রাস্তাফারিদের কাছে জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমাভিক্ষা, ১৯৬৩ সালের হত্যাকান্ডের জন্যে

Emma Lewis
Arif Innas

ইতিহাস

রাস্তাফারিদের পতাকা; ছবির সৌজন্যে ডাবডেম শব্দ ব্যবস্থা, সিসি বাই ২.০

৪ এপ্রিল তারিখে জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস গ্রেট ব্রিটেন থেকে জামাইকার স্বাধীনতা অর্জনের একবছর পরে ১৯৬৩ সালের ১১ এবং ১২ এপ্রিল তারিখে রাস্তাফারিদেরে উপর আক্রমণের একটি “গুরুতর অবিচার” এর জন্যে একটি ঐতিহাসিক ক্ষমাভিক্ষা করেছেন। সে সময় আলেকজাণ্ডার বুস্তামান্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জ্যামাইকার শ্রমিক দল-এর নেতৃত্বেই ছিলেন। আজ সেই একই দলের নেতৃত্বে হোলনেস। প্রবাল বাগানে (মন্টেগো উপসাগরের কাছে) আটজন জ্যামাইকান নিহত হয়েছিল। সময়টি ইস্টারের ছিল বলে একে (গুড ফ্রাইডের বিপরীত) “খারাপ শুক্রবার” বলা হয়ে থাকে।

কমপক্ষে ১৫০ জন রাস্তাফারিকে ধরপাকড়, গ্রেপ্তার, পিটানো ও নির্যাতন করা হয়েছিল; তাদের ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ চুলের গোছা কেটে ফেলা হয়েছিল। হামলায় পর্যবসিত ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকটি স্বাধীনতার আগে রাস্তাফারিদের বিরুদ্ধে শুর হওয়া একটি নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়ন, বৈষম্য ও প্রকাশ্য শত্রুতার অংশ যার সবকিছুই নথিভূক্ত হয়েছে ২০১১ সালের চলচ্চিত্র “খারাপ শুক্রবার”-এ।

দিনের প্রথমাংশে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাওমি ফ্রান্সিস টুইট করেছেন:

প্রধানমন্ত্রী হোলনেস সংসদে ১৯৬৩ সালের প্রবাল বাগানের ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ক্ষমাভিক্ষা জারি করে জন-সুরক্ষা কর্মীদের প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করবেন #বিস্মরণ-উপশম-শুরু

প্রকৃত ক্ষমা-ভিক্ষাটি সংসদে আসে ঐদিন বিকেলে; বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম পরে সম্পুর্ণ বিবৃতিটি ভাগাভাগি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী টুইট করেছেন:

#রাস্তা-ক্ষমা-ভিক্ষা #প্রবাল-বাগান

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে জ্যামাইকার জাতীয় ঐতিহ্য ট্রাস্ট গ্রামীণ সেন্ট ক্যাথারিনের পিনাকলের ঐতিহাসিকভাবে প্রাসঙ্গিক সম্পত্তির ছয়টি লটকে সুরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করবে; এছাড়াও তিনি প্রবাল বাগান হিতৈষী সমিতিকে সহায়তা করার এবং জীবিতদের সুবিধার জন্যে কমপক্ষে এক কোটি জ্যামাইকান ডলারের (প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা) একটি ট্রাস্ট তহবিল গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। পিনাকল সম্পত্তিটি কিছু বিতর্কের উৎস হয়ে উঠেছে। একে জামাইকার প্রথম রাস্তাফারি বসতি এবং রাস্তাফারি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা বলে ব্যাপকভাবে মনে করা গার্ভিপন্থী লিওনার্দ হাওয়েলের সাবেক বাড়ি বলে মনে করা হয়ে থাকে। হাওয়েলের মৃত্যুর পর জমিটির মালিকানা নিয়ে আইনী লড়াই শুরু হয় এবং ২০১৪ সালে রাস্তাফারিদের শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হয়

হোলনেস ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সংসদে জমা দেয়া  জন-সুরক্ষক আর্লিন হ্যারিসন হেনরির তদন্ত এবং বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদনও স্বীকার করেছেন। এতে তিনি জীবিতদের জন্যে ক্ষমাভিক্ষা এবং ক্ষতিপূরণ সুপারিশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী হোলনেস বয়োজ্যেষ্ঠ রাস্তাফারিদের সঙ্গে তার সভার একটি আলোকচিত্র টুইট করেছেন:

অন্যায্য এবং বৈষম্যমূলক ঘটনা আর যেন সংঘটিত হতে না দেয়া হয় আমরা সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। #রাস্তা-ক্ষমা-ভিক্ষা

সম্প্রচার সাংবাদিক জিওভান্নি ডেনিস রাস্তাফারি নেতাদের প্রতিক্রিয়ার একটি ধারাবাহিক ভাগাভাগি করেছেন:

#প্রবাল-বাগান কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইকা তাফারা বলেছেন শুধু #প্রবাল-বাগান নয়, সারা জ্যামাইকার রাস্তাফারি’রা আক্রান্ত হয়েছিল..

সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যমে জামাইকাবাসীদের প্রতিক্রিয়াতে মূলত: ইতিবাচক – বিশেষ করে যাদের পরিবারের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল:

আমার দাদু অনুমোদন করবেন। কখনো না হওয়ার চেয়ে দেরীতে হওয়া ভাল #প্রবাল-বাগান

কারো কারো কাছে এটা স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে:

#প্রবাল-বাগান (তখন) পুলিশে কর্মরত আমার বাবা ধরপাকড়টির একটি অংশ হতে অস্বীকার করেছিলেন। “তারা কোন আইন ভাঙ্গেনি! লম্বা চুলের জন্যে আমি কোন লোককে গ্রেপ্তার করতে পারবো না”

আরেকজন টুইট করেছেন:

@অ্যান্ড্রুহোলনেসজেএম আমার পিতার বিশ্বস্ত কর্মচারী মন্টেগো উপসাগরের সে ই ভয়ংকর #রাস্তা ধরপাকড়ের শিকার হয়েছিলেন! তারা তার মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছিল  #প্রবাল-বাগান #রাস্তা-ক্ষমা-ভিক্ষা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জন্যে বেশি প্রশংসা ছিল। জ্যামাইকার একজন অধিবাসী সম্পত্তি কর সম্পর্কে একটি সাম্প্রতিক অজনপ্রিয় ঘোষণা্র কথা উল্লেখ করেছেন:

মেয়াদকালে অ্যান্ড্রু হোলনেসের দায়িত্ব স্বীকার এবং রাস্তাফারি সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমাভিক্ষা আমাদের স্বাধীনতাকে সুতীক্ষ্ণ করার প্রতি আরেকটি পদক্ষেপ। শিশুদের অবশ্যই তাদের পিতা-মাতার দুর্ভাগ্যের দায় নিতে হবে ঠিক যেভাবে তিক্ততাকে জয় করার জন্যে তারা প্রার্থনার ফসল এবং নিষ্ফল আশির্বাদকে গ্রহণ করেছিলেন। শাবাশ দাস প্রথম মন্ত্রী। একজন সত্যিকারের রাস্ট্রনায়ক হওয়ার কারণে ইতিহাস আপনার সম্পত্তির দাম বাড়ানো ক্ষমা করে দেবে। বিশ্ব শয়তানের দিকে নয়, ঈশ্বরের দিকে যাচ্ছে। #উন্নতকরণেরচিন্তা-ভাবনা

সংসদে বিরোধী দলের নতুন নেতা হিসেবে কেবলি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত  পিটার ফিলিপস পদক্ষেপটিকে স্বাগত জানালেও একজন জ্যামাইকার নাগরিক রাস্তাফারি চর্চাকে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ফিলিপসের ছেলেবেলার দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন:

সুতরাং নিজে একজন রাস্তাফারি হিসেবে পরিচিত বিরোধীদলীয় নেতার তুলনায় ১৮ মাসের ক্ষমতায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী রাস্তাফারিদের জন্যে অনেক কিছু করেছেন। #নেতৃত্ব #প্রবালবাগান #সুশাসন

মানবাধিকার অ্যাক্টিভিস্ট রোজে ম্যালকম রাস্তাফারিদের বার্ষিক স্মৃতিচারণ টুইট করেছেন:

এখন: রাস্তাফারিরা প্রবাল বাগানে রাস্তাফারিদের গণহত্যার স্মরণে মিছিল করেছে।

এদিকে অন্যান্যরা টুইট করেছে:

@অ্যান্ড্রুহোলনেসজেএম পিনাকলকে একটি সুরক্ষিত ঐতিহ্যের স্থান এবং “রাস্তাফারি গ্রাম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত করা“র কথা মেনে নেয়া হচ্ছে একটি চমৎকার বিলম্বিত পদক্ষেপ।

এছাড়াও জ্যামাইকাতে এপ্রিলকে রাস্তাফারিদের মাস ঘোষণা করার একটি প্রচারণা চলছে:

এখন থেকে: সুসান স্টো এপ্রিলকে রাস্তাফারি মাস করার আবেদনের কথা বলবেন @কাবুমাতখেরু