বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

হংকংয়ের প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সমর্থন দেয়া ভিয়েতনামিজ-আমেরিকান সংগীতজ্ঞের গান ভাইরাল

”সি অব ব্ল্যাক’ গানের ভিডিও’র স্ক্রিণশট যা ২ জুলাই ২০১৯ এ আপলোড করা হয়। ইউটিউবে আপলোড করেছেন এসবিটিএন। 

ভিয়েতনামিজ-আমেরিকান সুরকার একটি গান লিখেছেন হংকংয়ের সাম্প্রতিক প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভে অনুপ্রাণিত হয়ে। ইতিমধ্যেই গানটি ভিয়েতনাম এবং হংকংয়ের নাগরিকদের কাছে ভাইরাল হয়ে উঠেছে।  

২০১৯ সালের জুলাইয়ের শুরুতে গানটি প্রথম প্রচার করা হয়। হংকংয়ে হয়ে যাওয়া প্রতিবাদ যার অন্যতম কারণ ছিল চীন কর্তৃপক্ষের চাপানো প্রত্যর্পণ বিলটি বাতিল করা যেখানে বলা আছে চীন চাইলে সন্দেহভাজন অপরাধীকে হংকং থেকে নিজ ভূখণ্ডে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে। একই ভাবে অ্যাক্টিভিস্ট এমনকি সাংবাদিকদেরও একই ভাবে গ্রেপ্তার করতে পারবে। এ উদ্যোগটি মুক্ত মতপ্রকাশধারীদের জন্য ভয়ংকর। 

ট্রুক হো, জনপ্রিয় একজন সংগীতজ্ঞ এবং সুরকার হিসেবে ভিয়েতনামে বেশ পরিচিত। তিনি কিভাবে এ বিক্ষোভ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গানটি তৈরি করেছেন সে বিষয়ে ফেসবুকে নিজের মতামত জানিয়েছেন: 

Nhớ thứ Bảy tuần rồi sau khi xem tin tức về Hong Kong, Trúc Hồ đã cầm guitar lên và viết những note nhạc đầu tiên cho bài Hong Kong, Sea of black

গত শনিবার যখন আমি হংকংয়ের বিশাল বিক্ষোভটি দেখছিলাম তখনই গিটার নিয়ে বসি এবং লিখে ফেলি ‘সি অব ব্ল্যাক’ গানের প্রথম অংশ।

২০১৪ সালের অক্টোবরে হংকংয়ে হওয়া আমব্রেলা মুভমেন্টে ভিয়েতনামিজ-আমেরিকান সংগীতজ্ঞ ট্রুক হো (ডানে)। ছবিটি ট্রুক হো’র ফেসবুক পেজে থেকে অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।  

গানের কথার মধ্যে থাকা ‘‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র যা আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন’’ এবং ‘‘পুরো বিশ্ব তোমাদের সবগুলো পদক্ষেপ দেখছে’’ লাইনগুলোই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের পক্ষে পুরো বার্তা দিয়েছে।

ট্রুক হো মিডিয়াতে কাজ করেছেন এবং তিনি মানবাধিকার বিষয়ে আগ্রহী। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে ২০১৪ সালে হংকংয়ে হয়ে যাওয়া আমব্রেলা মুভমেন্ট নামের বিশাল র‌্যালীর কথা উল্লেখ করেছেন:  

Sea of Black được viết từ năm 2014, khi đó qua Hong Kong để ủng hộ cách mang Dù Vàng …
Freedom, Democracy is all that we need viết từ những ngày đó… đến hôm nay mới hoàn thành

২০১৪ সালে যখন আমি হংকংয়ে গিয়ে আমব্রেলা মুভমেন্টকে সমর্থন করেছি তখন থেকেই ‘সি অব ব্ল্যাক’র যাত্রা শুরু হয়েছে। ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন’ সেসব দিনগুলোর কার্যক্রম থেকেই এসেছে। গানটি সম্পন্ন হয়েছে নতুন এ প্রতিবাদের সময়ে।

গানটি ইতিমধ্যে দারুণভাবে হংকংয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শেয়ার হয়েছে। এছাড়াও হংকংয়ের রেডডিটের মতো অনলাইন ফোরাম এলআইএইচকেজিতে এ গানটি শেয়ার হয়েছে। এ মাধ্যমটিতে শুরু থেকেই এ প্রত্যর্পণ বিলের নানা হালনাগাদ জানানো হচ্ছে। 

ইউটিউবে গানটিতে হংকংয়ের একজন নাগরিক লিখেছেন:

একজন হংকংয়ের বাসিন্দা হিসেবে আমি সত্যিই মুগ্ধ। এটাই প্রথম আমাদের প্রতিবাদকে সমর্থন গিয়ে পাশ্ববর্তী প্রতিবেশি দেশের কেউ গান লিখলো। ধন্যবাদ আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার মনোবল বাড়ানোর জন্য। 

হংকংয়ের অন্য একজন নাগরিক আইনপ্রণেতা র‌্যামন্ড চ্যানও গানটি শেয়ার করেছেন। 

ভিয়েতানমে জন্মগ্রহণ করা ট্রুক হো ভিয়েতনাম যুদ্ধেল পর কমিউনিস্ট গ্রুপের দায়িত্ব নেয়ার পর দেশ ছাড়েন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং সাইগন ব্রডকাস্টিং টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (এসবিটিএন) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক ভিয়েতনামের নানা খবর নিয়ে কাজ করে। একজন সাবেক সংগীত বিষয়ক প্রযোজক হিসেবে ট্রুক হো সংগীতকে ভিয়েতনামের মানবাধিকারের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরার কাজ করেন।

২০১২ সালে তিনি ‘‘মিলিয়ন হার্টস’’ নামের একটি গান প্রকাশ করেন ভিয়েতনামের ডিউ চ্যা এবং টা পং টানসহ ব্লগারদের জেলে নেয়ার প্রতিবাদে করা একটি উদ্যোগকে সমর্থন করে।  

হংকংয়ের নেতা ক্যারি ল্যাম যতক্ষনে জানিয়েছেন প্রত্যর্পণ বিলটি ইতিমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে ততক্ষণে এ বিলের প্রতিবাদে কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নিজেদের দাবির পক্ষে রাস্তায় নেমেছেন রাজনীতির নতুন শুরু এবং ল্যামের পদত্যাগের দাবিতে।

মিউজিক ভিডিওটি দেখুন:

1 টি মন্তব্য

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .