
বাংলাদেশের গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। ছবি: সলিডারিটি সেন্টার/ফ্লিকার। সিসি বাই ২.০ লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত।
২০২৬ সালের এপ্রিলে শ্রম আইন সংশোধন করে বাংলাদেশে যোগ্য নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে প্রায় চার মাস করা হয়েছে। কিন্তু পোশাকশিল্পে কর্মরত বহু নারীর জন্য বড় সংকটটি শুরু হয় ছুটি শেষ হওয়ার পরই। দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কাজে ফিরে গেলে তাদের ছোট শিশুর দেখাশোনা কে করবে: এই প্রশ্নের সহজ উত্তর এখনো নেই।
এই চাপ শুধু পোশাকশ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশে কর্মজীবী মায়েদের বড় একটি অংশ এখনো সন্তান দেখাশোনার জন্য আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজনের অনানুষ্ঠানিক সহায়তার ওপর নির্ভর করেন। কারণ সাশ্রয়ী ও মানসম্মত শিশু যত্নসেবার সুযোগ এখনো খুবই সীমিত।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছে, কাজের ধরন ও মানুষের স্থানান্তরের প্রবণতা বদলে যাওয়ায় পরিবারনির্ভর প্রচলিত শিশু যত্নব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে কম আয়ের যেসব শ্রমিককে দীর্ঘ সময় বা অনিশ্চিত কর্মঘণ্টায় কাজ করতে হয়, তাদের জন্য এই সংকট আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও কারখানাগুলো এখন মাতৃত্বকালীন সুবিধা, স্তন্যদান কক্ষ ও কারখানার ভেতরে ডে-কেয়ারের কথা বলছে। কিন্তু কাগজে-কলমে এসব সুবিধা থাকাই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘ শিফটের সময় ডে-কেয়ার খোলা থাকে কি না, সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী আছেন কি না এবং শ্রমিক মায়েরা সত্যিই এসব সেবা সহজে ব্যবহার করতে পারছেন কি না: মূল প্রশ্ন আসলে সেখানেই।
৩৩ বছর বয়সী মোরশেদার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। তিনি বিগত ১৫ বছর ধরে পোশাকশিল্পে কাজ করছেন। বর্তমানে গাজীপুরের একটি কারখানায় কর্মরত তিনি। এই প্রতিবেদনের জন্য ২০২৬ সালের জুলাইয়ে গাজীপুরে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে গ্লোবাল ভয়েসেস।
চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরেন মোরশেদা। তখন তার শিশুর বয়স পাঁচ মাস। তিনি কাজে থাকলে শিশুটির দেখাশোনা করেন তার শাশুড়ি।
কাজে বের হওয়ার আগে মোরশেদাকে রান্না করতে হয়, ঘর পরিষ্কার করতে হয় এবং বড় সন্তানকে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করতে হয়। এরপরই তিনি কারখানার উদ্দেশে রওনা হন।
“বায়াররা (বিদেশি ক্রেতারা) আসে, নানা নীতি আর শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলে। কিন্তু তাতে আমাদের কাজের সময় তো কমে না। প্রতিদিন অন্তত ১০ ঘণ্টা কাজ করতেই হয়। ওভারটাইম হলে সেটা ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চলে যায়,” বলেন মোরশেদা। “এমনও হয়েছে, সকাল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কাজ করেছি। শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যেত, বুকের দুধ কাপড়ে লেগে যেত। তারপরও নিজেকে পরিষ্কার করে আবার কাজে ফিরতে হতো।”
কারখানায় স্তন্যদান কক্ষ ছিল। কিন্তু সেটি ব্যবহার করার সুযোগ পাওয়া ছিল আলাদা বিষয়।
“স্তন্যদান কক্ষ তো সব সময়ই ছিল। কিন্তু আমার বাচ্চাকে আমার কাছে নিয়ে আসার মতো কেউ ছিল না।”
বড় সন্তানটি ছোট থাকাকালে কিছুদিন মোরশেদার মা তার সঙ্গে ছিলেন। তিনিই শিশুটিকে কারখানায় নিয়ে আসতেন। পরে মোরশেদা একজন পরিচর্যাকারী রাখেন, কিন্তু বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বারবার শিশুকে কারখানায় আনা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
এখন মোরশেদার পাঁচ মাস বয়সী শিশুটি থাকে তার শাশুড়ির কাছে। তিনি দিনে দুবার শিশুটিকে কারখানায় নিয়ে আসেন।
মোরশেদা বলেন, “বাচ্চার কাছে যাওয়ার আগে ঘণ্টার প্রোডাকশন টার্গেট শেষ করতে হয়। না হলে সুপারভাইজার রেগে যান।”
মোরশেদার এই অভিজ্ঞতা শুধু তার একার নয়; বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে অনেক কর্মজীবী পরিবারই সন্তান দেখাশোনা নিয়ে একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে। প্রাতিষ্ঠানিক শিশু যত্নসেবার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত, আবার যা আছে তার খরচও অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে। ফলে কাজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে সন্তান দেখাশোনার ব্যবস্থা করতে পরিবারগুলোকে নানা উপায়ের ওপর নির্ভর করতে হয়।
পোশাকশ্রমিকদের ক্ষেত্রে কখনো দাদি-নানি, কখনো বেতনভুক্ত পরিচর্যাকারী, আবার কখনো বড় সন্তানের ওপর ছোট শিশুর দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে।
৩৮ বছর বয়সী মিনা প্রায় দুই দশক ধরে পোশাকশিল্পে কাজ করছেন। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরে। মিনা বর্তমানে সাভারের একটি কারখানায় কর্মরত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ফোনে তার সঙ্গে কথা বলে গ্লোবাল ভয়েসেস।
তার সন্তানের বয়স এখন পাঁচ বছর। সন্তান জন্মের পর মিনা মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়েছিলেন মাত্র ৫৬ দিন।
“বাচ্চা ছোট থাকতে গ্রামের বাড়ি থেকে মাকে এনে রেখেছিলাম। চার-পাঁচ মাস মা-ই ওকে দেখেছেন। পরে মা গ্রামে ফিরে গেলে টাকা দিয়ে আরেকজনের কাছে রাখতে হয়। কিন্তু সেই খরচও বেশিদিন চালাতে পারিনি। তখন কারখানার ডে-কেয়ারে দেওয়া শুরু করি। সেখানে থাকার পর বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে, হাসপাতালে পর্যন্ত নিতে হয়েছিল। তারপর থেকে আর ডে-কেয়ারে রাখিনি।”
ভরসাযোগ্য আর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শেষ পর্যন্ত ছোট শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে মিনার বড় ছেলের ওপর।
মিনা বলেন, “আমি জানতাম, এতে আমার বড় ছেলের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু আমার সামনে আর কোনো উপায় ছিল না।”
দুই নারীর অভিজ্ঞতাতেই উঠে এসেছে একই চিত্র: কারখানায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি হলেও ডে-কেয়ারের জায়গা খুবই সীমিত। মোরশেদার কারখানায় প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কাজ করেন, তাদের মধ্যে প্রায় ২ হাজারই নারী। অথচ ডে-কেয়ারে একসঙ্গে জায়গা হয় মাত্র ১২ থেকে ১৩টি শিশুর, আর তাদের দেখাশোনার জন্য আছেন দুজন পরিচর্যাকারী।
ডে-কেয়ারের পরিচ্ছন্নতা এবং শিশুদের দেখাশোনার মান নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন মোরশেদা ও মিনা।
বিশ্ব ফ্যাশনের সঙ্গে জড়িয়ে যে শিল্প
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প থেকে বছরে ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় হয়। এই খাতে কাজ করেন প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক, যাদের ৫৭ শতাংশেরও বেশি নারী। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এবং আরও ১৮ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে।
পোশাকশিল্পে কাজের সুযোগ বাড়ায় অনেক নারী নিজস্ব আয় করার সুযোগ পেয়েছেন। তবে ঘরের কাজ ও পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্ব এখনো মূলত নারীদেরই সামলাতে হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) উদ্ধৃত ন্যাশনাল টাইম ইউজ জরিপের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বিনা পারিশ্রমিকের ঘরের কাজ ও পরিবারের দেখাশোনায় সাত গুণেরও বেশি সময় ব্যয় করেন।
আইএলওর সহায়তায় পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ কর্মজীবী মা-বাবার মতে, পর্যাপ্ত শিশু যত্নসেবার অভাব নারীদের চাকরিতে যোগ দেওয়া বা চাকরি ধরে রাখার পথে বড় বাধা। আর ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, সন্তান দেখাশোনার দায়িত্বের কারণে তাদের চাকরি ছাড়তে হয়েছে।
বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন বা তার বেশি নারী শ্রমিক থাকলে ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য উপযুক্ত কক্ষ রাখতে হয়। সেখানে প্রশিক্ষিত বা অভিজ্ঞ নারী পরিচর্যাকারী থাকার কথা, আর মায়েদেরও সন্তানদের কাছে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে মোরশেদা ও মিনার অভিজ্ঞতা দেখায়, আইনের এই বিধান থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। ডে-কেয়ারে পর্যাপ্ত জায়গা আছে কি না, সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী আছেন কি না, আর কাজের সময় মায়েরা বাস্তবে এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন কি না, প্রশ্ন থেকে যায় সেখানেই।
বাংলাদেশের বাইরের চিত্র
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে পোশাকশিল্পে প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন। তাদের প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।
মাতৃত্বকালীন ছুটি ও শিশু যত্নের ক্ষেত্রে দেশভেদে আইনি সুযোগ-সুবিধায় বেশ পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে যোগ্য শ্রমিকরা এখন ১২০ দিন, অর্থাৎ চার মাসের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পান। আর কোনো প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন বা তার বেশি নারী শ্রমিক থাকলে শিশুদের জন্য আলাদা কক্ষ রাখার নিয়ম রয়েছে।
ভিয়েতনামে মায়েরা ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। শিশুর বয়স এক বছরের কম হলে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য প্রতিদিন কাজের সময়ের মধ্যে এক ঘণ্টা বেতনসহ বিরতির সুযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের ডে-কেয়ার বা কিন্ডারগার্টেনের ব্যবস্থা করতে, অথবা শিশু দেখাশোনার খরচের একটি অংশ দিতে হয়।
কম্বোডিয়ায় মাতৃত্বকালীন ছুটি ৯০ দিন। অন্তত এক বছর ধরে চাকরি করছেন এমন শ্রমিকরা এ সময় অর্ধেক বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পান। শিশুর প্রথম বছরজুড়ে মায়েদের প্রতিদিন এক ঘণ্টা বেতনসহ স্তন্যদানের সময় দেওয়ার বিধান রয়েছে। আর কোনো প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন বা তার বেশি নারী শ্রমিক থাকলে সেখানে স্তন্যদান কক্ষ ও ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা রাখতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে শিশু দেখাশোনার খরচও নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হয়।
তবে আইনে এসব সুবিধা থাকলেও বাস্তবে সেগুলো ব্যবহার করা সব সময় সহজ নয়। ভিয়েতনামের চিত্রও অনেকটা এমন। আইএলওর এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির বস্ত্র ও পোশাকশিল্পে কর্মরতদের ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশই নারী। ২০২৩ সালে এই খাতের ৪০ শতাংশ শ্রমিককে সপ্তাহে ৪৯ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়েছে।
ভিএনএক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্পাঞ্চলের আশপাশে সরকারি নার্সারি খুব বেশি নেই। বেসরকারি শিশু যত্নসেবার খরচও অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে। আবার কারখানার ওভারটাইম শেষ হওয়ার আগেই অনেক প্রি-স্কুল বন্ধ হয়ে যায়।
কম্বোডিয়াতেও সন্তান দেখাশোনার জন্য পরিবারের ওপর একই ধরনের নির্ভরতার চিত্র উঠে এসেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে। পোশাকশ্রমিক স্রুন সারেন তার দুই সন্তানকে ৭৫ বছর বয়সী দাদির কাছে রেখে কাজে যেতেন। তৃতীয় সন্তান হওয়ার পর উপযুক্ত দেখাশোনার ব্যবস্থা না থাকায় চাকরি ছেড়ে দিতে হবে বলেই ধরে নিয়েছিলেন তিনি।
আরেক পোশাকশ্রমিক কাং সোমালি তার চার মাস বয়সী শিশু ও সাত বছরের সন্তানের দেখাশোনার উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পোশাক কারখানার চাকরি ছেড়ে দেন।
বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া: তিন দেশেই পোশাকশিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছেন নারীরা। অথচ তাদের কাজে থাকা সম্ভব করে তুলতে সন্তান দেখাশোনার বড় দায়িত্বটি এখনো পরিবারকেই বহন করতে হচ্ছে।
শুধু দায়িত্বশীল সোর্সিং নয়, প্রয়োজন কার্যকর সহায়তা
মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হলেই যে মায়েদের সহায়তার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়, বিষয়টি তেমন নয়। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে ঘিরে আইএলও ও ইউনিসেফের ‘মাদার্স অ্যাট ওয়ার্ক’ উদ্যোগেও এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে সাতটি ন্যূনতম মানের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি, স্তন্যদান ও শিশু যত্নের সুবিধা, কাজের সময়ের ক্ষেত্রে নমনীয়তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা, চাকরির নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ।
২০২২ সালে আইএলওর এক মূল্যায়নে দেখা যায়, কারখানাগুলোতে মাতৃত্ব ও স্তন্যদানসংক্রান্ত নীতিতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে সন্তান দেখাশোনার দায়িত্বের কারণে অনেক নারীকে চাকরি ছাড়তে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ পরে কাজে ফিরছেন। এই সমস্যাটিও ওই মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
এই অভিজ্ঞতাগুলো দেখায়, শুধু ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না। দীর্ঘ শিফটের মধ্যে এবং প্রোডাকশন টার্গেটের চাপ সামলে শ্রমিক মায়েরা আসলে সেই সুবিধা কতটা ব্যবহার করতে পারছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
মোরশেদা ও মিনা কেউই জানাননি, তাদের কারখানা কোন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরি করে। তাই তাদের অভিজ্ঞতাকে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। তবে তাদের কথায় একটি বিষয় স্পষ্ট, সন্তান দেখাশোনার দায়িত্ব অনেক সময় কারখানার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে থেকেই সামলাতে হয়। তখন পরিবারগুলোকে দাদি-নানি, বেতনভুক্ত পরিচর্যাকারী কিংবা কখনো বড় সন্তানের ওপর নির্ভর করতে হয়।
বাংলাদেশে যোগ্য শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে, যা মাতৃত্ব সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে মোরশেদা ও মিনার অভিজ্ঞতা এবং আইএলওর ‘মাদার্স অ্যাট ওয়ার্ক’ উদ্যোগের গুণগত মূল্যায়ন বলছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার পর শিশু দেখাশোনার সংকট এখনো থেকে যাচ্ছে।






