বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

রোবট ওয়েটারের গলায় ওড়না, সমালোচনার মুখে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ

ওড়না পরে খাবার পরিবেশন করছে রোবট। ছবি শরীফ সালাদিন সরকারের সৌজন্যে ফেসবুক থেকে। অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত।

বাংলাদেশের একটি রেস্টুরেন্ট কয়েকদিন আগে সংবাদপত্রের হেডলাইনে স্থান পেয়েছিল রোবট ব্যবহার করে খাবার পরিবেশন করে। এখন এটি আবারো সংবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে – একটি রোবট ওয়েটারের গলায় ওড়না দিয়ে রেস্টুরেন্টটি সমালোচনার মুখে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন করছে ‘নারী’ রোবটটিকে ওড়না পরানোর পেছনে রেস্টুরেন্ট মালিকদের উদ্দেশ্য কি ছিল। এই বিতর্ক ক্রমশঃ বাংলাদেশে রক্ষণশীলতা ও পর্দা প্রথা নিয়ে আলোচনায় মোড় নিয়েছে।

লিঙ্গ নির্ধারিত রোবট

একটি ভিডিওতে নাগরিক সাংবাদিক নাজমুল শাহাদাত ব্যাখ্যা করেছেন রোবটগুলো কি কি করে। ভিডিওতে দেখা যায় যে নারীর শরীরের অবয়বসহ রোবটটি ক্যাফে চালু হবার পরপর ওড়না ছাড়াই কাজ করছিল।

উক্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, রেস্টুরেন্টে দুটি রোবট খাবার পরিবেশন করে। একটি পুরুষ রোবট এবং আরেকটি নারী রোবট। প্রতিটি রোবট এর ওজন প্রায় ৩০ কিলোগ্রাম এবং উচ্চতা এক দশমিক ছয় মিটার। প্রতিটি রোবটের মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা এবং ব্যাটারিতে ১৮ ঘণ্টা একনাগাড়ে চলতে পারে।

বাংলাদেশী সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই প্রযুক্তিগত আলোচনা বাদ দিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে সেই বিষয় নিয়ে যে নারী রোবটটিকে দেখা গেছে ওড়না পরে খাবার পরিবেশন করতে। এ দেশে ওড়না সাধারণতঃ বয়ঃসন্ধিকাল থেকে মোটামুটি সব মেয়েরাই পরে। এটি নারীদের পর্দা প্রথার মধ্যে পরে যা মুসলমান কি হিন্দু যে কোন পরিবারেই ধর্মীয় এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়। এটির কাজ দুটি – মেয়েদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা এবং তাদের শরীরের অবয়ব ঢাকার কাজটি করা।

ইশরাত করিম ইভ ফেসবুকে লিখেছেন:

অবিশ্বাস্য! আমরা এ কেমন সমাজে বসবাস করি। নারীর প্রতি কোনো ধরনের সম্মান নেই। তারা একটি রোবটের গলায়ও ওড়না তুলে দেয়।

পিতৃতান্ত্রিক সমাজের জন্য এটা লজ্জাকর।

এ বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশের প্রাইমারী শিক্ষার বইয়ে পরিবর্তন আনা হয় এবং সেখানে বাংলা শব্দ ‘ও’ এর উদাহরণ হিসেবে “ওড়না” যোগ করা (আগে ছিল ‘ওল’) হলে তা বেশ সমালোচনার মধ্যে পরে। তখন নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি উপসম্পাদকীয়তে একে উল্লেখ করা হয় উদাহরণ হিসেবে এই উপসংহারে আসার জন্যে যে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে সবকিছুর ইসলামিকরণ করা হচ্ছে।

ওদিকে নারী রোবটটিকে আলাদা করার উদ্দেশ্যই ওড়না পরানো হয়েছে বলে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ সংবাদ মাধ্যম প্রিয় ডটকমকে জানিয়েছেন। মায়েশা আরেফিন ফেইসবুকে জবাব দিয়েছেন:

আমাদের সমাজে রোবট বেচারাদের ও ওড়না পরিধান করতে হয়! ওড়না এর আগে রোবট নিশ্চয় একটা সাধারণ উন্নতমানের যন্ত্র ছিল তবে ওড়না পেঁচানোর পর এটা মেয়ে রোবট হয়ে গেছে, তার মানে রোবটের লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয়ে গেল শুধু মাত্র ওড়নার কারনে…

তবে কি সমাজের চোখ রোবটের বক্ষেও যায়?? /

মায়েশা আরেফিন এর পোস্ট শেয়ার দিয়ে শাহানা হানিফ মন্তব্য করেছেন:

we all know why that robot has a scarf/orna around the chest. purush shashito shomaje emoni hoi #modestrobot #bukdhakarobot #sarcasm

আমরা সবাই জানি কেন রোবটের গলায় ওড়না পরানো হয়েছে। পুরুষ শাসিত সমাজে এমনই হয়।

কেউ কেউ আবার ওড়না পড়ানোতে সায় দিয়েছেন। শেখ তানজীম আহমদ ফেইসবুকে লিখেছেন:

এ কেমন কথা? একটা মেয়ে রোবট (রোবট তো রোবটই) ওড়না পরেছে তা এতে ‘রোষানল’ এর কী আছে? ওড়না না পরে বিকিনি পরলে কি প্রগতিশীল রোবট হয়ে যেতো?

বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ। ধর্মীয় বিধিবিধানের দোহাই দিয়ে অনেক নারীকে পর্দা করতে বাধ্য করা হয়। ‘ওই ছেড়ি তোর ওড়না কই’ নামের ফেইসবুক পেইজ খুলে নারীদের পর্দা করতে বলা হয়। আর তাই হতাশ হয়ে সাংবাদিক ইশরাত জাহান উর্মি এনটিভি অনলাইনে লিখেছেন:

তাই রোবটের গলায় ওড়না পেঁচানো নিয়ে কেন জানি খুব বিস্ময় কাজ করেনি আমার। এইটা কেন স্বাভাবিক নয়? যে দেশে পাঠ্যবইয়ে ‘ও’ তে ‘ওড়না’ পরানোর নিয়ম চালু হয়, যে দেশে গর্ব করা জিডিপি গ্রোথে অর্ধেক সমান অবদান রাখার পরও প্রতিনিয়ত কর্মক্ষেত্রে, গণপরিবহনে নারীকে হয়রানির শিকার হতে হয়, নিজেকে ‘কাভার্ড’ করতে করতে যে দেশের গ্রামের, শহরের মেয়েরা ক্রমাগত মমিতে পরিণত হয়, সে দেশে রোবটের গলায় ওড়না নিয়ে কী বলার থাকতে পারে আমি জানি না।

এদিকে রোবট নয়, নারীদের যুগ যুগ ধরে ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখার বিষয়ে ইঙ্গিত করে আনা নাসরীন লিখেছেন:

রোবটের গায়ে ওড়না জড়ানোতে দেখতে পাচ্ছি আমাদের অনেকেরই টনক নড়েছে; আমাদের নৈতিকতার মানদণ্ডে এটাকে খুব আপত্তিকর বলে মনে হয়েছে। তাই অনেককেই দেখছি, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে বিকৃত মানসিকতার বলে দাবি করছে। অথচ রক্ত মানুষকে যখন এই বাড়তি কাপড়ের টুকরোয় মুড়িয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে যুগ যুগ ধরে, যা চলছে এখনও তখন কিন্তু আমাদের মনেই হয়নি বিকৃতি, মনে হয়নি এভাবে মানুষকে অসম্মান করা হয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .