বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশ : সুযোগ ব্যবহারে নৈতিক দ্বিধা

উন্নয়নশীল বিশ্ব আমলাতন্ত্র, দূর্নীতি এবং ভুল তথ্য প্রদানের বিষয়টি হচ্ছে বাস্তবতা। এই সমস্ত দেশের সব জায়গায় এই বিষয়গুলো ছড়িয়ে আছে, সেখানে এই সমস্ত অনৈতিক বিষয় সমূহকে কেউ কেউ টাকা কামানোর সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে, আবার কেউ কেউ একে সৃষ্টিশীল বিষয় বা জীবন যাত্রার এক অংশ হিসেবে দেখে, আবার অনেকে এই সমস্ত সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে নৈতিকতার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে।

বাংলাদেশী ব্লগার মোহাম্মদ গোলাম নবী [ বাংলা ভাষায়] এ রকম এক গল্প শোনাচ্ছেন:

মুনির ভাই সেই গল্পটা আজকেও বললেন। ডিমান্ড নোট বিক্রির গল্প। গল্পটা মুনির ভাইয়ের ভাষায় এমন:

‘আশির দশকের কথা। আমরা যখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তখন আমাদের একটি বিশেষ বিনোদন ছিল খাওয়াদাওয়া। সেটি চায়নিজ, হাজির বিরিয়ানি বা নীরবের ভাজি-ভর্তা। টিউশনির টাকা, পত্রিকায় লেখার বিল বা বৃত্তির টাকা—অবধারিতভাবে আমাদের গন্তব্য কোনো রেস্টুরেন্ট। হিজ হিজ হুজ হুজ। এসবের মধ্যে আমাদেরই এক বন্ধু ১০০ টাকা জমলে একটি টেলিফোনের জন্য দরখাস্ত করত। যে সময়ের কথা বলছি, তখন বিটিটিবির (এখনকার বিটিসিএল) ফোনের অনেক চাহিদা। তারপর আমরা পাস করে বের হলাম। আমাদের পকেটে সুন্দর কাগজে জীবনবৃত্তান্ত। আর আমাদের ওই বন্ধুর কাছে বেশ কিছু ডিমান্ড নোট (টেলিফোনের বরাদ্দপত্র), ঢাকার বিভিন্ন স্থানের। মতিঝিলে তখন টেলিফোন সংযোগ অনেক টাকায় বিক্রি হয়। আমাদের সেই বন্ধুটি তার কয়েকটি ডিমান্ড নোট বিক্রি করে দিল—তাতে তার জোগাড় হয়ে গেল প্রাথমিক মূলধন। আমাদের ওই বন্ধুটি এখন একটি গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান! আমাদের সঙ্গে তার পার্থক্য ছিল শুরু থেকেই। নিজে কিছু একটা করবে ভেবেছিল, সে জন্য ছাত্রজীবনে প্রস্তুতি নিয়েছে এবং সম্পূর্ণ নিজের উদ্ভাবনী বুদ্ধিতে ব্যবসার পুঁজি জোগাড় করেছে।’

ঢাকায় এক এটিএম-এর সাইন বোর্ডে ফোনের তার পেঁচিয়ে আছে, ছবি ফ্লিকারের জো এথিলির। সিসি বাই এন সি ২.০

কিন্তু মোহাম্মদ গোলাম নবী এটিকে গ্রহণ করছেন না। তিনি লিখেছেন [ বাংলা ভাষায়]:

প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন আয়োজন করেছিল ‘আধুনিক পেশাজীবি ও উদ্যেক্তা তৈরি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা। মুনির ভাই সেখানেই বলেছিলেন গল্পটি। সেসঙ্গে আমার আপত্তির বিষয়টি। তিনি সত্যিই বলেছেন। আমার আপত্তি আছে। আপত্তির মূল কারণটি হলো একটি অসৎ ও রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গকে মুনির ভাই প্রমোট করছেন। তার উপর আস্থাশীল বিপুল সংখ্যক ছেলেমেয়ের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেটিকে তিনি বিবেচনায় নিচ্ছেন না।

নৈতিকতা এবং আদর্শঃ চিরদিনের এবং সারা বিশ্বের? ছবি ফ্লিকারে স্টিফেন উ-এর। সিসি বাই- এনসি-এনডি

তিনি আরো বলছেন [ বাংলা ভাষায়]:

একজন লোক সৎ কিনা সে কথাটি তখনই বলা যাবে যখন তিনি অসৎ হওয়ার সুযোগ থাকা সত্বেও সৎ থাকেন। যে লোকের ঘুষ খাওয়ার কোন সুযোগ নেই তিনি ঘুষ খান না সেটি উল্লেখ করার মতো বিষয় নয়। তার সততা পরিক্ষীত নয়। অপরাধ ছোট হোক আর বড় হোক অপরাধই। তবে জীবন রক্ষার্থে যখন কেউ অন্যায় করেন সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ।

নৈতিকতা হচ্ছে সকল দিক সম্মানের সাথে জীবনকে বিশ্বাস এবং সততার সাথে পরিচালিত করা। এবং গোলাম নবী এর সাথে যোগ করেন যে একজন ব্যক্তিকে তার জীবনের সকল কাজের মাধ্যমে মুল্যায়ন করা উচিত। কেবল তার একটি পদক্ষেপ বা তার কেবল মাত্র একটি স্খলনের মধ্যে দিয়ে নয়।

মানুষের জীবন খণ্ডিত হতে পারে না। একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পরযন্ত পুরোটাই তার জীবন ও তাকে তার সারাজীবনের কাজের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করতে হবে। [..] একটা মানুষের ভালো থাকাটা সারা জীবনের বিষয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .