বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

ফেসবুক পোস্টের জন্যে মালয়েশীয় লেখকের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমির অভিযোগ

উথায়া শঙ্কর এসবি, অনুমতিসহ ছবি ব্যবহৃত

মালয়েশীয় লেখক উথায়া শঙ্কর এসবিকে ৬ এপ্রিল তারিখে প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্টে নবী মোহাম্মদকে অবমাননার অভিযোগে ১১ এপ্রিল তারিখে গ্রেপ্তার করা হয়

পরের দিন তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও মালয়েশীয় দণ্ডবিধির ২৯৮(ক) ধারায় ধর্মের ভিত্তিতে অসম্প্রীতি, অনৈক্য, বা শত্রুতা, ঘৃণা বা অসৎ ইচ্ছার অনুভূতি বা সম্প্রীতি বা ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে কুসংস্কার সৃষ্টি করার এবং মাল্টিমিডিয়া এবং যোগাযোগ আইনের ২৩৩ ধারায় “নেটওয়ার্ক সুবিধা বা নেটওয়ার্ক পরিষেবার অযথার্থ ব্যবহারের” জন্যে তিনি এখনো তদন্তের সম্মুখীন।

উথায়া শঙ্কর এসবি’র মামলাটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যাকে অপমানসহ নাগরিকদের হয়রানি করার নানা অভিযোগে নির্যাতনমূলক নানা আইনের অব্যাহত ব্যবহারকে প্রতিফলিত করে। সক্রীয় কর্মী এবং গণমাধ্যম গ্রুপগুলি এসব আইনের পর্যালোচনা ও বাতিলের জন্যে চাপ দিয়ে আসছে।

বহুবিবাহ সম্পর্কে মালয়েশিয়ার একজন অভিনেতার পোস্টে মন্তব্য করার সময় উথায়া শঙ্কর এসবি একটি হাদিস (ইসলামিক বর্ণনা বা উদ্ধৃতি) উল্লেখ করেন। লেখক জোর দিয়ে বলেন যে স্পষ্টভাবে নবী মোহাম্মদকে অপমান করার উদ্দেশ্যে ছিল না। গ্লোবাল ভয়েসেসের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে উথায়া শঙ্কর এসবি এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন:

এর উদ্দেশ্য কী হতে পারে সে ব্যাপারে আমার একেবারেই কোন ধারণা নেই। আমি অবশ্যই বলবো এটা সত্যিই অযৌক্তিক। মনে হচ্ছে ইসলাম ও হাদিস সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান না থাকা কেউ একটি অভিযোগ করেছে। এবং এর চেয়েও মজার বিষয় হলো বুকিত আমানের পুলিশরা তদন্ত করার জন্যে আমাকে গ্রেপ্তার করেছে। উক্ত হাদীসের একটি সরল গুগল সংস্করণ থেকেই তারা স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে যে আমি কোনভাবেই নবী বা ইসলামকে আঘাত করিনি।

পেন ইন্টারন্যাশনালের কারবন্দী লেখক কমিটির সভাপতি মা থিদা উথায়া শঙ্কর এসবির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন:

সামাজিক গণমাধ্যম পোস্টের জন্যে উথায়া শঙ্কর এসবির গ্রেপ্তার মালয়েশিয়াতে ধর্মের মতো বিষয়গুলিতে স্বাধীন মত প্রকাশের সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরে। সৎ উদ্দেশ্যেও ধর্মের কোনো কথিত সমালোচনা তদন্তের জন্যে কর্তৃপক্ষের ব্লাসফেমি আইনের ব্যবহার করা হলে তা সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে খুব কমই উন্নীত করবে। আর এগুলোই হলো যে কোনো সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল নীতি।

আজকের মুক্ত মালয়েশিয়া প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে মারিয়াম মোখতার লেখকদের নিপীড়ন করার শীতল প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, “বাকস্বাধীনতার অপরাধীকরণ এমন একটি অবস্থার দিকে নিয়ে যাবে যেখানে রাকাত [জনগণ] রাষ্টের থেকে ভিন্ন কোন মতামত প্রকাশ করতে পারবে না।”

পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিচালক কম দাতুক সেরি আবদ জলিল হাসা সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহারকারীদের এই পরামর্শ দিয়েছেন:

জনসাধারণকেও সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহা্রে চৌকস ও বিচক্ষণ হতে হবে। আর জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করা এবং জাতীয় সম্প্রীতিকে হুমকির মুখে ফেলার জন্যে মঞ্চটি ব্যবহার করা যাবে না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে তাদের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্লোবাল ভয়েসেস তার কাছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার বিষয়ে সহকর্মী লেখক ও শিল্পীদের প্রতি তার বার্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে, উথায়া শঙ্কর এসবি মালয়েশীয়দের তাদের প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকতে উৎসাহিত করেন:

সাহসী হোন। আত্মবিশ্বাসী হোন। আপনি যদি জানেন যে আপনি ভুল কিছু করেননি, তাহলে দৃঢ় থাকুন এবং কাউকে (কর্তৃপক্ষ, সম্প্রদায় ইত্যাদি) আপনাকে দোষারোপ করতে বা আপনার কাজের জন্যে আপনাকে শাস্তি দিতে দেবেন না। একা “লড়াই” করবেন না। আপনার সংগ্রাম প্রকাশ করে দিন যাতে অন্যরা আপনাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে; অথবা অন্তত সংহতি দেখাতে পারে।

কর্তৃপক্ষ তার মতো লেখকদের অবদমিত করলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী করতে পারে এমন অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দ্রুত সংহতি প্রকাশের গুরুত্বের ওপর জোর দেন:

আমরা বিভিন্ন ভাষায় এবং মাধ্যমে (যেমন কবিতা, শিল্পকলা, চলচ্চিত্র, অঙ্কন, সঙ্গীত ইত্যাদি) ধারণা/ চিন্তা লিখতে বা প্রকাশ করলেও সবসময় যোগাযোগ রাখাটা ভালো। সামাজিক গণমাধ্যম (টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি) বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত থাকা সহজ করে তুলেছে

আমরা পৃথিবীর কোনো এক কোণায় কোনো লেখক/শিল্পী সমস্যায় পড়ার কথা জানতে পারলে আমাদের সামাজিক গণমাধ্যম বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সমস্ত প্রাসঙ্গিক যোগাযোগের কাছে খবরটি ছড়িয়ে দিয়ে দ্রুত সংহতি দেখাতে পারা উচিত। আমার ক্ষেত্রে আমি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বন্ধুদের কাছে বার্তা পাঠাতে এবং ফেসবুকে পোস্টও করতে পেরেছি। তারা (সবাই আমার বন্ধু লেখক নয়) পরবর্তী যা করার দরকার তা দ্রুত করে ফেলেছে। আমাকে সেলাঙ্গরের শাহ আলম থেকে কুয়ালালামপুরের বুকিত আমানে আনার আগেই আমার গ্রেপ্তারের খবর মালয়েশিয়াকিনি, ফোকাস মালয়েশিয়া ইত্যাদিতে প্রকাশিত হয়ে যায়। তাই আমি জানতাম যে আমার উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই – এ ছাড়াও আমি কোনভাবেই নবীকে আঘাত করিনি।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .