- Global Voices বাংলা ভার্সন - https://bn.globalvoices.org -

নেট-নাগরিক প্রতিবেদন: ফেসবুকের কাছে জবাব চাইছে সারা বিশ্ব

বিষয়বস্তু: ভিয়েতনাম, মায়ানমার (বার্মা), যুক্তরাষ্ট্র, শ্রীলন্কা, নাগরিক মাধ্যম, মানবাধিকার

“ফেসবুক গ্রহ নাকি পৃথিবী গ্রহ?” পল বাটলারের তৈরী ২০১০ সালে ফেসবুকের সামাজিক গতিবিধির মানচিত্র।

অ্যাডভক্স নেট-নাগরিক প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট অধিকারগুলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, সমস্যা থেকে উত্তরণ এবং উদীয়মান প্রবণতাগুলির একটি আন্তর্জাতিক আলোকপাত উপস্থাপন করে।

ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ এই সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের সামনে শুনানির মুখোমুখি হলে সারা বিশ্বের ডিজিটাল মানবাধিকার সমর্থকরা তাদের নিজ নিজ সাক্ষ্য প্রকাশ্যে ভাগাভাগি করেছে যাতে এই মঞ্চে লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীর ঘৃণা, বৈষম্য এবং সহিংসতার হুমকির অভিজ্ঞতা ভাষা পেয়েছে।

শ্রীলংকার সুশীল সমাজের গোষ্ঠীগুলি কোম্পানিটি তার নিজস্ব “সম্প্রদায়গত মান” বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে এমন একাধিক দৃষ্টান্তের উল্লেখ করে জুকারবার্গকে একটি খোলাচিঠি পাঠিয়েছে [1]। চিঠিটিতে শ্রীলংকার গৃহযুদ্ধের উপর জোর দেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৯ সালে যুদ্ধটি শেষ হলেও তা থেকে দেশটি এখনও কাটিয়ে উঠছে।

লেখকবৃন্দ মধ্য শ্রীলংকায় সহিংস ধর্মীয় দাঙ্গা [2]র সময় ভাগাভাগি করা “এরা সব কুকুর, তাই এমনকি একটি শিশুকেও ছাড় না দিয়ে সব মুসলমানদের হত্যা” করার আহ্বান জানানো ২০১৮ সালের মার্চ মাসের একটি ফেসবুক পোস্ট উদ্ধৃত করেছে।, একটি শিশু এমনকি একটি শিশু বোকা ছাড়া, কারণ তারা কুকুর বলা হয়।বহুবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও পোস্টটি ফেসবুকে ছয় দিন টিকে ছিল, যেখানে কোম্পানিটি প্রথমবার উত্তর দিয়েছিল যে এই পোস্টটি তার সম্প্রদায়গত মান লঙ্ঘন করেনি।

আলাদা একটি খোলা চিঠিতে ভিয়েতনামের মানবাধিকার [3] সমর্থকরা সাধারণভাবে জিজ্ঞাসা করেছে: “ফেসবুক কি অভিব্যক্তি দমন অভিযান পরিচালনাকারী সরকারের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে চলছে?”

গোষ্ঠীটি ভিয়েতনামের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকের বৈশ্বিক নীতি ব্যবস্থাপনার প্রধান মনিকা বিকার্ট সাক্ষাত করে বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ এবং অপসারণের মধ্যে সমন্বয় সাধনে তার কথিত সম্মতি প্রদানের কথা উল্লেখ করেছে। তারা কিভাবে অনলাইনে ট্রল বা কু-তর্ক সৃষ্টিকারী ভিয়েতনামী সরকারের হাজার হাজার “সাইবার সেনা” ফেসবুকের মঞ্চ ও সরঞ্জামকে কাজে লাগিয়েছে এবং “রাজনৈতিক কর্মীদের অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে সমন্বিত গণ-অভিযোগ পরিচালনার পর ফেসবুক সেসব অ্যাকাউন্ট এবং পাতাগুলি নামিয়ে ফেলার পর তাদের সাফল্য উদযাপন করে” সেটাও বর্ণনা করেছে।

মিয়ানমারের সুশীল সমাজের সমর্থকরা ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হামলার চূড়ান্ত সঙ্কটের সময় দৃঢ় প্রবৃত্তির উদাহরণ [4] হিসেবে জুকারবার্গ মিয়ানমারে কোম্পানির কাজকে স্থগিত করে রাখায় ফেসবুককে তিরস্কার করেছে।

গোষ্ঠীটি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার উস্কানি প্রতিরোধে ফেসবুকের প্রচেষ্টাকে “কার্যকরী নমনীয়তার একেবারে বিপরীত” অভিহিত করে বলেছে যে কোম্পানিটি “পদ্ধতিগত সমাধানে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়োজিত করার ক্ষেত্রে শিথিলতা এবং স্বচ্ছতার অভাব” প্রদর্শন করেছে।

এই প্রকৃতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্র থেকেও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বিজ্ঞানী, অধিকার কর্মী ও সংগঠকদের একটি নেটওয়ার্ক কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনের জন্যে তথ্য ফেসবুকের মঞ্চ এবং বিজ্ঞাপন প্রযুক্তিতে বর্ণবাদী ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রমাণের [5] প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে [6]। গোষ্ঠীটি গবেষকরা ফেসবুককে “জনস্বার্থের পরিষেবা”র জন্যে অধ্যয়ন করতে পারার জন্যে তাদের ডেটা একটি “প্রকাশ্য ডেটা ট্রাস্ট” জমা রাখার এবং তাদের পণ্য ও প্রকৌশল দলে আরো বেশি করে আফ্রিকীয়-আমেরিকানদের নিয়োগ করার অনুরোধ জানিয়েছে।

শুনানির একটি ব্যাপক বিস্তৃত প্রতিক্রিয়াতে ফেসবুক বিজ্ঞাপন এবং পাতাগুলি [7]তে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির এবং মঞ্চটিতে স্বাধীন গবেষণাকে তথ্য প্রদানের জন্যে শিক্ষাগত গবেষকদের [8] অভ্যন্তরীণ তথ্যে আরো বেশি প্রবেশাধিকারের সুযোগ দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। এই ব্যবস্থাগুলি উপরের চিঠিগুলিতে উত্থাপিত এসব তীব্র সমস্যার উন্নয়ন ঘটাতে সহায়তা করবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।

ভিয়েতনামে ৬জন রাজনৈতিক কর্মীর কঠোর কারাদণ্ড

হ্যানয়ে (রাজধানী) একদিনের একটি বিচারের পর ছয়জন রাজনৈতিক কর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে [9]  যাদের একজন ছাড়া সবাই  ব্লগমণ্ডলে সক্রিয় ছিলেন- পরীক্ষা করার পর তারা বিদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। তাদের সাত থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারা বিগত বছরগুলিতে ভিয়েতনামের একদলীয় রাষ্ট্রের দেয়া কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। ভিয়েত ট্যান প্রযোজিত একটি পডকাস্ট লোয়া [9] জানিয়েছে রাজনৈতিক কর্মী ত্রুয়ং মিনহ দেআচ্ছেতে আদালতে বলেছেন, “আমার কোন অনুশোচনা নেই। আজ তুমি আমাকে বিচারের মুখোমুখি করেছো, কিন্তু কাল হয়তো তুমি বিচারের সম্মুখীন হবে।”

অধিকার সুরক্ষক আহমেদ মনসুর আমীরাতের আদালতে হাজির

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আমীরাতের মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মী আহমদ মনসুরকে গ্রেপ্তার করে আটক রাখার এক বছরেরও বেশি সময় পরে একটি শুনানির জন্যে শেষ পর্যন্ত আদালতে  হাজির হয়েছেন [10]। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে অন্তরীণ [11] রাখা হয়েছিল। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে কিনা অথবা আদালতে থাকা মামলাগুলোতে এ পর্যন্ত কী ঘটেছে তা এখনো প্রকাশ্যে জানা যায়নি [12]। কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে সামাজিক মিডিয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করে “জাতীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা”র দায়ে অভিযোগ এনেছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ কৌতুক মেনে নিতে পারে না

চীনের কর্তৃপক্ষ বিষয়বস্তু “অশ্লীল” এবং “বস্তাপচা” হয়ে ওঠার যুক্তি দেখিয়ে কৌতুক এবং ধাঁধাঁর একটি জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশান নিহানশেকুকে  নিষিদ্ধের একটি আদেশ প্রদান করেছে [13]। নিহান ব্যবহারকারীদেরকে মাল্টিমিডিয়া ফরম্যাটে কৌতুক ও ধাঁধাঁ জমা এবং অন্যদের মন্তব্য করার ও পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। নিহিনের মাতৃ প্রতিষ্ঠান তৌতিয়াও এর প্রধান নির্বাহী ঝাং ইমিং প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে তৌতিয়ার প্রাক-প্রদর্শনী কর্মীসংখ্যা ৬ থেকে ১০ হাজারে [14] উন্নীত করে নিজস্ব সেন্সর ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্যামব্রিজ এ্যানালিটিকার অপব্যবহারের শিকার ১০ লাখেরও বেশি ইন্দোনেশীয়

এপ্রিলের ৫ তারিখের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি [15]তে ফেসবুক ঘোষণা করেছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি প্রচারাভিযানের পক্ষে কাজ করার জন্যে ক্যামব্রিজ এ্যানালিটিকা ১০ লক্ষেরও বেশি ইন্দোনেশীয়র ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করে ব্যবহার করে থাকতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী বলেছেন দেশব্যাপী কর্মকর্তারা এসব ব্যক্তিগত তথ্য কাজে লাগানো বা অপব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ পেলে তিনি ফেসবুক ব্লক করে দিতে দ্বিধাবোধ করবেন না [16]

গুয়াতেমালাবাসীদের সামাজিক ক্ষোভ জাতিসংঘের দায়মুক্তি তদন্তকারীকে আক্রমণ করেছে

দি ইন্টারসেপ্ট (হস্তক্ষেপ) গুয়েতেমালায় রাষ্ট্রপতি জিমির মোরালেসের দুর্নীতি এবং প্রচারণার অর্থায়ন বিষয়ে জাতিসংঘ কমিশনের তদন্তকার্য নিয়ে আধা-পেশাদার ইন্টারনেটে ট্রল বা কু-তর্ক সৃষ্টিকারীদের কার্যক্রমের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন [17] প্রকাশ করেছে। বিগত কয়েক বছর থেকে এই কমিশন পরিচালনাকারী কলম্বীয় বিচারক ইভান ভেলাসাকিজ মূলতঃ এই সমন্বিত রাজনৈতিক হয়রানী এবং অনলাইন মিথ্যা তথ্য অভিযানটির প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছেন।

মার্কিন হোমল্যান্ড নিরাপত্তা সংস্থার সাংবাদিকদের নিরীক্ষণের পরিকল্পনা জোরদার

মার্কিন হোমল্যান্ড নিরাপত্তা সংস্থা সাংবাদিক ও মিডিয়ার উপর প্রভাব বিস্তারকারীদের কাভারেজ এবং অনলাইন কার্যক্রমগুলি অনুসরণ করার জন্যে  তাদের ডাটাবেজ তৈরী করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে [18]। ডাটাবেজটিতে “সাংবাদিক, সম্পাদক, সংবাদদাতা, সামাজিক মিডিয়া প্রভাবক, ব্লগার”দের অন্তর্ভূক্তির বিষয় কথিত রয়েছে [19] এবং তা “হোমল্যান্ড নিরাপত্তা বিভাগের যে কোন এবং সব অথবা কোন একটি বিশেষ ইভেন্টের সাথে সংশ্লিষ্ট মিডিয়া কভারেজ চিহ্নিত করার চেষ্টা করবে।”

টুইটার ‘সন্ত্রাসবাদী বিষয়বস্তু'র জন্যে ১২ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে

টুইটার তার ১২তম ষান্মাসিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে [20] ঘোষণা করেছে যে ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে “সন্ত্রাসী বিষয়বস্তু”র কারণে তারা ১২ লক্ষের বেশি অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। ২০১৭ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালে এটি একই কারণে ২ লক্ষ ৭৪ হাজারেরও বেশি অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। কোম্পানিটির ব্লগ [20] অনুসারে এই অ্যাকাউন্টগুলির ৯৩% “অভ্যন্তরীণ, মালিকানাধীন সরঞ্জামগুলি দ্বারা চিহ্নিত” (অর্থাৎ মানুষ কর্তৃক নয়), আর স্থগিত অ্যাকাউন্টগুলির মোট ০.২% এরও কম ছিল কোম্পানির কাছে সরকারের অভিযুক্ত।

নতুন গবেষণা

নেট-নাগরিক প্রতিবেদনের গ্রাহক হোন [25]