বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আমেরিকা: ইসলাম ধর্ম বিরোধী এক চলচ্চিত্র ‘অবসেশন’ ব্লগারদের রাগিয়ে তুলেছে

অবসেশন চলচ্চিত্রকিছুদিন আগে আমেরিকার বিশাল অংশ জুড়ে অনেক সংবাদপত্রের গ্রাহকরা বিস্ময়করভাবে আবিস্কার করে তাদের রবিবাসরীয় পত্রিকার সাথে একটি ডিভিডি রয়েছে। এতে থাকা ভিডিওটি পুরোটাই ইউটিউবে দেখা যাবে, যার নাম অবসেশন: র‌্যাডিকাল ইসলাম'স ওয়ার উইথ ওয়েষ্ট (আচ্ছন্নতা: পশ্চিমের সাথে ইসলামী মৌলবাদের যুদ্ধ)। এই ডিভিডিতে ইসলাম ধর্মের মৌলিক চিন্তা চেতনাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়কালীন নাৎসী জার্মানীর চিন্তা ধারার সাথে তুলনা করা হয়েছে।

আমেরিকার আসন্ন নির্বাচনের সময়কে মাথায় রেখে এই ডিভিডিটি ছাড়া হয়েছে এবং সমস্ত সুয়িং স্টেটগুলোতে (ফলাফল নির্ধারনকারী দোদুল্যমান নির্বাচনী এলাকায়) বিতরন করা হয়েছে

সংবাদপত্রের সাথে ডিভিডি জুড়ে দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবেই সংবাদপত্রগুলো এ ব্যাপারে অভিযোগ পেতে থাকে। এই ডিভিডি সরবরাহের পয়সা জুগিয়েছে দ্যা ক্লারিয়ন ফান্ড, একটি বিশেষ গ্রুপ যারা মৌলবাদী ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা মৌলবাদী ইসলামকে সবচেয়ে বিপদজনক মনে করে তাই তার আশু প্রতিকারে নেমেছে। আমেরিকা এবং আমেরিকার বাইরের ব্লগাররা ডিভিডির বিতরন নিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

জর্ডানের ব্লগার আলি ডিভিডি প্রকাশের সময় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে:

আমরা, আরব ও মুসলিমরা রমজানের সময় খাবার এর ভাবনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আর ইফতারের পরে আমাদের সুস্বাদু শিশা (হুক্কা) টানতে টানতে টিভিতে দেখছিলাম ‘বাব এল হারার এবং আশমাহান’ ও অবশিষ্ট ১২০টি ধারাবাহিক। এ সময় বেশ কিছু রহস্যময় দল এই ধরনের বিরক্তিকর ডিভিডি পাঠাচ্ছিল। এই ধরনের ডিভিডি ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের আঘাত করে এবং আমেরিকার জনগনকে এক কল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ সমন্ধে সজাগ করে।

আমি দেখতে পাচ্ছি এ এক ভীতিকর প্রচারণা, যা সবসময় আমেরিকার জনগণকে লক্ষ করে চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ছুটি ও উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ আমেরিকার জনগনকে তারা মনে করিয়ে দেয় যে অসভ্য অশিক্ষিত বর্বর ঘাতকরা এখনও তাদের হত্যা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

কেউ কি কল্পনা করতে পারে এর ফলে মুসলিম এবং আরব জাহানের কতটা ক্ষতি হয় আর পশ্চিমা জগত ও আমেরিকায় আরবদের ইমেজ কোথায় গিয়ে দাড়ায়?

সকল আমেরিকানরা পৃথিবীর সব প্রান্তে সবসময় ভ্রমণ করে না। তারা সবকিছু জানে না, এমনকি তাদের অনেকের জীবনে কোন দিন কোন মুসলিমের সাথে দেখা হয়নি। এর ফলে এই ধরনের ঘৃণা ধরানো ডিভিডি মুসলিম ও মধ্যপ্রাচ্য সমন্ধে এক ভয়ানক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটা শুধু পুর্ব আর পশ্চিমের সম্পর্ক জটিল করবে না ,আমেরিকায় যে সমস্ত আরব বংশদ্ভুত আমেরিকান বাস করে তাদের জন্য এক ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করবে। এই ধরনের আরব -আমেরিকানরা ঘৃণার শিকার হবে অথাব তারা কোন বাজে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়বে।

এ টেল অফ থ্রি বিন্স নামের এক জর্দানি মহিলা ব্লগার আলির পোষ্টের জবাব দিতে গিয়ে তার পোষ্টে লিখছেন:

আসলে, যখন অমি কোন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা চালাতে চাই যা পুরোপুরি ভুল ধারণা ও সম্পুর্ন মিথ্যা; তখনই আমি আলির পোষ্টে ফিরে যেতে চাই। আমি জানি সে ভেবেছে আমি তার মন্তব্য এড়িয়ে গেছি। কিন্ত এটি ছিল সেই সব আলোচনার কোন একটি যার চিন্তার আরো গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। আলির লেখাটি ছিল ২৮ মিলিয়ন কপি বিতরণ করা আগুণ ছড়ানো চলচ্চিত্র ‘অবসেশন’ সমন্ধে। যা আসলে বিতরণ করা হয়েছিল আমেরিকায় সুইং স্টেটগুলোতে, যেখানকার ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলে। এখন আমি আমার অনেক অতীতের কথা বলছি। সেই অতীতে আমি শিখেছি আমি কখনও সেই বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না যে বিষয় সমন্ধে আমার কোন ধারণা নেই। কাজেই আমি ইউটিউবে প্রবেশ করেছি, যাতে আমি ছবিটি দেখতে পারি। ছবিটি ছয়টি খন্ডে বিভক্ত। প্রতিটি খন্ডের দৈর্ঘ্য ১০ মিনিট। এখন আমি বিষয়টির গভীরে যেতে পারি এবং এই বিষয়ে আমার ভাবনা ও কিছু চিন্তা প্রকাশ করতে পারি।

এরপর লেখিকা এই ভিডিওর বেশ কিছু-বিষয়ের গভীর ভাবনাকে যাচাই করে দেখেছেন, প্রচলিত বিশ্বাসকে উন্মোচন করেছেন এবং দুর্বল অনুবাদকে ঠিক করেছেন। তিনি দেখানে যে ডিভিডিটিতে কিছু যৌক্তিক বিষয় রয়েছে:

ইসলামের অনুসারীরা ভালোভাবেই জানে যে সাধারণ আমেরিকানরা তাদের বিপদজনক মনে করে। কেবল মৌলবাদী মুসলিম নয় সকল মুসলিম থেকেই তারা সর্তক থাকে। এটাই স্বাভাবিক। আমরা সকলেই যা ভিন্ন তার থেকে সর্তক থাকি এবং মুসলিমদের আলাদা দেখায়। দু:খজনক ভাবে মুসলমান ও মুসলমান নন কিন্তু দেখতে একই রকম তারা আলাদা এক অনুভুতির ফাঁদে ডুবে যায়, বিষয়টি বের করার পরও যে রমজান ও লেন্ট পরবে মধ্যে মিল থাকা সত্বেও। এটি দুরত্ব বোঝার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। এই বার্তাটি আমাদের ধারণা দেয় যে খ্রীষ্টানরা উপাবাসকে বুঝতে অক্ষম। (যা কিনা খ্রীষ্টান প্রথাকে অনুভব করার ব্যর্থতাকে তুলে ধরে)। ইসলাম ও খ্রীষ্টান ধর্ম অনেক বেশী বিস্তৃত, কিন্তু তাদের মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। যদি কেউ আমেরিকানকে সাহায্য করে (সাধারণ ভাবে বলা যায় পশ্চিমা জনগোষ্টীকে) তাহলে সে আসলে আমাদের সমর্থনে কাজ করবে।

প্রত্যেক মুসলমান আসলে তার নিজ বিশ্বাসের একজন দুত হিসেবে ভুমিকা পালন করতে পারে।

সবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত টেনেছেন:

আমেরিকার বাস্তবতা হচ্ছে যে তারা বিশ্বের সবচেয়ে সচেতন জাতি নাও হতে পারে, এটি আসলে ভালো মানুষদের দেশ। এই দেশের লোকেরা সকালে উঠে তাদের নাস্তা খায়। তারা তাদের পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। তারা তাদের সন্তানদের ভালোবাসে এবং তাদের জন্য সেরাটাই দিতে চায়। যতটা তাদের আলাদা মনে হয়, ততটাই আসলে তারা এক রকম। আমেরিকানরা অনেকটাই জার্দানিদের মতো। তারা সেই জাতি যারা জীবন যাপানের জন্য সেরা কাজ করে এবং তাদের পরিবারে মঙ্গল নিশ্চিতের জন্য সবকিছু করে। সবার বোঝা দরকার যা ঐতিহ্যগতভাবে আলাদা, আসলে তা ঐতিহ্যের কারনেই আলাদা। এটা আসলে দুরত্বকে কাছে আনতে সাহায্য করবে। মনে রাখতে হবে অনেক আরব যেমন ভাবে, আমেরিকান মহিলারা অনৈতিক জীবন যাপন করে,একই দিকে থেকে অনেক আমেরিকান মনে করে যে আরব মহিলারা অবদমিত এবং তাদের কোন স্বাধীনতা নেই। এ দুটির কোনটাই পুরেপুরি সত্য নয় বা সঠিক নয়। আমি মনে করি যদি আমরা পরস্পরকে ভালোভাবে বুঝতে পারি (ঠিক পরস্পরে মতো হতে হবে এমন কথা নেই) আমাদের যোগাযোগ বা আলাপচারিতা আরো সমৃদ্ধ হবে আর সে ক্ষেত্রে আমরা আমাদের ভয়কে পিছে ফেলে আসতে পারবো । আমরা এক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধার মধ্যে দিয়ে সামনে এগুতে পারবো।

লেখিকা ও ব্লগার লায়লা লালামি, তার কিছু অনুভুতি প্রকাশ করেছেন এই ডিভিডি সমন্ধে। কিন্তু তিনি বর্ণনা করেছেন এটি আসলে কোন পার্থক্য তৈরী করবে না:

আমি মনে করি না দোদুল্যমান ভোটারদের উপর এই ডিভিডির কোন প্রভাব পড়বে। আমরা সবাই ইসলামের ভয়ে এতটাই মস্তিস্ক ধোলাই করে ফেলেছি যে আমেরিকার ভোটারার মুসলিম -সমান সন্ত্রাস এ রকম আরেকটি স্থান তৈরী হোক তা চায় না। তারা এখন তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে (এটা ওবামাকে ঘিরে নয়, একে মোকাবেলা করা দরকার)

গ্লোবাল ভয়েস মরোক্কার লেখক লাল্লা লেইডিয়া ব্যাখ্যা করেন কেন আমরা সবাই ভিডিওটি দেখবো:

আমি দেখেছি যে অনকেই এই মিষ্টি এবং অসময়ের ভ্যালেন্টাইন উপহারকে একটা প্রচারণা হিসেবে দেখেছে, এবং এটিকে আবর্জনা হিসেবে ফেলে দিচ্ছে।

আমার ইচ্ছে কেউ যেন তা না করে। তারা এটা দেখুক। যেমনটা আমি দেখেছি এবং নোট নিয়েছি।

আমি মনে করি এটি ভালোই করেছে। এটি তার দর্শকদের মধ্যে ভয় ধরিয়ে দিতে পেরেছে। তারা ধীরে ধীরে সমস্ত লোকেরা ভয় ধরিয়ে দেয় সঙ্গীত এবং দ্রুত গতির ছবির মাধ্যমে, সারা পৃথিবীর সন্ত্রাসবাদের ছবি দেখিয়ে।

ডিভিডিটি বিতরণের এক সপ্তাহের মধ্যে ডেটন, ওহায়ো মসজিদের শিশুরা এ রকমই এক ঘৃণার শিকার হয়। যার মধ্যে ছিল সেই বির্ল্ডিং-এর মধ্যে একটা জানালা দিয়ে তেল ছিটিয়ে দেওয়া হয়।

ব্লগারা খুব দ্রুত দুটি ঘটনার সাথে যোগসুত্র তৈরী করে। যদিও মুলধারা মিডিয়া ব্যাপারটি অস্বীকার করে।

আরব আমেরিকানদের লেখা এক ব্লগ কাবোবফেস্ট এই ঘটনার উপর রিপোর্ট করছে:

এই এলাকায় অবসেশন নামের ফিল্মটি বিতরন করার পরই এই আক্রমনের ঘটনা ঘটে। এই দুটি হয়তো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আশা করা যায় তদন্তে শেষে আমরা এর উত্তর পাবো।

এই সর্তক করা ইসলামভীতিতে আক্রান্ত ভিডিও এখন সুইং স্টেটস বা দোদুল্যমন রাষ্ট্রে বিতরণ করছে এক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যারা অনেকটা ছায়ার মতো রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম দ্যা ক্লারিয়ন ফান্ড। তারা দাবী করেছে তারা এই ডিভিডির ২৮ মিলিয়ন কপি বিতরন করেছে। যারা এই ডিভিডি পেয়েছে তাদের অনেকেই এটিকে পরিস্কার ভাবে ঘৃণার চোখে দেখেছে। তবে অন্যরা এতে উৎসাহিত হতে পারে, তারা মাতৃভুমিকে নিরাপদ করতে চাইছে এবং হাতের নাগালে থাকা শত্রুকে আক্রমন করতে ইচ্ছুক। এ রকম বোধহীন আক্রমণ হচ্ছে উপরের ঘটনার একটি।

কৌতুহলজনক ব্যাপার হচ্ছে কোন মূলধারার মিডিয়া এই ঘটনাটি তুলে ধরেনি। যদি কোন মুসলিম, গীর্জা বা ইহুদিদের ধর্মীয় স্থান সিনাগগে একই ধরনের কাজ করতো তাহলে তা হতে খবর হওয়ার মতো জিনিষ। মিডিয়ার তত্ব হচেছ মানুষ কুকুরকে কামড়ালেই তা খবর হতে পারে। হয়তো আমরা আধুনিক জাতিতত্বের সহিংসতার চিত্র নতুন করে সাজাতে পারি, “সাদা মানুষ মুসলিমদের আক্রমন করেছে, এটি কোন সংবাদ নয়, কিন্তু মুসলিম আক্রমন করেছে সাদা মানুষদের , তাহলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ!”

একজন আমেরিকান লেবানন সমন্ধে ব্লগে লেখে। তার ব্লগের নাম এ ডায়মন্ড আই ভিউ অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড। সে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমাদের এই ডিভিডি বিতরনের বিরুদ্ধে আপত্তি করার অধিকার রয়েছে। সে ক্লারিয়ন -এর ঠিকানা জানিয়ে সবাইকে অনুরোধ করছে নরম ভাষায় প্রতিবাদপত্র পাঠাতে:

“কেউ যদি ক্লারিয়ন ফান্ডে যোগাযোগ করতে চায় তাহলে তার ঠিকানা ডিভিডির গায়ে দেওয়া রয়েছে। সেটি হলো
২৫৫ ডাব্লিউ, ৩৬ স্ট্রিট,এসটিই.৮০০
নিউইর্য়ক, নিউই ১০০১৮
(৬৪৬)৩০৮-১২৩০
মনে রাখবেন, ভদ্র হোন, পেশাদার হোন এবং কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার সময় স্পষ্ট যুক্তি তুলে ধরুন।”

উল্লেখযোগ্য যে ইতোমধ্যে অবসেশন উইথ হেইট নামে একটি দল তৈরি হয়েছে এই চলচ্চিত্রের দ্বারা যে বিষবায়ু ছড়ানো হচ্ছে তা থামাতে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .