
বৃক্ষ রোপনের কোন এক সময় খোররামবীদ প্রদেশের টেবিল টেনিস এ্যাসোসিয়েশন এর তরুণ সদস্যরা। ছবি লেখকের সৌজন্যে।
হোসাইন ঘারিবনভাজ এর লেখা
ইরানের ফার্স প্রদেশের উত্তরের এক পাহাড়ি এলাকার এক ছোট্ট শহর শাফাশহর, এই শহরটিও ইরানের অন্যান্য অঞ্চলের মত একই রকম এক সমস্যায় ভুগছে; পানির সংকট ক্রমশ খারাপ হতে থাকা ও পরিবেশ এর ক্রমশ বিপর্যয বাড়তে থাকা।
যখন খরা ক্রমশ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং স্থানীয় পরিবেশ বা ইকোসিস্টেম এক চাপের মুখে পড়েছে, উন্মুক্ত স্থান ক্রমশ শুকিয়ে আসছে ও আরো বেশী ভঙ্গুর হচ্ছে, বিশেষ করে কাছের গ্রামাঞ্চল।

ইরানের খোররামবিদ এলাকার টেবিল টেনিস এ্যাসোসিয়েশন এর বৃক্ষ রোপন দল। ছবি লেখকের সৌজন্যে পাওয়া।
দুই বছর আগে আমি যখন খোররামবিদ টেবিল টেনিস এ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি নির্বাচিত হই, তখন আমার প্রধান কাজ ছিল মৌলিক ক্রীড়া কাঠামো তৈরি করা ও ক্রীড়ার পেশাদারিত্বের উন্নয়ন ঘটানো।
একই সময়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এ্যাশোসিয়েশন কেবলমাত্র ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রতি মনোযোগ প্রদানী করবে না একই সাথে আমাদের খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারকে উদীপ্ত করবে যেন তারা পরিবেশ বিপর্যয় রোধে কাজ করে।
এরপর থেকে আমরা বেশ কিছু স্বেচ্ছা সেবামূলক কার্যক্রম এর আয়োজন করেছি যা টেবিল টেনিসকে স্থানীয় পরিবেশের সাথে যুক্ত করে। যার মধ্যে রয়েছে আমাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্ল্যাস্টিক ফ্রি হল নামের প্রচারণা ও সারা শহর জুড়ে বন্যপ্রাণীর জন্য পানির নালা খনন করা।

নোবেকুহ এলাকায় বুনো বাদাম ও বুনো পেস্তার বীজ বপনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ছবি লেখকের সৌজন্যে পাওয়া।
আমরা সম্প্রতি একসাথে হয়েছিলাম নোবেকুহ এলাকায়, যেটি দেহবিদ গ্রামের কাছে। যেখানে আমরা বৃক্ষ রোপনের প্রতি মনোযোগ প্রদান করেছিলাম। স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের সহায়তায় এই কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ বাসিন্দা একখানে হয়ে একসাথে যোগ দিয়েছিলো, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল অনেক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবার।

স্বেচ্ছাসেবকরা বীজ বপনের জন্য মাটিকে প্রস্তুত করছে। ছবি লেখকের সৌজন্যে পাওয়া।
একসাথে আমরা ৮০০ খরা প্রতিরোধী বৃক্ষ রোপন করেছি। মূলত বুনো বাদাম ও অর্জুন গাছ, এগুলো এমন প্রজাতির গাছ যা এই অঞ্চলের কঠোর আবহাওয়ায়, অল্প পরিমাণ পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এলাকায় টিকে থাকতে পারে। অনেক শিশু এবারই প্রথম নিজের হাতে গাছ লাগিয়েছে সেই পাহাড়ে, যা তারা এতদিন দূর থেকে দেখেছে।
“এরা সেই একই শিশু যারা এক সময় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় একে অন্যের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হতো। তারাই এখন গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে, স্থানীয় এক মহিলা অভিভাবক হাসতে হাসতে একথা বলেন যখন তিনি দেখেন রোপনের জন্য তাঁর ছেলে পাহাড়ে একটা গাছের চারা নিয়ে যাচ্ছে, তিনি সেই সাথে আরো বলেন, আমাদের জমিকে তারা যে ভাবে দেখতে সেটা এখন বদলে গেছে।

ফার্স প্রদেশের খোররামবিদ এলাকায় বীজ বপন কার্যক্রম শুরুর আগে স্বেচ্ছাসেবকরা। ছবি লেখকের সৌজন্যে পাওয়া।
বৃক্ষরোপণের সময় এক আনন্দপূর্ণ ও আবেগপ্রবণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারগুলো আমাদের বলছে তাঁদের মনে হচ্ছে তাঁরা জমিকে কিছু একটা ফিরিয়ে দিচ্ছে আর তরুণ খেলোয়াড়দের অনেকে বলছে তারা এখন দেখতে পাচ্ছে তারা তাঁদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে কেবল এক দৃশ্যের মধ্যে নয়, তারা পাহাড় ও বন পরিবেষ্টিত হয়ে আছে।
বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারী জিজ্ঞেস করেছিল পরবর্তী কার্যক্রম কবে অনুষ্ঠিত হবে। আর তারা আগামীতে ছোট্ট সম্প্রদায়গত একটি বন সৃষ্টির পরামর্শ প্রদান করছে। টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের সংখ্যা যতই বাড়তে থাকবে পরিবেশগত এই সব কার্যক্রম ততই চলতে থাকবে।

নোবেকাহ এলাকার শুষ্ক মাটিতে একজন স্বেচ্চাসেবক বীজ বপন করছে। ছবি লেখকের সৌজন্যে পাওয়া।
আগামী সপ্তাহগুলোতে এই সকল যৌথ কর্মকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমাদের এ্যাসোসিয়েশন স্থানীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাথে এক স্মারক স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ও প্রদর্শন করছে যে এমন কি দুর্গম এলাকার এক ছোট্ট ক্রীড়া পরিষদ পরিবেশ রক্ষায় কাজ করতে পারে যখন তারা এক শক্তিশালী সম্প্রদায় গড়ে তুলতে পারে।







