বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভুটানের রাজকীয় বিবাহ দেশটিকে এক রানী উপহার দিল

হিমালয়ের এক ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ভুটান এক রাজকীয় উপহার লাভ করেছে- ২১ বছর বয়স্ক আশি জেটসান পেমাকে নতুন রানী হিসেবে পেয়েছে দেশবাসী। ১৩ অক্টোবর তারিখে ১৬ শতকের এক দুর্গ পুনখা দোজং –এ এক ছোট্ট পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩১ বছর বয়স্ক রাজা জিগমে খেসার নামগেয়াল ওয়াংচুক বিবাহ করেন এবং তার স্ত্রীকে রানীর মর্যাদা প্রদান করেন

এটা ভুটানের নাগরিকদের জন্য অনেক কাঙ্ক্ষিত এক অনুষ্ঠান, যারা বিস্ময়ের সাথে অপেক্ষায় ছিল যে কখন, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে অতীব সুদর্শন এবং একই সাথে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী এই রাজা বিয়ে করবেন এবং থিতু হবেন।

এই ঘটনায় ভুটানি নাগরিকদের যে উত্তেজনা তা টুইটার জগৎ এবং একই সাথে ফেসবুক এবং অন্য সব সামাজিক প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ হতে শুরু করে, যেখানে নাগরিকরা শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা এবং রাজকীয় দম্পতির ছবি তুলে ধরে। এমনকি অনেকে আরো এগিয়ে গিয়ে, তাদের প্রোফাইলের ছবি পাল্টে, সেখানে এই রাজকীয় দম্পতির ছবি যুক্ত করে।

পুনাক্ষা উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সেরিঙ্গ তাসি রিক্কু ধান সুব্বার ব্লগে অতিথি লেখক হিসেবে এই শ্রদ্ধাঞ্জলিটি লিখেছে:

যে মুহুর্তে আমি এই সংবাদ পেলাম
আমি আমার হৃদয় থেকে সবকিছু খালি করে ফেললাম আর তাকে আনন্দ দিয়ে পূর্ণ করে ফেললাম।
আমি নিজেকে আবেগে আপ্লুত না করে পারলাম না।
নিজেকে প্রচণ্ড উৎফুল্ল না করে পারলাম না

ভুটানের রাজকীয় দম্পতি, ছবি রাজকীয় জনসংযোগ বিভাগের সৌজন্যে পাওয়া, অনুমতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে।

যে সপ্তাহগুলোতে এই বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্ততি চলছিল, সে সময় ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে রিখটার স্কেলে ৬.৯ মাত্রার এক প্রচণ্ড ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং দেশটিকে প্রায় পঙ্গু করে দেয়। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রাচীন মঠ এবং প্রায় ১,২০০ টির মত বাড়ীর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সে দিন থেকে বিবাহের ঠিক চার দিন আগে পর্যন্ত রাজা ও তার হবু বধূ ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করার জন্য সারা দেশ ভ্রমণ এবং জনতার প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করে।

রাজকীয় জনসংযোগ কর্মকর্তা দরজি ওয়াংচুক, যিনি দক্ষিণ ভুটানের সামচি শহরে রাজার সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন, তিনি টুইট করেছেন :

@দরজি ওয়াংচুক: বিশ্বাসই করতে পারছি না যে রাজকীয় বিবাহ অনুষ্ঠানের আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। আর, এমনকি আমরা থিমফুতেও অবস্থান করছি না।

এরপর, ঠিক বিবাহ অনুষ্ঠানের দুইদিন আগে, ১৫০ জন সাংবাদিক যারা এই ছোট্ট রাজধানীতে অবস্থান করছিল, তাদের সাথে সাক্ষাতের পর তিনি আরেকটি টুইট করেন:

@@দরজি_ ওয়াংচুক: আরেকজন বিদেশী সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করল। ওহে, এখানে যে কোন কিছুই ঘটছে না। রাজকীয় বিবাহ অনুষ্ঠানের আর মাত্র দুইদিন বাকী! আমি তাকে বললাম “ভুটানে স্বাগতম”।

ভুটানি নাগরিকদের মধ্যে এই বিষয়টি জানা রয়েছে যে কোন কিছুতে তাদের শেষ মুহুর্তে এসে সব গোছানোর ব্যাপার ঘটে, এমনকি রাজার বিয়ের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।

আর নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আরো একবার তারা এই কাণ্ড ঘটালো। এই বিবাহ, যা ভুটানের জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিবিএস-এ (ভুটানি ব্রডকাস্ট কর্পোরেশন) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে, যেখানে প্রদর্শনে খানিকটা ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। পুনাক্ষার এবং এমনকি ভুটানের অনেকে তা দেখতে পারেনি। যদিও ব্যান্ডউইথ বা সম্প্রচার তরঙ্গ ঠিকমতো কাজ করেনি, তারপরেও তা উত্তেজনাকর এই অনুষ্ঠানের কিছু ঝলক পেতে সাহায্য করেছে। এই পবিত্র মিলনের অংশ হতে এবং একই সাথে ভুটানের চতুর্থ রাজার দুর্লভ দর্শন পেতে সাহায্য করেছে, যে কিনা তার এই ক্ষুদ্র রাজ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ভুটানের প্রখ্যাত ব্লগার এবং নামকরা ফটোগ্রাফার ইয়েশি দরজি তার চোখ টিভি সেটের সামনে থেকে সরাতে পারছিলেন না এবং তিনি লিখেছেন:

এমনকি যদিও এখন আমি এই পোস্ট লিখছি, তারপরেও আমার চোখ টিভি স্ক্রিনের উপর আটকে আছে, যেখানে এখন পুনাক্ষায় চলতে থাকা রাজকীয় বিবাহের অনুষ্ঠানের দৃশ্য বিবিএস-এ সম্প্রচার করা হচ্ছে। এটা একটা সুন্দর অনুষ্ঠান। এর রঙ, এর ঠাট এবং জাঁকজমক, এক কথায় অসাধারণ! আমি বললাম যে রাজা ইচ্ছা ছিল যে এই অনুষ্ঠান খুব সাধারণ হয়। যখন আমি টিভির পর্দায় চোখ রাখলাম তখন আমি কল্পনা করতে পারলাম না, যে কিভাবে এ রকম এক অনুষ্ঠানকে সাধারণ হিসাবে বর্ণনা করা যাবে। রঙের বাহার, অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য, এর প্রথা, ঢাকের আওয়াজের প্রতিধ্বনি এবং করতাল আর ধুং-এর (বৃহৎ শিঙ্গা) গভীর থেকে উঠে আসা আওয়াজ, এর সাথে জালিং নামক বাদ্যযন্ত্রের চেতনা পরিপূর্ণ সুর-এসব কিছু একসাথে মিলিত ভাবে এই অনুষ্ঠানটিকে একটি স্মরণীয় অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে। আর এটাকে এভাবে বর্ণনা করাই ঠিক। এই অনুষ্ঠান কেবল বিবাহের মাধ্যমে দুটি মনের মিলনের শুরুর চেয়ে বেশী কিছু করেছে। এই অনুষ্ঠান, প্রথাগত ভাবে ভুটানের রানীকে তার পদে অভিষিক্ত করার অনুষ্ঠান।

অনেক ভুটানি নাগরিকের জন্য এই অনুষ্ঠান ইতিহাসের একটি অংশ এবং পারিবারিক ও দেশের সাথে সংযুক্ত একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে। পাসাং একজন শিক্ষক যিনি ব্লগ করেন এবং জার্নাল অফ এন অর্ডিনারি ভুটানীজ নামে ডাইরি লিখেন। তিনি বলেছেন :

আজ আমি এই ঘটনা বর্ণনা প্রদান করার জন্য যাই লেখি না কেন, আসলে যা ঘটেছে তা প্রকাশ করার জন্য এই লেখা অনেক কম বলে বিবেচিত হবে। ভুটানের রানীকে তার পদে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং আমাদের দেশের সকল পর্যায়ের জনতা রাজকীয় এক মহিমা প্রত্যক্ষ করল।

এ রকম একটি উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের জন্য বিদেশে স্থায়ী হয়ে যাওয়া কিছু উদ্বাস্তু বিএনএস.কম (ভুটান সংবাদ সংস্থা)–এর মন্তব্য বিভাগের মাধ্যমে তাদের শুভেচ্ছা পাঠিয়েছে। তবে এর মধ্যে কিছু কিছু মন্তব্য ছিল ব্যঙ্গাত্মক। ফিলাডেলফিয়া থেকে পাংকুশ সুবেদী এবং কাশি পোখরেল বলছে:

ভুটানের পঞ্চম রাজা জিগমে খেশার নামগেয়াল ওয়াংচুক এবং রানী জেটসাম পেমাকে অভিনন্দন!

আজ সারাদিন ধরে উদযাপন চলছে, যখন রাজকীয় দম্পতি রাজধানী থিম্পুতে ফিরে আসছিল, তখন থিম্পুর সড়ক এবং রাস্তার পাশে রাজা এবং রানীকে অভিবাদন জানানোর জন্য তরুণ এবং বৃদ্ধরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল।

কলেজ ছাত্র ইয়েটোয়ে পেনজোরে টুইট করেছে:

@ইয়োটোয়ে: আমি এখনো স্মরণ করতে পারি যে, নারজিন লামের শেষ প্রান্তে জনতা, রাজা এবং রানীকে অভিবাদন জানানোর জন্য অপেক্ষা করছে। #ভুটান

এবং দুই সন্তানের জননী দেকি ফুন্টোসা ফেসবুকে বলছে:

অন্ধকার নেমে এসেছে এবং এখনো আঁধার রয়ে গেছে, আর দোজং-এর কাছে লোকজন দাঁড়িয়ে রাজকীয় দম্পতির জন্য অপেক্ষা করছে, যারা আজ সারাদিন হেঁটেছে এবং জনতাকে অভিবাদন জানিয়েছে। তারা সত্যিকার অর্থে আমাদের জনতার রাজা এবং রানী।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .