বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বিয়ে বিতর্কে পদক হারালেও প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল নাঈমের সাহসিকতার প্রশংসা সবার মুখে

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল একজন মডেল ও বাইকার। কক্সবাজার রাইডার'জ ক্লাবের ইউটিউব ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নেয়া।

বাংলাদেশে একজন সেরা সুন্দরী তার মুকুট হারিয়েছেন তিনি পূর্বে বিয়ে করেছেন এই সংবাদ গোপন করার জন্যে। তবে যখন প্রতীয়মান হয় যে তাকে জোর করে বাল্যবিবাহে বসানো হয়েছিল তখন অনেকেই তার সাহসের প্রশংসা করে সমবেদনা জানিয়েছেন।

গত ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে লোভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৭ প্রতিযোগিতায় প্রথমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় মডেল ও বাইকার জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় তার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা। কিন্তু গত ৪ঠা অক্টোবর বিয়ের কথা গোপন করার অভিযোগে আয়োজক কর্তৃপক্ষ তার পদক প্রত্যাহার করে নেয় এবং প্রথম রানার-আপ জেসিয়া ইসলামকে সেরা সুন্দরীর মুকুট পড়ানো হয়।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২৭শে নভেম্বরের সেই প্রতিযোগিতার রাতে, যখন বিচারকদের সুপারিশ অগ্রাহ্য করে প্রথমে আরেকটি প্রতিযোগীকে মিস বাংলাদেশ ঘোষণা করা হয়। পরে একই অনুষ্ঠানে জান্নাতুল নাঈমকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং বলা হয় যে পূর্বের ঘোষণাটি ভুল ছিল।

এই কারণে বিজয়ী ঘোষণার পরেই জান্নাতুল নাঈমকে নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। বলা হয়, বিচারকদের রায়ে নয়, আয়োজকদের পছন্দে তাকে বিজয়ী করা হয়েছে। এই বিতর্কের সূত্রেই একটি পত্রিকার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তার অতীত। জানা যায়, ২০১৩ সালে তিনি বিয়ে করেছিলেন। যদিও সে বিয়ে ৩ মাসও টেকেনি। তিনি বিবাহিত, এই বিষয়টির জন্যে নয়, বরং তিনি বিয়ের ব্যাপারটা গোপন করেছেন এই অভিযোগে আয়োজকরা তাকে প্রতিযোগিতার জন্যে অযোগ্য ঘোষণা করে ও মুকুট কেড়ে নেয়।

নিজের ফেইসবুকে বিয়ের কথা স্বীকার করে নিলেও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের প্রাক্কালে জান্নাতুল নাঈম জানিয়েছেন, তার ‘বাল্যবিবাহ’ হয়েছিল। বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর! অভিভাবকদের ইচ্ছায় ও তার অমতেই বিয়েটা হয়েছিল। সেজন্য সেই বিয়ে ভেঙে দিয়ে তিনি চলে এসেছিলেন এবং পরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মডেল হিশেবে।

ইউনিসেফ বাল্যবিবাহের সংজ্ঞা দিয়েছে এইভাবে – “১৮ বৎসরের পূর্বে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বিবাহ”। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার সবচে’ বেশি। এদেশের আইন বলে নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ এবং ছেলের ক্ষেত্রে ২১। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে অভিভাবকদের ইচ্ছায় নির্ধারিত বয়স থেকে কম বয়সীদের বিয়ে হয় এবং বর বা কনের কিছু বলার থাকে না।

নিজের অমতে বিয়ে হলেও বেশিরভাগ মেয়ে তা মেনে নিয়ে স্বামীর সংসার করে। কিন্তু জান্নাতুল নাঈম সে পথ মাড়াননি। তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথ বেছে নিয়েছেন। বাংলাদেশের মতো সামাজিক ব্যবস্থায় যেটা করা খুব সাহসের। এজন্য সবাই তার সাহসের প্রশংসা করছেন। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক আবুল হাসনাত মিল্টন লিখেছেন:

[…] আমি শুধু এভ্রিলকে একটা বাহবা দিতে চাই তার সাহসের জন্য। মাত্র ষোল বছর বয়সে তাকে ‘বাল্যবিবাহের’ শিকার হতে হয়েছিল। তরুণী তার প্রতিবাদে সেই বয়সেই ঘর ছেড়েছে। শুধু তাই নয়, নানান প্রতিকূলতার বিরূদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেকে গড়েছে। আত্মবিশ্বাসী, সাহসী একটা মেয়ে বাইকে চড়ে শহরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে, দৃশ্যটির কথা ভাবতেই আমি মুগ্ধ হই।

আপনাকে অভিবাদন এভ্রিল।

ব্লগার ও অ্যাক্টিভিস্ট অজন্তা দেব রায়ও জান্নাতুল নাঈমের সাহসের প্রশংসা করে লিখেছেন:

তার জীবনে ঘটে যাওয়া বাল্যবিয়ে নামক একটা দুর্ঘটনার কারণে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়ার তথাকথিত যোগ্যতা হয়ত সে হারিয়েছে কিন্তু আমার চোখে মেয়েটার সাহস আর আত্মবিশ্বাসই তার সবচাইতে বড় সৌন্দর্য্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনেকেই জান্নাতুল নাঈমের অতীত নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। তাসদিদুল হক তার এই তথ্য গোপন কে সমর্থন না করলেও অপ্রাসঙ্গিক সব সমালোচনা সম্পর্কে লিখেছেন:

আচ্ছা বিয়ের ব্যাপার টা লুকায় সে ভুল করছে আপনি তার ডিস্কোয়ালিফিকেশন দাবি করতেই পারেন কিন্তু তার ছবি আপ্লোডাইয়া রসায় রসায় ক্যাপশন দেওয়াটা লেমনেস। একটা ১৬বছরের মেয়েকে এসএসসির সময়ে ইলিগ্যালি জোর করে বাল্য বিয়ে দেয়ে হলো সে সেই বিয়ে থেকে নিজেকে মুক্ত করে পরিবারের কোনো সাপোর্ট ছাড়াই এই স্টেজ অব্দি পৌছুছে, দেশ সেরা লেডী বাইকার সে, এসব আপনাদের চোখে পড়েনা?

অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি ‘অবিবাহিত’ দাবির সাথে একমত প্রকাশ করেছেন:

এভ্রিল দাবী করছে সে অবিবাহিত, আমি তার দাবীর সাথে একমত। একটা বিয়ের ছবি কিংবা জোর করে দেয়া বিয়ের টিকে থাকা ১৫ দিন দিয়ে একজনের ঘাড়ে বিবাহিত দায় চাপানো যায়না ।

গ্রামের কৃষক পরিবার থেকে শহরের লেডি বাইকার হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন। হয়েছেন ইয়ামাহা’র মতো মোটরবাইক কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। জান্নাতুল নাঈমের এই উঠে আসার গল্প অনেকের অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে বলে মনে করেন রাশেদা রওনক খান:

অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, তার দুচোখ ভরা স্বপ্ন! হাজারও উচ্চশিক্ষিত মেয়ের ভেতরে যে স্বপ্ন দেখার সাহস নেই, এই ‘সুন্দরী’ হতে আসা মেয়েটির ভেতরে তা আছে|

এদিকে পদক প্রত্যাহারের পরে ফেইসবুকে লাইভে আসনে জান্নাতুল নাঈম। সেখানে তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করবেন বলে জানান:

আমি আপনাদের এভ্রিল, আপনাদের চোখে চ্যাম্পিয়ন ছিলাম, চ্যাম্পিয়ন আছি এবং আপনাদের ভালোবাসায় থাকবো।
যতদিন পর্যন্ত বেঁচে আছি, বাল্যবিবাহ নিয়ে আমি কাজ করবো, যাতে আর কোন মেয়ের স্বপ্ন না ভাঙ্গে।

বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে ইতোমধ্যে ‘এভ্রিল ফাউন্ডেশন’ নামে একটি চ্যারিটি সংগঠন গঠন করেছেন তিনি।

আসছে নভেম্বর মাসে চীনে বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতা ২০১৭ অনুষ্ঠিত হবে। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হিসেবে সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন জেসিয়া ইসলাম

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .