বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারতঃ নিরপেক্ষ নির্বাচন-এর জন্য এক কৌতূহলজনক মূর্তি আবৃত করার ঘটনা

ভারতের উত্তর প্রদেশ (ইউপি) নামক অঙ্গরাজ্যে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রদেশে নতুন সংসদ/রাজ্যসভা নির্বাচিত করার উদ্দেশ্য হচ্ছে এই নির্বাচন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নানামুখী প্রচারণার কারণে প্রদেশটি এক উৎসবের চেহারা ধারণ করেছে। তবে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন মায়াবতী ( উত্তর প্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং বহুজন সমাজবাদী দলের নেত্রী) এবং তার দলকে, দলের প্রতীক হাতির মূর্তি ঢেকে রাখার আদেশ প্রদান করে যা সারা দেশের মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে। এই আদেশ অনুসারে ১১ জানুযারি, ২০১২ তারিখের মধ্যে উত্তর প্রদেশের এই ধরনের সকল মূর্তি ঢেকে ফেলতে বলা হয়।

প্রধান নির্বাচনী কমিশনার এসওয়াই কুরেশি এই ঘটনায় বিবৃতি প্রদান করেন যে এই আদেশ নৈতিক আদর্শ (মডেল কোড অভ কন্ডাক্ট) অনুসারে প্রদান করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনে সবাই সমানাধিকার লাভ করে এবং কোন রাজনৈতিক দল যেন বিশেষ কোন রাজনৈতিক সুবিধা না লাভ করে, যার মধ্যে দিয়ে তারা ভোটারদের প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়।

একটি সংবাদপত্র বিক্রির দোকানে রাখা পত্রিকায় মায়বতির ছবি। এই ছবি কাউন্টারক্লকওয়াইজ-এর, ফ্লিকার থেকে নেয়া। সিসি বাই লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত।

During প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় মায়াবতী বেশ কয়েকবার বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। মূলত সারা প্রদেশ- বিশেষ করে প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্মৌ এবং একই সাথে বৃহত্তর নয়ডা এলাকায়, মায়াবতীর নিজের সহ অন্য সব দলিত (নিম্নবর্ণের এক জাতির) নেতা, এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক হাতির বিশাল সব মূর্তি বানানোর জন্য সরকারি কোষাগারের অর্থ খরচ করার কারনে তার বিরুদ্ধে এত সব সমালোচনা।
নির্বাচন কমিশন যে কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তা বেশ বিশাল। এই আদেশ এবং এর ফলে যে কর্মকাণ্ড ( ইউটিউবে এই ভিডিও আপলোড করেছে টাইমসনাউঅনলাইন ), তা প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, কেবল রাজনৈতিক দলসমূহ নয়, নেট নাগরিকরাও এর সমালোচনা করেছে।

এই ঘটনায়, টুইটার সাথে সাথে এক গুঞ্জনে ভরে যায়। অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করে যে এই ভাবে মূর্তি ঢেকে রাখার বিষয়টি বাস্তবে এর উদ্দেশ্য পূরন করবে কি না, নাকি নির্বাচন কমিশন তাদের উৎসাহের সামান্য অংশ এতে প্রদর্শন করল। অন্যরা এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছে যে, আদতে মূর্তি ঢেকে রাখার ঘটনা, মায়াবতীর জন্য খানিকটা সুবিধা বয়ে আনবে কি না।

@সোয়াতিএসমালিক:যদিও আমি #মায়াবতীকে পছন্দ করি না… তারপরেও আমি মনে করি নির্বাচন কমিশন মূর্তি, ইত্যাদি ঢেকে রাখার আদেশ দিয়ে খানিকটা বাড়াবাড়ি করেছে#আনফেয়ার #

@কালামুর: যতবার তুমি ভাবতে চাও যে এদেশের এ সব পদ্ধতি, এর চেয়ে বেশী নির্বুদ্ধিতা পূর্ণ হবে না, ততবার তারা তোমাকে ভুল প্রমান করে, নারী, হাতি এবং অপরাধ ঢেকে দিয়ে………

@অভিনন্দনশেখর: #মায়াবতীর মূর্তি ঢেকে রাখার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে তার জন্য সুবিধা বয়ে আনবে। যারা এতদিন এ সব বিষয় খেয়াল করেনি, তারা এখন খেয়াল করবে যে “তাঁর কণ্ঠস্বর রোধ করা হয়েছে”

@অনুপমখের :ঢেকে রাখা মায়াবতীর মূর্তি, উন্মুক্ত অবস্থায় রাখার চেয়ে বেশী করে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। লোকজন বলবে, ওই যে দেখে মায়াবতীর মূর্তি ঢেকে রাখা হয়েছে।”

@tতাভলি_সিং: বিষয়টি উপলব্ধি করা ভারি মুশকিল, কিভাবে মায়াবতী এবং তার হাতির মূর্তিকে ঢেকে রাখার ফলে, তাউত্তর প্রদেশের নির্বাচনকে অবাধ এবং নিরপেক্ষ করবে।

@অঙ্কিত_মি: নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ, মায়াবতী এর মধ্যে দিয়ে ব্যাপক প্রচারণা লাভ করল এবং এতে তার নির্বাচনী প্রচারণা ব্যায় বেশ কমে আসল।

@রিয়া০০০১: ইলভিকা সাইকি: আমি মনে করি #নির্বাচন কমিশন হাতি এবং মায়াবতির মূর্তি ঢেকে দিয়ে, মায়াবতীকে সাহায্য করছে। কারণ এই ঘটনায় তার প্রতি মানুষের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে, কারণ সবাই এখন তাঁর সম্বন্ধে জানতে চাইবে।

অনেক টুইটার ব্যবহারকারী মনে করে এই সকল ঢেকে রাখা মূর্তি উন্মোচন করে, জনতাকে প্রদর্শন করানো উচিত, কারণ তাহলে নাগরিকরা বুঝতে পারবে তাদের প্রদান করা ট্যাক্সের টাকার বিশাল একটা অংশ এ সবের নির্মাণের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে:

@একর্ন : নিতিন পাইঃ মায়াবতী যা করেছে, তা ভোটারদের অগোচরে রাখা উচিত নয়। তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের এই ভাবে তাঁর মূর্তি ঢেকে রাখার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং ভুল।

@সঞ্জয়কল :সঞ্জয় কল: @প্রোগম্যাটিক_ডি এই সমস্ত মূর্তি, মায়াবতীর ক্ষমতার প্রতীক। তা ঢেকে রাখা হয়েছে। আসুন জনগণকে জানতে দেই, মায়াবতী, তাদের প্রদান করা করের পয়সা কি ভাবে অপব্যবহার করেছে। আসুন ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে দেই।

এই ঘটনা বেশ কিছু হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়ারও জন্ম প্রদান করেছে, যেখানে নেট নাগরিকরা ঠাট্টা করছে, এই আইনকে আরেকটু বর্ধিত করে খোদ মায়াবতী এবং জীবন্ত হাতি এবং একই সাথে সেই সমস্ত বস্তু যা অন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতীক, সেগুলোর উপর প্রয়োগ করা যায় কিনা; যে সমস্ত উপাদান ভোটারদের প্রভাবিত করে।

@রাঙ্গাতস:আমি বিস্মিত হব, যদি মায়াবতীর নির্বাচনী প্রতীক এক উদিত সূর্য হত, তাহলে নির্বাচন কমিশন কি করত? নির্বাচন কমিশন কি, জনতাকে সকাল বেলা বাসা থেকে বের না হবার জন্য আদেশ দিত?

@আমিত_লাখোটিয়া: উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন হাতির মূর্তি ঢেকে রাখতে চায়। তারা কি দিল্লীর নির্বাচনেও লোটাস টেম্পল (পদ্ম মন্দির-বাহাই নামক ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর উপাসনালয়) নামক প্রতীক ঢেকে রাখবে?

@প্রাগমেটিক_ডি: দারুণ। আপনার মায়াবতীর মূর্তি ঢেকে ফেলতে পারেন। কিন্তু স্বয়ং মায়াবতীর ক্ষেত্রে কি করবেন। তাকে কি নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ঘোমটা দিয়ে চলাফেরা করতে হবে?

@রাজেশকালরা: বিষয়টি বিস্ময়কর হবে, যদি সকল ট্রাফিক পুলিশ কংগ্রেসের জন্য প্রচারণা শুরু করে [ কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক হচ্ছে হাত বা পাঞ্জা] । তারা তাদের হাত উত্তোলন করে এবং তারা আমাকে থামানো ইশারা করে হাতের পাঞ্জা দেখিয়ে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করতে হবে।

@সামিরমুফতি: মায়াবতী এখন ফ্রান্সে গিয়ে বসবাস করার চিন্তা করেছে, কারণ কেউ সেখানে তার মূর্তিকে ঢেকে রাখতে পারবে না!!!

ঘটনা হচ্ছে, এই ঘটনায় একজন ব্লগার এতটাই হতাশ হয়েছিল যে, সে নির্বাচন কমিশনকে একটা খোলা চিঠি লিখেছিল। তাতে সে নির্দেশ করেছিল যে দৃশ্যত এটি একটি অবাস্তব আদেশ এবং এই আদেশের উদ্দেশ্য নিয়ে এতে প্রশ্ন করা হয়েছে। :

প্রিয় জনাব এস ওয়াই কুরায়েশি এবং তার দল, প্রথমে আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই গতকালের মত জঘন্য এক সপ্তাহের ছুটির দিনে এ রকম হাস্যরস সরবরাহ করার জন্য। […]

হাতি? কেন হাতিকে ঢেকে রাখবেন? হাতিরা কোন পোশাক পড়ে না? পড়ে কি? যেহেতু হাতি হচ্ছে বিএসপি নামক দলের নির্বাচনী প্রতীক, সেই কারনে আপনি তাদের ঢেকে রাখার আদেশ দিতে পারন না। তাহলে অন্যদের কেন ছেড়ে দিচ্ছেন? এবার সব পদ্মফুলকে ঢেকে দেবার আদেশ দিন, ( যদি তারা সব জায়গায় সহজ লভ্য হয়)। লোকজনকে বলুন তারা যেন তাদের গ্যারেজে সাইকেল তালা মেরে রাখে এবং অন্যদের হাতে দস্তানা পরতে নিষেঢ করুন, কারণ আমরা তাদের হাত কেটে ফেলতে পারব না, কারণ ভোট দেবার জন্য তাদের তো হাতে আঙ্গুলের প্রয়োজন হবে।

আজ (১১ জানুয়ারি ২০১২) সন্ধ্যার মধ্যে সকল মূর্তি ঢেকে ফেলার কাজ সমাপ্ত করতে বলা হয়েছিল। ধারনা করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য ১ কোটি রুপী খরচ হয়েছে

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .