমর্থন ও শোকার্ত বাণী পাঠিয়েছেন, লেনিনগ্রাদের ছেলেমেয়ের সেই স্মৃতি নতুন করে ফিরিয়ে এনেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .