বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

দেশি না বিদেশি স্কুল? দ্বিধায় ভুগছেন হংকংয়ের অভিবাসীরা

Parents waiting outside an international kindergarten in the rain to hand in application form for their kids. Photo from Apple Daily. Non-commercial use.

অভিভাবকরা বৃষ্টির মধ্যেও একটি বিদেশি স্কুলের সামনে বাচ্চার ভর্তির আবেদনপত্র নিয়ে অপেক্ষা করছেন। ছবি নেয়া হয়েছে অ্যাপল ডেইলি থেকে। অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

হংকংয়ের খ্যাতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে। এরফলে এখানে প্রতিবছর অনেক সংখ্যক অভিবাসী এসে থাকেন। এই অভিবাসীদের অনেকেরই ছোট ছোট বাচ্চাকাচ্চা থাকে। তাদের প্রথম অগ্রাধিকার থাকে বাচ্চাকে একটি ভালো স্কুলে ভর্তি করে দেয়া। কিন্তু বাবা-মা'র জন্য এটাই মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, হংকংয়ে খুব কম সংখ্যক স্কুল রয়েছে, যেখানে বিদেশিরা পড়তে পারে।

তাছাড়া বিদেশি স্কুলের বেতন আকাশছোঁয়া। ভর্তি হওয়ার জন্য হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়। অপেক্ষমান তালিকাও বেশ বড়ো থাকে। কারণ, অনেক বাবা-মা-ই শিগগিরই জন্ম নিবে এমন ছেলেমেয়ের জন্যও আবেদন করে রাখেন, যাতে স্কুলে যাওয়ার বয়স হলে নিশ্চিতভাবে ভর্তি হতে পারে।

তবে স্থানীয় যেসব স্কুল রয়েছে, ক্যান্টোনিজ ভাষা না জানা থাকায় অভিবাসীরা তাদের ছেলেমেয়েদের সেখানে ভর্তি করাতে পারেন না।

হংকংয়ে বিদেশি স্কুলের মধ্যে অন্যতম হলো ম্যালভার্ন কলেজ। এটি ব্রিটিশ মালিকানাধীন একটি স্কুল। সম্প্রতি তারা তাই পো-তে প্রাথমিক সেকশন খোলার ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে বিদেশিদের জন্য ৯০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। স্কুলটি চালু হওয়ার পর এই এলাকায় এটি হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্রিটিশ স্কুল। প্রথম স্থানে রয়েছে তুয়েন মুনের হ্যারো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। ২০১২ সালে এটি চালু হয়।

হংকংয়ের আয়তন ১১০৪ বর্গকিলোমিটার মাত্র। এই ছোট্ট জায়গায় অনেক স্কুল নির্মাণ করা সম্ভব নয়। ম্যালভার্ন কলেজ হবে এই নিয়মের ব্যতিক্রম। বেশিরভাগ অভিবাসী কি দেশি না বিদেশি স্কুলের দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে বের হতে পারবে?

ব্যয়বহুল পড়াশোনা

এসব কারণে হংকংযে প্রথম সারির বিদেশি স্কুলগুলোতে পড়াশোনার খরচ অনেক বেশি। হ্যারো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বার্ষিক খরচ হলো ১৭ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে অন্যান্য বেসরকারি স্কুলে পড়তে বছরে খরচ পড়ে ১০ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। শিগগিরই চালু হতে যাওয়া ম্যালভার্ন স্কুলে পড়তে বছরে খরচ পড়বে ২০ হাজার ৬৪০ মার্কিন ডলার।
কিছু কিছু স্কুলে আবেদন করতেও কয়েক হাজার টাকা লাগে! হংকংয়ের স্থানীয় অধিবাসী ফিওনা কং বেবি কিংডম ফোরামে মন্তব্য করেছেন:

為咗有好啲學習環境,能上好小學、好英中,家長已為之瘋狂,講真,現在去到我細女選中學的時候,才深深體會到,若她入到我們想入的中學,我真係短幾年命都願,我也相信唔會係淨係我一個咁諗。咁你話2800買個希望貴啲,定人命貴啲?

বাচ্চাদের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ভালো স্কুলে ভর্তি করে ইংরেজি ও চীনা ভাষায় দক্ষতা নিশ্চিত করতে বাবা-মা উদগ্রীব হয়ে থাকেন। খোলাখুলি বলি, আমার ছোট্ট মেয়েটি সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সে যদি আমাদের পছন্দ করা স্কুলে ভর্তি হতো, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমার জীবন কয়েক বছরের ছোট হয়ে যেত। আমি বিশ্বাস করি, অনেক বাবা-মা-ই আমার মতোই বিষয়টি অনুভব করে থাকেন। আপনারা বলেন, কয়েক বছরের জীবন না, ২৮০০ হংকং ডলার খরচ করে স্বপ্ন কেনা কোনটি বেশি ব্যয়বহুল?

এদিকে হংকং সরকার ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে নতুন নিয়ম চালু করছে। এই নিয়মে সরকার ইংলিশ স্কুল ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্কুলগুলোতে অনুদান কমিয়ে দিয়েছে। এরফলে এইসব স্কুলে স্বাভাবিকভাবে বেতন বেড়ে যাবে, যা বাবা-মা'র ওপরে চাপ ফেলবে। যদিও ইংলিশ স্কুল ফাউন্ডেশন ২০১৩ সালেই প্রাথমিক স্কুলের বেতন ৫.৯% বৃদ্ধি করেছে। আরো জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে চীনা অভাষীরা ভর্তির জন্য অগ্রাধিকার পাবেন না।

যদিও হংকংয়ের ইন্টারন্যাশনাল এবং বেসরকারি স্কুলগুলো অভিবাসী পরিবারগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

ভাষার বাধা

হংকংয়ের স্থানীয় স্কুলগুলো অবৈতনিক। তাছাড়া সাবসিডিয়ারি স্কুলের মতো বেসরকারি স্কুলগুলোও সরকারের অনুদান পেয়ে থাকে। এই অনুৃদানের পরিমাণ ৭,৩৭০ থেকে শুরু করে ৬০,০০০ হংকং ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আর্থিক দিকটি ভালোভাবে ফয়সালা করা গেলেও অন্য একটি সমস্যা থেকেই যায়। আর সেটা হলো ভাষা। হংকংয়ের বেশিরভাগ মানুষ ক্যান্টোনিজ ভাষায় কথা বলেন। বেশিরভাগ স্থানীয় স্কুল সাধারণভাবেই এই ভাষাতেই বিদ্যা শিক্ষা দিয়ে থাকে। এটা নিয়ে অভিবাসী বাবা-মা'রা উদ্বিগ্ন থাকেন। কেন না, তাদের ছেলেমেয়ে এই ভাষা জানে না। তাই ছেলেমেয়েকে স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে গেলে এ ভাষাতে দক্ষতা অর্জন করতে হয়।

এশিয়া এক্সপ্যাট ফোরামে কারা তার বাচ্চাকে স্থানীয় ক্যান্টোনিজ ভাষী স্কুলে পাঠানোর অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন:

আমার দু'বাচ্চা-ই স্থানীয় কিন্ডারগার্টেনে পড়ে (যদিও আমার বর চাইনিজ)। তবে তাদের সেরা বন্ধুদের কেউ-ই চীনা ভাষী নয়। তারাও স্থানীয় স্কুলে ভর্তি হয়েছে। তাদের বেশিরভাগ-ই এখন স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে পড়ে […]। তাই, চীনা ভাষার স্থানীয় স্কুলেও পড়া সম্ভব। তবে তারা খুব দ্রুত সবকিছু বুঝে নেবে এমনটা আশা করবেন না। এটা একটা লম্বা প্রক্রিয়া। প্রথম কয়েকটি মাস খুব কষ্টকর।

এর উল্টো দিকও আছে। বেশিরভাগ বিদেশী স্কুল ভর্তির জন্য ইংরেজি জানার শর্ত জুড়ে দেয়। এক্সপ্যাট ফোরামে মাউরিন আনা তার কন্যার ইংরেজি না জানার ব্যাপারে সাহায্য চেয়ে লিখেছেন:

আমার স্বামী সম্প্রতি হংকংয়ে চাকরির প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। আমরা পুরো পরিবারই সেখানে যাচ্ছি। আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি আমাদের ৫ বছর বয়সী কন্যার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্কুলে খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন। ২০১৪-২০১৫ সেশনে ভর্তির আবেদনপত্র গেল সেপ্টেম্বরেই শেষ হয়ে গেছে। সবচে’ বড়ো কথা হলো আমার মেয়ে ইংরেজি জানে না। এজেন্ট আমাদের জানিয়েছে, সব ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংরেজিতে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। ইংরেজি ভাষা জানে না এমন কোনো শিক্ষার্থীকে তারা ভর্তি করে না।

নাউ হেলথ-এর ই-কমার্স পরিচালক অ্যালিসন মেসি এক সাক্ষাৎকারে অন্যান্য অভিবাসীদের পরামর্শ দিয়েছেন:

হংকংয়ে স্কুল খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। তাই হংকংয়ে আসামাত্রই স্কুলে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। সন্তান যদি স্কুলে যাওয়ার বয়সী না হয়, তাও আবেদন করে রাখতে হবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .