বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্যে জনগণের অভ্যুত্থান

Sri Lankans in London Protests aganist their President, Gotabaya Rajapaksa and Prime Minster, Mahinda Rajapaksa. Photo by Ehimetalor Akhere Unuabona on Unsplash.

লন্ডনে শ্রীলঙ্কাবাসীরা তাদের প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। আনস্প্ল্যাশে এহিমেটালের এখিয়ের আনুয়াবোনার ছবি। আনস্প্ল্যাশ লাইসেন্সের অধীনে মুক্তভাবে ব্যবহার করার জন্যে।

এই পোস্টটি প্রথমে শ্রীলঙ্কার আইনবিদ, লেখক, কবি এবং সক্রিয় কর্মী বাসিল ফার্নান্দো একটি পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক গণমাধ্যম ওয়েবসাইট গ্রাউন্ডভিউজে প্রকাশ করেছিলেন। গ্লোবাল ভয়েসেসের সাথে একটি বিষয়বস্তু ভাগাভাগি চুক্তির অংশ হিসেবে এর একটি সম্পাদিত সংস্করণ এখানে প্রকাশিত হয়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিল এবং মে মাসকে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা-উত্তর যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলো হিসেবে স্মরণ করা হবে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশা অনুযায়ী গণজাগরণ শক্তিশালীভাবে নিজেকে মেলে ধরেছে। রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের পাশে এবং দেশের সর্বত্র চোখের সামনে থাকলেও কর্তৃত্বের অধিকারী শাসকেরা দেয়ালের লিখন দেখতে ব্যর্থ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে ভেবেছিলেন তিনি নিছক ভূত দেখছেন। কোষাগার খালি জেনেও রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপক্ষে তার বন্ধুদের সান্ত্বনামূলক কথায় বিশ্বাস করেছিলেন। পুরো রাজনৈতিক স্থাপনাটি বোকার স্বর্গে আশ্রয় বেঁছে নিয়েছিল।

তাদের কেউ কেউ বিক্ষোভ আন্দোলনকে দমনের জন্যে ৯ মে মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে ঘিরে আন্দোলনরতদের উপর গুন্ডামির কৌশল গ্রহণের চেষ্টা করে। এটি খারাপভাবে ব্যর্থ হলে জাতি প্রতিবাদকারীদের রক্ষা করতে এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে জেগে উঠে। এটি মাহিন্দা রাজাপক্ষের যুগের অবসান ঘটালেও গোটাবায়া রাজাপক্ষে নামমাত্র রাষ্ট্রপতি হিসেবে রয়ে গেছেন। তিনি এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে সুরক্ষিত জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন

এখন আসল বিষয় হলো এরপরে কী হবে? শ্রীলঙ্কার জনগণই কেবল এই প্রশ্নের একটি কার্যকর উত্তর দিতে পারে। তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমাধান আসবে না। চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরসনে জনগণকে কীভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের নিয়ামক হতে পারে সেটাই এখন প্রধান বিষয়। দেশব্যাপী প্রতিবাদ আন্দোলন তাদের লড়াইয়ের লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্যে কীভাবে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে একটি আলোচনা শুরুর আরো একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই কেবল এটি ঘটতে পারে। তারা চায় জনগণের ভারী দাবি মোকাবেলা করতে অনিচ্ছুক এবং অক্ষম বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব চলে যাক, সেটা একেবারে স্পষ্ট।

বেশ কিছু বিষয়ে জনগণের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

আইন এবং আইনের প্রয়োগ

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যর্থতা সম্পর্কিত আইন এবং অনুশীলনের পর্যালোচনা হওয়া উচিত। কেন এই ব্যবস্থা কেবল ব্যক্তির নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যেও কষ্ট ও অসুবিধা সৃষ্টি করে এতো নাটকীয়ভাবে তার উদ্দেশ্যগুলি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা জনগণের কাছে প্রকাশ করা অপরিহার্য। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিশ্চিত করার জন্যে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। এসব ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশ থেকে শিক্ষণীয় অনেক পাঠ এবং স্বেচ্ছায় শ্রীলঙ্কাকে সাহায্য করতে পারার মতো অনেক বিশেষজ্ঞ রয়েছে।

গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন

গণতান্ত্রিক নীতি ভিত্তিক এবং আইনের প্রাধান্য ও আইনের শাসনের ঐতিহ্যে প্রোথিত শাসনব্যবস্থা সংবিধানসহ প্রতিটি আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আইনে বা সংবিধানে থাকা গণতন্ত্র, আইনের আধিপত্য এবং আইনের শাসন সম্পর্কিত নীতিমালা লঙ্ঘনকারী আইনের যেকোন বিধানের আইনি বৈধতা নেই বলে গণ্য করা উচিত। এই সুপারিশ কার্যকর হলে ১৯৭৮ সালের সংবিধান সংক্রান্ত অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে।

বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধানের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত আলোচনা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা উচিত; গোপনীয়তার চেষ্টা নিষিদ্ধ করা উচিত। অর্থনৈতিক সংকটের অবসানের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে এবং অর্থনীতির বিষয়গুলি মোকাবেলার জন্যে নীতি ও অনুশীলনের ভিত্তি স্থাপনের জন্যে জনগণকে তাদের এলাকায় এবং তাদের পেশাগত ক্ষমতায় অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা উচিত। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ঘটা দেশগুলির মতো সামাজিক চেতনার অংশ হয়ে ওঠার জন্যে স্থানীয় ঐতিহ্য এবং প্রথা গড়ে তোলা উচিত। জনগণের তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং কল্যাণে যেকোন প্রকার বাধায় হস্তক্ষেপ করতে পারা উচিত।

কর ব্যবস্থা

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত। বিত্তশালী শ্রেণী ন্যায্য কর ব্যবস্থার অধীন হওয়াকে প্রতিরোধ করেছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলি কিছু চেষ্টা করার সময় প্রচারণার যন্ত্রটি উঠে পড়ে সরকারগুলিকে পরাজিত করেছিল। সুস্থ অর্থনৈতিক জীবন বজায় রাখার জন্যে বেশি উপার্জনের গোষ্ঠীগুলির বোঝা ভাগ করে নেয়া একটি কর ব্যবস্থার বিকাশ ও বাস্তবায়নের জন্যে একটি সিদ্ধান্তমূলক প্রচেষ্টা হাতে নেওয়া উচিত।

একটি সুস্পষ্ট কৃষি নীতি

কৃষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানির মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করতে এবং আমদানির সময় কমিশন বাদ দেওয়ার জন্যে উদ্বিগ্ন সকলের সাথে পরামর্শ করে একটি সুস্পষ্ট কৃষি নীতি তৈরি করা উচিত। এটি আইনি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার সাথে যুক্ত।

তরুণদের জন্যে রাজনৈতিক স্থান উন্মুক্তকরণ

তরুণরা এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তাদের ভূমিকা পালন করছে। তারা একটি নতুন প্রজন্ম যাদের সমাজ সম্পর্কে আলাদা বোঝাপড়া এবং এমন মনোভাব রয়েছে যা অতীতের প্রজন্মগুলির কাছে ছিল না। প্রকাশ্য আলোচনায় এই তরুণ উপাদানগুলিকে আনার সব ধরনের চেষ্টা করা উচিত। সামাজিক সঙ্কট মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন এবং সমাবেশের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য। যেহেতু তরুণ প্রজন্ম পাবলিক বিতর্কে প্রবেশ করছে, তাই তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে।

শিক্ষার অধিকার

শিক্ষার অধিকার রক্ষা করা অপরিহার্য। অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করার সময় একটি উন্নত শিক্ষা লাভের জন্যে তরুণদের ভোগ করা অধিকারগুলি থেকে বঞ্চিত করার কোনো চেষ্টা করা উচিত নয়, কারণ এটা অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।

খাদ্য এবং ঔষধ

খাবার বা ওষুধের কোনো ঘাটতি থাকা যাবে না। অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্যে নেওয়া ব্যবস্থার কারণে খাদ্য সংকট যাতে না হয় সেটা নিশ্চিত করাটাই প্রথম অগ্রাধিকার। এখন থেকে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলির শ্রীলঙ্কাকে একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি এড়াতে সহায়তা করা উচিত। ইতোমধ্যেই অপুষ্টির পাশাপাশি ক্ষুধার কারণে আত্মহত্যার সংখ্যাও বেড়েছে।

অর্থ পাচার এবং চুরি যাওয়া জাতীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার

ব্যক্তি কর্তৃক জাতীয় সম্পদের আত্মসাৎ সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত। তহবিলের অপব্যবহার দেখলে দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কার নাগরিক অথবা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কেউই অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে না। সকল তদন্ত ও মামলায় ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা এবং অপরাধীরা যাতে পালাতে না পারে সেটা নিশ্চিত করার জন্যে যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। যা কিছু অবৈধভাবে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র জমা করা হয়েছে তা সঠিকভাবে তদন্ত করে উদ্ধার করতে হবে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন দেশের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলির চুরি যাওয়া সম্পদ আবিষ্কারের বিষয়ে কাজ করে থাকে।

এক নতুন সামাজিক চেতনার জন্ম

অনেক শ্রীলঙ্কাবাসীর কাছে এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। এই ধরনের মুহূর্ত মানুষের রাজনৈতিক চেতনাকে রূপ দিতে পারে। জনগণ যে তাদের জীবন এবং তাদের সন্তানদের জীবন নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন তার একটি ইঙ্গিত হলো দেশব্যাপী বিক্ষোভ। দেশকে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে বাঁচাতে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার। জনগণ কী চায় এবং তাদের সমাজের জন্যে কী ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন তা নিয়ে গভীর ঐকমত্যে পৌঁছানোর এটাই সময়। জনগণের কাছে সহনশীলতা প্রদর্শন এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনার উন্নতির জন্যে একটি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার একটি কারণ রয়েছে।

এখন এই বিষয়গুলোর উত্তর খোঁজার জন্যে আলোচনা পরিবর্তন করা দরকার।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .