বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ব্রাজিলঃ বিজ্ঞাপন ব্লগারদের বাঁদরের সাথে তুলনা করেছে

ব্রাজিলের একটা খবরের কাগজ তাদের নতুন ওয়েবসাইটকে উন্নীত করতে একটি বিজ্ঞাপন প্রচারনা শুরু করেছে যার মূল বিষয় হচ্ছে বিভিন্ন ভিডিও দিয়ে মজা করে দেখানো যে ব্লগ তথ্যের ভাল কোন উৎস নয়। এর একটি অংশে ব্লগারদের বাঁদরের সাথে তুলনা করা হয়েছে যার ফলে স্থানীয় ব্লগাররা এটিকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন।

ট্যালেন্ট এজেন্সি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এস্তাদাও এর ওয়েবসাইটির জন্যে তৈরি বিজ্ঞাপনের ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেছেঃ

“বিজ্ঞাপনটি মজা করে দেখিয়ে দেয় ইন্টারনেটে সাইটগুলোতে তথ্য খোজার বিপদগুলো আর একই সাথে খবরের কাগজের ওয়েবসাইটের ভালো দিকগূলো”।

আমার মনে হয় যে এই মজা করাটা প্রশ্নবিদ্ধ হয় যেখানে ব্লগারদের বাঁদরের সাথে তুলনা করা হয়।

- পেনসার এনলোকুয়েস

কিছু মন্তব্য সংবাদপত্রের অবস্থানকে সঠিক দেখানোর চেষ্টা করছে, কিছু অন্য ব্যাখ্যা খুঁজে। কিন্তু আমি আগেও বলেছি যে যা দেখা গেছে তার পর এটা আর সম্ভব নয়। বক্তব্য পরিষ্কার আর সয়ংসম্পূর্ণ: সব ব্লগ আর বিশেষ করে সব অ-পেশাজীবীদের দ্বারা প্রকাশিত খবর খারাপ মানের। বিজ্ঞাপনটি খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে ব্লগ তথ্য নকল করে, ফালতু খবর ছাপায় আর ব্লগের কোন বোধশক্তি নেই।

- ব্রেইনস্টর্ম #৯

এটি পরিষ্কার যে এস্তাদেও ওয়েবসাইটের বাজারজাত করার কৌশল ছিল যে এইটা দেখে ব্লগাররা হইচই করবে আর এটা ঠিক যে এই কারনে অনেকে এস্তাদেও এর নতুন ওয়েবসাইট দেখেছে। অন্যদিকে অনেক ব্লগার মনে করছেন যে এই সময় ব্লগ আর মিডিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব ঠিক নয় আবার অনেকে মনে করছেন যে মজাটা দেখা উচিত।

বড় খবরের কাগজগুলোর মধ্যে এটি খুব আশ্চর্য যে এস্তাদাও কে কোন বড় ইন্টারনেট পোর্টাল হোস্ট করেনা। এটা একটা বাস্তবতা তবে আপনারা পরিনতিটুকু বুঝে নেন। তাছাড়া তারা এডসেন্স ব্যবহার করে তাদের সাইটে। বড় খবরের কাগজের মধ্যে শুধু তারাই এটা করে। অসামন্জস্য প্রতিযোগিতা, তাই নয়কি? আমাদের কাছে এটা বেঠিক মনে হয় যে এতো বড় একটা খবরের কাগজ বাঁদরদের মত করে টাকা সংগ্রহ করবে। কিন্তু এস্তাদাও যদি এই ধারা মেনে চলে তার মানে ওদের অবস্থা ভালো না, কারন তারা ধারার বিপরীতে যাচ্ছে।

-টেক লেটারস

বাঁদর

না! আমাকে এস্তাদাও চিনে ফেলেছে! – চার্লস পিলগার

এটিই একমাত্র উপায় এরকম বোকামীকে সামাল দেয়ার

এই আক্রমনাত্মক বিজ্ঞাপন এমন এক সময় এলো যখন স্থানীয় ব্লগাররা হজম করতে পারেনি স্থানীয় এক নামকরা সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে দেয়া ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এন্ড্রু কিন এর ইন্টারভিউতে বলা বক্তব্য যে ‘ইন্টারনেট আমাদের সংস্কৃতিকে মেরে ফেলছে‘। হাস্যকর মনে হলেও ঘটনাগুলো স্থানীয় মিডিয়াতে হইচইএর সৃষ্টি করেছিল আর তার ফলে ব্লগের উপর কিছু অদ্ভুত আক্রমন হয়েছিল।

দ্যা ডিয়ারিও দো নরদেস্তে (উত্তরপূর্ব অন্চলের একটি সংবাদপত্র) এই তর্কে সামিল হয়েছে এই বলে যে যারা ব্লগ প্রকাশ করছেন তাদের যোগ্যতা (অথবা অযোগ্যতা) নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং লেখার সম্পাদনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তাদের মতে এইসব সত্যের অপলাপকারীদের (আমরা ব্লগাররা) দ্বারা কত তরুনদের সর্বনাশ হচ্ছে কারন তারা এই ধারা অনুসরন করছে। “…এই বিকৃত তথ্যের জনপ্রিয়তা ও কলেবর বৃদ্ধির সাথে সাথে সমস্ত বয়ো:জোষ্ঠরাই তাদের কোন জিনিষ যুক্তি দিয়ে ক্ষতিয়ে দেখার ক্ষমতা হারাবে এবং সব বিষয়ে তাদের নিজস্ব কিছু সন্দেহজনক ও অজ্ঞাত কারনপ্রসূত মতামত দেবার চেষ্টা করবে। সবচেয়ে খারাপ হতে পারে এক্ষেত্রে যে কিছু সংখক ব্লগ পাওয়া যাবে যাদের আপাত:দৃষ্টিতে ব্যাক্তিগত বলেই মনে হয় কিন্তু আদতে তারা অজানা উদ্দেশ্য সম্বলিত সন্দেহভাজন বিশাল দলগুলো সমর্থিত মুখপাত্র।

- এস্ট্রোজিলডো

বাঁদরের ব্যাপারটি ছাড়াও গুগুল নিউজে মন্তব্য সেকশন যোগ করা নিয়ে বিভিন্ন ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। ভবিষ্যতই বলতে পারবে যে এটি আরেকটি অস্থির প্রকৃতির গুগুল বেটা অ্যাপ (app) নাকি অনলাইন মিডিয়ার নতুন যুগের একটা গুরুতপূর্ণ ধাপ, কিন্তু এটির শুরু দেখে মনে হয় যে বাঁদররা কোথাও যাচ্ছে না।

যে লেখাগুলো প্রকাশিত হচ্ছে তা ক্রমে পাঠকদের মধ্যে মন্তব্য বিভাগে বিতর্ক করার মত বিষয় নিয়ে লেখা হচ্ছে। তাত্তিকভাবে সাংবাদিকতার এটাই প্রধান লক্ষ্য , কিন্তু যোগাযোগ মাধ্যম পরিবর্তিত হওয়ায় সংবাদ একটা পন্যে পরিনত হয়েছে। ইন্টারনেটের আগে, সংবাদ আর পাঠকের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ হত না বলে লেখকের গুরুত্ব এখনকার বিতরকের থেকে বেশি ছিল। ওয়েবে এখন পরিস্থিতি পাল্টিয়েছে, সফ্টওয়ারের উন্নতির ফলে লোকের অংশগ্রহন বেড়েছে, কিন্তু ব্যাপারটি সংবাদ মাধ্যম এখনো ঠিকমত বুঝতে পারেনি। খবর এখন আর পন্য নয়। এটি এখন সাংবাদিক দিয়ে শুরু হওয়া একটা ধারা, কিন্তু মূল কাজ করছে পাঠক। পেশাজীবীরা খবরের আর মালিক থাকবেন না। এই প্রক্রিয়া সংবাদ মাধ্যম আর পাঠকদের মধ্যে আর টিভি আর রেডিও এর শ্রোতাদের মধ্যকার অবিশ্বাস কমাতে সাহায্য করবে।

- কোডিগো এলবার্তো

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .