বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় আইসিসি’র দ্বি-স্তরের ক্রিকেট কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে

The winning moment! #BANvAUS

A post shared by Bangladesh Cricket : Tigers (@bangladeshtigers) on

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের জয়ের মুহূর্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি নেয়া হয়েছে।

৩০ আগস্ট ২০১৭ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটের নবীন দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ২০ রানে জয় লাভ করে। আর এর আগের দিনই ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ক্রিকেটের আরেক শক্তিশালী দল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়।

এই দু’টি দলের জয় নিয়ে আলোড়িত ক্রিকেট বিশ্ব। শচিন টেন্ডুলকর, মাইকেল ক্লার্ক, বীরেন্দ্রর শেবাগ, মাহেলা জয়াবর্ধনে-সহ আরো টুইট করে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সচিন টেন্ডুলকর লিখেছেন:

দুই দিনে দুটি চমকে দেওয়া জয়। বাংলাদেশের টাইগারদের উজ্জীবিত পারফরম্যান্স। টেস্ট ক্রিকেট সমৃদ্ধ হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক লিখেছেন:

অভিনন্দন বাংলাদেশ। আমি এমন টুইট করতে চেয়েছিলাম না। কিন্তু যারা কৃতিত্বের দাবিদার তাদের দিতেই হবে।

টেস্ট ক্রিকেটের শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এই জয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিচিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর প্রস্তাবিত দ্বি স্তর ক্রিকেট কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

দ্বি স্তর ক্রিকেট কাঠামো কী?

ক্রিকেট খেলার ৩টি ফরম্যাট রয়েছে। টেস্ট, ওয়ান ডে এবং টি ২০। এর মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটকে সবচে’ বনেদি ফরম্যাট বলে ধরে নেয়া হয়। এই খেলা ৫ দিন ব্যাপি হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বেশ কমে গেছে। দর্শক এবং আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে আইসিসি তাই দ্বি স্তর ব্যবস্থার প্রস্তাব করে। যেখানে টেস্ট তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে র্যা ঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা প্রথম সাত দেশ- ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলংকা প্রথম স্তরে খেলবে। আর বাকি তিনটি দেশ- ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ এবং জিম্বাবুয়ে সহযোগী দু’টি দেশ আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ডের সাথে দ্বিতীয় স্তরে খেলবে।

আইসিসি’র এই প্রস্তাব এখনো পাস হয়নি। তবে ২০১৯ সালের শুরুতে এই নিয়ম চালু হওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।

শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় স্তরে যাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর খেলার সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আয়ও কমে যাবে। তাই এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ক্রিকেট খেলুড়ে বেশ কয়েকটি দেশ এবং ক্রিকেট পাগল অনেকেই এই ব্যবস্থার বিরোধীতা করেন।

স্টুয়ার্ট ম্যাকআর্থার টুইট করেন:

গত সপ্তাহে আমি দ্বি স্তর ক্রিকেট কাঠামোর পক্ষে বলেছিলাম। আমার আগের বক্তব্য তুলে নিচ্ছি।

জেমস টমলিন লিখেছেন:

মাত্রই রেজাল্ট দেখলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ডকে আর বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে দ্বি-স্তর কাঠামোর দরকার আছে বলে মনে হয় না।

রমেশ সুবা লিখেছেন:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ডকে আর বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। তারপরেও ক্রিকেট পন্ডিতরা দুই স্তরের ক্রিকেট চায়… আসলে কে প্রথম স্তরে আছে? #আইসিসি

রবি আইয়ার লিখেছেন:

বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দেখিয়ে দিল টেস্ট ক্রিকেটে তথাকথিত দ্বি-স্তরের কাঠামোর দরকার নাই। আয় ও খেলার সুযোগ সবার জন্য সমান হওয়া প্রয়োজন।

এজে৭৮ টুইট করেছেন:

কিছু দেশ হামবড়া ভাব নিয়ে প্রথমে দ্বি-স্তর ক্রিকেট কাঠামো চেয়েছিল। কী শোচনীয় পরাজয়! ওয়েস্ট ইন্ডিজ দারুণ দেখালো!

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন দ্বি-স্তর কাঠামোর সমর্থক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় লাভের পর তাকে উদ্দেশ্য করে রবার্ট ম্যাকয় লিখেছেন:

দারুণ একটা ক্রিকেট ম্যাচ ছিল আজকে। আপনার দুই স্তরের ক্রিকেট কাঠামো এখন কেমন হবে?

কেইথ ওয়েবস্টার লিখেছেন:

শেষ টেস্ট ম্যাচ যদি দ্বি-স্তরের ক্রিকেট কাঠামোর বিজ্ঞাপন হয়, তাহলে কি ইংল্যান্ড দ্বিতীয় স্তরে খেলবে?

সানডে টাইমস-এর ক্রিকেট প্রতিনিধি সিমন উইল্ডি পুরো বিষয়টিকে টেস্ট ক্রিকেটের জয় হিসেবে দেখছেন:

দ্বি-স্তরের ক্রিকেট কাঠামোর জন্য আজকে দিনটা খুবই খারাপ। বরং টেস্ট ক্রিকেটের জন্য দিনটা সত্যিই দারুণ!

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .