বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মশা মারায় ব্যর্থ মেয়রদের লাল কার্ড দেখালেন ঢাকার বাসিন্দারা

মশা মারায় ব্যর্থ মেয়রদের লাল কার্ড দেখালেন ঢাকাবাসী। ছবি তুলেছেন গাজী মনজুরুল আলম যুবরাজ। অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

গত শনিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার জনগণ কর্তৃক এক অভিনব প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রতিবাদ জমায়েতে রাজধানীতে চিকনগুনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পরেও মশা মারায় ব্যর্থ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন ঢাকার বাসিন্দারা।

ফেসবুকে এই প্রতিবাদের জন্যে একটি ইভেন্ট তৈরি করা হয় ‘লেখক-শিল্পী-ছাত্র-শিক্ষক-সাংবাদিক ও নাগরিকবৃন্দ’ ব্যানারে যেটাতে কয়েক হাজার লোক সাড়া দেয়। উক্ত ইভেন্ট পেজটিতে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয় ঢাকার প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জনের চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মহামারি আকারে এটি ছড়িয়ে পরছে। সম্প্রতি বর্ষা মৌসুমে মশার প্রকোপ বেড়েছে আর ঢাকার সিটি কর্পোরেশন গুলো মশা মারতে ব্যর্থ হয়েছে। সামনে ডেঙ্গুর মৌসুমে যদি মশা মারাতে না পারেন মেয়ররা, তাহলে ঢাকায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে ডেঙ্গুর ভাইরাস।

ঢাকাবাসিরা মেয়রদের লাল কার্ড দেখাচ্ছেন। ইভেন্ট পাতা থেকে স্ক্রিনশট নেয়া হয়েছে – ছবি সঙ্গীতা ঘোষের সৌজন্যে

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সবচে’ বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে চিকনগুনিয়া। এটি একটি মশাবাহিত জ্বর এবং দুই ধরণের এডিস মশা এর বাহক। এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রবল জ্বর, মাথা ব্যথা, গা গোলানো, ক্লান্তি, দানার মত ওঠা, এবং গাঁয়ে প্রচণ্ড ব্যথা। সবচেয়ে খারাপ যে ব্যপারটা, সেটা হল অনেক ক্ষেত্রে জ্বর ছেড়ে যাবার পরেও মাসের পর মাস গাঁয়ে প্রচণ্ড ব্যথা থাকে। যদিও এই রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা হাজারে ১ জনের, ছোটো বাচ্চা এবং বৃদ্ধ, বিশেষ করে যারা নানা রোগে ভোগেন, তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না।

চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হ্যারি ফয়সাল ফেসবুকে লিখেছেন:

এই মুহূর্তে শুধু ডানহাত ১০০% চালু। বাম গোড়ালি আর বাম কব্জি ফুলে আছে এবং হাটার জন্য পা ফেললেও ব্যাথার চোটে মাথা ঝিমঝিম করে উঠে।

বন্ধু, সিনিয়র -জুনিয়র, অফিস কলিগ – সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।

ঢাকায় মশার সমস্যা অনেকদিনের। মূলত পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এবং পচা ডোবার আধিক্যে মশা মহানন্দে বংশবৃদ্ধি করে। মশার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মশাবাহিত রোগও বাড়ে। মশা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকার বর্তমান দুই মেয়র নির্বাচনে জিতেছিলেন।

চিকুনগুনিয়া মশা। ছবি ফ্লিকার থেকে সিডিসি গ্লোবালের। ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স এর আওতায় প্রকাশিত।

এই রোগ এখন দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞরা এই রোগ থেকে বাঁচতে ঘরের ভেতরে ও বাইরে পরিচ্ছন্নতার দিকে জোর দিচ্ছেন।

সম্প্রতি ঢাকার উত্তরের মেয়র ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশা নিধন করা সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। এর প্রেক্ষিতে লেখক, প্রকাশক রবিন আহসান লিখেছেন:

না মেয়র, আপনাকে কেউ ঘরে এসে মশারি টাঙাতে বলেনি। আমাদের যাতে মশারি না টাঙাতে হয় সেই দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল। আপনিও আর দশটা রাজনীতিবিদের মতোই চটকদার কথা বলে দায়িত্ব এড়ালেন।

সাংবাদিক কবির য়াহমদ মেয়রকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেছেন:

মেয়র আনিসুল হকের প্রতি প্রশ্ন, নগরের নাগরিক জীবন নির্বিঘ্ন করা যদি আপনাদের কাজ না হয়, তাহলে কী কাজ আপনাদের?

চিকুনগুনিয়া রোগীর গায়ে দানা। ছবি ফ্লিকার থেকে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন এর সৌজন্যে। ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স এর আওতায় প্রকাশিত।

এদিকে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকনগুনিয়ার বিস্তারে মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। উল্লেখ্য, ঢাকা শহরে মশা নিধনের দায়িত্ব দুই সিটি কর্পোরেশনের। মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৭৯ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৮৪ জন কর্মী রয়েছেন। গত অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রায় দুই কোটি লোকের বাস বৃহত্তর ঢাকায় আর এই বাজেট বরাদ্দ অপ্রতুলই বটে।

জন সমালোচনার কারনে সিটি কর্পোরেশনগুলো সম্প্রতি মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। ব্যাঙ্কার ওয়াহিদুজ্জামান খান লিখেছেন:

মশা-জলাবদ্ধতা-পাবলিক ট্রান্সপোর্টের অভাব এগুলোর সাথে থাকতে থাকতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আর এই অভ্যস্ততার সুযোগ নিচ্ছে পাবলিক অফিস হোল্ডাররা। আমাদের উচ্চকণ্ঠে অসন্তোষ প্রকাশ তাদের টনক নড়িয়ে দিবেই।

‘লেখক-শিল্পী-ছাত্র-শিক্ষক-সাংবাদিক ও নাগরিকবৃন্দ’ ব্যানারের অংশগ্রহণকারীরা মশা নিধনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে গিয়ে আবারও লাল কার্ড দেখিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .