গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবন। ছবি তাসনিম নিউজ এজেন্সি। সূত্র: উইকিমিডিয়া কমন্স। সিসি বাই-এসএ ৪.০

গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবন। ছবি তাসনিম নিউজ এজেন্সি। সূত্র: উইকিমিডিয়া কমন্সসিসি বাই-এসএ ৪.০

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের শাসক গোষ্ঠী ইসলামিক প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) – এর সামরিক শাখা গত ১৬ বছর ধরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটিকে ঘিরে রাখা প্রতিবন্ধকতা (গাজা ব্লকেড) ভেঙে দেয়, যা মানুষ ও পণ্যের অবাধ চলাচলকে আটকে রেখেছিল। এরপর জঙ্গিরা ২২টি কাছাকাছি ইসরায়েলি বসতি, শহর এবং সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, প্রায় ১,২০০ বেসামরিক নাগরিক ও সৈন্যকে হত্যা করে এবং কমপক্ষে ১৯৯ জনকে জিম্মি করে

বিশ্বের অনেক সরকার এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ এবং সন্ত্রাসী কাজ বলে নিন্দা করেছে, অন্যদিকে অন্যান্য সরকার এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে, কারণ তারাই এমন বেপরোয়া পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এরপর থেকে অনেক সরকার ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়াকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে: ফিলিস্তিনিদের মৃতের সংখ্যা এখন ৪০,০০০ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে ১৫,০০০ এরও বেশি শিশু রয়েছে — কিছু বিশেষজ্ঞের মতে প্রকৃত সংখ্যা চার গুণেরও বেশি হতে পারে।

আরও জানতে, গ্লোবাল ভয়েসেসের পূর্ববর্তী বিশেষ কভারেজ পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ এবং ৩০ জুলাই বৈরুতে হিজবুল্লাহর একজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করা হয়। এই লক্ষ্যবস্তু করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার সাথে যুক্ত হয়ে, এই অঞ্চলে একটি যুদ্ধের ঝুঁকিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, যার বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সুদূরপ্রসারী পরিণতি হতে পারে।

ইসরায়েলের পদক্ষেপগুলো, যার মধ্যে সামরিক দখলদারিত্ব, বসতি সম্প্রসারণ, যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে না খাইয়ে মারা, এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে বারবার সামরিক অভিযান অন্তর্ভুক্ত। এইসব মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইন অবজ্ঞার ব্যাপক অভিযোগের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসের (আইসিজে) একটি চলমান মামলার প্রাথমিক রায়, যেখানে ইসরায়েল গণহত্যা ঘটাচ্ছে বলে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তিনজন হামাস নেতার বিরুদ্ধে — যার মধ্যে হানিয়াহও ছিলেন — এবং দুইজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে — যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও আছেন — গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় হামাসের সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেডের কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ দেইফের নামও রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে তারা ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই গাজার আল মাওয়াসি মানবিক নিরাপদ অঞ্চলে একটি বিমান হামলায় দেইফকে হত্যা করেছে — সেই হামলায় কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়েছিল, যা জাতিসংঘের কর্মকর্তা স্কট অ্যান্ডারসন “গাজায় আমার নয় মাসের মধ্যে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যগুলির মধ্যে একটি” হিসাবে বর্ণনা করেছেন

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরতির আহ্বান, এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর বারবার নিন্দা সত্ত্বেও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। গাজায় মানবিক সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একটি অবৈধ অবরোধের কারণে অত্যাবশ্যক সরবরাহের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং পোলিওভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের হুমকি দেখা দিয়েছে, যা জনসংখ্যার দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এখানকার দশজনের মধ্যে নয়জনই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত, যাদের অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে বা ইসরায়েলকে জবাবদিহি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। জাতিসংঘ কার্যকরভাবে মধ্যস্থতা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তার প্রস্তাবনাগুলি উপেক্ষা করা হয়েছে, এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলি ইসরায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি যাতে তারা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা কাউন্সিল দ্বারা গৃহীত বা মধ্যস্থতাকারীদের দ্বারা প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলি গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করে। এটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।

এই বিশেষ কভারেজে, আমরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাবগুলির পাশাপাশি চলমান সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইনের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলি অন্বেষণ করব।

গল্পগুলো আরও জানুন প্রান্তসীমায় এক অঞ্চল: গাজা যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব