বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

থাইল্যান্ডঃ প্রধানমন্ত্রী তার টুইটার একাউন্ট বাতিল করেছে

কয়েকদিন আগে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা, তার টুইটার এ্যাকাউন্ট @পোইংলাক হ্যাক হয়ে যাবার কারণে বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর একাউন্ট ব্যবহার করে হ্যাকাররা নীচের বার্তাগুলো পোস্ট করে:

“এমন কি, আপনি আপনার নিজের টুইটার একাউন্ট রক্ষা করতে পারেন না, কিভাবে আপনি দেশকে রক্ষা করবেন? আমার ভাই এবং বোনেরা এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন”।

এই দেশটা হচ্ছে ব্যবসার এক ক্ষেত্র, আমরা অর্থের জন্য দৌড়াই, থাই জনতার জন্য নয়। আমরা আমাদের সমর্থকদের জন্য কাজ করি, বিরোধীদের জন্য নয়।

দরিদ্রদের কি এখানে কোন সুযোগ আছে? আমরা গরিবদের শোষণ করছি, আশা করছি যে তাদের ভোট আমাদের দেশ লুণ্ঠনের কাজে সাহায্য করবে।

এখন সময় এসেছে আমাদের দেশকে আরো ভালোর দিকে এগিয়ে নেবার, ব্যবসাকে সাহায্য না করার এক চিত্র তুলে ধরার, নিজেদের চিরস্থায়ী আগ্রহ এবং আত্মীয়দের সাহায্য না করার।

শিক্ষা আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয়, কিন্তু শিক্ষা সূচি অথবা শিক্ষকের বেতন বাড়তে থাকার বিষয়টি খেয়াল না করে, বিনে পয়সায় ট্যাবলেট প্রদান করার নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে?

হ্যাকাররা স্বীকার করে নিয়েছে যে ইংলাক ওইসব টুইট পোস্ট করেনি:

দয়া করে আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে এক হ্যাকার এই এ্যাকাউন্ট প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই সব মেসেজের কোনটাই তার পোস্ট করা নয়।

Twitter messages posted by the hacker. Translation by Saksith Saiyasombut

হ্যাকারের পোস্ট করা টুইটার মেসেজ, এর অনুবাদ করেছে সাকসিত সিয়াসোমবাত

ইংলাক হচ্ছে থাইল্যান্ডের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থাকসিনের ছোট বোন। ২০০৬ সালের এক অভ্যুত্থানে থাকসিন দেশ থেকে বিতারিত হন। এরপর থাকসিন দূর্নীতির আভিযোগ অভিযুক্ত হলে নির্বাসনে চলে যান।

সাকসিত সিয়াসোমবাত বিশ্বাস করে যে হ্যাকার তার লিঙ্গীয় পরিচয় সম্বন্ধে সূত্র প্রদান করেছে:

ওইসব বার্তা যারা লিখেছে,এই মূহুর্তে তাদের পরিচয় সম্বন্ধে জানা যাচ্ছে না, তার বদলে তার সর্বশেষ টুইটের সর্বশেষ শব্দ, যা বিনয়ী এক ভাবে, তা হচ্ছে “খারাপ”, মানে বিদায়। যা এক পুরুষবাচক ভাব। এর মানে হচ্ছে হ্যাকার হয়ত একজন পুরুষ।

ইন্টেলিজেন্স নিউজ স্টাডি সেন্টার মনে করে যে হ্যাকার এক উগ্র জাতীয়তাবাদী নাগরিক এজেন্সি:

ইংলাকের একাউন্টে যে সব বার্তা পোস্ট করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে টুইটারকারী এক উগ্র জাতীয়তাবাদী।

এছাড়া হ্যাকার দেশটির আধুনিক ব্যবসা পরিচালনা ও অর্থনৈতিক নীতিকে আক্রমণ করেছে।

উগ্র জাতীয়তাবাদী থাইরা, থাই জনগোষ্ঠীর একটা অংশ, যারা বিশ্বায়ন এবং প্রযুক্তিগত [ পাশ্চাত্যের] উন্নয়নকে অস্বীকার করে, তার বদলে তারা বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রাচ্য ধারার উন্নয়নকে যথেষ্ট বলে মনে করে।

সিতিচাই ইয়ুন নেট নাগরিকদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে সংবাদ প্রদান করেছে:

ওয়াও! প্রধানমন্ত্রীর নিজে নিজের সমালোচনা করলেন? প্রাথমিক আত্ম অনুসন্ধানের বিবৃতি? এই একাউন্টের কয়েকটি মন্তব্য ছিল কি ভাবে এই সরকার ভুলভাবে দেশটির সমস্যার সমাধান করেছে।

শীঘ্রই টুইটার বিশ্ব নানা ধরনের প্রশ্নে গুঞ্জরিত হয়ে উঠে। “ প্রধানমন্ত্রীর টুইটার একাউন্ট কি হ্যাক হয়ে গেছে”। “ প্রধানমন্ত্রীর টুইটার একাউন্টে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে এবং এ রকম আর কিছু।

আধা ঘন্টার মধ্যে “প্রধানমন্ত্রীর টিম” এক জরুরী বার্তা পোস্ট করে, এতে এই বিষয়টি পরিষ্কার করে যে, প্রধান মন্ত্রীর টুইটার একাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে এবং আজ সকালে যে সব বার্তা এখানে পোস্ট করা হয়েছিল সেগুলোর সব গুলো ছিল ভূয়া।

এখানে ব্যাংকক থেকে আসা কিছু টুইটার মন্তব্য :

@কেবিচ আজ প্রধানমন্ত্রী তার নিজের মধ্যে ছিলেন না- তাই তার টুইটার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছিল!

@তান _নেটওয়ার্ক : তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী অনুদিত বলছে যে, প্রধানমন্ত্রীর টুইটার একাউন্ট থাইল্যান্ডের ভেতর থেকে হ্যাক হয়ে গেছে, কিন্তু তিনি এর চেয়ে আর বেশী কোন তথ্য প্রদান করতে অস্বীকার করেন; মন্ত্রীকে সতর্ক করে দেওয়া, যে এখন সচেতন হবার সময় এসেছে।

@সানবিকেকে: প্রধানমন্ত্রী ইংলাকের টুইটার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গেছে, আর তা সরকারী নীতির সমালোচনা মুখর মন্তব্যে ভরে গেছে।

@হোবা_কাওয়ান: থাই প্রধানমন্ত্রীর টুইটার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গেছে। তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়কে ধিক্কার।

@নুত্রাহাত: কেবল থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর টুইটার একাউন্ট হ্যাক হয়ে যায়নি, সাথে তার মস্তিষ্ক হ্যাক হয়ে গেছে (তার ভাইয়ের দ্বারা), আর এই ঘটনা ঘটেছে অনেক অনেক আগে। হুররে থাইল্যান্ড

@আইবিবিআই : থাই প্রধানমন্ত্রীর টুইটার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গেছে। হাহাহা। দারুণ মজার ব্যাপার। যাই হোক, হ্যাক হোক আর না হোক, এটা সেই আগের মতই জঘন্য!

@সাথমোস্ট্রিট: উত্তর পেয়ে গেছি…। ক্লোনের [থাকসিনের] টুইটার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গেছে! এতগুলো কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও @পো ইংলাক তার নিজের টুইটার একাউন্ট সামলাতে পারল না।

@জুলিচাংফাসো:সংবাদপত্রের সংবাদে জানা গেছে ইংলাকের টুইটার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গেছে, এই বছর অর্থমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইটার একাউন্ট হ্যাক হয়ে যাবার পর এই ঘটনা ঘটল। এখন সবার সাইবার নিরাপত্তা যাচাই করার সময় চলে এসেছে।

@প্রিপেয়ারএক্সোএক্সো:যে ইংলাকের টুইটার একাউন্ট হ্যাক করেছে, আমি তার প্রেমে পড়ে গেছি!

@পাই_ এপি: যে ভ্রাতা থাই প্রধানমন্ত্রীর টুইটার একাউন্ট হ্যাক করেছে, সে আসলেই দুর্দান্ত এক ব্যক্তি 😉

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .