
ইউটিউব ব্যবহারকারী গুন্ডিজ মিরিং-এর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য মনোনয়ন – বুজ বিম সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্য‘ থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট। ন্যায্য ব্যবহার।
অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের অন্যতম প্রাচীনতম জলজ চাষ কেন্দ্র রয়েছে, যা একটি নিয়ন্ত্রিত জলজ চাষের পরিবেশ। এখানে হাজার হাজার বছর ধরে আদিবাসী মানুষেরা ঈল বা বাইন মাছ চাষ করে আসছে। কার্বন-ডেটিং গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন যে এই পাঁচটি পরিবেশের একটির বয়স প্রায় ৬,৬০০ বছর।
পশ্চিম ভিক্টোরিয়ার বুজ বিম (Budj Bim) বাইন মাছের খামারের সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্যটি ২০১৯ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। বুজ বিম হলো প্রাচীন বেসল্ট লাভা প্রবাহযুক্ত একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। এটিই প্রথম স্থান যা শুধুমাত্র এর সাংস্কৃতিক গুরুত্বের জন্য ইউনেস্কো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
এই ভিডিওটি গুন্ডিজ মিরিং ঐতিহ্যবাহী মালিক আদিবাসী কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল:
গুন্ডিজমারা জনগোষ্ঠী হলো এই ভূমির প্রথাগত আদিবাসী মালিক। তারা ১৮৩০ থেকে ১৮৬০-এর দশক পর্যন্ত অত্যন্ত কঠিন সংঘর্ষময় সীমান্ত ইউমেরেলা যুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ ঔপনিবেশিকতা এবং উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত তাদের অনেকেই কন্ডাহ হ্রদের কাছে ইংল্যান্ড চার্চের মিশনে বসবাস করতেন।
কন্ডাহ হ্রদের এলাকা এবং মাছ ধরার ফাঁদ ব্যবস্থার এই হাতে আঁকা মানচিত্রটি ১৮৯৩ সালে আলেকজান্ডার ইনগ্রাম তৈরি করেছিলেন:

আলেকজান্ডার ইনগ্রামের তৈরি কন্ডা হ্রদের আদিবাসী মৎস্য খামারের মানচিত্র। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের সৌজন্যে পুনরুৎপাদিত। অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহৃত।
টিকটক ব্যবহারকারী ওয়েস্টভিকব্রল্গা (westvicbrolga) সম্প্রতি গুন্ডিজমারা আদিবাসী জোই সন্ডার্স -এর নেতৃত্বে বুজ বিম ভ্রমণের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন:
@westvicbrolga The Brolga took a tour at Budj Bim Cultural Landscape, learning about the ancient ways of the Gunditjmara people who have called this Country home for thousands of years. #nature #history #indigenous #firstnations #culture
স্থানীয় উইন্ডা-মারা আদিবাসী কর্পোরেশন বাইন মাছ ধরার ফাঁদ এবং পাথরের বাড়িগুলোর নির্দেশিত ট্যুর পরিচালনা করে। কন্ডাহ হ্রদের টে রাক মৎস্য চাষ কেন্দ্রে বাইন মাছের জন্য অনেক পাথরের ট্যাঙ্ক রয়েছে এবং দর্শনার্থীরা তাদের বুনো খাবারের ক্যাফেতে বাইন মাছের স্বাদ নিতে পারেন।
ফাঁদগুলোর আবিষ্কার প্রাক-উপনিবেশিক আদিবাসী মানুষদের কেবল যাযাবর শিকারী-সংগ্রাহক হিসেবে গণ্য করার ভুল ধারণাকে সংশোধন করতে সাহায্য করেছে। মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী প্রত্নতত্ত্বের অধ্যাপক ইয়ান জে. ম্যাকনিভেন (Ian J. McNiven) ‘দ্য কনভার্সেশন’ (The Conversation)-এ একটি নিবন্ধে এই নতুন আবিষ্কারগুলো ব্যাখ্যা করেছেন:
প্রকৃতির দেওয়া জিনিসের উপর নিষ্ক্রিয়ভাবে নির্ভর করার পরিবর্তে, গুন্ডিজমারা জনগোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে এবং সচেতনভাবে স্থানীয় জলপ্রবাহ ও বাস্তুতন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি পারিপার্শ্বিক পরিবেশ গড়ে তুলেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল বাইন মাছের সহজলভ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা।
এই ভূদৃশ্যের পরিবর্তনের সাথে জড়িত ছিল অন্তত ৬,৬০০ বছর পুরোনো পাথরের কাঠামো (যেমন ফাঁদ ও খাল)। বাইন মাছ চাষের স্থাপনাগুলো (পুকুর এবং বাঁধের দেয়াল) ইউরোপীয়দের সংস্পর্শে আসার বহু শত (এবং সম্ভবত হাজার) বছরের পুরনো।
বাইন মাছ ধরার ফাঁদগুলোর কাছাকাছি প্রায় ৩০০টি পাথরের প্রাচীরঘেরা কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, যেগুলো সম্ভবত একসময় ঘরবাড়ি ছিল। এগুলো ইউরোপীয়দের সাথে যোগাযোগের আগের সময়ের স্থায়ী বসতির প্রমাণ দিতে পারে।

২০২২ সালে বুজ বিমে পাথরের কুটিরের অবশেষ। ছবি: হেথার মিল্টন। অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহৃত।
বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সৃষ্টির উপকথাও বুজ বিম থেকে এসেছে, যা এই প্রভাবশালী আগ্নেয়গিরির উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে:
বুজ বিমের ৩৭,০০০ বছরের পুরোনো গল্প: “দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী গোত্ররা বুজ বিম পাহাড় সৃষ্টির লোকগাথা বর্ণনা করে… যিনি একটি আগ্নেয়গিরির রূপ ধারণ করেছিলেন। তাঁর দাঁতগুলো থুতুর মতো মুখ থেকে নিঃসৃত লাভায় পরিণত হয়ে সমুদ্রে গিয়ে মেশে, যা এমন এক ভূখণ্ড তৈরি করে যা সূচনালগ্ন থেকেই এই গোত্রকে টিকিয়ে রেখেছে…”
https://www.earthdate.org/episodes/the-oldest-story-ever-told
হিল এর মতে “‘বুজ বিম’ নামের এই পাহাড়টি মূলত একটি দীর্ঘকাল আগে বিলুপ্ত হওয়া আগ্নেয়গিরি। এবং এর লাভা সত্যই সমুদ্রে প্রবাহিত হয়েছিল, যা উপকূলীয় জলাভূমি তৈরি করে—যেখানে আদিবাসীরা হাজার হাজার বছর ধরে জলজ চাষ (Aquaculture) করে আসছে।”







2 টি মন্তব্য
Many thanks for the translation!
You are most welcome.