
তেলের কূপ, আরভিন, ক্যালিফোর্নিয়া, ৩১ মে, ২০২৩। ইভান সিগালের তোলা ছবি (সৃজনী সাধারণ ৪.০)
এই নিবন্ধটি গ্লোবাল ভয়েসেসের বিপন্ন/আদিবাসী ভাষা কর্মসূচি রাইজিং ভয়েসেস ও কেন্দ্রীয় ক্যালিফোর্নিয়া পরিবেশগত ন্যায়বিচার নেটওয়ার্কের তহবিল সংগ্রহের জন্যে ২০২৩ সালের জুন মাসে ৫০০+ মাইল সাইকেল যাত্রার জন্যে জে. নাথান মাতিয়াসের একটি ধারাবাহিকের অংশ। এখানে উদ্যোগটিতে দান করুন।
ফ্রান্সিসকো গঞ্জালেজ ২০০৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরতলি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিন শহরে এসে পাহাড়ের দৃশ্য, সবুজ মাঠ এবং শহরকে ঘিরে থাকা কমলা গাছ দেখে মুগ্ধ হন। “আমি ভেবেছিলাম এটি পরিষ্কার হবে,” কয়েক দশক ধরে একজন মেরামতকারী হিসেবে কাজ করার পরে তার অবসরকালীন সঞ্চয় বিনিয়োগ করা ছোট আবাসন উন্নয়নের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন। তারপর ফ্রান্সিসকো তার কাছ থেকে রাস্তার ওপারে তেলের ডেরিকের দিকে ইঙ্গিত করে ইশারা দেন। এমনকি কূপ থেকে মাত্র একশ ফুট দূরে দাঁড়িয়েও মিথেন ও অন্যান্য গ্যাসের ধোঁয়া থেকে আমার ইতিমধ্যে মাইগ্রেন হয়েছে।

ফ্রান্সিসকো গঞ্জালেজ, আরভিন, ক্যালিফোর্নিয়া, ৩১ মে, ২০২৩। ইভান সিগালের তোলা ছবি (সৃজনী সাধারণ ৪.০)
আজ ইভান সিগাল ও আমার বেকার্সফিল্ড থেকে স্যাক্রামেন্টো এবং ১৯৬৬ সালের ক্ররষিকর্মীদের মিছিলের পথ অনুসরণ করে উপসাগরের দিকে যাওয়া একটি ৫৫০র বেশি মাইল সাইকেলে গল্প বলার যাত্রার প্রথম দিন। একজন অপরাধী মালিকের একটি অসুস্থ তেলকূপ সংলগ্ন একটি রাস্তার মোড়ের নিকটবর্তী শহরে দাঁড়িয়ে আমি শুধু হারিয়ে যাওয়া ভবিষ্যৎ, অতীত আশা ও বিলম্বিত প্রতিশ্রুতির সন্দিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকার কথাই অনুভব করতে পারি।
আপনি সম্ভবত জন স্টেইনবেকের উপন্যাস “দ্য গ্রেপস অফ র্যাথ” এর মাধ্যমে আরভিন ক্যালিফোর্নিয়ার কথা শুনে থাকবেন যেখানে কেন্দ্রীয় অভিবাসন ক্যাম্প নামে পরিচিত উইডপ্যাচ ক্যাম্প একটি আসল জায়গা ছিল। ওকলাহোমার জলবায়ু বিপর্যয় থেকে পালিয়ে জোয়াড পরিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছালে উইডপ্যাচ ক্যাম্প তাদের বেঁচে থাকার ও একটি শালীন জীবনের সন্ধানে একটি সংক্ষিপ্ত পথ হয়ে ওঠে।
আজ জনগণ দুটি কারণে উইডপ্যাচ ক্যাম্প ভ্রমণ করে। আমাদের মতো পর্যটকরা মহামন্দার অভিবাসী আবাসনের এক ঝলক দেখার জন্যে ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শন করে। তালাবদ্ধ গেটের পিছনে একটি উদাসীন বিড়াল টি এস এলিয়টের বুস্টোফার জোনসের বিড়ালের মতো ডাস্ট বোলের ভূতদের মধ্য দিয়ে শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রায় ৯০ বছর পরও কার্ন কাউন্টি পরিচালিত ৮৮টি দুই থেকে চার শয়নকক্ষের বাড়ির মাধ্যমে ক্যাম্পটি এখনো অভিবাসী খামার কর্মীদের আবাসন সরবরাহ করে।
দূরবর্তী তেলের কূপের মালিকদের সম্পর্কে ফ্রান্সিসকোর কথা শুনে ১৯৩৯ সালে কেন্দ্রীয় উপত্যকায় জমি ও ক্ষমতা সম্পর্কে লেখা স্টেইনবেকের কথা না ভাবা কঠিন: “মালিকরা আর খামারগুলিতে কাজ করে না। তারা কাগুজে চাষ করতো। তারা জমি, গন্ধ, এর অনুভূতি ভুলে গিয়ে শুধু মনে রেখেছে তারা এটির মালিক, এর থেকে কী পেয়েছে আর হারিয়েছে।”

ঐতিহাসিক স্থান উইডপ্যাচ ক্যাম্প, আরভিন, ক্যালিফোর্নিয়া, ৩১ মে, ২০২৩। ইভান সিগালের তোলা ছবি (সৃজনী সাধারণ ৪.০)

ওয়েডপ্যাচ ক্যাম্প, আরভিন, ক্যালিফোর্নিয়াস্থ অভিবাসী খামার শ্রমিকদের আবাসন, ৩১ মে, ২০২৩। ইভান সিগালের তোলা ছবি (সৃজনী সাধারণ ৪.০)
কার্ন কাউন্টিতে ১৮৯৯ সালে প্রথম তেল আবিষ্কৃত হলে এটি এলাকার সম্পদের একটি প্রধান উৎস হয়ে ওঠে। এমনকি তেলের মজুদ হ্রাস পাওয়ার পরেও শিল্পটি এখনো প্রতি বছর কাউন্টি ও স্থানীয় স্কুলগুলিতে ২০ কোটি ডলারেরও বেশি কর প্রদান করে। অনেক কূপ মালিক যতদিন সম্ভব তেল উত্তোলন করে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের ব্যয়বহুল বোঝা নিয়ে দেউলিয়া হয়ে রাজ্য ছেড়ে যান। ফ্রান্সিসকোর আশেপাশে বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন নির্গমনের মতো অনেকগুলি কূপ শুধু পরিষ্কার ও জরিমানা এড়ানোর মতো করে চালু রাখা হয়েছে।

আরভিনে ইভান সিগাল, ক্যালিফোর্নিয়া, ৩১ মে, ২০২৩। জে নাথান মাতিয়াসের তোলা ছবি
আমি ফ্রান্সিসকোকে তার পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। পড়ালেখা না জেনে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পরে তিনি শিক্ষা লাভ করে নিজের একটি জীবন তৈরি এবং স্ত্রীর সাথে মিলে তাদের সন্তানদের জন্যে জীবন প্রতিষ্ঠা করেন। আমি আমার নিজের অভিবাসী পিতার গল্পগুলি ভাগভাগি করি। এছাড়াও তিনি কাছেই থেকে যাওয়া এবং ভালো সুযোগের জন্যে আরভিন ছেড়ে চলে যাওয়া শিশুদের নিয়ে তার অম্লমধুর গর্ব অনুভবের কথা বর্ণনা করেন।
জীবনের সত্তর দশকে এসে ফ্রান্সিসকো সম্প্রদায় ও তিনি যেখানে থাকেন সেই জমির যত্ন নিচ্ছেন। গত কয়েক বছরে তিনি তার প্রতিবেশীদের সাথে কেন্দ্রীয় ক্যালিফোর্নিয়া পরিবেশগত ন্যায়বিচার নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যে হুমকি ধোঁয়া নিয়ে তেলের কূপ, স্কুল, বাসস্থানসহ বিপর্যস্ত অঞ্চলের প্রয়োজনীয় একটি অধ্যাদেশ পাস করার জন্যে কাজ করেছেন। তেল শিল্প আইনটির বিরোধিতা করলেও রাজ্যটি শীঘ্রই সেটা অনুসরণ করতে শুরু করে।
ইভান ও আমি গ্যাসোলিন গলিতে আমাদের ভাড়া গাড়ি ছেড়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় উপত্যকার অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্য দিয়ে ছয় দিনের সাইকেল যাত্রার জন্যে প্রস্তুতির সময় আমাদের কাছে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা এবং শিল্প, সাহিত্য ও সরবরাহের উপত্যকার দক্ষিণ প্রান্ত চিহ্নিত করা গিরিখাতটির গোড়ায় সংযুক্ত একটি শহরে শুরু করাটা ঠিক মনে হয়েছে।
রাতের খাবারের জন্যে আমি সম্প্রতি মেক্সিকো থেকে স্থানান্তরিত এক কাপ বিরিয়া রমেন পাই, যা পরের দিন আমাদের প্রথম ৭০ মাইলের জন্যে সুস্বাদু শর্করার নিখুঁত মিশ্রণ। পাশাপাশি অতীত ও বর্তমান, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকের এই কার্ন কাউন্টিতে নতুন জীবনের জন্যে এখানে আসা এবং এখানে থাকা জনগণ জলবায়ু, ইতিহাস, প্রকৌশল ও ইচ্ছাশক্তির অসাধারণ শক্তি দিয়ে ব্যালেন্স শীটে তাদের দিনগুলি পরিমাপ করে। আরো জানার জন্যে আমি আর অপেক্ষা করতে পারি না।
আমাদের বিশেষ কভারেজ পৃষ্ঠায় লক্ষ্য ও ভ্রমণপথসহ যাত্রাটি সম্পর্কে আরো পটভূমি পড়ুন।







