
ছবি ক্যানভার মাধ্যমে বানানো।
একটি সুস্থ ও কার্যক্ষম সমাজের জন্য সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম কর্মীরা অপরিহার্য। সাংবাদিকতা সঠিকভাবে পরিচালিত হলে সংবাদমাধ্যম ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারে, কম প্রতিনিধিত্বমূলক গল্পগুলিকে তুলে ধরতে পারে, গণতান্ত্রিক আদর্শকে শক্তিশালী করতে পারে এবং জনসাধারণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে, ফ্যাসিবাদী নেতারা উৎসাহিত হওয়ায় এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করায়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্রমশঃ হুমকির মুখে পড়ছে।
কিছু পরিস্থিতিতে, এর অর্থ হলো সাংবাদিকদের তাদের কাজের জন্য হয়রানি করা হয় বা লক্ষ্যবস্তু করা হয় (কখনও কখনও শারীরিকভাবে এবং মারাত্মকভাবে), অথবা তাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে, তাদের সুরক্ষার ওপর হুমকি এতটাই গুরুতর যে গ্রেপ্তার, সহিংসতা, নির্যাতন বা এমনকি মৃত্যুর ভয়ে তাদের পুরোপুরি দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। অর্থনৈতিক বা সামাজিক চাপের কারণে, এই সাংবাদিকদের অনেকেই বিদেশে নির্বাসনে থাকার সময় তাদের কাজ চালিয়ে যেতে অক্ষম হন।
তবে, কিছু গণমাধ্যম কর্মী এবং সংবাদমাধ্যম টিকে থাকতে পারেন এবং কেউ কেউ নির্বাসিত গণমাধ্যম হিসেবে একটি স্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হন।
এই সাংবাদিকরা একটি অনিরাপদ স্থানে থাকেন। তারা তাদের জন্মভূমিতে ফিরতে পারেন না — প্রায়শই যুদ্ধ বা ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনার কারণে — তবে, তারা যে দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন সেখানেও নিরাপত্তাহীনতা এবং অস্থিরতার মুখোমুখি হন। একটি নতুন জায়গায় চলে যাওয়ার সাধারণ চ্যালেঞ্জগুলির পাশাপাশি, নির্বাসিত গণমাধ্যম কর্মীরা আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা, তাদের প্রবাসে থাকা মানুষের কাছ থেকে সামাজিক চাপ, ভাষার সমস্যা এবং ভিসার অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হতে পারেন, যা উদ্বেগ এবং অস্থিরতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। এছাড়া, বাস্তুচ্যুত হওয়ার এবং বন্ধু বা পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য কখনও বাড়িতে ফিরতে পারবেন না জানার একটি বাড়তি মানসিক বোঝা থাকে। এই ধরনের আকস্মিক নির্বাসন দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা এবং স্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে।
নির্বাসিত গণমাধ্যম কর্মীদের সঠিক সংখ্যা অজানা হলেও, প্রতি বছর শত শত মানুষকে তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। ইরান, তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান এবং চীনের মতো কিছু দেশের সাংবাদিকদের নির্বাসন ও হয়রানির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যখন অন্য কিছু জায়গায় এটি একটি নতুন ঘটনা। উদাহরণস্বরূপ, হংকং, যা একসময় পূর্ব এশিয়ায় মুক্ত গণমাধ্যমের বাতিঘর ছিল, ২০২০ সালে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ার পর থেকে কেবল সাংবাদিকদের নিপীড়ন শুরু করেছে। অন্যান্য দেশ যেমন সুদান, মিয়ানমার এবং ভেনিজুয়েলায় গত কয়েক বছরে গৃহযুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে সাংবাদিকদের বিতাড়িত করা হয়েছে।
৩রা মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে, গ্লোবাল ভয়েসেস বিশ্বজুড়ে নির্বাসিত গণমাধ্যমের গল্পগুলো তুলে ধরবে। তাদের গল্পগুলো নিচে খুঁজুন।




