- Global Voices বাংলা ভার্সন - https://bn.globalvoices.org -

এনিমেশন এ ব্যাখ্যা করা হয়েছে কী ভাবে মায়ানমারের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বাক স্বাধীনতাকে খর্ব করছে

বিষয়বস্তু: পূর্ব এশিয়া, মায়ানমার (বার্মা), আইন, চলচ্চিত্র, নাগরিক মাধ্যম, প্রচার মাধ্যম ও সাংবাদিকতা, প্রতিবাদ, বাক স্বাধীনতা, রাজনীতি
[1]

মায়ানমার ডিজিটাল রাইটস ফোরাম এ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। ছবি এনগেজ মিডিয়ার

একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের এনিমেশন [2] মায়ানমারের নাগরিকদের দেশটির টেলিযোগাযোগ আইন সম্বন্ধে ধারণা প্রদান করছে এবং কী ভাবে এই আইন তাদের বাক স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করছে সে বিষয়ে সচেতন করছে।

এনগেজ মিডিয়া [3] ও মায়ানমারের বেশ কয়েকটি ডিজিটাল অধিকার কর্মীদের দলের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত চলচ্চিত্র আর ইউ রেডি (তুমি কি প্রস্তুত) ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে [4] মায়ানমারের ইয়াঙ্গুনে মায়ানমার ডিজিটাল রাইটস ফোরামে প্রথম প্রদর্শিত হয়। যারা এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনে সাহায্য করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম মায়ানমার আইসিটি ফর ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং ফানডিয়ার ইনোভেশন ল্যাব।

এনগেজ মিডিয়া বলছে যে এই এনিমেশন “মায়ানমারের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি আইনের প্রভাব এবং কী ভাবে এই আইনের মাধ্যমে নাগরিকদের ডিজিটাল অধিকার খর্ব করা হচ্ছে সে বিষয়ে বর্ণনা করছে”, উক্ত প্রতিষ্ঠান সাথে আরো যোগ করেছে:

এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন করছে ভিন্নমত এড়ানো এবং দমন করার জন্য সরকার কী ভাবে এই আইনের অপব্যবহার করেছে।

ভিন্নমত দমন করার ক্ষেত্রে ক্ষমতাশালীরা প্রায়শ এই আইনের ব্যবহার করে থাকে যার অধীনে প্রায় ১০০টি মামলা করা হয়েছে, মত প্রকাশের বিরুদ্ধে এর কার্যকরী প্রভাব সর্বজনবিদিত।

এই চলচ্চিত্র আইনের ৬৬(ড) ধারার প্রতি মনোযোগ প্রদান করেছে, যা অন্য কারো ক্ষেত্রে বল প্রয়োগের মাধ্যমে কোন কিছু আদায় করা থেকে, কাউকে বিরক্ত করা ও অযৌক্তিক প্রভাব বিস্তারের করার চেষ্টার মত বিষয় সহ সকল বিষয়কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে। ২০১৩ সালে এই আইনটি বিতর্কিত এক আইনে পরিণত হয়, কারণ সে সময় থেকে এটি সমালোচক এবং সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর জন্য সরকার ব্যবহার করা শুরু করে। এর হেঁয়ালিপূর্ণ বাক্য এবং এই আইনের মাধ্যমে প্রদান করা কঠোর সাজা সাধারণ নাগরিকদের চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আইনের ৬৬(ড) ধারার যা লেখা [5] আছে এখানে তা তুলে ধরা হল:

৬৬(ড) ধারায় নিচের যে কোন একটি অপরাধ সম্পাদন হলে অপরাধীর ন্যূন্যতম ৩ বছরের জেল বা জরিমানা কিংবা উভয় ধরনের শাস্তি হতে পারে ।(ড) যে কোন টেলিযোগাযোগ (তথ্য প্রযুক্তি) মাধ্যম ব্যবহার করে যদি কেউ বল প্রয়োগের মাধ্যমে কিছু আদায় করা, নিগৃহীত করা, ভুলক্রমে নিবৃত করা, কারো বিরুদ্ধে নিন্দা রটানো, বিরক্তি উৎপাদন করা, অযৌক্তিক ভাবে প্রভাব বিস্তার করা অথবা হুমকি প্রদান করার ক্ষেত্রে।

২০১৭ সালে এই আইনের সামান্য সংশোধন করা হয়, কিন্তু মানবাধিকার দলগুলো বলছে এই আইন বিপজ্জনক অনেক বিষয় উল্লেখ করতে ব্যার্থ হয়েছে, তরুণদের এক দল আথান [6], আইনের ৬৬ (ড) ধারার বিলুপ্তি টানার ক্ষেত্রে এই এনিমেশন এর গুরুত্ব স্বীকার করে [7] নিচ্ছে:

২০১৭ সালে টেলিযোগাযোগ আইন এর সংশোধন এর পরে এই আইনের কোন কার্যকরী পরিবর্তন ঘটেনি। এখনো আইনের এই ধারায় ৭০টি মামলা করা হয়েছে। আর ইউ রেডি নামের চলচ্চিত্রের ৬৬ (ড) এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে মনোযোগ প্রদান করেছে আর এটি টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনে কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারবে।

নীচে এই চলচ্চিত্রটি [2] দেখতে পাবেন: