বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

কোভিড-১৯ সত্ত্বেও মিশরে মানবাধিকার দমনাভিযান থেমে নেই

আলা আব্দ এল ফাত্তাহ, ২০১১ সালে ব্যক্তিগত গণতন্ত্র ফোরামে বক্তব্যরত। ফ্লিকারের মাধ্যমে পাওয়া পিডিএফ ছবি (সিসি বাই-এসএ ২.০)।

কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও কারাবন্দি মিশরীয় রাজনৈতিক কর্মী, মানবাধিকার সুরক্ষাকারী এবং রাজনীতিবিদরা এই দেশের উপচে পড়া জেলখানাগুলিতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আটককৃত মানবাধিকার সুরক্ষাকারীদের মুক্তি প্রদানের একাধিক আহ্বানকে কর্ণপাত করা হয়নি। গ্রেপ্তার ও আটকগুলি চলতে থাকলেও নিজ সম্প্রদায়ের কাছে শুধু “আলা” নামে পরিচিত বিশিষ্ট ব্লগার ও মানবাধিকারকর্মী আলা আব্দ এল ফাত্তাহ ইতোমধ্যে অনশন শুরু করে দিয়েছেন।

২২ এপ্রিল তারিখে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে তার পরিবার জানিয়েছে যে আলা তার চলমান আটকের প্রতিবাদে বর্তমানে অনশনে রয়েছেন।

বিবৃতিটি অনুসারে ১৩ এপ্রিল প্রসিকিউটরের কার্যালয় আলাকে আটক রাখা তোরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগার থেকে একটি প্রতিবেদন পেয়েছে তিনি অনশন শুরু করেছেন।

২২ এপ্রিল তারিখে পরিবারটি আলার স্বাস্থ্য এবং অনশন সম্পর্কিত আরেকটি প্রতিবেদন জানতে পেরেছে:

আজ আমরা ১৮ এপ্রিল, ২০২০ তারিখের একটি চিকিৎসা প্রতিবেদন দেখতে পেরেছি যাতে বলা হয়েছে আলার রক্তে শর্করার পরিমাণ ৪৪ এমজি/ডিএল [মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটারে], হৃৎস্পন্দনের হার ৭৬, রক্তচাপ ১০০/৭০ ছিল এবং তিনি শরীরে গ্লুকোজের ফোঁটা নিতে অস্বীকার করেছেন।

আলা কেবল তরল গ্রহণ করেছেন দাবি করা আগের প্রতিবেদনের বিপরীতে এই প্রতিবেদনটি যে তিনি সম্পূর্ণ অনাহারে রয়েছেন তা নিশ্চিত করেছে, লিখেছেন তার বোন মোনা সেইফ।

বিশিষ্ট ব্লগার ও রাজনৈতিক কর্মী ২০১১ সাল থেকে কারাগারের ভেতর এবং বাইরে রয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি দুই মাস কারাগারে কাটানোর ফলে তিনি তার প্রথম সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে পারেন নি। ২০১৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করে বিনা বিচারে ১১৫ দিন আটক রাখা হয়েছিল।

২০১৩ সালের নভেম্বরে আলাকে গ্রেপ্তার করে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এক বছরেরও বেশি পরে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সামরিক বিচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ “সংগঠিত” করার জন্যে ২০১৩ সালের একটি বিক্ষোভ আইনের আওতায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদন্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর তারিখের বিক্ষোভটিতে আলা অংশ নিলেও এটির আয়োজনে তার কোন ভূমিকা ছিল না।

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ তারিখে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হলেও তার স্বাধীনতা শর্তসাপেক্ষ ছিল। কারণ পাঁচ বছরের একটি প্রবেশন সময়সীমার আওতায় তাকে স্থানীয় থানাটিতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আটক থাকতে হতো। আলা বার বার তার শর্তাধীন মুক্তিটিকে “অবমাননাকর” হিসেবে বর্ণনা করে এটির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন।

এমনকি তার “অর্ধেক স্বাধীনতা“টিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে কারাগারে বন্দী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা  গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুরসিকে পদচ্যুত করা ২০১৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে হওয়া বিরল সরকারবিরোধী বিক্ষোভের দমনাভিযানে কর্তৃপক্ষ তাকে আবার গ্রেপ্তার করেছিল। আলা ঐসব বিক্ষোভে অংশ না নিলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের রাতে “কারাকর্মকর্তারা তার পোশাক খুলে, চোখ বেঁধে তাকে বারবার লাথি-গুঁতো মেরে হুমকি ও অশ্রাব্য গালি দিয়েছিল,” অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে

একই দিন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিচারের আদালতে (এসএসএসপি) তার প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত হলে তার আইনজীবী মানবাধিকার সুরক্ষাকারী মোহাম্মদ আল-বাগেরকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার প্রতিও খারাপ আচরণ করা হয়েছিল।

উভয়কেই ‘’মিথ্যা খবর ছড়ানো,” ”একটি বে-আইনী সংস্থায় যোগদান,” “বিদেশী টাকা নেওয়া,” এবং“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার” এর বানোয়াট অভিযোগে একই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে বিচারিক আদালতটির আদেশে তাদের আটকাদেশ ৪৫ দিনের জন্যে নবায়ন করা হয়। তারপর থেকে তাদের ৪৫ দিনের মেয়াদোত্তীর্ণ আটকাদেশের নবায়ন ছাড়াই তারা দুজনই অবৈধভাবে আটক রয়েছেন।

“২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে বিচারিক আদালতটির আটকাদেশ নবায়নের আবেদন গৃহীত হওয়ার পর থেকে আলা আর কোন শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে না পারায় তার এবং তার সাথে্র অন্যজনের আটকাদেশটিকে অব্যাহত এবং (একই সাথে) বেআইনী করে তুলেছে,’’ জানিয়ে তার পরিবার আরো বলেছে:

ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি সাময়িক হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের অধিকার বাতিল করে না, বা তাদের পরামর্শ ও সুরক্ষার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হওয়াও উচিৎ নয়।

দমনাভিযান থেকেও মুক্তি নেই

কোভিড-১৯ মহামারী সত্ত্বেও মিশরে রাজনৈতিক বন্দীদের উপর চলমান দমনাভিযানের মধ্যে থামাথামির কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধের পদক্ষেপ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ১৫ জন রাজনীতিবিদ এবং সক্রিয় কর্মীসহ কিছু কয়েদীকে মুক্তি দিলেও শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ, বিক্ষোভ ও সমাবেশের অধিকার চর্চার কারণে  হাজার হাজার মানুষ এখনো কারাগারে রয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ৪,৫৩৪ টি কোভিড -১৯ এর নিশ্চিত ঘটনা রয়েছে এবং ৩১৭ জন মারা গেছে। দেশের জনাকীর্ণ কারাগারগুলিতে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির অভাব এধরনের পরিস্থিতিতে এই রোগটির বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হাজার হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আহবানের অংশ হিসাবে কায়রো ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটস স্টাডিজ গত ১৪ এপ্রিল টুইট করেছে:

#মিশর: #মিশরীয় সরকার একটি #সান্ধ্য আইন জারি করলেও এটি ক্ষমতার চেয়ে ৩০০% এরও বেশি ধারণ করা দেশের কয়েক ডজন জনাকীর্ণ জেলখানাগুলির দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছে!! #কোভিড১৯

এখানে আবেদনে স্বাক্ষর করুন:

রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার একাধিক আহ্বান সত্ত্বেও আটক এবং গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। ২০ এপ্রিল তারিখে রাজধানী কায়রো থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সংরক্ষিত প্রকৃতি ওয়াদি দেগলাতে ছবি তোলার সময় ব্লগার ওয়েল আব্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেসময় আব্বাস মিশরের আকর্ষণীয় পর্যটনের স্থানগুলিতে ভার্চুয়াল ভ্রমণের প্রস্তাব করা তার ফেসবুক পাতা গ্রহ মিশর ৩৬০ এর জন্যে ছবি তুলছিলেন। কয়েক ঘন্টা পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালে আব্বাস “মিথ্যা খবর ছড়ানো,” “একটি সন্ত্রাসী দলের সাথে জড়িত থাকা” এবং “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার”সহ বানোয়াট বিভিন্ন অভিযোগে সাত মাস কারাগারে কাটিয়েছিলেন

তিনি তার সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, “সক্রিয়তা বন্ধ করে দেওয়ার পরও আমি প্রাক্তন রাজনৈতিক কর্মী হওয়ায় আমার সাথে দুর্ব্যবহার ও বৈষম্য করা হয়েছে।”

সেনাবাহিনী প্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন ২০১৩ সালের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি আবদুলফাত্তাহ সিসির শাসনামলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ব্যর্থ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার আগে হাজার হাজার জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার ব্যবহার করতে গিয়ে কারাবরণ করেছে।

রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতরা প্রায়শই বলপূর্বক নিখোঁজ, নির্যাতন, প্রাক-বিচারে দীর্ঘসময় আটক থাকা এবং নির্জন কারাবাসের শিকার হতো। যাদের আসলে কারাগারে থাকার কথাই ছিল না এমন বন্দীদের এমনকি এই কোভিড-১৯ এর মতো স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যেও অগ্নিপরীক্ষা চলছে।

গ্লোবাল ভয়েসেসের অংশীদার ভিজ্যুয়ালাইজিং ইমপ্যাক্ট (প্রভাব কল্পনা করা) নির্মিত নীচের তথ্য-লেখচিত্রটির মাধ্যমে অনশনের শারীরবৃত্তীয় প্রভাবগুলি সম্পর্কে জানুন:

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .