বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার

সিসি০ ১.০ এর আওতাভুক্ত ছবি (পাবলিক ডোমেইনে উৎসর্গ)

নাগরিক গণমাধ্যম মানমন্দিরের (সিএমও) মুখপত্র আন্ডারটোনসে স্বাগতম!  প্রতিটি সংস্করণে আমরা স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং বহুভাষিক মিডিয়ার প্রসঙ্গ এবং উপপাঠের গভীরে অনুসন্ধানের মাধ্যমে জরুরী জনস্বার্থের মূল আখ্যানগুলি চিহ্নিত করে কোন একটি ঘটনা, উদীয়মান প্রবণতা বা একটি জটিল গল্প বিশ্লেষণ করবো। এছাড়াও আন্ডারটোনস সর্বজনীন ডেটাসেটে প্রবেশের একটি সুযোগ দেয় যা আমাদের মানমন্দিরের কাজকে আরো জোরালো করে।

এই মাসে শুরু হতে যাওয়া ভারতের আইনসভা নির্বাচনের আগে হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদীদের বিভিন্ন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের একটি জ্বালাময়ী হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রচারণা চালাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্ধারিত হয়েছে।

“হিন্দুদের বিশ্ব” এবং “উদারবাদী_নই”-এর মতো অ্যাকাউন্টগুলি সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ এবং ভারতে একটি হিন্দু জাতি প্রতিষ্ঠার প্রচারণায় যুক্ত হয়ে লোকজনকে সংগঠিত করতে যৌনতাবাদী, বর্ণবাদী এবং সাম্প্রদায়িক মেমে ও মন্তব্য, বানোয়াট ভিডিও এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ব্যবহার করে৷

এই অ্যাকাউন্টগুলির লক্ষিত শ্রোতা মূলত তরুণ হিন্দু পুরুষেরা। পোস্টগুলি প্রায়ই তাদের পুরুষত্বের প্রতি আবেদন ও প্রশ্ন করে। তবে নারীরাও এসব বিষয়বস্তুর সাথে জড়িত থাকে – বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যৌনতাবাদী বর্ণনাকে সমর্থন করে এবং ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরোধিতাকারী অন্যান্য নারীদের লজ্জা প্রদানের মাধ্যমে৷

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলতে জাতিগত বা ধর্মীয় অনুষঙ্গের ভিত্তিতে আক্রমণ বোঝায় এবং তা শুধু ইসলাম আতঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মুসলমানদের পাশাপাশি খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং দলিতরা শারীরিকভাবে এবং অনলাইনে আক্রমণের পাশাপাশি দেশের আইনের মাধ্যমে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

ভারত এবং হিন্দুত্বের সংমিশ্রণের লক্ষ্যে সামাজিক-রাজনৈতিক প্রকল্প হিন্দুত্ববাদ এবং হিন্দু ধর্মের কোনো সমালোচনা হলেই সেখনে সহিংসতা হবে। সংখ্যালঘুদের গণহত্যা, বিভিন্ন মসজিদে হামলা এবং গির্জাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান ক্রমশ সাধারণ হয়ে উঠছে।

এই কাহিনীগুলি তাদের বাধাহীনভাবে ব্যবহার করতে পারার মতো মঞ্চ ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে সামাজিক গণমাধ্যমে ভাগাভাগি করা হয়।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারণা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন বিজেপি দলকে সমর্থন করার পাশাপাশি হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের উপায় হিসেবে সহিংসতা প্রচার করে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত মেমে, ছবি এবং ভিডিওর এসব উদাহরণ দেখুন৷ আপনি বিশ্লেষণ করা ১৫টি আইটেমের সবগুলি এখানে দেখতে পারেন।

“আপনি আপনার ধর্ম রক্ষায় তরবারি ধরতে না পারলে এমন নেতাকে ভোট দিন যিনি তা পারেন”

ইনস্টাগ্রাম পাতার একটি মেমে “আমি_যোগী২০২২_সমর্থন করি” অনুসারে “হিন্দুরা তাদের ধর্ম রক্ষা করার জন্যে তরবারি ধরার মতো সাহসী না হলে তাদের এমন নেতাদের ভোট দেওয়া উচিত যারা এটা করার মতো শক্তিশালী এবং তাদের ধর্ম রক্ষার জন্যে লড়াই করতে পারে।” হ্যাশট্যাগগুলি সরাসরি ভারতের আসন্ন নির্বাচনসমূহকে নির্দেশ এবং বিজেপিকে সমর্থন করে।

এই মেমেটি এমন বার্তা প্রকাশ করে যে হিন্দু ধর্মের চেহারা বদলে গেছে: এটি আর দয়ালু, ভীরু এবং সহনশীল নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও কঠিন শক্তি। এছাড়াও এই পোস্টটি তার শ্রোতাদের লজ্জা দিয়ে এবং তাদের ধর্মের প্রতি পাঠকদের ভক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সন্ন্যাসী থেকে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীতে পরিণত যোগী আদিত্যনাথ – উভয়েই ভয়ঙ্কররূপে উপস্থাপিত এবং তারাই হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাধারী৷

এই পোস্টে প্রকাশিত কাহিনীগুলি হলো: “হুমকির মুখে হিন্দুরা,” “যোগী আদিত্যনাথ হিন্দু রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ” এবং “কেবল বিজেপিই ভারতকে রক্ষা করতে এবং সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারে।”

এখানে এই আইটেমের আরো বিশ্লেষণ রয়েছে।

“গডসে ২.০”

২০২২ সালে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর হুমকি প্রদানকারী রামভক্ত গোপাল নামের একজন ক্রমবর্ধমান সুপরিচিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী এখন ১৯৪৮ সালে ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অহিংস স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী হত্যাকারী হিন্দু চরমপন্থী নাথুরাম গডসের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেকে “গডসে ২.০” পরিচয় দিচ্ছে। গোপালের গডসে নাম নেওয়া হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে গান্ধীর হত্যা যে ন্যায়সঙ্গত ছিল এমন একটি বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে এবং সে অন্যান্য হিন্দু পুরুষদের “দেশ বাঁচাতে” আহ্বান জানাচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামে গোপালের ভিডিওতে একদল পুরুষকে ভয় দেখানোর জন্যে মুসলমানদের এলাকার মধ্য দিয়ে হিন্দুত্ব এবং ধর্মীয় স্লোগান উচ্চারণ করতে করতে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে। ক্যাপশনটিতে বলা হয়েছে, “অবশ্যই হিন্দু ধর্মকে রক্ষা করতে হবে।” বিশ্লেষণের সময় ইনস্টাগ্রামে আইটেমটি ১,৮৫৩ জন পছন্দ করেছে।

২০২০ সালে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের দিকে বন্দুক তাক করা অবস্থায় গোপালের ছবি তোলা হয়েছিল। সহিংসতা উস্কে দেওয়ার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের মতে, “সামাজিক গণমাধ্যমের ভিডিও দেখে” গোপাল উগ্রবাদী হয়েছে।

বিজেপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক আন্দোলনগুলি হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্যে মুসলমানদেরকে দোষারোপ এবং জনসাধারণকে হিন্দুরা হুমকির মধ্যে রয়েছে এবং তাদের নিজেদের রক্ষা করতে হবে এমন চিন্তায় পরিচালিত করে একটি শক্তিশালী ইসলাম আতঙ্কের কাহিনী প্রবর্তন এবং স্বাভাবিকীকরণ করেছে।

এই পোস্টটিতে প্রকাশিত বর্ণনাগুলি হলো: “হিন্দুত্ববাদের শত্রুরা ভারতেরও শত্রু”, “হিন্দুরা হুমকির মুখে” এবং “কেবল বিজেপিই ভারতকে রক্ষা এবং একে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এখানে এই আইটেমের আরো বিশ্লেষণ রয়েছে।

”হিন্দু পুরুষেরা মুসলমান নারীদের রক্ষা করছে”

ভারতে ইসলাম আতঙ্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মূল উপায়গুলির মধ্যে একটি হলো “নির্যাতিত মুসলমান নারী”র ফাঁদ। “হিন্দুরাষ্ট্র২”-এর এই ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি হিজাব পরিহিত একজন মুসলমান নারী এবং কপালে লাল তিলক বিশিষ্ট একজন হিন্দু পুরুষের মাধ্যমে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক উদযাপন করে। ছবিটিকে বানানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

ক্যাপশনটিতে লেখা হয়েছে যে এই জুটি “সাত জনম একসাথে থাকবে” এবং নারীটি কখনো বিবাহবিচ্ছেদের শিকার হবে না। অন্য কথায় নারীটি একজন হিন্দু পুরুষের সাথে সম্পর্কে থাকায় রক্ষা পেয়েছে, কারণ হিন্দু ধর্ম ইসলামের চেয়ে বেশি প্রগতিশীল বলে কথিত।

ভারতের ধর্মীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন হিন্দুত্ববাদ মতাদর্শের অন্যতম মূলনীতি হওয়ার কারণে এসময় হিন্দুদের অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত করাকে সক্রিয়ভাবে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে (ভারতের ধর্মান্তর বিরোধী আইন এবং “লাভ জিহাদ”-এর ষড়যন্ত্রের এই মিডিয়া আইটেমটি দেখুন) এবং হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিতকরণকে সূক্ষ্মভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই আইটেমটিতে প্রকাশিত বিবরণ মতে: “ইসলামের নিপীড়ন থেকে মুসলমান নারীদের উদ্ধার করা উচিত।” কয়েক দশক ধরে এই আখ্যানটি বিদ্যমান হলেও বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এটি ভিত্তি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, “হাজার হাজার নারীকে রক্ষা করা”র যুক্তিতে ২০১৯ সালে বিজেপি “তিন তালাক” নামক একটি মুসলমান বিবাহ বিচ্ছেদ প্রথাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

এখানে এই আইটেমের আরো বিশ্লেষণ রয়েছে।

ভারতের উগ্র-জাতীয়তাবাদীদের আখ্যানের আরো প্রসঙ্গ চান?
সমস্যাটি নিয়ে আমাদের আরো গভীর অনুসন্ধান দেখুন।

আন্ডারটোনস হলো মানমন্দিরের গবেষক, সমন্বয়কারী সম্পাদক এবং প্রকল্প লেখকদের যৌথভাবে তৈরি করা নাগরিক গণমাধ্যম মানমন্দিরের মুখপত্র। আমাদের মিশন, কার্যপদ্ধতি এবং সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ ডেটা সম্পর্কে আরো জানুন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .