বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

চীন: দয়া করা উইঘুর জাতিকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা থেকে বিরত থাকুন

Please don't put terrorist label on Uyghur people. Image from Flickr user @Todenhoff under CC: AT-SA

দয়া করে উইঘুর নাগরিকদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করবেনা। ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী @টোডেনহফের সিসি:এ্যাট-এসএ-এর অধীনে ব্যবহার করা হয়েছে

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং প্রচার মাধ্যমের সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে সৃষ্ট রক্তক্ষয়ী ঘটনাকে সীমান্ত এলাকার জাতিগত বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে নির্ধারণ করার প্রবণতা কারণে চীনে এখন উইঘুর জাতির নাগরিকদের ক্রমে প্রায়শ “সন্ত্রাসী” হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ধরনের সরকারি ভাবে সংজ্ঞায়িত করার কারণে বাছবিচারহীন ব্যক্তিগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সংখ্যালঘু এক সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে যৌথ দায়িত্বে পরিণত হয়েছে এবং যার ফলে এই সম্প্রদায়ের সদস্যদের গায়ে সন্ত্রাসবাদী সন্দেহের তকমা এঁটে দিয়েছে। .

সম্প্রতি সরকারি ভাবে সংজ্ঞায়িত “সন্ত্রাসবাদের ঘটনা” ঘটে ১৬ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে শিনজিয়াং-এর বাচু এলাকায়। সেখানে একটি পুলিশ থানায় ১১ জন ব্যক্তি নিহত হয়, যাদের মধ্যে মধ্যে দুইজন ছিল পুলিশ কর্মকর্তা এবং নয়জন ছিল স্থানীয় বাচু এলাকার উইঘুর মুসলমান।

শিনজিয়াং-এর স্থানীয় কর্মকর্তারা দ্রুত এই ঘটনাকে ভয়াবহ এক সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে এবং তারা দাবী করে যে উক্ত নয় জন নির্মম হামলাকারী নিহত হবার ফলে সেখানে কার্যত শান্তি ফিরে এসেছে। তবে রেডিও ফ্রি এশিয়ার সংবাদ অনুসারে, যে সমস্ত নাগরিক পুলিশ স্টেশনে চারপাশে অবস্থান করছিল, তারা এক তরুণ হামলাকারীকে জীবিত অবস্থায় ধরতে সমর্থ হয়, বিশেষ করে যখন পুলিশ কর্মকর্তারা উক্ত হামলাকারীদের ঘটনাস্থলে মেরে ফেলার মত বিষয়টি বেছে নেয়। যেহেতু সেখানকার পুলিশ ছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলে নিহত হয়েছে, একারণে নাগরিকরা বিস্মিত যে থানার ভেতরে আসলে কি ঘটেছিল। .

চীনা বংশোদ্ভুত নাগরিক হু পিং এই ঘটনা সম্বন্ধে একগাদা প্রশ্ন করেছেন:

১৬ নভেম্বরে বাচুতে কি ঘটেছিল ? যেহেতু হামলাকারীদের পালানোর কোন পরিকল্পনা ছিল না, তাই মনে হচ্ছে না এটা কোন গেরিলা হামলা ছিল। যেহেতু হামলাকারীদের হাতে কুঠার ও ছুরির মত আদিম অস্ত্র ছিল এবং পুলিশদের আহত করার জন্য সেগুলো অকার্যকর, তাতে মনে হচ্ছে না যে এটা কোন আত্মঘাতী হামলা। তাতে এই হামলার ধরন পরিষ্কার। @ইলহাম_তোহতি।

হু পিং–এর টুইটের প্রতিউত্তরে ইলহাম তোহতি নামক উইঘুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক চীন সরকারের আদিবসী নীতি পুনঃবিবেচনার উপর গুরুত্ব প্রদান করেছেন:

@হুপিং১ সেখানে কি ঘটেছিল? কোনটা সত্য? কেবল মাত্র কোন উন্মাদ বিশ্বাস করবে যে তারা ছিল সন্ত্রাসী। এই একই ধরনের ঘটনা অজস্রবার ঘটেছে আর আমরা এখনো কোন প্রতিফলন দেখছি না। নয়জন ব্যক্তি মৃত্যুর সন্ধানে পুলিশ থানায় প্রবেশ করল? কর্তৃপক্ষ এখনো বের করতে পারেনি কিভাবে এই ধরনের ঘটনা আবার রোধ করা যায়। তারপরেও, এখনো জাতিগত নীতিতে তার কোন প্রতিফলন নেই।

কয়েক মাস আগে এপ্রিলে, সেই বাচু পুলিশ থানায় একই ধরনের জাতিগত দাঙ্গা সংঘঠিত হয়েছিল এবং সেই সংঘর্ষে ২১ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছিল, যার মাধ্যে ১৫ জন ছিল পুলিশ ও সরকারি কর্মচারী। এই ঘটনাকেও সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল।

উচ্চ-স্তরীয় এক জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা স্থাপনের (এনএসসি) প্রেক্ষাপটের বিপরীত, অনেকে বিশ্বাস করে যে বৃহৎ এক পরিসরে সংখ্যালঘু জাতি, সন্ত্রাস বিরোধী নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের শিকার হতে পারে। এর এক উদাহরণ হচ্ছে কাই লাই নামের চীনা সরকার-পন্থী সংবাদপত্র ওয়েনহুই বাও-এর এক কর্মী এনএসসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা বাচুর মত জেলায় কঠোর নীতি গ্রহণ করে:

【当铲除巴楚等恐怖事件土壤】成立国安委,边疆事务当占重要地位,当高效应对、打击边疆恐怖、分裂势力。当严防、严打、铲除巴楚等既往发生恐怖事件地的土壤。

[বাচুর মাটি থেকে সন্ত্রাসীদের চিহ্ন নির্মূল করা হোক] সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে এনএসসির প্রতিষ্ঠার এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সন্ত্রাসী, সীমান্ত এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে তাদের আরো কার্যকর হওয়া উচিত। বাচুর মত এলাকা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং কঠোর দমন নীতি গ্রহণ করা উচিত, যেখানে এর আগেও সন্ত্রাসী হামলা সংঘঠিত হয়েছে।

উইঘুরবিজ.নেট-এ “লিটিল গ্রান্ডফাদার_এলাইক” নামক ছদ্মনামে এক লেখক যেমনটা নির্দেশ করেছেন যে চীনে এখনো সন্ত্রাসী হামলার সংজ্ঞা নির্ধারণে বড় আকারের সমস্যা রয়েছে। সংঘাতের ঘটনাক্রম সংজ্ঞায়ন উল্লেখ করার জন্য লেখক ২০১৩ সালের দুই জোড়া ঘটনার তুলনা করেছে । ৭ জুন তারিখে ফুজিয়ান বাস স্টেশনে আগুন দেওয়া বনাম ২৮ অক্টোবর তারিখে তিয়েনআনমেন-এর জিপের নগদ অর্থের ঘটনা এবং ২৫ আগস্ট চেংডু হাসপাতালে হামলা বনাম ১৬ নভেম্বর তারিখে বাচু পুলিশ থানায় হামলার ঘটনা।

ফুজিয়ানে আগুন লাগানোর ঘটনায় ৪৭ জন নিহত হয় এবং ৩৪ জন আহত হয়েছিল, আর পুলিশ বলে যে ক্ষুব্ধ ও একগুঁয়ে এক ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এটিকে তারা এক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। বেইজিং-এর ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ৩৮ জন আহত হয়, আর এই ঘটনাকে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিনজন ছিল উইঘুর নাগরিক, যারা জিপের ভেতরে বসে ছিল।

লেখক এখানে নির্দেশ করছে যে অপরাধের প্রকৃতি সংজ্ঞায়িত হয় অপরাধীর প্রতিক্রিয়ার ভিন্নতার ভিত্তিতে, প্রথম পর্যায়ে নাগরিকরা একে ব্যক্তির উন্মত্ত কাণ্ড হিসেবে দেখে থাকে, কিন্তু পরে তারা একে জাতিগত কোন সংগঠনের সন্ত্রাসী-কার্য হিসেবে বিবেচনা করে:

因为新闻媒体和司法机关的定性不同让数千万维吾尔族一起背上了恐怖分子的名声,作为中国人来说大家觉得公平吗?[…] 全中国现在一说到新疆不是谈虎色变而是嗤之以鼻,总体评论就是:杀光他们,赶出去、杀几个就老实了,忘恩负义等词汇,我想说的是媒体你们有没有良心?你们的操守去了哪里?你们对全国中国人民的误导难道不是犯罪?

প্রচার মাধ্যম এবং বিচার বিভাগ অপরাধের প্রকৃতি যে ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, তার ফলে এখন লক্ষ লক্ষ উইঘুর নাগরিককে সন্ত্রাসী পরিচয় নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে। যদি আমরা সকলে চীনা নাগরিক হয়ে থাকি, সেক্ষেত্রে আপনি কি মনে করেন বিষয়টি ঠিক? […] এখন সারা দেশ জুড়ে, যখনই লোকজন শিনজিয়াং সম্বন্ধে কথা বলছে, তখনই তারা তাদের কথার স্বর বদলে ফেলে। সারসংক্ষেপে এই বিষয়ে তারা যা বলবেঃ তাদের সবকটাকে মেরে ফেল, তাদেরকে বের করে দাও, তাদেরকে খুন কর, তাহলে তারা বিনয়ী হবে। তারা হচ্ছে কেবল একদল অকৃতজ্ঞ জনতা। প্রচার মাধ্যমের সচেতনতা এবং নৈতিকতা এখন কোথায়? এই ধরনের বিভ্রান্তিকর [পরিচয়] প্রদান করা কি এক অপরাধের জন্ম দিচ্ছে না?

যখন চেংডুর এবং বাচুর হামলার তুলনা করা হয়, এমনকি যদিও চেংডুর ঘটনা ছিল অনেক পরিকল্পিত এবং বিশেষ ভাবে হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মীদের উপর লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছিল, তাপরেও ৫ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হওয়ার এই ঘটনা এক ব্যক্তির আকস্মিক হামলা বলে সংজ্ঞায়িত হয়, এদিকে বাচুর ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে, যেখানে হামলাকারী নয়জনই ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে।

这个大家可以轻描淡写的带过并没有扯到民族、暴徒等词汇,为什么新疆这么特殊?为什么维吾尔族这么特殊?西部大开发四川也是受益城市之一,大家并没有说什么四川同胞也坐享其成、好吃懒做还尽惹事添乱

[চেংডুর ঘটনায়] কেন এই ঘটনায় কোন জাতির কথা উল্লেখ করা হয়নি এবং কোন সম্প্রদায়ের সাথে বদমাইশ নাম জুড়া হয়নি? যদি শিনজিয়াং-এ একই ঘটনা ঘটত, তাহলে তাদের সাথে কোন বিশেষ আচরণ করা হত।? উইঘুররা এই বিশেষ আচরণ কিভাবে উপভোগ করত? ওয়েস্টার্ন ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে সিচুয়ান প্রদেশ লাভবান হয়েছে কিন্তু জনতা নয়, যাদের জাতীয় নীতির কারণে সুবিধাপ্রাপ্ত একদল অকৃতজ্ঞ মানুষ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করা ছাড়া আর কোন কাজের নয়।

তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন জাতিগত নীতিতে মনোযোগ প্রদান এবং জাতিগত সম্প্রদায়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সাহায্য করা হয়:

中国是一个多民族国家,你要先树立一个健康的民族形象,传播正确的民族文化和信仰,你才能真正意义的代表一个国家,所以我是一名维吾尔族,一个穆斯林,一名中国人,新疆正能量我传播,我为维吾尔族代言,我不是暴徒,我是中国人!

চীনে নানান জাতির বাস। রাষ্ট্রকে এর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সুন্দর ও ইতিবাচক সংস্কৃতি এবং বিশ্বাস স্থাপনের জন্য রাষ্ট্রকে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে সাহায্য করতে হবে। আমি এক উইঘুর নাগরিক, একজন মুসলমান এবং এক চীনা নাগরিক। আমি কোন তস্কর নই। আমি চীনের এক নাগরিক।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .