বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

চিনের কারামে শহরের গণপরিবহনে লম্বা দাড়ি এবং হিজাব নিষিদ্ধ

"Five abnormal" appearances are banned from public transport in Karamay city in Xinjiang during the 13th Xinjiang Sport Games

জিনজিয়াং প্রদেশের কারামে শহরের গণপরিবহনে “পাঁচ ধরনের অস্বাভাবিক উপস্থিতি”কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আসন্ন ১৩তম জিনজিয়াং স্পোর্টস গেইম উপলক্ষ্যে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ছবি টুইটার ব্যবহারকারী @আপনসনাউ-এর কাছ থেকে নেয়া।

চিনের কারামে শহরে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা লম্বা দাঁড়ি এবং হিজাব পরে বাসে উঠতে পারবেন না। গত সপ্তাহে নগর কর্তৃপক্ষ এগুলোকে “অস্বাভাবিক উপস্থিতি” অ্যাখা দিয়ে এই আদেশ জারি করে। আসন্ন ১৩তম জিনজিয়াং স্পোর্টস গেইম যাতে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়, কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ না ঘটে সেজন্য এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ৮ আগস্ট ২০১৪ থেকে এই খেলা অনুষ্ঠিত হবে। চলবে ২০ আগস্ট ২০১৪ পর্যন্ত।

৪ আগস্ট যেদিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, সেদিনই পাঁচ ধরনের উপস্থিতিকে “অস্বাভাবিক” অ্যাখা দিয়ে কর্তৃপক্ষ পোস্টার প্রকাশ করে। টুইটার ব্যবহারকারী @আপনসনাউ পোস্টারে কী কী বলা হয়েছে, তা টুইটারে জানিয়ে দেন:

নগর পরিবহনে পাঁচ ধরনের যাত্রীর যাতাযাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এরা হলেন: ঘোমটা পরিহিত নারী, হিজাব পরিহিত নারী, বোরখা পরিহিত নারী, চাঁদ-তারা পোশাক পরিহিত যাত্রী এবং লম্বা দাড়িওয়ালা যাত্রী।

চিনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুরের জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক টালমাটাল। উইঘুরের মানুষজনের সাথে কর্তৃপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অনেক মানুষের প্রাণও গেছে। গত ২৮ জুলাই কাশগর শহরে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে ৩৭ জন মানুষ মারা গেছেন। ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

নাফাং ডটকমের চালর্স লিউ এই নিষেধাজ্ঞা স্বপ্লকালীন সময়ের জন্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এক পর্যায়ে এটা দীর্ঘমেয়াদে হতে পারে। এর আগে ৪ জুন ২০১৪-এ জিনজিযাং কর্তৃপক্ষ মুসলমানদের পোশাক “স্বাভাবিক নয়” অ্যাখা দিয়ে লোকজনকে এই পোশাক পরা থেকে নিবৃত্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। গত মাসে রমজানের সময়ে জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ সরকারি চাকরিজীবীদের রোজা রাখা নিষিদ্ধ করেছিল

বেশিরভাগ গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া “পাঁচ ধরনের অস্বাভাবিক উপস্থিতি” নিষিদ্ধের খবর পরিবেশন করে। তবে এ ঘটনায় জনগণের প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যাপক। অনেকেই কর্তৃপক্ষের নীতিকে সমর্থন দিয়েছেন। এদের কেউ কেউ সারাদেশে একই নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহবান জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষকে সমর্থন দিয়ে যেসব মন্তব্য এসেছে, তাদের বেশিরভাগই ছিল এমন:

- 不止克拉玛依,全国都该禁止
– 很多国家早就禁止公开场合穿着极端宗教主义服饰了
– 毫无疑问支持,要求铁腕落实
– 穆斯林必须世俗化,不然他们根本没出路!
– 就该这样,宗教回家回寺庙去,到公共场所就遵守世俗的规矩

- এই নিষেধাজ্ঞা শুধু কারামে শহরেই নয়, সারাদেশেই আরোপ করা হোক।
– অনেক দেশই জনসম্মুখে এই ধরনের পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছে।
– কোনো সন্দেহ না রেখেই সমর্থন করছি। এখন দরকার আয়রন ফিস্টের।
– মুসলমানদের উদারনৈতিক হতে হবে, তা না হলে তাদের কোথাও বের হতে দেয়া হবে না।
– ঠিকই হয়েছে। ধর্মীয় আচার-আচরণ শুধু উপাসনালয়েই করা উচিত। উন্মুক্ত স্থান উদারমনা হবে।

অন্যদিকে অনেকেই এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। উইবু ব্যবহারকারী দিপেং ৭৭৭ একটি পোস্ট দিয়েছে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে। সেখানে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। সেখান থেকে কয়েকটি নেয়া:

- 人为制造矛盾,换谁都不爽
– 我並不喜歡暴恐分子,也反感那些穿星月服的人,有時候在街上碰到穿著黑壓壓的衣服的新疆人,自己也會被嚇一跳。但是我覺得大鬍子並不能代表什麼,不能和恐怖分子聯繫起來,如果因為留了大鬍子就不然人坐公交車的話,一些傳統的新疆人自然會心生不滿。
– 非我族类,其心必异。多少年了,就没点长进。民族主义的歧视,只会让矛盾越积越深。
– 马克思觉得冤枉啊,他也是年轻时就蓄大胡子的
– 让人想起南非种族隔离

- এ ধরনের নীতি মানুষে মানুষে বিবাদ বাড়িয়ে তুলবে। যে কেউ এটা প্রত্যাখান করবে।
– আমি সন্ত্রাসবাদীদের পছন্দ করি না। তবে যারা চাঁদ-তারা মার্কা কাপড় পরে, তাদের জন্য অপ্রস্তুত বোধ করছি। আমি খুব উদ্বিগ্ন জিনজিয়াংবাসী আবার কালো কাপড় পরে কি না। তারা যদি গণপরিবহনে নিষিদ্ধ হয়, জিনজিয়াংয়ের ট্র্যাডিশনাল মানুষরা আরো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বে।
– নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়ের মধ্যে দিয়েই আনুগত্য প্রকাশ পায়। কয়েক বছর পরে একই দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটবে। জাতীয়তাবাদের মধ্যে বৈষম্য ঢুকে গেলে গভীর সংঘাতের পটভুমি তৈরি করবে।
– তরুণ বয়সে কার্ল মার্ক্সের লম্বা দাড়ি ছিল…
– এই নিষেধাজ্ঞা আমাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের দিনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

উইগুয়ের মধ্যমপন্থী হিসেবে পরিচিত পণ্ডিত ব্যক্তি আইহাম তোহতি সবসময়ে সব ধর্মবর্ণের সমন্বয়ের পক্ষে। তিনি মুসলিম জনগোষ্ঠীর পোশাক-আশাকের প্রতি এই নিষেধাজ্ঞা আরোপকে “চরমপন্থা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বাড়বে। মানুষজনও এগুলো আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইবে। উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্টের উর্ধ্বতন গবেষক হেনরিক জাদজিওয়েস্কি ফরেন পলিসিকে জানিয়েছেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, চীনা কর্মকর্তারা বোধহয় একটি লেখা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। যেখানে লেখা আছে- হয় তোমরা আমাদের সাথে আছো অথবা আমাদের বিপক্ষে আছো।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .