গন্তব্যহীন টিকিট: দেশ ছাড়ার স্বপ্নে প্রতারণার ফাঁদে হাইতিয়ানরা

Feature image of Haitian flag and passport next to a visa application via Canva Pro.

প্রচ্ছদ ছবিটি ক্যানভা প্রো থেকে নেওয়া হয়েছে।

লেখাটি গ্লোবাল ভয়েসেসের জুলাই ২০২৬-এর বিশেষ আয়োজন ‘রাষ্ট্রহীনতা’ (Statelessness) সিরিজের অংশ। এই সিরিজে রাষ্ট্রহীন মানুষের জীবন এবং তাদের নানা সংকট তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চলাচলের স্বাধীনতা, শিক্ষার সুযোগ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বাস্তবতা। এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশে সহায়তা করতে চাইলে এখানে ক্লিক করে অনুদান দিতে পারেন।

হাইতিতে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা ধীরে ধীরে এমন এক খাতে পরিণত হয়েছে, যাকে এখন অনেকেই প্রতারণার ব্যবসা বলে বর্ণনা করেন। দেশটিতে বহু বছর ধরে বৈধ ট্রাভেল এজেন্সি কার্যক্রম চালিয়ে এলেও, হাইতির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট যত গভীর হয়েছে, ততই মানুষ দেশ ছাড়ার পথ খুঁজতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে তরুণদের কাছে দেশটিতে আর কোনো বাস্তব ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে হচ্ছে না। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যখন একের পর এক এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে, তখন গোপনে পরিচালিত ও অননুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির সংখ্যাও দ্রুত বেড়ে চলেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর যত দ্রুত আবির্ভূত হয়েছিল, তত দ্রুতই উধাও হয়ে যায়। হাইতির মানুষের ক্রমবর্ধমান অনিরাপত্তা ও দেশ ছাড়ার আকাঙ্ক্ষাকেই তারা নিজেদের লাভের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে।

প্রতিবেশী ডোমিনিকান রিপাবলিকেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক হাইতিয়ান বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশেরই বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই। হাইতিয়ানদের প্রতি ডোমিনিকান অভিবাসনব্যবস্থার কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের অনেকেই আইনসম্মতভাবে কাজ করতে কিংবা নিজেদের বসবাসের বৈধতা নিশ্চিত করতে পারেন না। ফলে তারা মূলত বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আত্মীয়স্বজনের পাঠানো আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই প্রেক্ষাপটে, অন্য কোনো দেশে অভিবাসনের সুযোগ খোঁজার পথে ডোমিনিকান রিপাবলিক প্রায়ই তাদের জন্য একটি সাময়িক আশ্রয় বা মধ্যবর্তী গন্তব্যে পরিণত হয়।

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ডোমিনিকান রিপাবলিকে ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির প্রতারণার শিকার অধিকাংশ হাইতিয়ান থানায় বা সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ করার সাহসও পান না। সহায়তা চাইতে গেলে পরিস্থিতি উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই যেতে পারে এবং গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের শিকার হতে পারেন, এই আশঙ্কায় তারা ভীত থাকেন।

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে অভিবাসন ঘিরে একটি সম্পূর্ণ বাজার গড়ে উঠেছে, যেখানে অসাধু ব্যক্তিরা বিদেশে উন্নত জীবনের সন্ধানে থাকা মরিয়া হাইতিয়ানদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন। ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ফেসবুক, টিকটক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। মানুষের আস্থা সহজে অর্জনের উদ্দেশ্যে তাদের কেউ কেউ অনলাইনে নিজেদের সেবা প্রচারের জন্য প্রভাবশালী কনটেন্ট নির্মাতা বা পরিচিত ব্যক্তিত্বদের অর্থও দেয়।

প্রশাসনিক দিক থেকে হাইতিতে একটি ট্রাভেল এজেন্সি খোলা খুব জটিল প্রক্রিয়া নয়, কারণ এ খাতে নজরদারি এখনো দুর্বল। দেশটিতে কিছু অনুমোদিত সংস্থা বৈধভাবে কার্যক্রম চালালেও, অনেক প্রতিষ্ঠান কেবল সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা, দারিদ্র্য ও অস্থিতিশীলতা থেকে পালাতে চাওয়া আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগানোর জন্য গড়ে উঠেছে। এই শ্রেণির মানুষেরা সাধারণত সরকারি অভিবাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক বা প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করতে পারেন না। ফলে তারা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত ভ্রমণ প্রস্তাবের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ম্যাকেনসন ডোরিলাসকে ঘিরে, যিনি একজন পরিচিত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এবং অনেকের কাছে “প্রফেট ম্যাকেনসন” নামে পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ফিদেলিতে ট্যুরস নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত চুক্তি করেছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রচারমূলক ভিডিওতে অংশ নিয়ে মানুষকে কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলে ভ্রমণে উৎসাহিত করেছিলেন।

টিম রুডি অফিসিয়েল ইউটিউব চ্যানেলের জনপ্রিয় সকালের অনুষ্ঠান “সে সা নু ভ্লে” অর্থাৎ “আমরা যা চাই”-এর একটি পর্বে উপস্থাপক রুডি থমাস স্যানন জানান, ফিদেলিতে ট্যুরসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে তুলে ধরা সাক্ষ্য অনুযায়ী, অনেকে বলেছেন, ‘প্রফেট ম্যাকেনসন’ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রচার করায় তারা এজেন্সিটির ওপর আস্থা রেখেছিলেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা সরাসরি পেতিওঁ-ভিলের এজেন্সি কার্যালয়ে গিয়ে হাইতি ছাড়ার ভ্রমণ আয়োজনের জন্য জনপ্রতি প্রায় ৪ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্যানন বলেন:

Moun yo di mwen yo peye ajans la 4000 dola ameriken pou vwayaje ak yo Meksik. Ajans la pran 4000 dola ameriken nan men 80 moun, sa ki fè 320,000 dola ameriken, epi li disparèt. Lè moun yo ale nan biwo ajans la, li te fèmen, yo pa jwenn okenn moun.

লোকজন আমাকে জানিয়েছেন, মেক্সিকো যাওয়ার জন্য তারা ওই এজেন্সিকে ৪ হাজার মার্কিন ডলার করে দিয়েছিলেন। এজেন্সিটি ৮০ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪ হাজার ডলার করে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে, এরপর উধাও হয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীরা এজেন্সির কার্যালয়ে গেলে সেটি বন্ধ দেখতে পান এবং সেখানে কাউকেই খুঁজে পাননি।

অন্য কিছু ঘটনায় ভুয়া এজেন্সিগুলো গ্রাহকদের জাল ভিসা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণত বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে, যখন বিমান সংস্থার কর্মী বা অভিবাসন কর্মকর্তারা এসব নথি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। হাইতির সংবাদমাধ্যম ল্য নুভেলিস্ত ও আইবোপোস্টে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জাল ভিসাসংক্রান্ত এমন একাধিক ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে।

এমনই একটি ঘটনায় কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত হাইতি কনস্যুলেট একটি সতর্কবার্তা জারি করে। সেখানে হাইতির নাগরিকদের জানানো হয়, কিছু অসাধু ব্যক্তি কনস্যুলেট ও কনসাল জেনারেলের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ তৈরি করছে।

অন্যদিকে ডোমিনিকান রিপাবলিকে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন এজেন্সি তাদের কাছ থেকে অর্থ, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রের ছবি নিয়েছিল। কয়েক দিন পরই সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বরগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং অফিসগুলো হঠাৎ পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ শুধু তাদের সঞ্চয়ই হারান না, সঙ্গে হারান গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রও।

২০২৬ সালের ৯ জুন প্রচারিত সে সা নু ভ্লে অনুষ্ঠানে ‘প্রফেট ম্যাকেনসন’ আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, এজেন্সিটির মালিক ক্লডি জ্যঁ ফ্রাঁসোয়া নামের এক যাজক নিজেকে একজন দায়িত্বশীল খ্রিষ্টান ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। ম্যাকেনসনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির প্রচারে সম্মতি দেওয়া ও বিজ্ঞাপন চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে তিনি আইনি নথিপত্র এবং এর আগে আয়োজন করা ভ্রমণের প্রমাণ চেয়েছিলেন।

মামলাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই হাইতির সেন্ট্রাল ডিরেক্টরেট অব দ্য জুডিশিয়াল পুলিশ (ডিসিপিজে) প্রফেট ম্যাকেনসনকে আটক করে। ভুক্তভোগীদের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, তিনি তাদের ওই প্রতারক ট্রাভেল এজেন্সির সেবা নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

পোর্ট-অ-প্রিন্সের সরকারি কৌঁসুলি ফ্রিৎস প্যাটারসন ডরভালের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের নতুন অভিযোগের পর মামলাটি তদন্তকারী বিচারকের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীরা জানান, তারা সরাসরি ম্যাকেনসনের হাতে মোট ৬১ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছিলেন। এই অভিযোগ তার সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ট্রাভেল এজেন্সিটির সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু একটি বিজ্ঞাপন চুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়। হাইতির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই প্রতারক ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে নতুন নতুন অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা সামনে আসে। এসব এজেন্সির বেশির ভাগই মেক্সিকো, ব্রাজিল কিংবা অন্য কোনো দেশে ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দাবি করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুত সেই ভ্রমণ আর বাস্তবে হয় না।

আরেক ভুক্তভোগী নিজের পরিচয় গোপন রাখতে “মুরিয়েল” ছদ্মনাম ব্যবহার করে তার অভিজ্ঞতা জানান। তিনি তিন বছরের বেশি সময় ধরে ডোমিনিকান রিপাবলিকে বসবাস করছেন। মেক্সিকো ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি করা এক ব্যক্তিকে তার বিদেশে থাকা আত্মীয়রা কয়েক হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছিলেন:

Mwen rele’l nan telefòn, mwen pa janm jwenn li depi kèk jou apre nou te fin remet li 3600 dola ameriken an. Se frè mwen ak pitit mwen Ozetazini ki te peye lajan sa pou mwen.

তার হাতে ৩ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার তুলে দেওয়ার পর কয়েক দিন ধরে আমি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছি, কিন্তু তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আমার ভাই ও সন্তান আমার হয়ে এই অর্থ পরিশোধ করেছিল।

এসব প্রতারক এজেন্সির বেশির ভাগই প্রায় একই কৌশলে কাজ করে। তারা সাময়িকভাবে অফিস ভাড়া নেয়, অনলাইনে জোরালো প্রচারণা চালায় এবং নিজেদের বৈধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করতে কখনো কখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভ্রমণসংক্রান্ত ভিডিওও ব্যবহার করে। সম্ভাব্য গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের জন্য কেউ কেউ কৌতুকশিল্পী, ইনফ্লুয়েন্সার বা স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তিদেরও কাজে লাগায়। ধারণা করা হয়, গত কয়েক বছরে এ ধরনের প্রতারণায় হাজার হাজার হাইতিয়ান অর্থ হারিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের জন্য বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো আইনি প্রমাণের অভাব। অনেক ক্ষেত্রে হাজার হাজার ডলার দেওয়ার পর তারা শুধু হাতে লেখা একটি রসিদ পান। হাইতির দুর্বল বিচারব্যবস্থার কারণে এসব ঘটনায় মামলা বা দণ্ড খুবই বিরল, আর কেবল ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্রেই প্রতারকদের গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

ডোমিনিকান রিপাবলিকে মুরিয়েল ওই ভুয়া ট্রাভেল এজেন্টের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেননি, কারণ এতে তার অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে:

Mwen pat deside pote plent paske sa ap mete mwen nan plis problem, si mwen fe sa otorite lapolis yo ap tou arete mwen, remet mwen bay sevis imigrasyon, epi depote mwen Ayiti, ou deja konnen mwen paka tounen nan zonn bo lakay mwen akoz zonn sa se gang ki kontwole li, pifo mounn nan zonn te kouri kite li akoz zak kriminel gang 400 Mawozo an, mwen reziye mwen pedi lajan sa.

আমি অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এতে আমি আরও বড় সমস্যায় পড়ব। অভিযোগ করলে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবে এবং পরে হাইতিতে ফেরত পাঠাবে। আপনি তো জানেন, আমি নিজের এলাকায় ফিরে যেতে পারব না, কারণ সেটি এখন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। ‘৪০০ মাওজো’ গোষ্ঠীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার অধিকাংশ মানুষই সেখান থেকে পালিয়ে গেছে। তাই টাকাটা হারিয়েছি বলেই মেনে নিয়েছি।

ঘটনার পক্ষে কোনো নথিপত্র মুরিয়েলের কাছে নেই, কারণ তিনি কোনো চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেননি। তাছাড়া অর্থও তিনি নিজে দেননি; বিদেশে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে টাকা পাঠিয়েছিলেন।

এর আগে কিছু এজেন্সি সত্যিই মেক্সিকো বা ব্রাজিলগামী অভিবাসনপথের ব্যবস্থা করত। মেক্সিকো যাওয়ার ক্ষেত্রে নিকারাগুয়ার মতো দেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে অভিবাসীদের মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ হয়ে মেক্সিকো সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হতো। একইভাবে ব্রাজিলে পৌঁছাতে বলিভিয়া, গায়ানা বা কলম্বিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পথও ব্যবহার করা হতো। তবে পরবর্তী সময়ে এসব দেশ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পর এসব পথ ব্যবহার করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

মেক্সিকো পৌঁছানোর চেষ্টা করা বহু হাইতিয়ানের চূড়ান্ত গন্তব্য এখনো যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিবাসনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে

এত বাধা সত্ত্বেও, চরম হতাশা বহু হাইতিয়ানকে এখনো দেশ ছাড়ার পথ খুঁজতে বাধ্য করছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও বেকারত্বের চাপে অসংখ্য পরিবার নিজেদের এমন এক সংকটে আটকে পড়া মনে করে যে, ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিবাসন প্রচেষ্টার অর্থ জোগাতে তারা সম্পত্তি বিক্রি করে কিংবা বিদেশে থাকা আত্মীয়দের সহায়তার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বহু ত্যাগ ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রায়ই প্রতিশ্রুত সেই যাত্রা আর বাস্তবে শুরু হয় না।

1 টি মন্তব্য

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .