উহান থেকে কোভিড-১৯ দিনলিপি: একটি ভুয়া প্রদর্শনী

Winston Chiu
Arif Innas

ইংরেজী

বাড়ির মধ্যে থাকা একটি বিড়াল। ছবির কৃতজ্ঞতা: এই জিয়াওমিং।

স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা নারীবাদী পণ্ডিত এই জিয়াওমিং এবং নারীবাদী কর্মী গুও জিং রচিত ধারাবাহিক দিনলিপির মধ্যে নীচের পোস্টটি নবম। দুজনই কোভিড -১৯ মহামারীর কেন্দ্রস্থল উহান শহরে বসবাস করছেন এখানে ধারাবাহিকটির প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়চতুর্থ, পঞ্চম,  ষষ্ঠ. সপ্তম এবং অষ্টম অংশের সংযোগ রয়েছে

কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক প্রভাব সম্পর্কে গ্লোবাল ভয়েসেসের বিশেষ কভারেজটি দেখুন।

এই কিস্তিটি ২০২০ সালের ৬ মার্চ থেকে ৮ মার্চ তারিখের মধ্যে লেখা হয়েছে। চীনা ভাষায় লেখা মূল দিনলিপিগুলি ম্যাটার নিউজে প্রকাশিত হয়েছে।

গুও জিং: ৬ মার্চ, ২০২০

কর্মকর্তারা কমিউনিটি পরিদর্শনে গেলে বাসিন্দারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে চিৎকার করেছে। (এই ছবিটি একটি ইউটিউব ভিডিও থেকে নেওয়া হয়েছে।)
জনগণের জীবিকা সুরক্ষার জন্যে অনেক পদক্ষেপ উপস্থাপন করা সহজ, কিন্তু সেগুলি বাস্তবায়ন করা কঠিন। গতকাল কেন্দ্রীয় সরকারের কোভিড -১৯ পরিদর্শন দল উহানের কিংশান এলাকার কুয়ুয়ান কমিউনিটি পরিদর্শনে গেলে কমিউনিটি কর্মীরা স্বেচ্ছাসেবকের বেশে এলাকায় মাংস ও শাকসবজি সরবরাহ করতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়। তারা তাদের জানালা দিয়ে চিৎকার করে বলেছে, “ভুয়া, ভুয়া, সবই আনুষ্ঠানিকতা [প্রদর্শনী]।” উহানের জনগণের এটাই প্রথম বিরক্তি প্রকাশ নয়।

গুও জিং: ৭ মার্চ, ২০২০

前天有捂汗人对形式主义喊出了“假–的”,昨天市–委书–记王–忠–林就提出要在广大市民中开展敢嗯教育,似乎是在回应表达不满的人。
在灾难中开展敢嗯教育也是史无前例
我们当然有很多人要敢嗯:一线的医护人员、环卫工、超市收银员、社区工作人员、志愿者等,他们在救助病人,他们在保障捂汗人民的基本生活。
为别人提供帮助的人也很少主动索要敢嗯。那到底是谁需要捂汗人的敢嗯呢?人民对真正为他们提供帮助的人不会吝啬敢嗯的。
有人发了一个链接可以输入地点了解周边感染新冠费盐的情况。湖北以外的城市早就可以查询相关的信息。捂汗今天终于也可以查询此类信息了。我点进去看了一下,早上,我住的地方1公里内有75个确诊病例,下午数字就变成了78。
দুদিন আগে উহানের কিছু লোক [জনগণের কাছে তথাকথিত সহায়তা সরবরাহ প্রদর্শনের]  একটি আনুষ্ঠানিকতার এর সামনে ‘ভুয়া’ বলে চিৎকার করেছিল। গতকাল উহানের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ওয়াং ঝংলিন উহানের নাগরিকদেরকে কীভাবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে ধন্যবাদ জানাতে হয় সেটা শিখিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। সম্প্রতি কিছু নাগরিক [সরকারের প্রতি] অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার পরে প্রতিক্রিয়া হিসেবে তার প্রস্তাবটি এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
আমার মনে হয় ইতিহাসে এই প্রথমবার কোন একটি একদলীয় রাষ্ট্র তার জনগণকে দুর্যোগের সময় তাদের দলকে ধন্যবাদ জানাতে বলেছে
অবশ্যই আমাদের চিকিৎসা দলের সদস্য, পরিচ্ছন্ন কর্মী, সুপারমার্কেটগুলির ক্যাশিয়ার, কমিউনিটি কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মতো ধন্যবাদ জানানোর অনেক লোক রয়েছে। তারা রোগীদের এবং আমাদের মৌলিক প্রয়োজনে সহায়তা করছে।
যারা অন্যদের সহায়তা করে তাদের খুব কমই অন্যদের কাছ থেকে ধন্যবাদ আশা করে। পৃথিবীর কোন লোকেরা উহানের জনগণের কাছ থেকে ধন্যবাদ প্রত্যাশা করে? যারা আমাদের সহায়তা করে তাদের ধন্যবাদ জানাতে আমরা কখনোই কুণ্ঠা বোধ করি না।
কেউ একজন আপনার ঠিকানার ভিত্তিতে আপনার আশেপাশের সংক্রমিতদের সংখ্যা খুঁজে বের করার একটি লিংক পাঠিয়েছে। অন্যান্য শহরের লোকেরা ইতোমধ্যে এই জাতীয় তথ্য অনুসন্ধান করে ফেলেছে। অবশেষে আমরা আজকে উহানে এটি করতে পেরেছি। আমি আজকে এই ওয়েবসাইটটিতে চেষ্টা করেছিলাম। আমি আজ সকালে যেখানে আছি তার এক কিলোমিটারের মধ্যে ৭৫টি মধ্যে নিশ্চিত ঘটনা রয়েছে। বিকেলের মধ্যে এটি ৭৮-এ পরিণত হয়েছে।

গুও জিং: ৮ মার্চ, ২০২০

৮ মার্চ নারী অধিকার উদযাপন করার ছুটির দিন। সেদিন বিশ্বজুড়ে নারী অধিকারকর্মীরা একত্রিত হয়ে কথা বলে। তবে এখন কোভিড-১৯ পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় নারীর অধিকার কর্মীদের প্রকাশ্য জমায়েতগুলিও প্রভাবিত হয়েছে। ইতালিতে নারী অধিকার কর্মীরা তাদের ধর্মঘটকে অন্তর্জালের মেঘ (ক্লাউড) সভায় পরিণত করেছে।
মহামারীটিই আমাদের কথা বলতে বাধা পাওয়ার একমাত্র কারণ নয়। ৯ মার্চ, ২০১৮ তারিখে ওয়েইবো এবং ওয়েক্সিনে থাকা নারীবাদী ভয়েসেসের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নারীবাদী কণ্ঠস্বর চীনে মহিলাদের অধিকারের পক্ষে সবচেয়ে প্রভাবশালী মঞ্চ হলেও নারী দিবসের পরে এর অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছু নারী অধিকার কর্মী এখনো নারীবাদী কণ্ঠস্বর অ্যাকাউন্টটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
আজ অনেক নেটনাগরিক গৃহ-সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রচারণা কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। কেউ কেউ বাইরে গিয়ে তাদের নিজেদের কমিউনিটিতে গৃহ-সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি যৌথ বিবৃতি সাঁটিয়ে দিয়েছে।
লকডাউনের অন্ধকার সময় জনগণ আলো এবং সংযোগের সন্ধান করে চলছে। পরিবর্তন আনার আকাঙ্ক্ষা কখনোই মুছে যায় না। আমাদের আশা প্রচণ্ড পরিমাণে শক্তি ধারণ করে যা যেকোন সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।
গতকাল আমি আমার ডায়েরিটি ওয়েইবো এবং উইচ্যাটে কয়েকবার পোস্ট করার চেষ্টা করেছি। হয় পোস্টটি আপলোড করা যায়নি নয়তো প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই তা মুছে ফেলা হয়েছে। আমি হতাশ হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, আমার ডায়েরিটি হয়তো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই আমি হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলাম। যাইহোক, কিছু লোক আমাকে গতকাল আমার ডায়েরিটি কেন দেখেননি তা জিজ্ঞাসা করে আমাকে ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছে। মুছে ফেলা ডায়েরিটির লিঙ্কের নীচে এটি দেখতে পাচ্ছে না বলে তাদের কেউ কেউ বার্তা লিখে রেখেছিল। লোকেরা আমার ডায়েরিগুলি পড়ছে, আর তাই আমাকে অবশ্যই কথা বলার জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে
গতরাতে আমি গ্রামে হাঁটার স্বপ্ন দেখেতে দেখতে হঠাৎ করে আমার জুনিয়র হাই স্কুলে ফিরে গিয়ে ক্লাসে উপস্থিত হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু ক্লাসগুলি এড়িয়ে আমি আর গ্রামে হাঁটতে যেতে পারছিলাম না। আমি স্কুলেই আটকা পড়ে গিয়েছিলাম।

এই জিয়াওমিং: ৮ মার্চ, ২০২০

আমি সংক্রমিত না হলেও আমি মহামারী সংক্রান্ত সংবাদে আটকা পড়ে গেছি। আমার ডেস্কের সামনে বসলে আমি কেবল নোভেল করোনা ভাইরাসটির কথাই ভাবতে পারি। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম, সম্মুখ, পিছন, উপর এবং নীচ সব দিক থেকে আসা ভাইরাস সম্পর্কিত সংবাদগুলি ড্যান্ডেলিয়নের মতো প্রস্ফুটিত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আমি দিক-বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। মধ্যরাতের দিকে, আমি [কোন বিষয়ে মনোযোগ দিতে না পারার জন্যে] নিজেকে দোষ দিয়ে মাথার মধ্যে ড্যান্ডেলিয়ন নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমি ভূত, রক্ত ​​এবং গোঙানির স্বপ্ন দেখেছিলাম…
প্রতিদিন আমার মনে হয় যেন আমার হৃৎপিণ্ডে আগুন জ্বলছে। এটা তাড়াহুড়ো করে পাওয়া কোন অনুভূতি নয়। আমার বয়সে আমি দ্রুত কোন কিছু করার প্রয়োজন বোধ করি না – উহানের আমরা যেমন বলে থাকি, এত তাড়াহুড়ো করার দরকারটাই বা কী? (আমরা) কী যুদ্ধের ময়দানে যাচ্ছি? আমার হৃৎপিণ্ডের আগুনটি এই আগাছার মতো হঠাৎ বিস্তৃত করো্না ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। এটা কীভাবে আমাকে জ্বালায় সেই অনুভূতিটি ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। তবে আমি দুয়েকটি গল্প বলতে পারি,
আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছিল যে তার এক স্কুল সহপাঠী এবং তার স্ত্রী খুব অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গণমাধ্যম গল্পের সেই অংশটি কাভার করেছিল। একে অপরের যত্ন নিতে পারার জন্যে তারা একই ঘরে থাকতে চাইলেও চিকিৎসক তাতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত জীবন ও মৃত্যু তাদের আলাদা করে দেয়। তার স্ত্রী তার জন্যে তার সেলফোনে কী বার্তা রেখে গিয়েছিল তিনি তা  জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের সংস্থাটি তার সেলফোনটি ছুঁড়ে ফেলে দেয়! তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও তার ফুসফুস গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ভাবার চেষ্টা করুন: দুর্যোগের পরে ফিরে এসে তার এককালের সুখের বাড়িটি যে খালি ঘরে পরিণত হয়েছে তা জানার পর সে কীভাবে এই বাড়িটির দৃশ্য সহ্য করতে পারবে!
আরেক বন্ধু আমাকে বলেছিল যে পরবর্তীতে চিকিৎসা ব্যয় এবং পোড়ানোর জন্যে প্রচুর টাকা পরিশোধ করতে হবে। মৃত্যুর সময় পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া একজন অসুস্থ রোগীর পরিবারের সদস্য আমাকে বলেছিল যে চার দিনের চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে হাসপাতাল ও শেষকৃত্যের স্থান থেকে ফোন করে পরিবারটিকে ৬০,০০০ থেকে ৭০,০০০ ইউয়ান (প্রায় ৭ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা) পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল। ২০ দিনের সামান্য বেশি সময়ের মধ্যে পরিবারটির তিনজন সদস্য মারা গিয়েছিল। কতো হৃদয়বিদারক!