বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ফ্রান্সে অবরুদ্ধ এবং তালিকাবহির্ভূত করা ওয়েবসাইটের তীব্র প্রকোপ

বিগ থিংকিং এ্যাপ্লায়েড-এর সংযোগ মানচিত্র “উন্নয়নশীল বিশ্বে সংযুক্ত”। পুনঃ ব্যবহারের জন্যে লেবেলযুক্ত।

ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ ৮৩৪টি ওয়েবসাইটকে অবরুদ্ধ এবং ১,৯২৯টিকে তালিকাবহির্ভূত করার আদেশ দিয়েছে। “শিশু পর্নোগ্রাফি ও সন্ত্রাসী বিষয়বস্তু”-কে মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে ২,৭০০টির বেশি ওয়েবসাইটকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি আগের বছরের ফলাফলের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি

পুলিশের অধিকতর সতর্কতা বা এই ধরনের ওয়েবসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কিনে এমন কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

বরং ১৩ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখের একটি আইন বাস্তবায়ন করা ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখের একটি ফরমান জারির পর থেকে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যে পদক্ষেপ জোরদার” করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনটি সম্পূর্ণরূপে গৃহীত হয় প্যারিসের সেন্ট-ডেনিস হামলা এবং ফেসবুকে হত্যাযজ্ঞের সময় বাটাক্লান নাট্যশালার ভিতরের ছবি আপলোড করার পর। আইনটি অনুসারে কর্তৃপক্ষ এখন “সন্ত্রাসবাদে প্ররোচনা বা সহানুভূতি”র কারণে কোন বিচারকের অনুমোদন ছাড়াই সাইটগুলো অবরোধের আদেশ দিতে পারে। উপরন্তু সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট যেমন ফেসবুককে বিষয়বস্তু প্রত্যাহার করতে বলতে পারে।

message blocage

অবরুদ্ধ সাইট গুলিতে প্রদর্শিত সরকারি বার্তাটি হলো: “আপনার কম্পিউটার সন্ত্রাসবাদে প্ররোচনা বা প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়া একটি ওয়েবপাতায় সংযুক্ত হতে যাওয়ার কারণে আপনাকে এই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পুনঃনির্দেশিত করা হয়েছে।”

২৪-২৫ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে ফ্রান্সের লিলেতে অনুষ্ঠিত ৯ম আন্তর্জাতিক সাইবার-নিরাপত্তা সম্মেলনে  ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো লো ঘু ২০১৬ সালের সরকারি উপাত্ত ভাগাভাগি করেন। ফরাসী উপাত্ত সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান সিএনআইএল (জাতীয় তথ্যবিজ্ঞান ও স্বাধীনতা কমিশন) কর্তৃক ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, অবরুদ্ধ ৩১২টি এবং তালিকার বাইরে নিয়ে যাওয়া ৮৫৫টিসহ ওয়েবসাইটের মোট সংখ্যা ১,১৬৭টি

অবরুদ্ধ সাইটগুলোর মধ্যে ৬৮টি সন্ত্রাসী বিষয়বস্তু এবং ২৪৪টি শিশু পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট। তাছাড়াও, সেখানে ১,৪৩৯টি ওয়েবসাইট থেকে বিষয়বস্তু প্রত্যাহার করে নেয়ার অনুরোধ রয়েছে: ১,২৮৬টি সন্ত্রাসবাদের প্রতি সহানুভূতি এবং ১৫৩টি শিশু পর্নোগ্রাফির জন্যে। শেষ পর্যন্ত, সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে ৮৫৫টি ওয়েবসাইটকে – ৩৮৬টি সন্ত্রাসী বিষয়বস্তু এবং শিশু পর্নোগ্রাফির জন্যে – তালিকাবহির্ভূত করার আদেশ দেয়া হয়।

পদক্ষেপগুলো যেভাবে কাজ করে

প্রথম প্রতিবেদনটি করেছেন বিষয়বস্তু প্রত্যাহার, ওয়েবসাইট অবরোধ এবং তালিকাবহির্ভূত করার নৈমিত্তিক অনুরোধ বিবেচনা করার জন্যে দায়ী সিএনইএল-এর “যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি।” নৈমিত্তিক নয় এমন ব্যাপারগুলোতে এই “যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি” হয়তো একটি সুপারিশ করতে অথবা সেগুলোকে একজন প্রশাসনিক বিচারকের কাছে পাঠাতে পারেন। অবৈধ বিষয়বস্তু নামিয়ে ফেলা হলে ওয়েবসাইটটি অবরোধ করা হবে না।

ফরাসি পুলিশের একটি বিশেষ বিভাগের ইন্টারনেট নিরীক্ষণ করে এবং সেখানে আইনে নিষিদ্ধ কোনো বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) চিহ্নিত হলে এর বিষয়বস্তুর হোস্টকে সেটি মুছে ফেলতে বলা হয়। ২৪ ঘন্টার মধ্যে হোস্ট উত্তর না দিলে অথবা তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে পুলিশের বিভাগটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রা পরিচিতি ও তাদের প্রাসঙ্গিক সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটটি অবরুদ্ধ করতে বলে এবং সিএনইএল-এর “যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি”কে বিষয়টি অবহিত করে।

কোন একজন বিষয়বস্তুর মালিক বা হোস্ট একজন বিচারকের সামনে অনলাইন বিষয়বস্তু অবরোধ বা তালিকাবহির্ভূত করার কোনো সিদ্ধান্তের মোকাবেলা করতে পারেন কিন্তু আজ পর্যন্ত ফরাসী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যায়নি। তাছাড়া, কোন আপীল বা পূণঃর্বিবেচনার আবেদন সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পন্থা বিবেচ্য হয়নি।

এখানে বিষয়বস্তু প্রত্যাহার, অবরোধ অথবা তালিকাবহির্ভূতকরণের শিকার হওয়া ওয়েবসাইটগুলোর কোন তালিকা নেই। স্বচ্ছতার এধরনের অনুপস্থিতি উদ্বেগজনক, সিএনইএল-এর ধারন করা সম্ভ্রমের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে কোনরকমের অতিরিক্ত নজরদারী ছাড়াই সিএনইএল এবং পুলিশ পরিষেবা একে অপরের পরীক্ষা করে।

সিএনইএল-এর এপ্রিল ২০১৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে – “অতিরিক্ত অবরোধ” হিসেবে পরিচিত – যখন উচিৎ নয় তখন কোন সাইটকে অবরোধ করার মতো এমন কোন দৃষ্টান্ত নেই। সমানভাবে আকর্ষণীয় নিষিদ্ধ সাইটগুলোর সঙ্গে সংযোগের চেষ্টার সংখ্যা: শিশু পর্নোগ্রাফিতে গড়ে ৩৪,০০০ বার এবং সন্ত্রাসী বিষয়বস্তুতে ৪৯৪ বার। সিএনআইএল-এর অনুরোধে সবগুলো সংযোগ প্রচেষ্টাকে বেনামী করে দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে আরো বর্ণনা করা হয়েছে যে শিশু পর্ণোগ্রাফি ওয়েবসাইটগুলোর ক্ষেত্রে একটি সাইটকে অবরুদ্ধ করার পরপর নতুন অভিন্ন আরেকটি ওয়েবসাইট ঠিকানা সামান্য রদবদল করে নিয়মিত হাজির হয়ে যায়।

ফ্রান্সে সামান্য প্রতিক্রিয়া

এছাড়াও ফোরামে একজন ফরাসী এবং ইউরোপীয় ওয়েবসাইট হোস্টিং দৈত্য, মিডিয়াবোদ্ধা ওভিসআশ-এর প্রতিষ্ঠাতা অক্টেভ ক্লাবা বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি এটাকে রাজনৈতিক ভণ্ডামি আখ্যায়িত করে সেন্সরশিপ বৃদ্ধির সমালোচনা করেন। জনাব ক্লাবা “ইন্টারনেটের বৈশ্বিক প্রকৃতি বিচারে একে বেহুদা” বলেন। আগে তিনি ২০১৫ সালের ২৪ জুলাইয়ের তথ্য আইন দিয়ে প্রবর্তিত নজরদারি ব্যবস্থাগুলোর সুস্পষ্ট বিরোধিতা করে বলেছেন এটি একজন বিচারকের অনুমোদন ছাড়াই কথোপকথন শোনা এবং রেকর্ডিং করার বৈধতা দানের বন্দোবস্ত সৃষ্টি করে। ওভিসআশ প্রতিষ্ঠাতা তার কিছু সার্ভার এবং কোম্পানির কার্যক্রম ফ্রান্সের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলেও তিনি সেটা এখন পর্যন্ত করে দেখান নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লো ঘু’র হস্তক্ষেপকৃত বিষয়বস্তুটি প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংস্থা এবং সেটা কভার করেছে লে মঁদ এবং মেট্রো। অন্যত্র এগুলো সামান্যই কভারেজ পেয়েছে। এটা হয়তো এই বাস্তবতার কারণে যে তিনি প্রধানত: সরকার এবং ব্যবসায় উভয়ের জন্যে সমানভাবে আকর্ষনীয় সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বলে। ফ্রান্সে মিডিয়া কভারেজের অভাবটি কি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একটি ঘোর-প্যাচ নাকি লুভর হামলার জনগণ এবং মিডিয়ার মনোযোগ গ্রাস করে ফেলেছে? ইন্টারনেট স্বাধীনতার সুপরিচিত একটি ফরাসী সমর্থক লা কোয়েদঘাচুর দ্যু নেট (নেটের বর্গীকরণ)  ২০১৬ সালের উপাত্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

এটা লক্ষণীয় যে ২০১৫ সালে প্রথম সাইটগুলো অবরোধ করার জন্যে এসব ব্যবস্থা নিয়ে আসার সময় কিন্তু ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। নাগরিক ও মানবিক অধিকার সুরক্ষার ইউরোপীয় সংগঠনগুলোর একটি গোষ্ঠী ইউরোপীয় ডিজিটাল অধিকার থেকে ইংরেজি ভাষার একটি হস্তক্ষেপ এবং আইনটি প্রণীত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়া ইসলামিক নিউজ ওয়েবসাইট নীতিটির সমালোচনা করে এই টুকরোটি  লিখেছে।

এটা স্বীকার করা দরকার যে ইউরোপের বেশিরভাগ অংশসহ ফ্রান্স প্রকাশের স্বাধীনতাকে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের মতো শাশ্বত কিছু হিসেবে বিবেচনা করে না। ফ্রান্সে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আইন দিয়ে বাঁধা যাতে বর্ণবাদী, জাতিগত বা ধর্মীয় বিদ্বেষে উস্কানি, যুদ্ধাপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ সমর্থন  এবং অভিযোগ গঠনে ব্যত্যয় নিষিদ্ধ। তারপরও এসব সীমাবদ্ধতা অনলাইন বিষয়বস্তুর নীতির প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও তত্ত্বাবধানের প্রয়োজনীয়তাকে প্রতিরোধ করে না।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .