বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

ইস্তাম্বুল: দুটি ফ্রন্টে বিভক্ত

ইস্তাম্বুল এলজিটিবিটি গর্বের পদযাত্রা, লুবুনিয়ার তোলা ছবি, সিসি বাই-এসএ ৩.০ এর অধীনে অনুমোদনপ্রাপ্ত

রাষ্ট্রপতি এরদোয়ান তুরস্কের বিতর্কিত মেগা-উন্নয়ন প্রকল্প ইস্তাম্বুল খালের যুগান্তকারী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানের সময় ২৬ জুন, শনিবার এলজিটিবিটি গর্বের পদযাত্রা উদযাপনের সময় ইস্তাম্বুলের বেশ কয়েকজন বাসিন্দাকে টিয়ার গ্যাসের নিঃশ্বাস নিতে এবং রাবার বুলেটের আঘাত পেতে হয়েছে। কিছু কিছু প্রতিবেদন অনুসারে, ২৫ জন আটক এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিক পুলিশী সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছে। ভিতরে একটি শিশু ঘুমিয়ে থাকার সময় পুলিশের শব্দ বোমা নিক্ষেপে একজন বাসিন্দা অভিযোগ জানালে পুলিশ তাকে আটক করে

সপ্তাহান্তের ঘটনাবলীতে ইস্তাম্বুলের স্পষ্ট বিভাজন বোঝা যায়। নতুন খালটির বিরুদ্ধে বেশ কিছু বাসিন্দা, বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সরকারের পরিকল্পনা বিরোধী বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পটি অনুসরণ করার জন্যে জড়ো হয়; যেকোন মূল্যে প্রতিরোধের সরকারি নির্দেশ পাওয়া পুলিশের বিরুদ্ধে  এলজিবিটিকিউআই+ সমতা মেনে নিতে যাওয়া সমাজের গর্বের পদযাত্রাটিও এমন আরেকটি বিভাজন।

স্মরণীয় একটি শনিবার

ইস্তাম্বুল খাল প্রকল্পের মাধ্যমে তুরস্ক কৃষ্ণ সাগর ও মর্মর সাগরকে সংযুক্ত করে একটি বিশাল মানব-নির্মিত খাল তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এই মাটিকাটা পরিকল্পিত নৌপথের উপর দিয়ে যাওয়া সজলিদেরে সেতু নির্মাণ কাজের শুরুর মাধ্যমে প্রকল্পটির বিবিধ অংশের কাজের সূচনা করেছে।

সম্ভাব্য পরিবেশগত ও রাজনৈতিক সমস্যার কারণে ইস্তাম্বুল খালের নির্মাণের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সমালোচনা সত্ত্বেও ২৬ জুন রাষ্ট্রপতি এবং ক্ষমতাসীন ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন দলের (একেপি) সভাপতি এরদোয়ান বলেছেন, “আজ আমরা বিশ্বের অনুকরণীয় একটি খালের ভিত্তি স্থাপন করছি।” রাষ্ট্রপতি বলেন ২০২৭ সালের মধ্যে এই প্রকল্পটি শেষ হবে এবং, “ইস্তাম্বুলের বসফরাস এবং এর আশেপাশের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইস্তাম্বুলের ভবিষ্যত বাঁচাবে।”

রাষ্ট্রপতির ভাষণটি শুধু ইস্তাম্বুল এবং এর বাসিন্দাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অপেক্ষার বিষয় নয়। প্রথমদিকে এই প্রকল্পটির বিরোধিতা করার জন্যে তিনি প্রধান বিরোধীদল গণপ্রজাতন্ত্রী দল (সিএইচপি) কেও উপহাস করেন। “হ্যাঁ, সিএইচপি। তারা প্রতিটি পদক্ষেপ অবরুদ্ধ করেছে […] এবং যারা তাদের সমর্থন দিচ্ছে? তারা সকলেই বিষয়গুলিকে অবরুদ্ধ করার উপায়গুলি নিয়ে চিন্তা করার চেষ্টা করছে,” এরদোয়ান বলেছেন একেপির নেতৃত্বের ফলাফল হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চালিয়ে যাওয়া নতুন বিমানবন্দর এবং ইস্তাম্বুলে দুটি মহাদেশকে সংযুক্ত করা একটি তৃতীয় সেতুসহনির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে উল্লেখ করে। “আমি রাজনীতি এবং প্রকল্পগুলি তৈরির ক্ষেত্রে তাদের অদক্ষতার বিষয়গুলি উপেক্ষা করলেও তারা রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা উপেক্ষা করে তাদের যা মনে আসে তাই বলে থাকে […] সত্যিকার অর্থে এগুলি ছদ্মবেশী। কীভাবে সরকার চলে সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই।”

সিএইচপি-র ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু তুরস্কের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে বাস্তবায়নে দেরী হওয়া ইস্তাম্বুল খালের সাথে সম্পর্কহীন একটি মহাসড়ক প্রকল্পে সজলিদেরে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের তুলনা করে এই অনুষ্ঠানটিকে “মায়া” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। “খাল প্রকল্পের সাথে এখানে একটি সেতু নির্মাণের কোন যোগসূত্র নেই। সড়ক হাবের সাথেই এর সম্পর্ক,“ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন।

গর্বের জন্যে পদযাত্রা

এই শনিবার শহরের অপর প্রান্তে ইস্তাম্বুলের গর্বের পদযাত্রাটি নিউ ইয়র্ক, বার্লিন, প্যারিস অথবা ইউরোপের অন্য জায়গার চেয়ে আলাদা। এখানে কোথাও রংধনু দর্শন বা উদযাপনের কোন স্থান নেই। তার পরিবর্তে, অনেক বেশি ক্ষমতা ও ঘৃণা নিয়ে পুলিশ গর্বের জন্যে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের চারপাশ ঘিরে ছিল।

নিষিদ্ধ সমকামীদের গর্বের সমাবেশ ভেঙে দিতে ইস্তাম্বুলে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করছে

পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি পুলিশকে তার নিজের দেশে কেন সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না তার জবাব দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। “সরুন, আমাদের চলে যেতে দিন। নিজের দেশে আমি কেন হাঁটতে পারবো না? কেন? আমরা আপনাকে তো কিছু করছি না! আমরা কারো ক্ষতি করছি না!” তিনি বলেছেন।

মার্কিন পপ তারকা ম্যাডোনা শনিবার তার ইনস্টাগ্রামের গল্পগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতি উল্লেখ করেছেন:

ম্যাডোনার ইনস্টাগ্রামের গল্পগুলির একটি পর্দাছবি।

পুলিশ যাদের আক্রমণ করে মাটির উপর জোর করে ঘাড় চেপে ধরে, তাদের মধ্যে ছিলেন ফটো সাংবাদিক সাংবাদিক বুলান্ত কিলিক। বাতাসের জন্যে মরিয়া কিলিক চিৎকার করেন, “আমি শ্বাস নিতে পারছি না!”

উপ-মন্ত্রী, মেহমেত এরসয় সাংবাদিকদের সহিংসতার দাবি খারিজ করে দেন:

অননুমোদিত বিক্ষোভ চলার সময় পুলিশকে বাঁধা প্রদানকারীদের আটক করা কোন সহিংসতা নয়। প্রকৃত সহিংসতা হলো সরকারবিরোধী অনুভূতি উস্কে দেওয়ার জন্যে মিথ্যা কথা বলে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলিকে বেপরোয়াভাবে আক্রমণ করা এবং পরে ক্ষমা চাওয়ার মতো বুদ্ধিমত্তার অভাব।

কিলিক তার মামলায় বিচার চাইতে বদ্ধপরিকর

এদিকে, পুলিশি সহিংসতা সত্ত্বেও ইস্তাম্বুলে গর্ব উদযাপিত হয়:

ইস্তাম্বুলের ১৯ তম গর্বের পদযাত্রা ২৬ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। সকল লুবানিয়াসকে [সমকামী পুরুষদের জন্যে ব্যবহৃত একটি ডাক নাম] শুভেচ্ছা, যারা সমস্ত পুলিশি চাপ সত্ত্বেও নাচের মাধ্যমে টিয়ার গ্যাস হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের রাস্তাগুলিকে রংধনুর রঙে রাঙিয়ে দিয়েছে এবং সমতার জন্যে লড়াই করেছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .