ছবি সজ্জা: জিওভানা ফ্লেক ও ইভান সিগাল। ছবি: পাবলিক বাস, মারিউপোল, ইউক্রেন, জুলাই ২০১৬, ইভান সিগাল কর্তৃক তোলা।

ছবি সজ্জা: জিওভানা ফ্লেক ও ইভান সিগাল। ছবি: পাবলিক বাস, মারিউপোল, ইউক্রেন, জুলাই ২০১৬, ইভান সিগাল কর্তৃক তোলা।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার দ্বিতীয় আগ্রাসন শুরু হয়। এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং ৮০ লাখেরও বেশি শরণার্থী ও লক্ষ লক্ষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ইউক্রেনীয় তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা রাশিয়ার অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে। একই সময়ে, রুশ সরকার সমালোচকদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, স্বাধীন গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে এবং যারা যুদ্ধের বিরোধিতা করছে তাদের ওপর কঠোর শাস্তি আরোপ করেছে।

যুদ্ধের ছয় মাসেরও কম সময়ে, কিয়েভ সফলভাবে প্রধান শহুরে কেন্দ্রগুলো রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। রাশিয়ার তুলনায় সামরিক বাহিনী ও সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ব্যাপক অসামঞ্জস্য থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তায় তারা এই সাফল্য পেয়েছে। অন্যদিকে, মস্কো, পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনীর অধিকারী বলে দাবি করলেও, প্রস্তুতির অভাব, অকার্যকর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, নিম্ন মনোবল এবং ব্যর্থ সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে থমকে গেছে। তা সত্ত্বেও, তারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাসের বিশাল অংশ এবং কখনও কখনও খেরসন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।

রণাঙ্গন প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং উভয় পক্ষ নিয়মিতভাবে অঞ্চল দখল করছে ও দখল হারাচ্ছে। এই যুদ্ধের মানবিক মূল্য অত্যন্ত বেশি, যেখানে প্রায় প্রতিদিনই কয়েক ডজন ইউক্রেনীয় ও রুশ সৈন্য, সেইসাথে ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক মারা যাচ্ছে।

ইউক্রেনের নিরাপত্তার ওপর প্রতিদিনের হুমকি তাদের সমাজ ও প্রতিষ্ঠানকেও প্রভাবিত করেছে। প্রধান জাতীয় বিতর্কগুলো এখন সংস্কার ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা, নারীর ভূমিকা, গণমাধ্যমের বহুত্ব, রুশ সংস্কৃতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, যুদ্ধ প্রচেষ্টার দ্বারা সংজ্ঞায়িত একটি নতুন পরিচয় এবং ডিজিটাইজেশনের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর কেন্দ্রীভূত।

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশের সীমান্ত সংলগ্ন বেলারুশ ও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। এটি রুশ সৈন্য ও সরঞ্জামের একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এবং কিছু বেলারুশিয়ান ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দিয়েছে মস্কো এবং মিনস্কে লুকাশেঙ্কোর রুশপন্থী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।

কূটনৈতিকভাবে, রাশিয়া ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চীন ও ভারত, যারা প্রাথমিকভাবে আগ্রাসন সম্পর্কে কৌশলগতভাবে অস্পষ্ট ছিল, তারা এখন মস্কোর কাছ থেকে নিজেদের দূরে সরাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের বেশিরভাগ সদস্য রাষ্ট্র রাশিয়ার পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে, যখন ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে রাজনৈতিক সমর্থন, সামরিক সরঞ্জাম এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করছে। ইউক্রেনের পুনর্গঠন সংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে, কিন্তু আনুমানিক ৭৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কে দেবে, কীভাবে সাহায্য বিতরণ করা হবে এবং ইউক্রেনীয় শহর ও অবকাঠামো কে পুনর্গঠন করবে — এই মূল প্রশ্নগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

একই সময়ে, যুদ্ধ একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধেও রূপান্তরিত হচ্ছে: ইউরোপ গ্যাসের এক জটিল সংকটে পড়েছে, কারণ অনেক দেশ রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের উপর নির্ভরশীল, অথচ আসন্ন ২০২২-২০২৩ শীত মৌসুমের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুদ নেই।

অনুরূপভাবে, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশ থেকে শস্য আমদানি ও সারের উপর নির্ভরশীল বেশ কিছু দেশ বাণিজ্য যুদ্ধের ফাঁদে পড়েছে। কারণ, পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের পথ মস্কোর আক্রমণ দ্বারা অবরুদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার দ্বারা প্রভাবিত।

গ্লোবাল ভয়েসেস এই যুদ্ধকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কভার করছে, যেখানে আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ল্যাটিন আমেরিকা এবং মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতিগুলো তুলে ধরা হচ্ছে। একই সাথে, ইউক্রেন, রাশিয়া এবং বেলারুশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতাগুলোকেও জীবন্ত করে তোলা হচ্ছে।

ইংরেজি, ইউক্রেনীয় এবং রাশিয়ান ভাষায় ঘন ঘন আপডেট সহ নির্ভরযোগ্য উৎস:

গল্পগুলো আরও জানুন রাশিয়ার ইউক্রেন দখল

রাশিয়ায় বিরোধীদলীয় গণমাধ্যম বিদেশ থেকে যেভাবে সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে

জিভি এডভোকেসী
22 মে 2025