বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

অস্বচ্ছতা এবং আলোচনা ছাড়াই বুদাপেস্ট কনভেনশনে ব্রাজিলের অনুস্বাক্ষর

ছবির সৌজন্যে লাইস মার্টিন্স

২০২১ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ব্রাজিলের কংগ্রেস অস্বাভাবিক দ্রুততার সাথে সামান্য বিতর্কের পর প্রায় শূন্য স্বচ্ছতার সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বুদাপেস্ট কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করেছে। সাধারণভাবে চুক্তিটি নাগরিক ডেটাকে ঝুঁকিতে ফেলতে এবং তথ্য নিরাপত্তা গবেষক এবং কর্মীদের কাজকে অপরাধীকরণের পথ খুলে দিতে পারে বলেই নয়, এর শুরুটাই সমস্যাযুক্ত বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছে। 

আন্তর্জাতিক চুক্তিটিতে ব্রাজিলকে আইনিভাবে বাধ্য করতে কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাস হওয়া খসড়া আইনটিতে প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো এখনো স্বাক্ষর করেননি। তবে ব্রাজিলের একটি সমৃদ্ধ কর্মী সম্প্রদায়ের অংশ তথ্য নিরাপত্তা গবেষকরা এখন নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং ডেটা আপস শনাক্ত করার কাজের জন্যে ফৌজদারি বিচারের ঝুঁকিতে রয়েছে৷ চুক্তিটি ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষকে পূর্বের আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন ছাড়াই নাগরিক ডেটা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

ইউরোপীয় পর্ষদের শুরু করা সাইবার অপরাধের বুদাপেস্ট কনভেনশনটি ২০০১ সালের। বর্তমানে ৬৭টি দেশ অনুসমর্থিত সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত জাতীয় আইনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাওয়া এই চুক্তিটি তদন্ত এবং প্রোটোকলের জন্যে একটি সাধারণ কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতার সুবিধা দেয়৷

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রাজিলের সিনেট এবং ডেপুটিদের কক্ষ ২০২১ সালে এই চুক্তিটিকে অনুসমর্থন দিয়ে আইন পাস করলেও বর্তমান সময়ে ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কর্মরত শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজ সংস্থাগুলিকে নথিটি সম্পর্কে সামান্য তথ্য এবং বিতর্কে জড়িত হওয়ার কোন সুযোগ না দিয়ে অন্ধকারে ফেলে রেখেছিল।

প্রকাশ্য বিতর্কের অভাব ছাড়াও ব্রাজিলে অনুসমর্থনের প্রক্রিয়াটি সরকারের নিজেরই প্রচারিত কিছু ভুল তথ্য দ্বারা চিহ্নিত। দাপ্তরিক যোগাযোগে ব্রাজিল সরকার ঘোষণা করে যে আমন্ত্রিতদের অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যে আমন্ত্রণের পরে তিন বছরের একটা সময়কাল রয়েছে। বাস্তবে ইউরোপীয় পর্ষদের আমন্ত্রণে নিবন্ধিত হিসেবে আমন্ত্রণের পাঁচ বছর পরে মেয়াদ শেষ হয়। ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় জনমন্ত্রণালয় দ্রুত অনুমোদনের জন্যে প্রকাশ্যে বিবৃতি প্রদান করে। খসড়া আইনটি অনুমোদনের এই দৃশ্যকল্পটিতে একটি মিথ্যা জরুরি বোধকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

৪৮টি সুশীল সমাজ এবং একাডেমিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত ডিজিটাল অধিকার জোট (সিডিআর) খসড়া আইনটির ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে বেশি প্রাধান্য দিয়ে “অতিরিক্ত দ্রুততা”র সমালোচনা করে। তবে অনুসমর্থনের গতিটিই বিশেষজ্ঞদের চিহ্নিত একমাত্র উদ্বেগ নয়।

উদাহরণস্বরূপ, আমন্ত্রিত দেশগুলিকে শুধু আংশিকভাবে কনভেনশন মেনে চলতে এবং চুক্তির কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রগুলিকে এই বিষয়ে তাদের জাতীয় আইনের সাথে আপস না করে কনভেনশনটি অনুমোদনেরও সুযোগ দেয়। অন্যান্য অনেক অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রের বিপরীতে সংরক্ষণের অধিকার প্রয়োগ না করেই ব্রাজিল সম্পূর্ণভাবে চুক্তিটি মেনে নিয়েছে।

এই সমালোচনাহীন অনুসমর্থনটি দু’টি ধারার কারণে বিশেষভাবে সমস্যাযুক্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা “তথ্য নিরাপত্তা কর্মী এবং গবেষকদের বৈধ এবং নিয়মিত কার্যকলাপের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে” ব্যবহার করা যেতে পারে৷ অনুস্বাক্ষরকারী অন্যান্য দেশগুলি এই দু’টি ধারা বাদ দিয়ে নিয়েছে।

এভাবে চুক্তিটির ৭ ধারায় বলা “সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে একজন” পাঠ্যটিকে সংশোধন করতে অপরাধ করার অভিপ্রায়ে “তথ্যগত মিথ্যাচার” করা হলে এই ধরনের চর্চায় জড়িত ব্যক্তিদের দায়ী করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, এই সংশোধনীটি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের জন্যে প্রায়শই সরকার, ব্যাংক এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের ওয়েবসাইটগুলি অনুসন্ধান করা এবং ঘেঁটে দেখা তথ্য নিরাপত্তা কর্মী এবং গবেষকদের রক্ষা করবে। অ্যাকুয়ালটিউন ল্যাব ও আইন পণ্ডিতদের একজন সক্রিয় কর্মী পাওলো রেনা ব্যাখ্যা করেন এই কুশীলবদের সরাসরি উন্মোচন করতেই ব্রাজিল পাঠ্যটি সংশোধন না করেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কনভেনশনটিতে অনুস্বাক্ষর করার সময় বেলজিয়াম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্টের মতো অন্যান্য দেশ এই ধরনের সুরক্ষার পথ বেছে নিয়েছিল।

বাস্তবে একজন গবেষক তাদের নিজস্ব গবেষণার পরে বিগত বছরগুলিতে দেশটিকে প্রভাবিত করা কোন একটি বিশাল ডেটা ফাঁসের মধ্যে তাদের ব্যক্তিগত ডেটা আপস হতে দেখে তাদের প্রকাশিত ডেটা সম্পর্কে কোম্পানি বা সরকারি সংস্থার কাছে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিলে এখন তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করার জন্যে কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করা যেতে পারে।

“একটা অনলাইন খুচরা বিক্রেতা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, একটা বিদেশী কোম্পানি, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এটা ঘটতে পারে,” রেনা ব্যাখ্যা করেন। “এটা শ্রেণীবদ্ধ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রথাগতভাবে এই ধরনের তথ্য আরো খোলামেলাভাবে ভাগাভাগি করা গোষ্ঠী – প্রযুক্তি সম্প্রদায় কীভাবে কাজ করে সেটা বুঝতে না পারা লোকদের কর্তৃত্ববাদী খামখেয়ালীপনা হতে পারে।”

ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষগুলো তথ্য নিরাপত্তা কর্মী এবং গবেষকদের খুব ইতিবাচকভাবে দেখে না। রেনার বর্ণনা অনুসারে এই ধরনের “কর্তৃত্ববাদী খামখেয়ালীপনা”র একটি উদাহরণ গত মে মাসে বোলসোনারো সরকার কীভাবে করোনভাইরাস সংকট পরিচালনা করেছিল সেটা তদন্ত করার জন্যে গঠিত সংসদীয় কমিশনের সময় দেখা গিয়েছিল।

কোন একটি গণশুনানিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ডেটা সাংবাদিক রদ্রিগো মেনেগাতের বিরুদ্ধে সরকারের নকশা করা টেলিমেডিসিন অ্যাপ ট্রেটকভ “হ্যাক” করার অভিযোগ করেন। অ্যাপটি উপসর্গ দেওয়া হলে চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারে। প্রায় সব ধরনের উপসর্গের জন্যে সেগুলোর বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা অস্বীকার করা চিকিৎসার সুপারিশের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবেই অ্যাপটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল। , বর্তমানে ব্রাজিলে ডয়চে ভেলেতে কর্মরত এবং ব্রাজিলের ডেটা সাংবাদিকতা সম্প্রদায়ের একজন সক্রিয় সদস্য মেনেগাত ত্রুটিটি বের করার জন্যে অ্যাপ্লিকেশনটির কোডটি নীরিক্ষণ করেছিলেন মাত্র৷ কোডটি ইন্টারনেটে যে কোন ব্যক্তির প্রবেশযোগ্য সর্বজনীন তথ্য হওয়া সত্ত্বেও মেনেগাতকে হ্যাকার বানানো হয়েছে।

কিন্তু ব্রাজিলের বুদাপেস্ট কনভেনশনের অনুমোদন শুধু তথ্য নিরাপত্তা সম্প্রদায়ের জন্যেই বিপজ্জনক নয়। প্রায় প্রতিটি ব্রাজিলীয় নাগরিকের তাদের ব্যক্তিগত তথ্য এখন কর্তৃপক্ষের আদালতের পূর্বানুমতির প্রয়োজন ছাড়াই দখলের ঝুঁকিতে রয়েছে।

“যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার জন্যে কনভেনশনের এই ধারার [১৫, অনুচ্ছেদ ২] খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আদালতের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া যেতে পারে। বুদাপেস্ট কনভেনশনের সুযোগের আওতায় অনুমোদনের জন্যে কোন বিচারককে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন ছাড়াই কেন্দ্রীয় জনমন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত ডেটাতে প্রবেশাধিকার পাওয়া বিচারিক নিয়ন্ত্রণকে মানহীন করে ফেলেছে। বুদাপেস্ট কনভেনশনের কোনো প্রক্রিয়ার যুক্তি মানসম্মত নয়। জনগণকে কারা এবং এই ব্যবস্থাগুলির সময়সীমা সীমাবদ্ধ করা কোন আদর্শ নয়। ব্যতিক্রমীভাবে, উপযুক্ত ক্ষেত্রে এটি নির্দেশিত হলে বিচারিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হবে,” যোগ করেন রেনা।

এটা বিরোধী রাজনৈতিক এবং কেন্দ্রীয় জনমন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার অপব্যবহারের পথ খুলে দিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই এই জাতীয় চর্চার জন্যে অভিযুক্তও হয়েছে – কথোপকথনে আঁড়িপাতার জন্যে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি দিলমা রুসেফের রাষ্ট্রপতি ক্যাবিনেটের টেলিফোন ট্যাপ করার হয়েছে৷

রেনা আরো ব্যাখ্যা করেন, ২০১৪ সাল থেকে চালু ব্রাজিলের ইন্টারনেট অধিকার আইন (ইন্টারনেটের নাগরিক অধিকার) এর সাথে সাংঘর্ষিক বলে এটিও একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কংগ্রেসে এখনো প্রণীত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা জননিরাপত্তা ও ফৌজদারি বিচারের জন্যে মিথ্যা সংবাদের এবং ডেটা সুরক্ষার খসড়া আইনের মতো বিভিন্ন আইন এবং আইনগুলোর ক্ষেত্রগুলিকে প্রভাবিত করে বলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রশি টানাটানি

কংগ্রেসের অনুমোদনের পরে এখন যে আলোচনা চলছে তা আরো কম স্বচ্ছ। এখন অন্যতম যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা হলো ব্রাজিলের চুক্তির জন্যে “যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু” কে হবে – বাস্তবে কোন অঙ্গ সংগঠনটি কনভেনশনের পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবে৷

রেনার মতে, নির্বাচিত অঙ্গ সংগঠনটি একটি বিশেষ সুবিধার অবস্থানে থাকবে – এটি এক ধরনের “চোঙা” হিসেবে কাজ করবে অবশ্যই যার মধ্য দিয়ে সকল তদন্তকে যেতে হবে।

এই অঙ্গ সংগঠনটি বেছে নেওয়ার চলমান প্রক্রিয়া সম্পর্কে সামান্য জানা গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে ব্রাজিলীয় প্রতিবেদনের একটি অভিযোগ থেকে বোঝা যায় যে নিয়ন্ত্রণের জন্যে একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ চলছে। প্রসিকিউটর জেনারেল অগাস্তো আরাস রাষ্ট্রপতি জেইর বলসোনারোকে সরাসরি অনুরোধ করেছেন যেন তার বিভাগ বুদাপেস্ট কনভেনশনে মনোনিবেশ করে। এদিকে বিচার মন্ত্রণালয়ও তাদের ভাগ্যলাভের চেষ্টা করছে – কনভেনশনের তত্ত্বাবধান যেন মন্ত্রণালয়টির একটি বিভাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্পদ পুণরুদ্ধার ব্যুরো (পর্তুগিজ ভাষায়, ডিআরসিআই)-এর উপর ন্যস্ত হয়।

তবে নির্বাচিত হলে বোলসোনারোর রাষ্ট্রপতিত্বাধীন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগের কারণে বিচার মন্ত্রণালয় ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হবে। এটি নির্বাহী শাখার অংশ বলে এই অঙ্গ সংগঠনটি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কম আক্রমণাত্মক হবে।

ডিজিটাল অধিকারের জোটের মতো গোষ্ঠীগুলি প্রস্তাব করে যে গোপনীয়তা এবং ডেটা সুরক্ষার একমাত্র কঠোর পর্যবেক্ষক হওয়ায় কনভেনশনের দায়িত্বে নেওয়ার জন্যে সবচেয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হবে সুরক্ষার জাতীয় কর্তৃপক্ষ (এএনপিডি)। ব্রাজিল ইউরোপীয় পর্ষদের কাছে “যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু” সম্পর্কে তার সিদ্ধান্ত জানানোর পরেই কেবল জনসাধারণ এই গল্পের শেষ খুঁজে পাবে, আসলে যার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।

পরাধীনতা পর্যবেক্ষক থেকে আরো খবরের জন্যে প্রকল্পটির পাতা দেখুন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .