বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

উত্তর কোরিয়া: মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে সৌন্দর্যের ভূমিকা

উত্তর কোরিয়ার একজন খাবার পরিবেশনকারী, যিনি দক্ষিণ কোরিয়ার এক অভিনেত্রীর মতো অনেকটা দেখতে, এখন দক্ষিণ কোরিয়াতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছেন। অন্যদিকে ইউটিউবের একটি ভিডিওতে উত্তর কোরিয়ার এক কলেজ ছাত্রী সরকারের প্রশংসা করেছেন তার ধনী পরিবারের প্রতি বদান্যতা দেখানোর কারনে যা অনেক দর্শনার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়াতে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা লোকেরা সাবধান করে বলছেন যে এটা উত্তর কোরিয়ার নতুন লঘু চাল।

ছবিতে উত্তর কোরিয়ার ওয়েট্রেস (বামে) আর দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেত্রী কিম তাই-হি (ডানে)

নাম না জানা এই ওয়েট্রেস (খাবার পরিবেশনকারী) দক্ষিণ কোরিয়ার ব্লগ জগৎে আলোচিত হন যখন ক্যাম্বোডিয়ায় অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার একটা রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া কিছু দক্ষিণ কোরিয়ান তাকে দেখে ওয়েবসাইটে তার ছবি তুলে দেন। দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীর সাথে মিলের কারনে এই উত্তর কোরিয়ার এই নারী সাথে সাথে ‘উত্তর কোরিয়ার কিম তা-হি’ হিসাবে পরিচিতি হন। কিছু কোরিয়ান নেটিজেন তাকে উত্তর কোরিয়ার দেবী বলছেন বা দুই কোরিয়াকে একত্র করার কারন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র চালিত রেস্টুরেন্টটিও তার কারনে কিছু পরিচিতি পেয়েছে।

কিন্তু গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক ব্লগাররা অবশ্য মানুষকে পরামর্শ দিচ্ছেন এর একটু গভীরে দেখার জন্য। এনকেইনসাইড নামে একজন ব্লগার এ নিয়ে মন্তব্য করেছে “কার জন্য উত্তর কোরিয়ার কিম তা-হি কাজ করেন’ এই শিরোনামে একটি লেখায়। তিনি লিখেছেন যে এইসব সুন্দরী মেয়েরা উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জুং ইল এর ভালোর জন্য কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।

북한 식당은 해외에서 많이 운영되고 있다. 대표적으로 평양 옥류관을 들 수 있다. 평양, 개성, 금강산 등 북한 내에도 식당이 있지만, 북경, 상해, 캄보디아 등 해외에 많은 분점을 운영 중이다. 그리고 모두 미모의 아가씨들이 서빙을 보고 있는데, 이는 외화벌이를 위해 북한에서 파견된 아가씨들이다. 낮타임(12시반경) 밤타임(19시경) 하루 두번 무대에서 노래 공연도 이뤄진다. 옥류관의 정책으로 손님들의 사진 촬영, 기자들의 인터뷰 요청에 거절없이 호의적으로 응한다. 북한 아가씨들의 미모를 홍보하는 차원일 듯…힘들게 번 월급의 대부분이 김정일 주머니로 들어가고 있는 실정이다.

বিদেশে অনেক উত্তর কোরিয়ার রেস্টুরেন্ট আছে। একটি ভালো উদাহরণ হল পিয়ং ইয়াং এর ওক-রিউ গোয়ান। কেবলমাত্র পিয়ং ইয়াং, গাইসুং আর মাউন্ট কুমগাং এ না বরং বেইজিং, সাংহাই আর ক্যাম্বোডিয়াতেও এর শাখা আছে। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে উত্তর কোরিয়া থেকে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের জন্য পাঠানো সুন্দরী নারীরা গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন করছেন। এইসব রেস্তোঁরায় দিনে দুইবার বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন হয়, বিকাল ১২:৩০টা আর রাত ১৯:০০ টায়। এইসকল ওয়েট্রেস গ্রাহকদের সাথে ছবি তুলতে পারেন আর সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন। এটা যেন উত্তর কোরিয়ার সৌন্দর্যকে তুলে ধরা…আর তাদের কষ্টার্জিত আয়ের বেশীরভাগ সোজা কিম জুং ইলের পকেটে যায়।

আন চি ইয়োঙ্গের ব্লগ থেকে ভিডিও চিত্রের একটি স্ক্রিন শট উপরে দেয়া হয়েছে। এই ভিডিওটি এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না।

সৌন্দর্যের ব্যাপারটা ব্যবহার করে কোন পরিস্থিতির সুবিধা নেয়া উত্তর কোরিয়ার এটাই প্রথমবার না। এক মাস আগে, উত্তর কোরিয়ার এক সুন্দরী কলেজ ছাত্রীর একটি ভিডিও ইউটিউবে পোস্ট করা হয় যেখানে তার ধনী পরিবার আর তার উচ্চাভিলাষী জীবন ধারন গর্বভরে দেখানো হয় এবং সে শাসকদের প্রশংসাও করে। উত্তর কোরিয়ার এই মেয়ে পিয়ং ইয়াং শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে যেখানে শাসকদের অনুগত পরিবারের সন্তানরাই কেবল ভর্তি হতে পারে। সে গর্ব করে বলছে যে শাসকরা তার নতুন, ভালো বাড়ির জন্য অর্থ দিয়েছে আর দক্ষিণ কোরিয়ার আবাসন সমস্যা নিয়ে সে নাক সিঁটকেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ব্লগ জগৎে এই কলেজ ছাত্রীর ডাক নাম হয়েছে ‘উত্তর কোরিয়ার চেহারার কলেজ ছাত্রী’ (‘চেহারা’ ভালো দেখতে অর্থে)।

এই ভিডিওর ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ানদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল ঠাট্টা। মিনাজ৯৯ নামে একজন ব্লগার জানিয়েছেন একটা দৃশ্যের কথা যেটি দেখে বেশীরভাগ নেটিজেন হাসবে, সেই সুন্দরী মেয়েটা আমেরিকার এইচপি ল্যাপটপ আর দক্ষিণ কোরিয়ার হানগুল (মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ডের মত) সফটওয়ার পণ্য ব্যবহার করছে। উল্লেখযোগ্য যে এই দুই দেশকেই উত্তর কোরিয়ার শাসকরা আক্রমণ করে রাষ্ট্রীয় শত্রু আর বিশ্বাসঘাতক সরকার হিসাবে।

…북한의 얼짱여대생이 미제 노트북을 사용하는 장면을 두고 네티즌 사이에서 비판의 목소리가 거세지고 있답니다. 영상물을 접한 네티즌들은 미국을 철천지 원수라고 지칭하면서 노트북은 왜 미제껏을 쓰는지,,70년대 대남 선전용 홍보물처럼 진부한 내용과 흑색선전 뿐이다라는 지적의 목소리를 높이고 있다고 하네요.

উত্তর কোরিয়ার সুন্দরী কলেজ ছাত্রীর আমেরিকান ব্রান্ডের ল্যাপটপ ব্যবহার নিয়ে নেটিজেনদের সমালোচনা প্রখর হয়েছে। নেটিজেন যারা এই দৃশ্য দেখেছেন তারা বলেছেন যে আমেরিকাকে সাংঘাতিক শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি আমেরিকার ল্যাপটপ ব্যবহার করা কি রকম দ্বিমুখী নীতি আর মন্তব্য করেছেন যে এই ভিডিও ১৯৭০ এর দশকের দিকে জনপ্রিয় উত্তর কোরিয়ার প্রোপাগান্ডা লিফলেটের মত আর একটি প্রচেষ্টা।

এই ঘটনায় অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়া থেকে পালানো একজন যিনি বর্তমানে সিউলে আছেন। জাং জিন-সাং তার ব্লগে লিখেছেন যেহেতু অন্তর্মুখী উত্তর কোরিয়া দেশের প্রত্যেক মানুষের পোশাক আর চুলের ধরন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাই কেবলমাত্র যেসব গুপ্তচর দক্ষিণ কোরিয়ার সমাজে ঢুকতে চায় তারা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো করে সাজতে পারে। জাং উত্তর কোরিয়ার শাসক ওয়ার্কার পার্টির লেখক হিসাবে কাজ করছিলেন ২০০৪ সালে উত্তর কোরিয়াতে চলে আসার আগে। উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপকে জাং বিশ্লেষণ করেছেন চিওনান ঘটনার পরে তাদের চেহারা নরম করার একটা প্রচেষ্টা হিসাবে যেটাতে ৪৬ জন দক্ষিণ কোরিয়ার নাবিক নিহত হন।

동영상의 여주인공을 북극성 요원으로 보는 이유는 북한 일반 여성들에겐 불법이나 다름없는 그의 남다른 최신 헤어스타일이다. 폐쇄적인 북한에선 옷이나 머리도 개인의 사상적 표현으로 간주한다. 더욱이 강력한 통제사회에서 선전물에 등장하는 인물은 모든 면에서 엄격하게 전형화 된다…이런 이유로 북한에서 유일하게 남한 노래들만 전문적으로 연주하고 부르는 통전부 소속 ‘북극성’ 요원들만은 헤어스타일, 억양, 옷차림을 남한의 최신 유행에 맞춘다…아마도 통전부는 천안함 도발로 극대화된 저들의 공격적 이미지를 미모의 여성심리전을 통해 순화시키려고 한 것 같다.

যে কারনে আমি তাকে একজন নর্থ স্টার এজেন্ট মনে করি সেটা হল তার চুলের ধরণ। ( নর্থ স্টার হল উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা ডিপার্টমেন্টের নাম)। অন্তর্মুখী উত্তর কোরিয়াতে, ব্যক্তির পোশাক আর চুলের ধরণ তার রাজনৈতিক ভাবাদর্শের প্রকাশ হিসাবে পরিগণিত হয়। বিশেষ করে কেউ যদি প্রচারণার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকেন তাহলে তিনি কেবলমাত্র উচ্চশ্রেনীর সংশ্লিষ্ট চেহারা দেখাতে পারেন এমন একটা নিয়ন্ত্রিত সমাজে… তাই কেবলমাত্র নর্থ স্টার ইউনিটএর এজেন্টরা থেকে ওয়ার্কাস পার্টির অনুমতি পায় দক্ষিণ কোরিয়ার চুলের ধরন, পোশাক আর কথা বলার ধরণকে অনুসরণ করার…আমি বিশ্বাস করি ওয়ার্কাস পার্টির সমন্বায়ক ব্যুরো উত্তর কোরিয়ার আক্রমণাত্মক মূর্তিকে বিশুদ্ধ করতে চাচ্ছে সৌন্দর্য- মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে।

উত্তর কোরিয়ার শাসক যখন এই ধরণের নরম পদক্ষেপ নিচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি আর এর খারাপ স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে মন খারাপ করা খবর লাগাতার আসছে। সরকারের উচিত ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা, বাইরের শত্রুর সাথে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ না।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .