বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সৌদি আরব: ইউটিউব ভিডিওর জন্য ১০০০ বেত্রাঘাত

গত জানুয়ারিতে একজন সৌদি পুরুষকে সমকামিতার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়, যা একটা ‘সাধারণ নিরাপত্তা’ অপরাধ, এবং তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ছিল একজন পুলিশ অফিসারের বেশ ধারণ করা। তাকে ১০০০টি বেত্রাঘাত, ৫০০০ রিয়াল (১৩৩৩ মার্কিন ডলার) জরিমানা আর এক বছরের জেলের শাস্তি দেয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে তার আচরণের প্রতি তাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় যখন তার নিজের করা একটি ভিডিও এসএমএস এর মাধ্যমে বহুল প্রচারিত হয় এবং পরে ইউটিউবে আপলোড করা হয়। মজার এই ভিডিওতে সৌদি পুলিশ অফিসারের পোশাক পরে এই লোক একটা গাড়িতে আছেন। সেখানে নিজের বুক ঘষে আর যে লোক ক্যামেরা ধরে আছে তার সাথে মজা করে তাকে ক্লাব সঙ্গীতের সাথে নাচতে দেখা যায়।

এই ভিডিও সৌদি আরবে ব্লক করা হয়েছে।

ভিডিওর উপরে মন্তব্য আর শাস্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্লগ জগৎ জুড়ে চলছে।

সৌদি ব্লগার কুসে তার ব্লগের ইংরেজী সংস্করণে লিখেছেন:

বেশীরভাগ মানুষ এখন ভিডিওটা দেখেছেন বা সংবাদ পড়েছেন এমন একজনের যিনি পুলিশ অফিসারের পোশাক পরে ‘সমকামীর’ মতো আচরণ করছিল তা যাই হোক। আমি সমকামীদের অধিকারের প্রচারক নই, কিন্তু তাকে ফৌজদারী অপরাধে দোষী করার মত কোন কিছু আমি দেখছি না…

তিনি ইউটিউবে দেখা আর একটা ভিডিওর উল্লেখ করেন যেখানে সৌদি পুরুষ একজন নর্তকীর উপরে অর্থ বর্ষণ করছেন, সেটাও নিষিদ্ধ আচরণ হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে কিছু সংখ্যালঘুকে অন্যদের তুলনায় বেশী লক্ষ্য করা হয়, আর একই সাথে ইন্টারনেটকে নিয়ন্ত্রণের নিষ্ফলতার কথা বলেছেন:

আমি এখানে যা বলতে চাই… তারা যদি কেউ ইউটিউবে যা করে সেই জন্য গ্রেপ্তার করে, তাদের থামা উচিত না শুধু তাদের গ্রেফতার করেই যাদের তারা চান, বা যারা তাদের মানের সাথে মেলে না, বরং যারা সব কিছু বেআইনি করে তাদের সবাইকে ধরা উচিত… এর জন্য সৌভাগ্য আশা করলাম।

সৌদি ব্লগার মাজিদ তার ব্লগে উল্লেখ করেছেন যে তিনি যখন এই ভিডিও দেখেন তার কাছে এটা মজার লেগেছিল- আর অনেক লোক তাই মনে করছেন, যা ইউটিউবে রাখা বেশ কিছু মন্তব্যে উঠে এসেছে।

সৌদি আরবে সমকামীতার জন্য তাত্ত্বিকভাবে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এর ফলে অভিযুক্ত বেশ কিছু নমনীয় বিষয় নিয়ে আসেন। এখানে কিছু সূত্র জানিয়েছে যে ওই ব্যক্তির পরিবারের মতে সে হরমোন কমতিতে ভুগছে, আর আরব নিউজের এই আর্টিকেলের মতো অন্যরা বলছে যে তার মানসিক সমস্যা আছে:

একটি সংবাদপত্র ওই লোকের বাবার সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যিনি জানিয়েছেন তার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন আর তার বন্ধু দ্বারা প্ররোচিত হয়েছে ক্যামেরার সামনে এরকম করার জন্য।

মজিদ একমত হয়ে বলেছেন:

আমি দেখেছি সৌদি আরবে বেশীরভাগ সমকামী কাজকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীনতা’ বলা হয়ে থাকে।

কিন্তু সে সমকামিতাকে নীচু দেখাচ্ছে বলে না, বরং সমকামীর মতো আচরণ করছে যা সৌদি আরবে বিপদ ডেকে আনে। তিনি বলেছেন:

… যে ব্যাপারটা দু:খজনক, তা হল সমকামীদের জন্য কোন অধিকার বিবেচনায় আনা হবে না… আরো দু:খজনক হল যে সমকামীদের প্রচার মাধ্যম আর সমাজে অসুস্থ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তারা যদি অসুস্থ হয় তাহলে তাদের জেলে দেয়া কেন যেখানে তাদের সাথে আরো দুর্ব্যবহার করা হবে। তাদেরকে হাসপাতালে দেয়া দরকার। মাদকাসক্তরা হাসপাতালে যায়, সমকামীদের জেলে দেয়া হয় আরো অত্যাচারিত হওয়ার জন্য।

মিশরী ব্লগার জেইনোবিয়া একটা পোস্ট লিখেছেন ঠাট্টা করে নাম দিয়ে ‘আপনারা কেন এত বিস্মিত!!?? আর ভেবেছেন:

কিন্তু আমি বলব বা ভাববো যে সৌদি আরবের মতো দেশে থাকা একজন সমকামী পুরুষ এই ধরনের পোস্ট কেন ইউটিউবে দেবেন!!??

আমি আসলে বুঝতে চাচ্ছি তারা কি ভাবছিল যখন তারা এই ভিডিও আপলোড করছিল!!?? তারা কি আসলে বিশ্বাস করছিল যে মন্দ কাজ দেখার কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ছেড়ে দেবে!!??

তবে এই ভিডিও ওই ব্যক্তি নিজে আপলোড না করে থাকতে পারেন। যেমন মজিদ তার লেখায় দেখিয়েছেন, এটা হয়ত প্রতিহিংসা বশত কেউ আপলোড করেছে, যেহেতু কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া আর শাস্তি জানাই আছে।

দু:খজনক যে ঠিক একইভাবে পশ্চিমা কিছু ব্লগ জগৎের প্রতিক্রিয়া জানা আছে, যারা সব মানুষকে তিরস্কার করতে প্রস্তুত থাকে তাদের নেতাদের জন্য (একই সাথে তারা নিজেদের সরকারের ভ্রান্তি ভুলে যায়)।

এই ব্যাপার নিয়ে টোউলেরোড এর পোস্টে একজন মন্তব্যকারী বলেছেন:

প্রত্যেকবার এরকম যখন ঘটে তখন আমেরিকার সমকামী পিনাট গ্যালারি থেকে বেশ কিছু জানা প্রতিক্রিয়া হয়:

১। তোমাদের মধ্য প্রাচ্যের, আফ্রিকার বা এশিয়ার ‘জাহান্নামে’ ফিরে যাও

২। এইসব জংলী মধ্য প্রাচ্য, আফ্রিকান বা এশিয়ার দেশের সাথে সব বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দাও

৩। কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দাও এইসব ‘কম –মানবিক’ মধ্য প্রাচ্য, আফ্রিকান আর এশিয়ার দেশের সংগে

৪। আর কিছু ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যে আমাদের সেনাবাহিনীর সাহায্য নেয়া উচিত।

পরের বার যখন কোন রিপাবলিকান স্লুটজ, ক্রুগার বা মেটজগার নামে বেরিয়ে আসেন সমকামিতাকে অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য, আমি আমাদের কর্মী ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাবো মিউনিখে কয়েকটা বোমা ফেলার জন্য। বা এই পরামর্শ দিতে পারি যে সকল জার্মান আমেরিকানদের তাদের পশ্চাদপদ দেশে ফিরত পাঠানো উচিত। আমি এটা আসলেই দেখতে চাই। কেউ বলছে না যে সৌদি আরবে যা ঘটছে তা গ্রহনযোগ্য। এটা পরিষ্কার দ্বিমুখী একটি ব্যাপার যা কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের ব্যক্তি হিসাবে আর অন্যদের বুদ্ধিহীন বস্তু হিসাবে দেখে। আপনারা কোটি কোটি মুসলমানদের উপরে ধর্মীয় যুদ্ধ চালাতে চান সৌদি শাসকদের খারাপ ব্যবহারের জন্য?

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .